রাগের মাথায় বারবার "ছেড়ে দিলাম" ও "ডিভোর্স দিয়ে দেব" বললে শরিয়তে তালাক হয় কি?

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 7818
Questioner: Badrul Chowdhury
Question Asked: 02 Nov 2026, 06:58 PM
Reviewed & Published: 02 Nov 2026, 07:16 PM
Views: 21
Tokens: 13,861
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামুআলাইকুম আমি নতুন বিয়ে করছি এক মাস হইছে আমি ওর অতীত এর একটা জিনিস নিয়ে খুব বিরক্ত ছিলাম তাই আমাদের দাম্পত্য জীবনে বিভিন্ন সময় রাগারাগি ও উত্তেজনার মুহূর্তে আমি রাগের মাথায় একাধিকবার আমার স্ত্রীকে 'ছেড়ে দিলাম' এবং মাঝে মাঝে 'ডিভোর্স দিয়ে দেব বা ডিভোর্স লেটার পাঠাব'—এজাতীয় কথাগুলো অনেকবার বলে ফেলেছি।
তবে আমি আল্লাহর নামে কসম করে বলছি, এই কথাগুলো বারবার বলার সময় আমার মনে বিন্দুমাত্রও তালাক দেওয়ার বা চিরতরে সম্পর্ক চুকিয়ে ফেলার কোনো নিয়ত বা উদ্দেশ্য ছিল না। আমার উদ্দেশ্য কখনোই সংসার ভেঙে দেওয়া ছিল না; আমি কেবল তাকে রাগানোর জন্য বা ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যে কথাগুলো বলতাম, যেন সে আমার কথা শুনে চলে এবং আমার নিয়ন্ত্রণে থাকে। আর সবচেয়ে বড় কথা আমি জানতামও না যে রাগ করে বা না বুঝে এ ধরনের কথা বারবার বললে শরিয়তে তালাক হয়ে যায়। আমার কখনোই তালাক দেওয়ার কোনো ইচ্ছে ছিল না।
"হুজুর, আমাদের দাম্পত্য জীবনে আমি মানসিকভাবে প্রচণ্ড কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গিয়েছি। ওর অতীতের আচরণ ও কিছু বিষয় এতটাই কষ্টদায়ক ছিল যে তা আমার পক্ষে সহ্য করা অসম্ভব ছিল। বিশেষ করে, একদিন আমি ওর ফোনে কিছু জিনিস দেখতে পাই, যা আমার জন্য একটা বিশাল মানসিক আঘাত ছিল। এছাড়া ও আমার অনেক কথা শুনত না, ডায়েট বা অনেক বিষয়ে আমার নিয়ন্ত্রণ মানত না।
এই চরম ক্ষোভ, মানসিক কষ্ট এবং ওকে নিজের নিয়ন্ত্রণে আনার তীব্র তাগিদ থেকেই আমি রাগের মাথায় দিশেহারা হয়ে পড়েছিলাম। এই আক্রোশ ও রাগ থেকেই আমি রাগের মাথায় একাধিকবার মুখে 'ছেড়ে দিলাম' এবং মাঝে মাঝে 'ডিভোর্স দিয়ে দেব' এজাতীয় কথাগুলো অনেকবার বলে ফেলেছি এবং গায়েও হাত তুলেছি।
তবে আমি আল্লাহর নামে কসম করে বলছি, এই কথাগুলো বারবার বলার সময় আমার মনে বিন্দুমাত্রও শরিয়তসম্মত উপায়ে তালাক দেওয়ার বা চিরতরে সম্পর্ক চুকিয়ে ফেলার কোনো নিয়ত বা উদ্দেশ্য ছিল না। আমার উদ্দেশ্য কখনোই সংসার ভেঙে দেওয়া ছিল না; আমার উদ্দেশ্য ছিল কেবল ওকে চরম রাগ দেখানো, ভয় দেখানো এবং নিজের নিয়ন্ত্রণে আনা, যাতে ও আর এই ধরণের মারাত্মক ভুলগুলো না করে। তখন আমি জানতামও না যে রাগ করে বা না বুঝে এ ধরনের কথা বারবার বললে শরিয়তে তালাক হয়ে যায়। আমার কখনোই তালাক দেওয়ার কোনো ইচ্ছে ছিল না।
এখন আমার এই পুরো পটভূমি, মানসিক আঘাত, বারবার কথাটি বলার অভ্যাস এবং আমার মূল নিয়ত (যেখানে তালাকের কোনো উদ্দেশ্য ছিল না, কেবল চরম রাগ ও ভয় দেখানো ছিল)—এগুলো বিবেচনা করে শরিয়তের সঠিক বিধান ও ফতোয়া কী হবে, দয়া করে আমাকে জানিয়ে বাধিত করবেন।"
আর সবচেয়ে বড় কথা আমি জানতামই না যে ছেড়ে দিলাম বললে কী হয় আর ছেড়ে দিলাম কথা টা মনেহয় অনেকবার বলেছি আবার মনেহয় বলি নাই আবার বলেছি মনেহইলে কোনদিন বলেছি স্পষ্ট মনেও পড়ে না কিন্তু পরশু যে বলেছি এটা স্পষ্ট মনে আছে আমার স্ত্রী ও মনে করতে পারতাছে না ছেড়ে দিলাম আগে বলেছি কী না আগে বললেও কতবার বলেছি কিন্তু পরশু এই কথা বলার পর আমার স্পষ্ট মনে আছে আমার স্ত্রী আমাকে আটকাইছে কিন্তু আগে এই কথা বলার পর আমার স্ত্রী আমাকে আটকাইছে কি না আমার স্পষ্ট মনে নাই আমার স্ত্রী পরশু বলছে মনেহয় অনেকবার বলেছি কালকে আবার বলে বলেছি কী না বা কয়বার বলেছি কিচ্ছু মনে পড়তাছে না আমার ও কিচ্ছু মনে পড়তাছে না সম্পর্ক শেষ এরকম শব্দ অনেকবার বলেছি মনে পড়ছে কিন্ত কোনো তালাক এর উদ্দেশ্য ছিলো না এই অবস্থায় আমার জন্যে বিধান কি?

