সুদের কাগজ নিরীক্ষা করার কাজ আংশিক থাকলে ইনকাম কি হালাল থাকবে?
Business and Job · Hanafi
Question
১- যদিও অনেক কম তবুও সুদের কাগজ নিরীক্ষা করে এতে করে কি আপুর বেতনের কিছু অংশ হারাম হবে ?
২ - যদি কিছু অংশ হারাম হয় এবং তা কতটুকু কোনভাবেই অনুমান করা না যায় ।তখন এই হারাম অংশ যদি পরিশোধ করা না যায় । তখন এই হারাম অংশের গুনাহ থেকে পরিত্রাণের উপায় কি ?
৩- কেউ যদি দীর্ঘদিন হারাম উপার্জনের রিজিকের উপর থাকে এবং একসময় সে বুঝতে পেরে তাওবা করে সে হারাম রিযিক ছেড়ে দেয় ।এর পর তারজন্য যত হারাম সে খেয়েছে তা পরিশোধ করা ফরজ ? নাহলে কি গুনাহ মাফ হবে না।
৪- আইফতোয়ার একটা উত্তরে বলা হয়েছে - সাধারণত কোন মাল অল্প হারাম থেকে মুক্ত নয়। এক্ষেত্রে কি হারামের এমন কোন পরিমাপ আছে যা ক্ষমাযোগ্য ? আর যদি থাকে তার পরিমাপ কত ?
৫- কেউ যদি সুদের ভিত্তিতে ঋণ নিয়ে বা হারাম টাকায় কোন হালাল কাজের ব্যবসা শুরু করে এতে সে ব্যবসা কি হালাল হবে ? এবং সে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চাকরির টাকা কি হালাল হবে ?
৬- হারাম ভক্ষণের ফলে ইবাদত ও দুয়া কবুল হয় না।কারো রিযিকে যদি আংশিক হারাম থাকে তাহলেও কি ইবাদত ও দুয়া কবুল হবে না।
Answer
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
প্রশ্নটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ এবং এতে কয়েকটি আলাদা মাসআলা রয়েছে। নিচে ধাপে ধাপে হানাফি ফিকহের আলোকে উত্তর দেওয়া হলো।
ভূমিকা: মূল নীতি
শরীয়তের মূলনীতি হলো—হারাম মাল ভক্ষণ, ব্যবহার ও তা দিয়ে উপকৃত হওয়া নাজায়েজ। আল্লাহ তাআলা বলেন:
«يَا أَيُّهَا النَّاسُ كُلُوا مِمَّا فِي الْأَرْضِ حَلَالًا طَيِّبًا وَلَا تَتَّبِعُوا خُطُوَاتِ الشَّيْطَانِ» "হে মানুষ! পৃথিবীতে যা হালাল ও পবিত্র তা থেকে আহার করো এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না।" (সূরা বাকারা: ১৬৮)
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন:
«إِنَّ اللَّهَ طَيِّبٌ لَا يَقْبَلُ إِلَّا طَيِّبًا» "নিশ্চয়ই আল্লাহ পবিত্র, তিনি কেবল পবিত্র (হালাল) আমলই কবুল করেন।" (সহিহ মুসলিম: ১০১৫)
১ম প্রশ্ন: সুদের কাগজপত্র নিরীক্ষা (Audit) করলে বেতনের কিছু অংশ হারাম হবে কি?
উত্তর: এখানে দুটি দিক বিবেচ্য:
(ক) সরাসরি সুদ লেনদেন বা সুদি চুক্তি সম্পাদন: যদি আপু নিজে সুদি ঋণ চুক্তি সম্পাদন করেন, সুদের হিসাব তৈরি করেন বা সুদি লেনদেনে সরাসরি সহায়তা করেন—তবে তা নাজায়েজ এবং এ থেকে অর্জিত বেতন হারাম হবে। কারণ রাসূল ﷺ সুদ লেখক ও সাক্ষীকে অভিশাপ দিয়েছেন:
«لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ آكِلَ الرِّبَا وَمُوكِلَهُ وَكَاتِبَهُ وَشَاهِدَيْهِ وَقَالَ هُمْ سَوَاءٌ» "রাসূলুল্লাহ ﷺ সুদ ভক্ষণকারী, সুদদাতা, সুদের লেখক ও তার দুই সাক্ষীকে অভিশাপ করেছেন এবং বলেছেন, তারা সবাই সমান (গুনাহে)।" (সহিহ মুসলিম: ১৫৯৮)
