হজ্জের হাদি দিতে অক্ষম হাজীর জন্য আইয়ামে তাশরিকের ৩ দিন রোজা রাখা শরীয়তসম্মত কি?

Siyam-Fasting · Hanafi

Question No: 7915
Questioner: No or
Question Asked: 04 Nov 2026, 10:01 AM
Reviewed & Published: 04 Nov 2026, 07:10 PM
Views: 18
Tokens: 3,236
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম।
আইয়ামে তাশরিকের ৩ দিন সপ্তাহিক নফল রোজা রাখতে পারবে?হাজী মিনায় হজ্জের হাদ্ই দিতে সক্ষম না হলে তার জন্য কি তাশরিকের দিনগুলোতে রোজা রাখা জায়েজ হবে।

Answer

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।

আপনার জিজ্ঞাসিত দুটি বিষয়ের ফিকহে হানাফী ও প্রামাণ্য কিতাবসমূহের আলোকে ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর সহ সুনির্দিষ্ট শরঈ ফয়সালা নিচে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:


১. ১ম প্রশ্নের উত্তর: আইয়ামে তাশরিকের ৩ দিন কি সাপ্তাহিক নফল রোজা রাখা যাবে?

না, আইয়ামে তাশরিকের ৩ দিন (১১, ১২ ও ১৩ জিলহজ) সাপ্তাহিক নফল রোজা (যেমন: সোম ও বৃহস্পতিবারের রোজা) বা অন্য কোনো সাধারণ নফল রোজা রাখা শরীআতের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ নাজায়েয ও মাকরূহে তাহরীমী (হারামের কাছাকাছি)।

  • ফিকহী ব্যাখ্যা: বছরে মোট ৫টি দিনে রোজা রাখা শরীআতে কঠিনভাবে নিষিদ্ধ ও মাকরূহে তাহরীমী করা হয়েছে। সে ৫টি দিন হলো: ঈদুল ফিতরের দিন (১ শাওয়াল), ঈদুল আজহার দিন (১০ জিলহজ) এবং আইয়ামে তাশরিকের ৩টি দিন (১১, ১২ ও ১৩ জিলহজ)। এ দিনগুলোতে আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে বান্দাদের জন্য পানাহার ও আপ্যায়নের দিন হিসেবে নির্ধারিত, তাই এ দিনগুলোতে যেকোনো ধরণের নফল বা কাজা রোজা রাখা নিষিদ্ধ।

২. ২য় প্রশ্নের উত্তর: হাজী মিনায় হজ্জের হাদী (কুরবানি) দিতে অক্ষম হলে তাশরিকের দিনগুলোতে রোজা রাখা যাবে কি?

না, ফিকহে হানাফী (হানাফী মাযহাব) অনুযায়ী, মিনায় হজ্জের হাদী বা কুরবানি দিতে অক্ষম হাজীর জন্যও আইয়ামে তাশরিকের দিনগুলোতে (১১, ১২ ও ১৩ জিলহজ) রোজা রাখা জায়েয নেই।

  • ফিকহী ব্যাখ্যা: ১. রোজা রাখার নির্ধারিত সময়সীমা: হজ্জে তামাত্তু বা ক্বিরানকারী হাজী যদি হাদী (কুরবানি) দিতে সক্ষম না হন, তবে তার ওপর হজ্জের বদলি হিসেবে ৩টি রোজা রাখা ওয়াজিব (সূরা বাকারা: ১৯৬)। ফিকহে হানাফী অনুযায়ী এই ৩টি রোজা রাখার শরঈ সময় হলো—হজ্জের ইহরাম বাঁধার পর থেকে নিয়ে ৯ জিলহজ (আরাফার দিন) সূর্যাস্তের পূর্ব পর্যন্ত। ২. তাশরিকের দিনে নাজায়েয হওয়ার কারণ: কোনো হাজী যদি ৯ জিলহজের মধ্যে এই ৩টি রোজা রাখতে না পারেন, তবে ১০ জিলহজ (ঈদের দিন) এবং ১১, ১২, ১৩ জিলহজ (আইয়ামে তাশরিক) রোজা রাখার কোনো অবকাশ নেই । কারণ হানাফী ফিকহে আইয়ামে তাশরিকে হাজীদের জন্যও রোজা রাখা নিষিদ্ধ ও অকার্যকর । ৩. পরবর্তী বিধান: ৯ জিলহজের মধ্যে ৩টি রোজা রাখতে না পারলে পরবর্তীতে সুযোগমতে তাকে রোযা রেখে এই ত্রুটি পূরণ করতে হবে।

সংযুক্ত কিতাবসমূহের বিবরণ (ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর সহ):

  • নূরুল ঈযাহ (বাংলা সংস্করণ):

    • পৃষ্ঠা: ১৬৯, ১৭০ (নূরুল ঈযাহ পৃষ্ঠা ১৬৯, ১৭০) (পরিচ্ছেদ: রোযার প্রকারভেদ — 'মাকরূহে তাহরীমী: দুই ঈদের দিন ও তাশরীকের দিনগুলোতে (১১, ১২, ও ১৩ জিলহজ্জ) রোযা রাখা মাকরূহে তাহরীমী ও নাজায়েয হওয়া')।
  • ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া (১০ম খণ্ড):

    • পৃষ্ঠা: ১৯৫, ২০০ (মাহমুদিয়া ১০/১৯৫, ২০০) (অধ্যায়: বাব সোমুন নফল ওয়া গাইরিহি — 'আইয়ামে মানহিয়্যাহ বা নিষিদ্ধ দিনগুলোতে যেকোনো রোজা রাখা মাকরূহে তাহরীমী হওয়ার ফতোয়া')
  • দরসুল ফিকহ (২য় খণ্ড):

    • পৃষ্ঠা: ২৩৬, ২৩৮ (দরসুল ফিকহ ২/২৩৬, ২৩৮) (অধ্যায়: কিতাবুল হজ্ব, বাবুল হাদী — 'দমে তামাত্তু ও দমে ক্বিরানের বদলে রোজা রাখার সুনির্দিষ্ট সময়সীমা এবং তাশরীকের দিনগুলোতে নাজায়েয হওয়ার ফিকহী তফশীল')।

আল্লাহ ভালো জানেন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.