Answer

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু

প্রিয় ভাই, আপনার প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল। আমি শরিয়তের বিধান অনুযায়ী বিস্তারিতভাবে উত্তর দিচ্ছি। প্রথমেই একটি মূল বিষয় স্পষ্ট করে নিন: তালাকের ক্ষেত্রে নিয়ত বা উদ্দেশ্য নয়, বরং মুখে উচ্চারিত শব্দই মূল বিবেচ্য। তবে কোন শব্দ "সরীহ" (স্পষ্ট) আর কোনটি "কিনায়া" (ইঙ্গিতবাচক) — এটাই নির্ধারণ করে তালাক পতিত হবে কি না।


১. শরিয়তের মূলনীতি: সরীহ ও কিনায়া শব্দ

হানাফি ফিকহ অনুযায়ী তালাকের শব্দ দুই প্রকার:

(ক) সরীহ (স্পষ্ট) শব্দ

যেমন: "তালাক", "ছাড়িয়া দিলাম", "তোমাকে তালাক দিলাম" ইত্যাদি। এসব ক্ষেত্রে নিয়তের প্রয়োজন নেই — রাগে বলুক বা হাসিতে, তালাক পতিত হয়ে যাবে।

রাদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন), খণ্ড ৩, পৃ. ২৪৪:
"الطلاق الصريح لا يحتاج إلى النية"
অর্থ: সরীহ তালাকের ক্ষেত্রে নিয়তের প্রয়োজন নেই।

আল-হিদায়া, কিতাবুত তালাক:
"ولا يشترط قصد الطلاق في الصريح"
অর্থ: সরীহ শব্দে তালাকের নিয়ত শর্ত নয়।

(খ) কিনায়া (ইঙ্গিতবাচক) শব্দ

যেমন: "ডিভোর্স দিয়ে দেব", "ডিভোর্স লেটার পাঠাব", "সম্পর্ক শেষ" ইত্যাদি। এসব ক্ষেত্রে তালাকের নিয়ত বা পরিস্থিতির قرينة (সূচক) থাকলে তালাক পতিত হয়, নইলে নয়।

রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ৩, পৃ. ২৯৮:
"الكنايات لا يقع بها الطلاق إلا بالنية أو بدلالة الحال"
অর্থ: কিনায়া শব্দে তালাক কেবল নিয়ত বা অবস্থার সূচক দ্বারা পতিত হয়।


