ছেড়ে দিলাম বললে তালাক হবে?
Marriage and Divorce · Hanafi
Question
তবে আমি আল্লাহর নামে কসম করে বলছি, এই কথাগুলো বারবার বলার সময় আমার মনে বিন্দুমাত্রও তালাক দেওয়ার বা চিরতরে সম্পর্ক চুকিয়ে ফেলার কোনো নিয়ত বা উদ্দেশ্য ছিল না। আমার উদ্দেশ্য কখনোই সংসার ভেঙে দেওয়া ছিল না; আমি কেবল তাকে রাগানোর জন্য বা ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যে কথাগুলো বলতাম, যেন সে আমার কথা শুনে চলে এবং আমার নিয়ন্ত্রণে থাকে। আর সবচেয়ে বড় কথা আমি জানতামও না যে রাগ করে বা না বুঝে এ ধরনের কথা বারবার বললে শরিয়তে তালাক হয়ে যায়। আমার কখনোই তালাক দেওয়ার কোনো ইচ্ছে ছিল না।
"হুজুর, আমাদের দাম্পত্য জীবনে আমি মানসিকভাবে প্রচণ্ড কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গিয়েছি। ওর অতীতের আচরণ ও কিছু বিষয় এতটাই কষ্টদায়ক ছিল যে তা আমার পক্ষে সহ্য করা অসম্ভব ছিল। বিশেষ করে, একদিন আমি ওর ফোনে কিছু জিনিস দেখতে পাই, যা আমার জন্য একটা বিশাল মানসিক আঘাত ছিল। এছাড়া ও আমার অনেক কথা শুনত না, ডায়েট বা অনেক বিষয়ে আমার নিয়ন্ত্রণ মানত না।
এই চরম ক্ষোভ, মানসিক কষ্ট এবং ওকে নিজের নিয়ন্ত্রণে আনার তীব্র তাগিদ থেকেই আমি রাগের মাথায় দিশেহারা হয়ে পড়েছিলাম। এই আক্রোশ ও রাগ থেকেই আমি রাগের মাথায় একাধিকবার মুখে 'ছেড়ে দিলাম' এবং মাঝে মাঝে 'ডিভোর্স দিয়ে দেব' এজাতীয় কথাগুলো অনেকবার বলে ফেলেছি এবং গায়েও হাত তুলেছি।
তবে আমি আল্লাহর নামে কসম করে বলছি, এই কথাগুলো বারবার বলার সময় আমার মনে বিন্দুমাত্রও শরিয়তসম্মত উপায়ে তালাক দেওয়ার বা চিরতরে সম্পর্ক চুকিয়ে ফেলার কোনো নিয়ত বা উদ্দেশ্য ছিল না। আমার উদ্দেশ্য কখনোই সংসার ভেঙে দেওয়া ছিল না; আমার উদ্দেশ্য ছিল কেবল ওকে চরম রাগ দেখানো, ভয় দেখানো এবং নিজের নিয়ন্ত্রণে আনা, যাতে ও আর এই ধরণের মারাত্মক ভুলগুলো না করে। তখন আমি জানতামও না যে রাগ করে বা না বুঝে এ ধরনের কথা বারবার বললে শরিয়তে তালাক হয়ে যায়। আমার কখনোই তালাক দেওয়ার কোনো ইচ্ছে ছিল না।
এখন আমার এই পুরো পটভূমি, মানসিক আঘাত, বারবার কথাটি বলার অভ্যাস এবং আমার মূল নিয়ত (যেখানে তালাকের কোনো উদ্দেশ্য ছিল না, কেবল চরম রাগ ও ভয় দেখানো ছিল)—এগুলো বিবেচনা করে শরিয়তের সঠিক বিধান ও ফতোয়া কী হবে, দয়া করে আমাকে জানিয়ে বাধিত করবেন।"
আর সবচেয়ে বড় কথা আমি জানতামই না যে ছেড়ে দিলাম বললে কী হয় আর ছেড়ে দিলাম কথা টা মনেহয় অনেকবার বলেছি আবার মনেহয় বলি নাই আবার বলেছি মনেহইলে কোনদিন বলেছি স্পষ্ট মনেও পড়ে না কিন্তু পরশু যে বলেছি এটা স্পষ্ট মনে আছে আমার স্ত্রী ও মনে করতে পারতাছে না ছেড়ে দিলাম আগে বলেছি কী না আগে বললেও কতবার বলেছি কিন্তু পরশু এই কথা বলার পর আমার স্পষ্ট মনে আছে আমার স্ত্রী আমাকে আটকাইছে কিন্তু আগে এই কথা বলার পর আমার স্ত্রী আমাকে আটকাইছে কি না আমার স্পষ্ট মনে নাই আমার স্ত্রী পরশু বলছে মনেহয় অনেকবার বলেছি কালকে আবার বলে বলেছি কী না বা কয়বার বলেছি কিচ্ছু মনে পড়তাছে না আমার ও কিচ্ছু মনে পড়তাছে না সম্পর্ক শেষ এরকম শব্দ অনেকবার বলেছি মনে পড়ছে কিন্ত কোনো তালাক এর উদ্দেশ্য ছিলো না এই অবস্থায় আমার জন্যে বিধান কি? আবার আমার মনে পড়ে যে তোর সাথে সম্পর্ক শেষ কালকে ডিভোর্স পেপার পাঠিয়ে দেবো আবার মনে পড়ে না এসব বলি নাই কিন্ত এটা সত্য আমার কোনদিন তালাক এর উদ্দেশ্য ছিলো না তাই ভুলেও এসব মুখ থেকে বের করি নাই আমি শুধু জানতাম তালাক বললে ইচ্ছা না থাকলেও তা কার্যকর হয়ে যায় আমি খুব দুশ্চিন্তায় আছি সব মিলিয়ে
Abar arekti ghotona:
আসসালামু আলাইকুম। হুজুর, আমি আমার স্ত্রীর সঙ্গে WhatsApp-এ হওয়া একটি কথোপকথন সম্পর্কে শরিয়তের বিধান জানতে চাই। অনুগ্রহ করে পুরো ঘটনাটি মনোযোগ দিয়ে পড়ে আমাকে সঠিক মাসআলা জানাবেন।