(খ) শুধু নিরীক্ষা/পরিদর্শন (Audit): যদি তার কাজ শুধু হিসাব-নিকাশ যাচাই করা হয়—অর্থাৎ সুদি লেনদেনে অংশগ্রহণ না করে কেবল কাগজপত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়, তবে এ কাজ সরাসরি সুদে সহায়তা নয়। তবে যেহেতু সে এমন প্রতিষ্ঠানের সুদি লেনদেন যাচাই করে "সঠিক" বলে প্রত্যয়ন (certify) করে, যা পরোক্ষভাবে সুদি ব্যবস্থাকে সহযোগিতা করে—এটি মাকরূহে তাহরীমি এবং সতর্কতার বিষয়। এমতাবস্থায় বেতন পুরোপুরি হারাম হবে না, তবে বেতনের একটি অংশ সন্দেহযুক্ত হবে এবং তাকে অবশ্যই তাওবা করতে হবে।
সতর্কতা: যদি তার সার্টিফিকেশন/অডিট রিপোর্ট ছাড়া ফার্মটি সুদি ঋণ নিতে না পারে বা সুদি লেনদেন চালাতে না পারে—তবে তা সরাসরি সহায়তা হিসেবে গণ্য হবে এবং বেতন হারাম হবে।
পরামর্শ: সম্ভব হলে তাকে এমন ক্লায়েন্ট অডিট এড়াতে বলা উচিত যাদের মূল ব্যবসাই সুদি। আর যদি একান্তই করতে হয়, তবে অন্তরে ঘৃণা রেখে, শুধু পেশাগত দায়িত্ব পালন হিসেবে করবে এবং বেশি বেশি ইস্তিগফার করবে।
২য় প্রশ্ন: হারাম অংশের পরিমাণ অনুমান করা না গেলে কী করবে?
উত্তর: ইসলামি ফিকহে একটি গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি আছে—যখন হারাম মাল মিশ্রিত হয়ে যায় এবং আলাদা করা অসম্ভব হয়ে পড়ে, তখন "তাহরীজ" (আনুপাতিক অনুমান) পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়। ইমাম ইবন আবিদিন রহ. «রাদ্দুল মুহতার»-এ বলেন:
«وَلَوْ اخْتَلَطَ الْحَلَالُ بِالْحَرَامِ وَلَمْ يَتَمَيَّزْ وَجَبَ التَّحَرِّي» "যখন হালাল হারামের সাথে মিশে যায় এবং আলাদা করা সম্ভব না হয়, তখন অনুমান (তাহার্রী) করা ওয়াজিব।" (রাদ্দুল মুহতার: ৬/৩৮৫)
উপায়:
- অনুমান করে বের করা: বেতনের যতটুকু অংশ সুদি কাজের সাথে সম্পর্কিত, তা অনুমান করে সদকা করে দেওয়া।
- যদি অনুমানই সম্ভব না হয়: তবে বেতনের একটি অংশ (যেমন ৫%-১০%) সতর্কতামূলকভাবে সদকা করে দেওয়া। এটি গুনাহ থেকে মুক্তির একটি উপায়।
- তাওবা ও ইস্তিগফার: সাথে সাথে তাওবা করবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ এড়ানোর চেষ্টা করবে।
গুরুত্বপূর্ণ: সদকা করলে "হারাম মাল ফেরত দেওয়া"র দায়িত্ব আদায় হয় না, বরং এটি একটি কাফফারা স্বরূপ। আসল মালিককে ফেরত দেওয়া সম্ভব না হলে—যেমন এখানে সুদি লেনদেনকারী ব্যাংক/কোম্পানি—তবে সেই মাল সদকা করে দেওয়া ওয়াজিব। ইমাম ইবন আবিদিন রহ. বলেন:
«فَإِنْ لَمْ يُمْكِنْ رَدُّهُ إِلَى مَالِكِهِ فَيُتَصَدَّقُ بِهِ» "যদি মালিককে ফেরত দেওয়া সম্ভব না হয়, তবে তা সদকা করে দিতে হবে।" (রাদ্দুল মুহতার: ৫/২৪৭)
৩য় প্রশ্ন: দীর্ঘদিন হারাম উপার্জনে থাকার পর তাওবা করলে পূর্বের হারাম মাল পরিশোধ করা ফরজ কি?
