ফরজ রোজার কাযা থাকলে আরাফার রোজা রাখা জায়েয কিনা?
Siyam-Fasting · Hanafi
Question
Answer
উত্তর: ফরজ রোজার কাযা থাকা অবস্থায় আরাফার রোজা রাখা
প্রশ্ন: কারো ফরজ রোজা (রমযানের কাযা) বাকি থাকলে সে কি আরাফার দিন (৯ই জিলহজ) নফল রোজা রাখতে পারবে? নাকি আগে কাযা রোজা আদায় করতে হবে? আরাফার দিনই কি কাযা রোজা রাখা যাবে?
উত্তর: হানাফী মাযহাবের উসূল অনুযায়ী, ফরজ রোজার কাযা থাকা অবস্থায় নফল রোজা রাখা জায়েয, তবে উত্তম হলো প্রথমে কাযা রোজা আদায় করা।
কিন্তু কেউ যদি আরাফার দিন নফল রোজা রাখে, তাহলে তা সহীহ হবে এবং এর সওয়াবও পাবে। অধিকন্তু, আরাফার দিন যদি কেউ কাযা রোজার নিয়ত করে, তাহলে সেটিও সহীহ হবে
হানাফী ফিকহের দলিল:
১. ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া (আলমগীরী):
"যার উপর রমযানের কাযা রোজা বাকি আছে, সে নফল রোজা রাখতে পারে। তবে কাযা রোজা আগে আদায় করা উত্তম।" (ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া, ১/২০৬)
২. রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবেদীন):
"কাযা রোজা বাকি থাকা অবস্থায় নফল রোজা রাখা মাকরূহে তানযিহী (অপছন্দনীয়) নয়; বরং তা জায়েয। তবে কাযা রোজা দেরি না করে আগে আদায় করা উচিত।" (রদ্দুল মুহতার, ২/৪২২)
আরাফার দিন কাযা রোজা রাখার বিধান:
হ্যাঁ, আরাফার দিন কাযা রোজা রাখা জায়েয।
সারসংক্ষেপ:
- কাযা রোজা বাকি থাকা অবস্থায় আরাফার নফল রোজা রাখা জায়েয, কিন্তু উত্তম হলো আগে কাযা আদায় করা।
সতর্কীকরণ: রমযানের কাযা রোজা দেরি করা মাকরূহে তাহরীমী (নিষিদ্ধ পর্যায়ের অপছন্দনীয়) না হলেও, যত দ্রুত সম্ভব আদায় করা কর্তব্য। তাই নফল রোজার চেয়ে কাযা রোজাকে অগ্রাধিকার দেওয়া শ্রেয়।
আল্লাহু আলাম (আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন)।