ঘটনাটি ঘটে দুপুর ২টা ১৪ মিনিট থেকে ২টা ১৬ মিনিটের মধ্যে। প্রথমে আমার স্ত্রী আমাকে “Plc” লেখে। এরপর আমি তাকে লিখি, “Tui call dia ekhn bol”। সে বলে, “Amon koiren na”। তখন আমি লিখি, “Naile suicide kor”। এরপর সে আবার “Plc” লেখে। তারপরে আমি লিখি, “Naile divorce”। এরপর আলাদা করে “Ok” লিখি এবং তার পরের মেসেজে শুধু “Divorce” লিখি। এরপর আমার স্ত্রী লেখে, “Akhon sob solve hoise ken janaiya amader jamela”। সে আমার আগের “Divorce” মেসেজটি Quote করে। এরপর সে লেখে, “Kicchu hoilei divorce”। তখন আমি তাকে লিখি, “Ei tui antire bolbi na divorce dimu?”। উত্তরে সে লেখে, “Amne songsar kormu ami” এবং সঙ্গে ভাঙা হৃদয়ের ইমোজি দেয়। এরপর আমি তার “Kicchu hoilei divorce” মেসেজটি Quote করে তাকে একটি অশালীন কথা বলি। তখন সে আমাকে লেখে, “Apni asole pagol hoiya gesen divorce dewar jonno”। এরপর সে “Hea”, “Taile den” এবং “Valo thaken” লেখে। সঙ্গে একটি হাসিমুখ ও ভাঙা হৃদয়ের ইমোজিও পাঠায়। এরপর আমি তার “Apni asole pagol hoiya gesen divorce dewar jonno” মেসেজটি Quote করে লিখি, “Tore ke na divorce dibo”। তখন সে লেখে, “Ai tukui chilo amader jatra”। এরপর আমি লিখি, “Tui to uddas hoisos ekhn divorce chai…”। স্ক্রিনশটে শেষের মেসেজটির পরবর্তী অংশ সম্পূর্ণ দেখা যাচ্ছে না।
হুজুর, আমি বিশেষভাবে জানাতে চাই, “Naile divorce” এবং এরপর আলাদা করে “Ok” ও “Divorce” লেখার সময় আমার মনে স্ত্রীকে সত্যিকার অর্থে তালাক দেওয়ার সিদ্ধান্ত বা ইচ্ছা ছিল না। আমার বক্তব্য হলো, তখন কথোপকথনের প্রেক্ষাপটে আমার মনের অর্থ ছিল, “আত্মহত্যা করবে না তো? আচ্ছা, ডিভোর্স”—অর্থাৎ আমি তালাক কার্যকর করতে চাইনি। আমি মন থেকেও চাইনি যে আমার স্ত্রী আত্মহত্যা করুক। আমি তাকে সত্যিকার অর্থে তালাক দেওয়ার উদ্দেশ্যে ওই শব্দটি লিখিনি বলে জানাচ্ছি।
এ ছাড়া “Naile divorce” কথাটি আমি ভবিষ্যৎ বা হুমকির মতো করে লিখেছিলাম। পরে “Tore ke na divorce dibo” কথাটিও ভবিষ্যৎকালের ভাষায় লিখেছি। আমার প্রশ্ন হলো, এই পুরো কথোপকথনের প্রেক্ষাপটে শুধু “Divorce” শব্দটি আলাদা করে লেখার কারণে কি শরিয়ত অনুযায়ী তালাক সংঘটিত হয়েছে? “Naile divorce” এবং “Tore ke na divorce dibo” কথাগুলো ভবিষ্যৎকালের হুমকি বা কথার প্রসঙ্গে বলা হলে কি তালাক হয়? বিশেষ করে, আমি যদি সত্যিই তালাক কার্যকর করার নিয়ত না করে থাকি, তাহলে হানাফি মাজহাব অনুযায়ী এর বিধান কী হবে? পুরো কথোপকথন, শব্দগুলোর ব্যবহার এবং আমার বক্তব্য বিবেচনা করে আমার স্ত্রীর সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্কের শরয়ি অবস্থা কী, তা বিস্তারিত জানিয়ে একটি লিখিত ফতোয়া দিলে উপকৃত হব।
আমি চাই, আপনারা শুধু বিচ্ছিন্ন কোনো একটি শব্দের ভিত্তিতে নয়, বরং পুরো কথোপকথনের ধারাবাহিকতা ও আমার প্রকৃত বক্তব্য বিবেচনা করে মাসআলাটি যাচাই করবেন।
Answer
ফতোয়া: তালাক সংক্রান্ত বিস্তারিত মাসআলা
بسم الله الرحمن الرحيم الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على أشرف الأنبياء والمرسلين، محمد وعلى آله وأصحابه أجمعين، أما بعد
জবাবঃ- প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে আপনি আপনার স্ত্রীকে যতবার "ছেড়ে দিলাম" বলেছেন তত তালাকই তার উপর পতিত হয়েছে।
হাদীস শরীফে এসেছেঃ
حَدَّثَنَا كَثِيرُ بْنُ عُبَيْدٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ خَالِدٍ، عَنْ مُعَرِّفِ بْنِ وَاصِلٍ، عَنْ مُحَارِبِ بْنِ دِثَارٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " أَبْغَضُ الْحَلاَلِ إِلَى اللَّهِ تَعَالَى الطَّلاَقُ " .