উত্তর: হ্যাঁ, যতটুকু হারাম মাল ভক্ষণ করেছে, তা পরিশোধ করা ফরজ—যদি মালিক চিহ্নিত হয়। আর যদি মালিক চিহ্নিত না হয় বা ফেরত দেওয়া সম্ভব না হয়, তবে সদকা করা ওয়াজিব।
আল্লাহ তাআলা বলেন:
«يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَذَرُوا مَا بَقِيَ مِنَ الرِّبَا إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ» "হে ঈমানদারগণ! আল্লাহকে ভয় করো এবং সুদের যা বাকি আছে তা ছেড়ে দাও, যদি তোমরা মুমিন হও।" (সূরা বাকারা: ২৭৮)
রাসূল ﷺ বলেন:
«مَنْ كَانَتْ عِنْدَهُ مَظْلِمَةٌ لِأَخِيهِ فَلْيَتَحَلَّلْهُ مِنْهَا الْيَوْمَ قَبْلَ أَنْ لَا يَكُونَ دِينَارٌ وَلَا دِرْهَمٌ» "যার কাছে তার ভাইয়ের হক (জুলুম) রয়েছে, সে আজই তা থেকে মুক্তি নিয়ে নিক, এমন দিন আসার আগে যখন কোনো দিনার-দিরহাম থাকবে না।" (সহিহ বুখারি: ২৪৪৯)
তবে একটি সুসংবাদ: তাওবা করার পর আল্লাহ তাআলা পূর্বের গুনাহ মাফ করে দেন, যদি তাওবা নিষ্ঠাপূর্ণ হয়। কিন্তু মানুষের হক (মাল) মাফ হয় না যতক্ষণ না তা পরিশোধ বা সদকা করা হয়। ইমাম নববী রহ. বলেন:
«التَّوْبَةُ مِنْ الْمَظَالِمِ تَتَوَقَّفُ عَلَى رَدِّهَا» "জুলুমের তাওবা তা ফেরত দেওয়ার উপর নির্ভরশীল।" (শরহু সহিহ মুসলিম)
সারকথা: তাওবা করলে আল্লাহর হক (গুনাহ) মাফ হতে পারে, কিন্তু বান্দার হক (হারাম মাল) পরিশোধ বা সদকা করা ফরজ। না করলে গুনাহ মাফ হবে না।
৪র্থ প্রশ্ন: "সাধারণত কোনো মাল অল্প হারাম থেকে মুক্ত নয়"—এর পরিমাপ কী? ক্ষমাযোগ্য হারামের পরিমাণ কত?
উত্তর: এখানে দুটি বিষয় আলাদা করতে হবে:
(ক) মিশ্রিত মালের ক্ষেত্রে: যদি কোনো হালাল মালে সামান্য হারাম মিশে যায় এবং আলাদা করা অসম্ভব হয়—তবে ফকিহগণ বলেন, "অল্প" পরিমাণ (যা সাধারণত অনুমান করা যায়) সদকা করে দিলে বাকি মাল হালাল হয়ে যায়। ইমাম ইবন আবিদিন রহ. «রাদ্দুল মুহতার»-এ "খলতু হালালান বিহারাম" অধ্যায়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। তবে নির্দিষ্ট শতাংশের কোনো সীমা শরীয়তে নেই—এটি প্রতিটি ক্ষেত্রে অবস্থা অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।
(খ) সরাসরি হারাম মালের ক্ষেত্রে: এখানে কোনো "ক্ষমাযোগ্য পরিমাণ" নেই। এক দিরহামও হারাম হলে তা পরিশোধ করা ফরজ। রাসূল ﷺ বলেন:
«لَا يَقْبَلُ اللَّهُ صَلَاةً بِغَيْرِ طُهُورٍ وَلَا صَدَقَةً مِنْ غُلُولٍ» "আল্লাহ পবিত্রতা ছাড়া নামাজ কবুল করেন না এবং গনিমতের মাল থেকে (হারাম থেকে) দান কবুল করেন না।" (সহিহ মুসলিম: ২২৪)
তবে হ্যাঁ, একটি বিষয় আছে: যদি কেউ অজান্তে বা বাধ্য হয়ে সামান্য হারামে জড়িয়ে পড়ে এবং তাৎক্ষণিক তাওবা করে—তবে আল্লাহ ক্ষমাশীল। কিন্তু ইচ্ছাকৃতভাবে হারাম উপার্জন করা এবং "অল্প" বলে এড়িয়ে যাওয়া নাজায়েজ।
সতর্কতা: "অল্প হারাম ক্ষমাযোগ্য" —এমন ধারণা ভুল। বরং মিশ্রিত মালের ক্ষেত্রে "অনুমান করে সদকা" করা যায়, কিন্তু হারামকে হালাল ভাবা যাবে না।
৫ম প্রশ্ন: সুদের ভিত্তিতে ঋণ নিয়ে বা হারাম টাকায় হালাল ব্যবসা শুরু করলে ব্যবসা ও চাকরির টাকা হালাল হবে কি?
