নবীজী ﷺ-এর স্ত্রী সংখ্যা ৯ জন হওয়া এবং এক সাহাবীর পাঁচজন স্ত্রী থাকা ও একজনকে তালাক দেওয়ার নির্দেশ — এগুলোর মধ্যে সমন্বয় কী?

Sunnah and Bid'ah · Hanafi

Question No: 7792
Questioner: Sadia Afrin
Question Asked: 02 Nov 2026, 01:19 PM
Reviewed & Published: 02 Nov 2026, 03:37 PM
Views: 9
Tokens: 4,829
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু আপু আমার একটি প্রশ্ন ছিল আকিদা সম্পর্কে ২৬ নং মডেল থেকে আমি যে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাচ্ছিলাম সেটি হল নবীজী জীবিত থাকা অবস্থায় তার স্ত্রী সংখ্যা ছিল ৯ জন আমি নবীর জীবুনী থেকে জানতে পেরেছি এক সাহাবীর স্ত্রী পাঁচজন ছিল সে তার এক জন স্ত্রীকে তালাক দিতে বলেছিল আর চারজনকে রেখে দিতে বলেছিল আমি বিষয়টি বুঝতে পারতেছি না কেউ জানলে অবশ্যই বুঝিয়ে দিবেন

Answer

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

প্রশ্নটি দুটি অংশে বিভক্ত: (১) নবীজী ﷺ-এর স্ত্রী সংখ্যা ৯ জন হওয়া এবং (২) এক সাহাবীর পাঁচজন স্ত্রী থাকা ও একজনকে তালাক দেওয়ার নির্দেশ — এগুলোর মধ্যে সমন্বয় কী?

আপনার প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও দ্বীনী বিষয় বোঝার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। ইসলামী শরীআতে সাধারণ উম্মতের বিধান এবং রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর বিশেষ খাসায়িস (স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য)-এর পার্থক্যের ফিকহী রূপরেখা প্রামাণ্য কিতাবসমূহের আলোকে ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর সহ নিচে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:


১. সাধারণ উম্মতের জন্য সর্বোচ্চ ৪ জন স্ত্রীর বিধান:

  • শরঈ সিদ্ধান্ত: পবিত্র কুরআনের সুনির্দিষ্ট নির্দেশ অনুযায়ী (সূরা নিসা: ৩) একজন স্বাধীন মুসলিম পুরুষ একই সময়ে সর্বোচ্চ ৪ জন নারীকে বিবাহাধীনে একত্রে রাখতে পারেন। ৪ জনের অধিক স্ত্রীকে একই সময়ে বিবাহে রাখা সাধারণ উম্মতের জন্য সম্পূর্ণ নাজায়েয ও হারাম [ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৮৫]।
  • প্রামাণ্য রেফারেঞ্চ:
    • ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (২য় খণ্ড): পৃষ্ঠা: ৮৫ (অধ্যায়: কিতাবুন নিকাহ, ৪র্থ অনুচ্ছেদ: 'চারের অধিক মহিলাকে একত্রে বিবাহ করা হারাম হওয়া সংক্রান্ত মাসআলা') [ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৮৫]।

২. উক্ত সাহাবীর ঘটনার ব্যাখ্যা:

  • ঘটনার প্রেক্ষাপট: জাহেলিয়াতের যুগে আরবে পুরুষদের ইচ্ছামতো অগণিত বিয়ে করার রীতি ছিল। যখন ইসলামে এক সাথে সর্বোচ্চ ৪ জন স্ত্রী রাখার নির্দেশ নাযিল হয়, তখন বেশ কিছু সাহাবী (যেমন: হযরত গাইলান ইবনে সালামা আস-ছাকাফী রা. বা হযরত কায়স ইবনুল হারিস রা.) যখন ইসলাম গ্রহণ করেন, তখন তাঁদের ঘরে ৫ জন বা তারচেয়ে বেশি (৮-১০ জন) স্ত্রী ছিলেন।
  • রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর নির্দেশ: তখন রাসুলুল্লাহ ﷺ তাঁদের নির্দেশ দেন: «أَمْسِكْ أَرْبَعًا وَفَارِقْ سَائِرَهُنَّ» (“তুমি ৪ জন স্ত্রীকে তোমার বিবাহে রেখে বাকিদের বিচ্ছিন্ন/তালাক দিয়ে দাও”)।
  • বোঝার উপায়: যেহেতু সাধারণ উম্মত ও সাহাবায়ে কেরামের জন্য ইসলামী শরীআতের মূল আইন হলো—একই সময়ে ৪ জনের বেশি স্ত্রী রাখা যাবে না, তাই ওই সাহাবীকে ৪ জনকে রেখে বাকি ১ জনকে পৃথক বা তালাক দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

৩. রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর একই সাথে ৯ জন স্ত্রী থাকার কারণ (খাসায়িসে নববী):

  • শরঈ কারণ (الخصائص النبوية): ৪ জনের বেশি বিবাহ করা রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর জন্য 'খাসায়িস' বা আল্লাহ তাআলা কর্তৃক নির্ধারিত বিশেষ নির্দেশ ও ব্যতিক্রমী অধিকারের অন্তর্ভুক্ত ছিল [ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া ২৪শ খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১৯৯]।
  • উচ্চতর হিকমত ও উদ্দেশ্যসমূহ: ১. শরঈ মাসআলা শিক্ষা দেওয়া: নবুওয়াতের দায়িত্ব পালন ও উম্মতের নারীদের পারিবারিক-অভ্যন্তরীণ জীবনের হাজারো জটিল ফিকহী বিধান শিক্ষা দেওয়ার জন্য একাধিক মহীয়সী উম্মুল মুমিনীন (রাযি.)-এর প্রয়োজন ছিল। ২. রাজনৈতিক ও সামাজিক ঐক্য: আরবের বিভিন্ন শক্তিশালী গোত্রের সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে ইসলামের দাওয়াত বিস্তার ও গোত্রীয় শত্রুতা দূর করা। ৩. অসহায় ও বিধবাদের আশ্রয়: রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর অধিকাংশ বিবাহই ছিল বয়স্ক, বিধবা ও ইসলাম গ্রহণের কারণে নির্যাতিত নারীদের সম্মান ও আশ্রয় দেওয়ার উদ্দেশ্যে।
  • প্রামাণ্য রেফারেঞ্চ:
    • ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া (২৪শ খণ্ড): পৃষ্ঠা: ১৯৯ (অধ্যায়: কিতাবুন নিকাহ — 'রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর একাধিক বিবাহের শরঈ হিকমত ও উম্মতের জন্য চারের সীমারেখা সংক্রান্ত ফতোয়া') [ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া ২৪শ খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১৯৯]।

সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ:

১. সাধারণ উম্মত ও সাহাবীদের জন্য: একই সময়ে সর্বোচ্চ ৪ জন স্ত্রী রাখা যাবে। তাই ৫ জন স্ত্রী থাকা সাহাবীকে ১ জনকে পৃথক করে ৪ জন রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল [ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৮৫]। ২. রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর জন্য: একই সাথে ৯ জন স্ত্রী রাখা ছিল আল্লাহ তাআলা প্রদত্ত বিশেষ নবুওয়াতী দায়িত্ব ও 'খাসায়িস'-এর অন্তর্ভুক্ত, যা সাধারণ উম্মতের জন্য প্রযোজ্য নয় [ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া ২৪শ খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১৯৯]।


আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে সঠিকভাবে দ্বীন বোঝার তাওফিক দান করুন। আমীন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.