কাসীর ইবন উবায়দ .......... ইবন উমার (রাঃ) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহ্ তা‘আলার নিকট নিকৃষ্টতম হালাল বস্তু হল তালাক।
(আবূ দাউদ ২১৭৮, ইরওয়া ২০৪০, যইফ আবু দাউদ ৩৭৩-৩৭৪, আর-রাদ্দু আলাল বালীক ১১৩।)
'তোমাকে ছেড়ে দিলাম' ‘তোমাকে মুক্ত করে দিলাম’ বা ‘স্বাধীন করে দিলাম’ শব্দগুলো প্রচলনে সারীহ বা স্পষ্ট তালাকের স্থলে ব্যবহার হয়ে থাকে।
আর সারীহ তালাকের ক্ষেত্রে নিয়তের প্রয়োজন হয় না। বরং যদি কেউ স্ত্রীকে কেবল ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যেও এজাতীয় কথা বলে তাহলেও এর দ্বারা তালাক হয়ে যায়। (জামিউল ফাতাওয়া ১০/১২০ কিতাবুন নাওয়াযিল ৯/২৯৩, ২৯৬, ২৯৯, ৩০০)
যে সকল শব্দ স্পষ্টভাবে তালাককে বুঝায়, সে সকল শব্দ দ্বারা তালাক দিলে তালাক পতিত হওয়ার জন্য নিয়তের প্রয়োজন পড়ে না। আমাদের দেশে ‘ছেড়ে দিলাম’ -এর দ্বারা তালাক বুঝায়। কাজেই এ কথা বললে তালাক পতিত হওয়ার জন্য নিয়তের কোনো প্রয়োজন পড়বে না। (রদ্দুল মুহতার ৪/৫৩০; ফাতওয়া হিন্দিয়া ১/৩৭৯)
سرحتك وهو “رها كردم” لأنه صار صريحا فى العرف (رد المحتار، كتاب الطلاق، باب الكنايات-4/530)
সারমর্মঃ- ছেড়ে দিলাম বাক্যটি আমাদের উরুফের মধ্যে সরিহ বাক্য হয়ে গিয়েছে।
اذا قال الرجل لامرأته: “بهشتم ترا از زنى” فاعلم بأن هذه اللفظة استعملها أهل خراسان وأهل العراق فى الطلاق، وأنها صريحة عند أبى يوسف حتى كان الواقع بها رجعيا ويقع بدون النية (الفتاوى الهندية، كتاب الطلاق، الفصل السابع فى الطلاق بألفاظ الفارسية-1/379، جديد-1/447، الفتاوى التاتارخانية-4/463، رقم-6678) সারমর্মঃ- কেহ যদি তার স্ত্রীকে ছেড়ে দিলাম হলে,তাহলে এটিকে খোরাসান বাসী ও ইরাক বাসীগন তালাকের বাক্যের অন্তর্ভুক্ত বলেন। আবু ইউসুফ রহঃ এর নিকটে এটি সরীহ শব্দ। এর দ্বারা রজয়ী তালাক পতিত হবে। এবং নিয়ত ছাড়াই তালাক পতিত হবে।
وقال أبو يوسف: إذا قال: بهشتم ان زن، أو قال: ان زن بهشتم، فهى طالق نوى الطلاق أو لم ينو، وتكون تطليقة رجعية (بدائع الصنائع-3/163) সারমর্মঃ- ইমাম আবু ইউসুফ রহঃ বলেছেন,কেহ যদি তার স্ত্রীকে ছেড়ে দিলাম বলে,তাহলে তালাক পতিত হবে। তালাকের নিয়ত করুক বা না করুক। আর এর দ্বারা রজয়ী তালাক পতিত হবে।