উত্তর: এখানে কয়েকটি স্তর আছে:
(ক) মূলধন যদি সম্পূর্ণ হারাম হয়: যেমন সুদি ঋণ নিয়ে ব্যবসা শুরু করা—তবে সুদি ঋণ নেওয়া নিজেই হারাম। আল্লাহ বলেন:
«وَأَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ وَحَرَّمَ الرِّبَا» "আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন।" (সূরা বাকারা: ২৭৫)
সুদি ঋণ নিয়ে ব্যবসা করলে ব্যবসাটি নিজে "হারাম" হয়ে যায় না, কিন্তু সুদি ঋণের চুক্তি ও সুদ পরিশোধ হারাম। ব্যবসার হালাল পণ্য বিক্রি করে অর্জিত মুনাফা হালাল, তবে সুদের বোঝা তার উপর থাকবে।
(খ) চাকরির বেতন: যদি প্রতিষ্ঠানটি মূলত হালাল ব্যবসা করে (যেমন গ্লাভস, পিপিই বিক্রি) এবং শুধু মূলধনের একটি অংশ সুদি ঋণ থেকে আসে—তবে চাকরির বেতন হালাল। কারণ প্রতিষ্ঠানের মূল ব্যবসা হালাল, আর সুদি ঋণ একটি আলাদা গুনাহ, যা মালিকের দায়িত্ব।
তবে শর্ত: কর্মচারী যদি সরাসরি সুদি লেনদেনে জড়িত না হয়। আর যদি প্রতিষ্ঠানের মূল ব্যবসাই হারাম হয় (যেমন সুদি ব্যাংক, মদ, জুয়া)—তবে সেখানে চাকরি ও বেতন হারাম।
ইমাম ইবন আবিদিন রহ. «রাদ্দুল মুহতার»-এ বলেন:
«الْحَرَامُ لَا يُطَهِّرُ الْحَلَالَ» "হারাম হালালকে পবিত্র করে না।" (অর্থাৎ হারাম মিশ্রণে হালাল মূল সম্পূর্ণ হারাম হয়ে যায় না, তবে সংশ্লিষ্ট অংশে গুনাহ থাকে।)
সারকথা:
- সুদি ঋণ নেওয়া = হারাম (আলাদা গুনাহ)
- হালাল ব্যবসা = হালাল
- চাকরির বেতন = হালাল (যদি সরাসরি সুদি কাজ না করে)
- তবে সুদি ঋণের কারণে বারাকাহ কমে যায় এবং তাওবা জরুরি।
৬ষ্ঠ প্রশ্ন: রিযিকে আংশিক হারাম থাকলে ইবাদত ও দুআ কবুল হবে না কি?
উত্তর: হাদিসে এসেছে:
«إِنَّ اللَّهَ طَيِّبٌ لَا يَقْبَلُ إِلَّا طَيِّبًا» "নিশ্চয়ই আল্লাহ পবিত্র, তিনি কেবল পবিত্র (হালাল) আমলই কবুল করেন।" (সহিহ মুসলিম: ১০১৫)
আরও এসেছে:
«أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّ اللَّهَ طَيِّبٌ لَا يَقْبَلُ إِلَّا طَيِّبًا... ثُمَّ ذَكَرَ الرَّجُلَ يُطِيلُ السَّفَرَ أَشْعَثَ أَغْبَرَ يَمُدُّ يَدَيْهِ إِلَى السَّمَاءِ يَا رَبِّ يَا رَبِّ وَمَطْعَمُهُ حَرَامٌ وَمَشْرَبُهُ حَرَامٌ وَمَلْبَسُهُ حَرَامٌ وَغُذِيَ بِالْحَرَامِ فَأَنَّى يُسْتَجَابُ لَهُ» "হে মানুষ! আল্লাহ পবিত্র, তিনি কেবল পবিত্র আমলই কবুল করেন... এরপর তিনি এক ব্যক্তির কথা উল্লেখ করলেন যে দীর্ঘ সফর করে, এলোমেলো চুল, ধুলিমাখা, আকাশের দিকে হাত তুলে বলে: 'হে আমার রব! হে আমার রব!' অথচ তার খাদ্য হারাম, পানীয় হারাম, পোশাক হারাম এবং সে হারাম দিয়ে প্রতিপালিত—তাহলে তার দুআ কীভাবে কবুল হবে?" (সহিহ মুসলিম: ১০১৫)
ব্যাখ্যা:
- সম্পূর্ণ হারাম রিযিকের উপর থাকলে: ইবাদত ও দুআ কবুল হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।
- আংশিক হারাম থাকলে: ইবাদত ও দুআ পুরোপুরি বাতিল হয় না, তবে বারাকাহ ও কবুলিয়াত কমে যায়। হাদিসে "হারাম দিয়ে প্রতিপালিত" ব্যক্তির দুআ কবুল না হওয়ার কথা বলা হয়েছে—এটি সেই অবস্থার জন্য যখন খাদ্য-পানীয়-পোশাক মূলত হারাম।
- আংশিক হারামের ক্ষেত্রে: ফকিহগণ বলেন, ইবাদত বাতিল হয় না, কিন্তু কবুলিয়াতের পূর্ণতা কমে। তাই যত দ্রুত সম্ভব হারাম অংশ পরিশোধ/সদকা করা অপরিহার্য।
আল্লাহ ভালো জানেন।