২. আপনার বক্তব্যের বিশ্লেষণ

(ক) "ছেড়ে দিলাম" — এটি সরীহ শব্দ

"ছেড়ে দিলাম" বা "তোমাকে ছেড়ে দিলাম" — এগুলো সরীহ তালাকের শব্দ। এখানে আপনার নিয়ত ছিল না — এ কথার অর্থ এই নয় যে তালাক পতিত হয়নি। হানাফি মাযহাব অনুযায়ী সরীহ শব্দে নিয়ত ছাড়াও তালাক পতিত হয়।

ফাতাওয়া উসমানি, খণ্ড ২, পৃ. ৩০০:
"صريح الطلاق يقع بدون نية"
অর্থ: সরীহ তালাক নিয়ত ছাড়াই পতিত হয়।

ইমদাদুল ফাতাওয়া, খণ্ড ২, পৃ. ২৪৫:
"راغب ہو یا نہ ہو، صریح لفظ سے طلاق واقع ہو جاتی ہے"
অর্থ: রাগে বলুক বা না বলুক, সরীহ শব্দে তালাক পতিত হয়।

তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়: "ছেড়ে দিলাম" শব্দটি যদি আপনি স্ত্রীকে সম্বোধন করে বলেন, তাহলে তা সরীহ তালাক। আর যদি নিজেকে বা অন্য কিছুকে উদ্দেশ্য করে বলেন (যেমন: "আমি সংসার ছেড়ে দিলাম"), তাহলে তা তালাক নয়। আপনার বর্ণনা অনুযায়ী আপনি স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করেই বলেছেন — তাই এটি সরীহ তালাক হিসেবে গণ্য হবে।

(খ) "ডিভোর্স দিয়ে দেব / ডিভোর্স লেটার পাঠাব" — এটি কিনায়া শব্দ

এগুলো ভবিষ্যৎকালীন ইঙ্গিতবাচক শব্দ। এসব ক্ষেত্রে তালাকের নিয়ত বা অবস্থার قرينة থাকলে তালাক পতিত হয়। আপনার বক্তব্য অনুযায়ী আপনার নিয়ত ছিল না — কেবল ভয় দেখানো। তাই এই শব্দগুলো দ্বারা তালাক পতিত হয়নি (যদি না অন্য কোনো قرينة থাকে)।

ফাতাওয়া আলমগিরি, খণ্ড ১, পৃ. ৩৫৪:
"الكنايات لا يقع بها الطلاق إلا بالنية أو دلالة الحال"
অর্থ: কিনায়া শব্দে তালাক কেবল নিয়ত বা অবস্থার সূচক দ্বারা পতিত হয়।

(গ) "সম্পর্ক শেষ" — এটিও কিনায়া শব্দ

এটিও ইঙ্গিতবাচক। নিয়ত ছাড়া তালাক পতিত হয় না।


৩. সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়: সংখ্যা ও পুনরাবৃত্তি

এখন আসল সমস্যা: আপনি "ছেড়ে দিলাম" শব্দটি কতবার বলেছেন তা আপনি নিজেও স্পষ্টভাবে মনে করতে পারছেন না। এটি অত্যন্ত জটিল পরিস্থিতি। কারণ:

  • এক তালাক পতিত হলে স্ত্রীকে রুজু (ফিরিয়ে আনা) করা যায় — ইদ্দতের মধ্যে বা নতুন নিকাহ দ্বারা।
  • দুই তালাক পতিত হলে একইভাবে রুজু সম্ভব।
  • তিন তালাক পতিত হলে মুগাল্লাজা (চূড়ান্ত) তালাক হয়ে যায় — হালালা ছাড়া ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়।

সূরা বাকারা, আয়াত ২২৯:
"الطَّلَاقُ مَرَّتَانِ ۖ فَإِمْسَاكٌ بِمَعْرُوفٍ أَوْ تَسْرِيحٌ بِإِحْسَانٍ"
অর্থ: "তালাক দুইবার; অতঃপর হয় যথাবিধি রাখিয়া দেওয়া, অথবা সদয়ভাবে ছাড়িয়া দেওয়া।"

রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ৩, পৃ. ২৩২:
"إذا تكرر لفظ الطلاق في مجلس واحد يقع المتعدد عند أبي حنيفة"
অর্থ: ইমাম আবু হানিফার মতে একই মজলিসে তালাকের শব্দ পুনরাবৃত্তি হলে একাধিক তালাক পতিত হয়।

তবে ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদের মতে: একই মজলিসে পুনরাবৃত্তি হলে এক তালাক পতিত হয় (যদি না সংখ্যা উল্লেখ করা হয়)।

আল-হিদায়া, কিতাবুত তালাক:
"وعندهما يقع واحدة في المجلس الواحد"
অর্থ: ইমাম আবু ইউসুফ ও মুহাম্মদের মতে একই মজলিসে এক তালাক পতিত হয়।

এবং ফাতাওয়া প্রদানের ক্ষেত্রে (ফতোয়া দেওয়ার সময়) ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদের মতই গ্রহণযোগ্য — এটি হানাফি ফিকহের সুপ্রতিষ্ঠিত নীতি।

ফাতাওয়া উসমানি, খণ্ড ২, পৃ. ৩১৭:
"الفتوى على قولهما في مسألة تكرار الطلاق في المجلس الواحد"
অর্থ: একই মজলিসে তালাক পুনরাবৃত্তির মাসআলায় ফতোয়া ইমাম আবু ইউসুফ ও মুহাম্মদের মতের উপর।


৪. আপনার নির্দিষ্ট পরিস্থিতির বিধান

আপনার বর্ণনা অনুযায়ী:

  1. "ছেড়ে দিলাম" — সরীহ শব্দ, নিয়ত ছাড়াও তালাক পতিত হয়।
  2. "ডিভোর্স দিয়ে দেব / ডিভোর্স লেটার পাঠাব" — কিনায়া শব্দ, নিয়ত না থাকায় তালাক পতিত হয়নি।
  3. "সম্পর্ক শেষ" — কিনায়া শব্দ, নিয়ত না থাকায় তালাক পতিত হয়নি।
  4. "ছেড়ে দিলাম" কতবার বলেছেন — স্পষ্ট মনে নেই।

ফতোয়ার সারমর্ম:

যদি আপনি নিশ্চিত হন যে "ছেড়ে দিলাম" শব্দটি অন্তত একবার বলেছেন (যা আপনি পরশু বলেছেন বলে স্বীকার করেছেন), তাহলে অন্তত এক তালাক পতিত হয়েছে — নিয়ত না থাকলেও।

আর যদি একাধিক মজলিসে (আলাদা আলাদা সময়ে) একাধিকবার "ছেড়ে দিলাম" বলে থাকেন, তাহলে প্রতিবার এক তালাক হিসেবে গণ্য হবে — এবং তিনবার হলে তিন তালাক পতিত হয়ে বাইন তালাক হয়ে যাবে।

তবে একই মজলিসে (একই রাগের ঝোঁকে, একই বৈঠকে) একাধিকবার বললে — ফতোয়ার ভিত্তিতে (ইমাম আবু ইউসুফ ও মুহাম্মদের মত) এক তালাক পতিত হবে।


৫. যেহেতু সংখ্যা স্পষ্ট নয় — করণীয়

এটি একটি মুশকিল মাসআলা। সংখ্যা স্পষ্ট না থাকলে শরিয়তে কী করণীয়?

রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ৩, পৃ. ২৪৫:
"إذا شك في عدد الطلاق يبني على اليقين"
অর্থ: তালাকের সংখ্যায় সন্দেহ হলে নিশ্চিত সংখ্যার উপর ভিত্তি করা হবে।

অর্থাৎ, যতটুকু নিশ্চিত, ততটুকু ধরা হবে। আপনি নিশ্চিত যে পরশু একবার "ছেড়ে দিলাম" বলেছেন — তাই অন্তত এক তালাক নিশ্চিতভাবে পতিত। এর বেশি সংখ্যা নিশ্চিত না হলে এক তালাকই ধরা হবে।

কিন্তু এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ: আপনি সরাসরি কোনো নির্ভরযোগ্য মুফতি বা দারুল ইফতার সাথে সাক্ষাতে গিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করুন। কারণ:

