বিসনেস কন্টিনিউ না করলে থাকব না — এ কথায় তালাক হয় কি?
Marriage and Divorce · Hanafi
Question
এ কথা বলার সময় অন্তরে তালাকের কোনো নিয়াত ছিলো না।
২. একজন স্বামী তার স্ত্রী কে রাগের মাথায় এভাবে বলছে, তালাক তালাক তালাক, ৭ তালাক, ১০০ তালাক, এক্ষেত্রে কি তালাক হবে?
Answer
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম
প্রশ্ন ১: "তুমি বিসনেস কন্টিনিউ করলে আমি তোমার সাথে থাকবো না" — এ কথায় কি তালাক হবে?
উত্তর: প্রশ্নের বিবরন মতে এক্ষেত্রে তালাক পতিত হবেনা।
তালাকের শব্দ দুই প্রকার
হানাফি ফিকহে তালাকের শব্দ (ألفاظ الطلاق) দুই ভাগে বিভক্ত:
১. সরীহ (صريح) — স্পষ্ট শব্দ: "তালাক", "তালাক দিলাম", "তুমি তালাকপ্রাপ্ত" ইত্যাদি। এতে নিয়ত ছাড়াই তালাক পতিত হয়।
২. কিনায়া (كناية) — ইঙ্গিতমূলক/অস্পষ্ট শব্দ: যেসব শব্দে তালাক ছাড়া অন্য অর্থও হতে পারে, যেমন "তুমি যাও", "আমি তোমাকে ছেড়ে দিলাম", "তোমার সাথে থাকব না" ইত্যাদি। এতে নিয়ত বা পরিস্থিতির (حال) প্রমাণ ছাড়া তালাক পতিত হয় না।
আল্লাহ তাআলা বলেন:
"তালাক দুইবার..." (সূরা বাকারা: ২২৯)
"الكناية لا يقع بها الطلاق إلا بالنية أو بدلالة الحال"
- ফাতাওয়া আলমগিরি, খণ্ড ১, পৃ. ৩৭৪
- ফাতাওয়া উসমানি, খণ্ড ২, পৃ. ৩০০-৩০৫
প্রশ্ন ২: রাগের মাথায় "তালাক তালাক তালাক, ৭ তালাক, ১০০ তালাক" বললে কী হবে?
উত্তর: প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে ৩ তালাক কার্যকর হয়ে স্ত্রী ঐ স্বামীর জন্য সম্পূর্ণভাবে হারাম হয়ে যাবে।
রাগের মাথায় উচ্চারিত তালাকও শরীয়ত অনুযায়ী পতিত হয়, যদি না ব্যক্তি জ্ঞানশূন্য (মাতাল/পাগল) হয় বা এতটাই রাগে থাকে যে সে নিজের কথা বুঝতে না পারে।
আল্লাহ তাআলা বলেন:
"তালাক দুইবার; অতঃপর হয় সংগতভাবে রাখা, নয়তো সৌজন্যে ছেড়ে দেওয়া..." (সূরা বাকারা: ২২৯) "অতঃপর যদি সে তাকে তালাক দেয় (তৃতীয়বার), তবে তার জন্য সে হালাল হবে না..." (সূরা বাকারা: ২৩০)
রেফারেন্স:
- আল-হিদায়া — "ومن قال لامرأته: أنت طالق مائة تطليقة، وقعت ثلاث"
- রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ৩, পৃ. ২৫৬-২৫৮
- ফাতাওয়া আলমগিরি, খণ্ড ১, পৃ. ৩৭৫
- ফাতাওয়া উসমানি, খণ্ড ২, পৃ. ২৫০
আপনার প্রশ্নের প্রয়োগ
স্বামী রাগের মাথায় বলেছে: "তালাক তালাক তালাক, ৭ তালাক, ১০০ তালাক" — এটি একই মজলিসে ধারাবাহিক উচ্চারণ। সুতরাং:
ফতোয়া: এই ক্ষেত্রে তিন তালাকে বাইন (অপরিবর্তনীয়) তালাক পতিত হয়েছে। স্ত্রী স্বামীর জন্য হারাম হয়ে গেছেন। "৭" ও "১০০" সংখ্যা বাতিল (لغو) — কারণ তিন তালাকের পর আর কোনো তালাক পতিত হয় না।
পরিণতি:
- স্ত্রী ইদ্দত পালন করবেন (তিন হায়েজ বা তিন মাস, গর্ভবতী হলে সন্তানপ্রসব পর্যন্ত)।
- ইদ্দত শেষে স্ত্রী অন্যত্র বিবাহ করতে পারবেন।
- স্বামী-স্ত্রী পুনরায় একত্র হতে চাইলে হালালা শর্ত পূরণ করতে হবে — অর্থাৎ স্ত্রী অন্য একজন মুসলিম পুরুষকে শরীয়তসম্মতভাবে বিবাহ করবেন, স্বাভাবিক দাম্পত্য জীবন যাপন করবেন, তারপর সেই স্বামী ইচ্ছাকৃতভাবে বা মৃত্যুর মাধ্যমে বিচ্ছেদ ঘটলে ইদ্দত শেষে পূর্বের স্বামীর সাথে নতুন মোহর ও নতুন আকদে বিবাহ করতে পারবেন। (সূরা বাকারা: ২৩০)
সতর্কতা: হালালাকে ঠাট্টা-তামাশা বা শর্ত হিসেবে পরিকল্পনা করা হারাম ও কবিরা গুনাহ। রাসূলুল্লাহ ﷺ হালালাকারী ও যার জন্য হালালা করা হয় — উভয়ের উপর লানত করেছেন। (সুনানে আবু দাউদ: ২০৭৬; তিরমিজি: ১১১৯)