৬০ দিন ধারাবাহিক কাফফারা রোজার মাঝে সেহরি না খেয়ে পানি পান করলে রোজা ও ধারাবাহিকতার হুকুম কী?

Siyam-Fasting · Hanafi

Question No: 7790
Questioner: MD AL IMRAN
Question Asked: 02 Nov 2026, 12:24 PM
Reviewed & Published: 02 Nov 2026, 12:34 PM
Views: 23
Tokens: 5,397
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আস্সালামুয়ালাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ।

শ্রদ্ধেয় মুফতি সাহেব,

আমি রমজানের কাফফারা রোজা রাখার নিয়তে আগামী ৬০ দিন রোজা রাখার নিয়ত করেছি। কিন্তু গতো রাতে আমি সেহরি খেতে পারিনি। যদিও আমার স্ট্রং নিয়ত ছিলো সেহরি খাওয়ার ও রোজা রাখার। ঘুম থেকে উঠতে পারিনি তাই খেতে পারিনি।

সকালে যখন আমার ঘুম ভাঙ্গলো তখন আফসোস হলো আহ আজ যদি সেহরিটা খেতে পারতাম। আর কিছু সময়ের জন্য মনে হচ্ছিলো হয়তো আজ রোখা রাখছি না তাই প্রতিদিনের অভ্যাস অনুযায়ী আমি এক গ্লাস পানি খেয়ে ফেলি।

এর কিছু সময় পরে আমার মনে হলো যে সেহরি না খেয়েও তো রোজা রাখা যাবে। যেহেতু আগে নিয়তও ছিলো বটে তাই আজ এভাবেই রোজা রাখবো ইনশাআল্লাহ। কিন্তু এর পরে কিছু সময় পরে মনো লো আমি তো পানি খেয়ে ফেলছি।

এখন প্রশ্ন হলো যেহেতু সকালে পানি খাওয়া হইছে তাই এমতাবস্থায় কি রোজাটা আজ রাখতে পারবো? বা ৬০ দিনের ধারাবাহিকতা কি ভেঙ্গে যাবে কি না দয়া করে জানাবেন প্লিজ।

Answer

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।

আপনার পরিস্থিতিটি খুব স্পষ্টভাবে অনুধাবন করতে পেরেছি। সকালে সেহরি না পাওয়ার কারণে "আজ রোজা রাখা হচ্ছে না" মনে করে পানি পান করে ফেলা এবং এর পরপরই নিয়ত করার চেষ্টা সংক্রান্ত ফিকহী বিধান হানাফী মাযহাব ও প্রামাণ্য ফাতাওয়া কিতাবসমূহের আলোকে ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর সহ নিচে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:


১. আজ কি কাফফারার রোজা রাখা যাবে বা গণ্য হবে?

উত্তর: না, আজকের দিনটি আপনার কাফফারার রোজা হিসেবে গণ্য হবে না এবং আজ আর রোজা রাখার সুযোগ নেই [নূরুল ঈযাহ, পৃষ্ঠা: ১৭০, ১৭২; ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া ১০ম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১২৩]।

ফিকহী ব্যাখ্যা: ১. সকালে পানাহার করা: যদিও রাতে আপনার রোজা রাখার সুদৃঢ় সংকল্প ছিল, কিন্তু সকালে ঘুম থেকে উঠে "আজ রোজা রাখা হচ্ছে না" ভেবে স্ব ইচ্ছায় ও সজ্ঞানে ১ গ্লাস পানি খেয়ে ফেলেছেন। কাফফারার রোজার নিয়ত থাকা সত্ত্বেও সুবহে সাদিকের পর ইচ্ছাকৃত বা স্বতঃস্ফূর্তভাবে পানাহার করলে সেই দিনের রোজা নস্যাৎ হয়ে যায় [নূরুল ঈযাহ, পৃষ্ঠা: ১৭০]। ২. পানাহারের পর পুনঃনিয়ত অকার্যকর: পানি পানের পর "সেহরি না খেয়েও তো রোজা রাখা যায়" ভেবে যে নতুন নিয়ত করার চেষ্টা করেছেন, ইতোমধ্যে পানাহার করে ফেলার কারণে দিনের বেলা সেই নিয়ত কাফফারার জন্য আর কার্যকর হবে না [নূরুল ঈযাহ, পৃষ্ঠা: ১৭২]।


২. ৬০ দিনের ধারাবাহিকতা (তাতাব্বু) কি ভেঙে যাবে?

