"৪৯৯ বার লা হাওলা আমল সুন্নাহ নাকি বিদআত"

Sunnah and Bid'ah · Hanafi

Question No: 7798
Questioner: Nusaiba Afrin
Question Asked: 02 Nov 2026, 02:10 PM
Reviewed & Published: 02 Nov 2026, 02:15 PM
Views: 12
Tokens: 3,841
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

একশো বার দরুদ তারপর 499 বার লা হাওলা ওয়ালা কুয়াতা ইল্লা বিল্লাহ আর একবার লা হাওলা ওয়ালা কুয়াতা ইল্লা বিল্লাহ আলিয়ুল আজিম পড়ে যদি কোনো দুয়া করা হয় সেটি নাকি কবুল হয়ে যায় এটা কতটুকু সুন্নাহ সম্মত বা এই ধরনের যে আমল গুলো এগুলো কি সুন্নাহ মোতাবেক?

Answer

প্রশ্নোক্ত আমলটি সুন্নাহসম্মত নয় — এটি একটি ভিত্তিহীন আমল।

সংক্ষিপ্ত উত্তর: প্রশ্নে উল্লিখিত পদ্ধতিতে (১০০ বার দরুদ → ৪৯৯ বার "লা হাওলা ওয়ালা কুয়াতা ইল্লা বিল্লাহ" → ১ বার "...আলিয়্যুল আজিম" পড়ে দুআ করা, এবং এতে দুআ কবুল হওয়ার বিশ্বাস করা) — এ ধরনের কোনো আমল রাসূলুল্লাহ ﷺ থেকে প্রমাণিত নেই। এটি সুন্নাহসম্মত নয়; বরং এটি ** ভিত্তিহীন আমল**-এর অন্তর্ভুক্ত, যা থেকে বিরত থাকা কর্তব্য।


১. মূলনীতি: ইবাদতের ক্ষেত্রে "তাওকিফ" (প্রমাণনির্ভরতা)

আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের সর্বসম্মত মূলনীতি হলো — ইবাদতের ক্ষেত্রে মূল হলো ** (ইবাদতে মূলনীতি হলো আল্লাহ ও রাসূলের নির্দেশের অনুসরণ)। কোনো আমলকে ইবাদত হিসেবে গণ্য করতে হলে তার জন্য কুরআন-সুন্নাহ থেকে দলিল থাকা আবশ্যক।

রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন:

«مَنْ عَمِلَ عَمَلًا لَيْسَ عَلَيْهِ أَمْرُنَا فَهُوَ رَدٌّ» "যে ব্যক্তি এমন কোনো আমল করল, যার উপর আমাদের নির্দেশ নেই, তা প্রত্যাখ্যাত।" — সহীহ মুসলিম, হাদিস নং ১৭১৮ (কিতাবুল আকদিয়া); সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ৪৬০৬

অর্থাৎ, নির্দিষ্ট সংখ্যা, নির্দিষ্ট ক্রম ও নির্দিষ্ট ফযীলতের বিশ্বাস নিয়ে কোনো আমল করতে হলে তা রাসূল ﷺ বা সাহাবায়ে কিরাম থেকে প্রমাণিত হতে হবে। প্রশ্নোক্ত আমলে সংখ্যা (১০০, ৪৯৯, ১), ক্রম ও বিশেষ ফযীলত — সবই নির্ধারিত, অথচ এর কোনো ভিত্তি নেই।


২. "লা হাওলা ওয়ালা কুয়াতা ইল্লা বিল্লাহ" — নিজে সুন্নাহ, কিন্তু এ পদ্ধতি নয়

"লা হাওলা ওয়ালা কুয়াতা ইল্লা বিল্লাহ" একটি মহান যিকির, যা হাদিসে বহুবার এসেছে। যেমন রাসূল ﷺ বলেছেন:

«أَلَا أَدُلُّكَ عَلَى كَنْزٍ مِنْ كُنُوزِ الْجَنَّةِ؟ لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ» "আমি কি তোমাকে জান্নাতের একটি ধনভাণ্ডারের সন্ধান দেব না? (তা হলো) লা হাওলা ওয়ালা কুয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।" — সহীহ বুখারি, হাদিস নং ৬৩৮৪; সহীহ মুসলিম, হাদিস নং ২৭০৪

তবে কোনো হাদিসে এভাবে ১০০ দরুদ + ৪৯৯ বার + ১ বার "আলিয়্যুল আজিম" যোগ করে পড়ার নির্দেশ বা ফযীলত বর্ণিত হয়নি। হাদিসে বর্ণিত যিকিরকে নিজের ইচ্ছামতো সংখ্যা, ক্রম ও ফযীলত নির্ধারণ করে পালন করা — এটাই বিদআতের সূচনা।

৩. সতর্কতা ও করণীয়

  • এ ধরনের আমল পরিত্যাগ করুন; এটি সুন্নাহ নয়, বরং নব-উদ্ভাবিত (বিদআত)।
  • দুআ কবুলের জন্য সহীহ হাদিসে বর্ণিত দুআ ও যিকিরগুলো আঁকড়ে ধরুন — যেমন: দৈনন্দিন মা'সুরাত, সকাল-সন্ধ্যার যিকির, দরুদে ইব্রাহিম, "লা হাওলা ওয়ালা কুয়াতা ইল্লা বিল্লাহ" (হাদিসে বর্ণিত শব্দে), ইস্তিগফার ইত্যাদি।
  • কেউ যদি এ আমলকে "বিশেষ ফযীলতের" বলে প্রচার করে, তবে তার দলিল চাইবেন; দলিল না থাকলে গ্রহণ করবেন না।
  • সন্দেহ হলে নির্ভরযোগ্য মুফতির শরণাপন্ন হোন।

উপসংহার

প্রশ্নোক্ত আমলটি (১০০ দরুদ + ৪৯৯ বার + ১ বার "আলিয়্যুল আজিম" সহ) সুন্নাহসম্মত নয়; বরং এটি ভিত্তিহীন আমল। এ ধরনের আমল থেকে বিরত থাকা এবং সহীহ সুন্নাহ অনুযায়ী যিকির-দুআ করা কর্তব্য। আল্লাহ তাওফিক দান করুন। আমিন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.