  1. সংখ্যা ও মজলিসের বিস্তারিত জানা প্রয়োজন।
  2. আপনার স্ত্রীর স্মৃতিও যাচাই করা প্রয়োজন।
  3. ইদ্দত, রুজু, নতুন নিকাহ — এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত প্রয়োজন।

৬. এক তালাক পতিত হলে করণীয়

যদি এক তালাক পতিত হয়ে থাকে (যা নিশ্চিত), তাহলে:

  • ইদ্দতের মধ্যে (তিন হায়েজ বা তিন মাস) রুজু করা যাবে — নতুন নিকাহ ছাড়াই, শুধু মুখে "রুজু করলাম" বলে ফিরিয়ে আনা যাবে।
  • ইদ্দত শেষ হয়ে গেলে নতুন মেহর ও নতুন নিকাহ দ্বারা ফিরিয়ে আনা যাবে (তবে দুই তালাক পূর্ণ হলে ভিন্ন বিধান)।

সূরা বাকারা, আয়াত ২২৮:
"وَبُعُولَتُهُنَّ أَحَقُّ بِرَدِّهِنَّ فِي ذَٰلِكَ إِنْ أَرَادُوا إِصْلَاحًا"
অর্থ: "তাদের স্বামীরা ইদ্দতের মধ্যে ফিরিয়ে আনার অধিক হকদার, যদি তারা সংশোধন চায়।"

আল-হিদায়া:
"الرجعي لا يحل به نكاح جديد بل يرتجعها في العدة"
অর্থ: রজয়ি তালাকে নতুন নিকাহ ছাড়াই ইদ্দতের মধ্যে ফিরিয়ে আনা যায়।


৭. ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা

  1. মুখে তালাকের শব্দ উচ্চারণ করা অত্যন্ত বিপজ্জনক। রাগের সময় মুখ বন্ধ রাখুন, ঘর থেকে বেরিয়ে যান, ওযু করুন।
  2. "ছেড়ে দিলাম", "তালাক দিলাম" — এসব শব্দ কখনোই রাগের মাথায় বলবেন না। এটি সরীহ শব্দ, নিয়ত ছাড়াও তালাক পতিত হয়।
  3. স্ত্রীর প্রতি হাত তোলা — এটি শরিয়তে নিষিদ্ধ ও গুনাহ।

সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ২১৪২:
"لا يجلد أحدكم امرأته جلد العبد"
অর্থ: "তোমাদের কেউ যেন তার স্ত্রীকে দাসকে প্রহার করার মতো প্রহার না করে।"

  1. রাগ নিয়ন্ত্রণ করুন —

সহিহ বুখারি, হাদিস ৬১১৪:
"لا تغضب"
অর্থ: "রাগ করো না।"


৮. চূড়ান্ত ফতোয়া (সারাংশ)

| বিষয় | বিধান | |------|--------| | "ছেড়ে দিলাম" (সরীহ) | নিয়ত ছাড়াও তালাক পতিত — অন্তত এক তালাক নিশ্চিত | | "ডিভোর্স দিয়ে দেব / লেটার পাঠাব" (কিনায়া) | নিয়ত না থাকায় তালাক পতিত হয়নি | | "সম্পর্ক শেষ" (কিনায়া) | নিয়ত না থাকায় তালাক পতিত হয়নি | | একই মজলিসে পুনরাবৃত্তি | ফতোয়া অনুযায়ী এক তালাক | | ভিন্ন ভিন্ন মজলিসে পুনরাবৃত্তি | প্রতিবার এক তালাক — তিনবার হলে বাইন | | সংখ্যা সন্দেহ | নিশ্চিত সংখ্যার উপর ভিত্তি — অন্তত এক তালাক |

সর্বোপরি: আপনি একজন নির্ভরযোগ্য মুফতির সাথে সরাসরি সাক্ষাৎ করে বিস্তারিত আলোচনা করুন এবং সংখ্যা ও মজলিসের বিবরণ দিন। এটি অনলাইন ফতোয়ার চেয়ে বেশি নিরাপদ। আল্লাহ তাআলা আপনার দাম্পত্য জীবনকে হেফাজত করুন এবং রাগ নিয়ন্ত্রণের তাওফিক দিন। আমিন।


والله أعلم بالصواب


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.