স্বামীকে মিথ্যা বলে শাড়ি-বোরকা পরে ঘোরা, হিজাব-নিকাব না পরার পর স্বামী ছেড়ে দিতে চাইলে ইসলাম কী বলে?
Marriage and Divorce · Hanafi
Question
Answer
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
প্রথমে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পষ্ট করে নেওয়া দরকার: আপনি যা করেছেন—স্বামীকে মিথ্যা বলে বাইরে গিয়ে শাড়ি-বোরকা টপস পরে ঘোরা, হিজাব-নিকাব ছাড়া বের হওয়া—এসব ইসলামে স্পষ্ট গুনাহ ও শরীয়তবিরোধী কাজ। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:
«وَلَا تَبَرَّجْنَ تَبَرُّجَ الْجَاهِلِيَّةِ الْأُولَىٰ» "আর তোমরা প্রাচীন জাহেলিয়াতের মতো নিজেদের সৌন্দর্য প্রদর্শন করো না।" (সূরা আহযাব: ৩৩)
আর স্বামীকে মিথ্যা বলা সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেন: "যে ব্যক্তি মিথ্যা বলে, সে মুমিন নয়"—এবং স্ত্রীর জন্য স্বামীর অনুমতি ছাড়া বের হওয়া নিষিদ্ধ। তবে আপনি যে এখন তাওবা করেছেন, নামাজ-কুরআন-পূর্ণ পর্দা শুরু করেছেন—এটি আল্লাহর বিশেষ রহমত। আল্লাহ তাআলা বলেন:
«إِلَّا مَن تَابَ وَآمَنَ وَعَمِلَ عَمَلًا صَالِحًا فَأُولَٰئِكَ يُبَدِّلُ اللَّهُ سَيِّئَاتِهِمْ حَسَنَاتٍ» "তবে যে তাওবা করে, ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে—আল্লাহ তাদের পাপসমূহকে নেকিতে পরিবর্তন করে দেন।" (সূরা ফুরকান: ৭০)
এখন শরীয়তের বিধান ও আপনার করণীয়:
১. স্বামীর সিদ্ধান্ত: ইসলামে তালাকের অধিকার স্বামীর হাতে। তিনি যদি আপনার অতীতের গুনাহের কারণে আপনাকে ছেড়ে দিতে চান, তবে শরীয়ত তাকে বাধ্য করতে পারে না। তবে তিনি ইতিমধ্যে দুইবার সুযোগ দিয়েছেন—এটি তাঁর উদারতা। এখন তিনি না চাইলে আপনি তাকে জোর করতে পারবেন না। জোর করলে সম্পর্ক আরও বিষাক্ত হবে।
২. আপনার করণীয়—আন্তরিক তাওবা ও ক্ষমা প্রার্থনা:
- আল্লাহর কাছে খাঁটি তাওবা করুন, ইস্তিগফার বেশি করুন।
- স্বামীর কাছে বিনয়ের সাথে ক্ষমা চান, নিজের ভুল স্বীকার করুন—কিন্তু অশোভনভাবে অনুনয়-বিনয় করে তাঁর উপর চাপ দেবেন না।
- তাঁর পরিবারের সম্মানিত লোকদের (যেমন তাঁর পিতা, বড় ভাই বা বিশ্বস্ত আলেম) মাধ্যমে মধ্যস্থতা করানোর চেষ্টা করুন। আল্লাহ বলেন: «وَأَصْلِحُوا ذَاتَ بَيْنِكُمْ»—"তোমরা পরস্পরের মধ্যে সংশোধন করে নাও।" (সূরা আনফাল: ১)
৩. ধৈর্য ও দুআ: রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন: "মুমিনের ব্যাপার আশ্চর্যজনক—সব অবস্থাতেই তার কল্যাণ; বিপদে ধৈর্য ধরে, তাতেও সওয়াব।" (সহীহ মুসলিম) আপনি এখন যে ইবাদত করছেন, তা চালিয়ে যান—এটি আপনার সবচেয়ে বড় পুঁজি। আল্লাহর কাছে দুআ করুন: «رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ»—"হে আমাদের রব, আমাদের স্ত্রী ও সন্তানদের আমাদের চোখের শীতলতা দান করুন।" (সূরা ফুরকান: ৭৪)
৪. যদি তিনি তালাক দেন: তবে ইসলামে তালাক বৈধ, যদিও তা আল্লাহর কাছে অপছন্দনীয়। তালাকের পর ইদ্দত পালন করুন, আল্লাহর উপর ভরসা রাখুন। আল্লাহ বলেন: «وَمَن يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَل لَّهُ مَخْرَجًا»—"যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য উত্তরণের পথ করে দেন।" (সূরা তালাক: ২)
৫. গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা: আপনার অতীতের গুনাহের কথা অন্যের কাছে প্রকাশ করবেন না (গীবত ও নিজের পাপ প্রকাশ নিষিদ্ধ)। শুধু আল্লাহর কাছে স্বীকার করুন।
সারকথা: আপনার অতীতের ভুল বড় ছিল, কিন্তু আল্লাহর দরজা খোলা। এখন আপনি সঠিক পথে আছেন—এটাই সবচেয়ে বড় নেয়ামত। স্বামীকে ছেড়ে দিতে চাইলে তাকে জোর করবেন না; বরং বিনয়, দুআ ও ধৈর্যের মাধ্যমে আল্লাহর উপর ভরসা করুন। তিনি ফিরে আসলে শুকরিয়া, না এলে ধৈর্য—দুই অবস্থাতেই আপনার জন্য কল্যাণ। আল্লাহ আপনার জন্য উত্তম ফয়সালা করুন। আমিন।