উত্তর: হ্যাঁ, আপনার ৬০ দিনের কাফফারার রোজার ধারাবাহিকতা (তাতাব্বু/পায়বস্তি) ভেঙে গেছে [ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া ১০ম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১২৩, ১৩৫; ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ২০৫]।

ফিকহী ব্যাখ্যা: শরীয়তের বিধান হলো— রমজানের কাফফারা আদায়ের জন্য টানা ৬০টি (দুই মাস) রোজা রাখা আবশ্যক। মাঝে যদি শরঈ ওজর (যেমন মহিলাদের হায়েজ/নেফাস) ছাড়া ১ দিন রোজা ভেঙে যায় বা না রাখা হয়, তবে টানা রাখার শর্তটি নষ্ট হয়ে যায়। অতএব, আপনাকে পরবর্তীতে নতুন করে ১ম দিন থেকে পুনর্নিয়তে টানা ৬০টি কাফফারার রোজা রাখা শুরু করতে হবে [ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া ১০ম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১২৩, ১৩৫]।


৩. আজকের বাকি দিনের করণীয় (ইমসাক):

যদিও আজকের দিনটি কাফফারার রোজা হিসেবে গণ্য হবে না, তবুও সকালে ভুলবশত/অসচেতনতায় পানি খাওয়ার পর দিনের অবশিষ্ট সময় সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও রোজা ভঙ্গকারী কাজ থেকে বিরত থাকা (ইমসাক) শরীআতের দৃষ্টিতে ওয়াজিব [নূরুল ঈযাহ, পৃষ্ঠা: ১৮৫]।


সংযুক্ত কিতাবের বিবরণ (ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর সহ):

  • নূরুল ঈযাহ (বাংলা সংস্করণ):

    • পৃষ্ঠা: ১৭০ (অধ্যায়: কিতাবুস সোম — 'সুবহে সাদিকের পর পানাহার করলে রোজা নস্যাৎ হওয়া') [নূরুল ঈযাহ, পৃষ্ঠা: ১৭০]।
    • পৃষ্ঠা: ১৭২ (পরিচ্ছেদ: 'যে সকল রোজার জন্য রাত্রে নিয়ত করা শর্ত — কাফফারার রোজায় সুবহে সাদিকের পূর্বে নিয়ত থাকা ও দিনে পানাহারের পর নিয়ত অকার্যকর হওয়া') [নূরুল ঈযাহ, পৃষ্ঠা: ১৭২]।
    • পৃষ্ঠা: ১৮৫ (পরিচ্ছেদ: 'রোজা বিনষ্ট হওয়ার পর দিনের অবশিষ্ট অংশ পানাহার থেকে বিরত থাকা / ইমসাক ওয়াজিব হওয়া') [নূরুল ঈযাহ, পৃষ্ঠা: ১৮৫]।
  • ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া (১০ম খণ্ড):

    • পৃষ্ঠা: ১২৩ (অধ্যায়: কিতাবুস সোম, বাবুল কাজা ওয়াল কাফফারা — 'কাফফারার রোজায় ধারাবাহিকতা বা তাতাব্বু শর্ত হওয়া এবং ১ দিন বাদ পড়লে নতুন করে শুরু করার ফতোয়া') [ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া ১০ম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১২৩]।
    • পৃষ্ঠা: ১৩৫ (অধ্যায়: কিতাবুস সোম, বাবুল কাজা ওয়াল কাফফারা — 'কাফফারা রোজার তাতাব্বু বিনষ্ট হওয়ার ফিকহী হুকুম') [ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া ১০ম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১৩৫]।
  • ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড):

    • পৃষ্ঠা: ২০৫ (অধ্যায়: সালাত ও সোম, ৫ম অনুচ্ছেদ — 'কাফফারার রোজায় টানা ৬০ দিন থাকার শর্ত ও তা ভঙ্গের পর পুনরায় শুরু করার বিধান') [ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ২০৫]।

والله أعلم بالصواب


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.