নারীদের পোশাক উৎপাদন, অর্ডার গ্রহণ ও সরবরাহভিত্তিক ব্যবসার শরয়ি বিধান এবং হালালভাবে পরিচালনার পদ্ধতি জানতে চাওয়া।

Business and Job · Ahle Hadith / Salafi

Question No: 7706
Questioner: Amatullahs Era
Question Asked: 01 Nov 2026, 10:55 AM
Reviewed & Published: 01 Nov 2026, 06:53 PM
Views: 9
Tokens: 16,501
This answer is according to the 'Ahle Hadith / Salafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু, সম্মানিত শায়েখ।

আমি একটি পোশাকভিত্তিক ব্যবসা শুরু করার পরিকল্পনা করছি। ব্যবসাটির শরয়ি বিধান এবং কীভাবে এটিকে সম্পূর্ণ হালাল পদ্ধতিতে পরিচালনা করা যায়, সে বিষয়ে আপনাদের কাছ থেকে ফতোয়া জানতে চাই।

**১. ব্যবসার কার্যপদ্ধতি (Business Model):

আমার পরিকল্পনা হলো বিভিন্ন ব্যবসায়ী বা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে পোশাক তৈরির অর্ডার গ্রহণ করা। এরপর তুরস্ক, চীন ও পাকিস্তানের বিভিন্ন পোশাক প্রস্তুতকারক ফ্যাক্টরির সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের মাধ্যমে অর্ডার অনুযায়ী পোশাক তৈরি করানো এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীর কাছে সরবরাহ করা।

উদাহরণস্বরূপ, কোনো প্রতিষ্ঠান ১০০টি T-shirt তৈরির অর্ডার দিলে আমি ফ্যাক্টরির সঙ্গে যোগাযোগ করে সেগুলো তৈরি করাব এবং অর্ডারদাতা প্রতিষ্ঠানের কাছে সরবরাহ করব।

আমার ব্যবসার মূল মডেল হবে B2B (Business to Business)। অর্থাৎ, মূলত বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অর্ডার নিয়ে তাদের জন্য পোশাক উৎপাদন ও সরবরাহের ব্যবস্থা করা।

**২. পোশাকের ধরন:

প্রস্তাবিত ক্যাটালগে বিভিন্ন ধরনের নারীদের পোশাক থাকতে পারে। যেমন:

- T-shirts
- Leggings ও tights
- Tank tops
- Sweaters
- Hoodies and sweatshirts
- Shirts and blouses
- Tops
- Jackets and outerwear
- Dresses
- Pants and skirts
- Coats and blazers

এগুলোর মধ্যে কিছু পোশাক ঢিলেঢালা ও শালীন হতে পারে, আবার কিছু পোশাক আঁটসাঁট বা শরীরের আকৃতি প্রকাশ করে এমনও হতে পারে।

**৩. পোশাকের ব্যবহার ও ক্রেতা:

আমি নিজেও কিছু পোশাক কিনে ঘরের ভেতরে পরিধান করি। কারণ একই পোশাক কেউ ঘরে স্বামী বা মাহরামের সামনে পরতে পারেন, আবার কেউ বাইরে নন-মাহরামের সামনে পরতে পারেন।

আমার ধারণা, এই ব্যবসার মাধ্যমে উৎপাদিত পোশাকের ক্রেতাদের মধ্যে মুসলিম ও অমুসলিম উভয়ই থাকতে পারেন। কারণ আমি সরাসরি শেষ ক্রেতাকে চিনি না বা জানি না, কোনো প্রতিষ্ঠান পরবর্তীতে কাদের কাছে পণ্যগুলো বিক্রি করবে এবং ক্রেতারা কীভাবে সেগুলো ব্যবহার করবেন।

**৪. আমার মূল প্রশ্নগুলো:

১. এ ধরনের পোশাক উৎপাদন ও সরবরাহের ব্যবসা করা কি শরিয়াহসম্মত হবে?

২. যেসব পোশাক সাধারণত নারীরা ঘরের ভেতরে পরিধান করতে পারেন, কিন্তু বাইরে নন-মাহরামের সামনে পরিধান করলে পর্দার বিধানের পরিপন্থী হতে পারে—সেসব পোশাক তৈরি ও বিক্রি করার বিধান কী?

৩. Leggings, tights, tank tops এবং শরীরের আকৃতি প্রকাশ করে এমন পোশাক উৎপাদন ও সরবরাহ করা কি জায়েজ হবে, যদি এগুলো ঘরে পরিধানের উদ্দেশ্যেও ব্যবহার করা সম্ভব হয়?

৪. আমি যদি শুধু পাইকারি ক্রেতা বা ব্যবসায়ীদের অর্ডার অনুযায়ী পোশাক তৈরি করিয়ে সরবরাহ করি এবং তাদের পরবর্তী বিক্রয় বা ব্যবহার সম্পর্কে না জানি, তাহলে আমার দায়িত্ব ও শরয়ি দায়বদ্ধতা কতটুকু?

৫. কোনো মুসলিম বা অমুসলিম প্রতিষ্ঠান আমার কাছ থেকে এসব পোশাক কিনে পরবর্তীতে এমন ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করলে, যারা সেগুলো শরিয়াহবিরোধীভাবে ব্যবহার করতে পারেন—এক্ষেত্রে আমার উপার্জনের বিধান কী হবে?

৬. পণ্যের ছবি বা ক্যাটালগে নারীদের মডেল ব্যবহার না করে শুধু পোশাকের ছবি (Product Photography), ম্যানিকুইন বা ফ্ল্যাট-লে (Flat-lay) পদ্ধতিতে প্রদর্শন করলে কি শরিয়াহর দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য হবে?

৭. ব্যবসাটিকে হালাল রাখার জন্য কি নির্দিষ্ট কিছু পোশাকের ক্যাটাগরি বাদ দেওয়া প্রয়োজন? কোন ধরনের পোশাক উৎপাদন ও সরবরাহ করা থেকে বিরত থাকা উচিত?

৮. অর্ডার গ্রহণের ক্ষেত্রে কি ক্রেতার ব্যবসার ধরন, পণ্যের সম্ভাব্য ব্যবহার এবং বিক্রয়পদ্ধতি যাচাই করা আমার জন্য আবশ্যক?

৯. আমি যদি নিজে পোশাকের মালিকানা গ্রহণ না করে শুধু ক্রেতা ও প্রস্তুতকারক ফ্যাক্টরির মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করি এবং কমিশন গ্রহণ করি, তাহলে এই ব্যবসার শরয়ি বিধান কী হবে? আর নিজে পণ্য কিনে পুনরায় বিক্রি করলে বিধান কি ভিন্ন হবে?

১০. সর্বোপরি, কোন কোন শর্ত ও নীতিমালা অনুসরণ করলে আমি এই ব্যবসাটি হালালভাবে পরিচালনা করতে পারব?

**শায়েখের কাছে বিশেষ অনুরোধ:

আমি এমন একটি ব্যবসা করতে চাই, যার মাধ্যমে হালাল উপার্জন করতে পারব এবং জেনে-বুঝে কোনো হারাম কাজে সহযোগী হব না। তাই অনুগ্রহ করে ব্যবসাটির বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে জানাবেন, কোন ধরনের পোশাক উৎপাদন, প্রদর্শন, অর্ডার গ্রহণ ও সরবরাহ করা আমার জন্য জায়েজ হবে এবং কোন বিষয়গুলো পরিহার করা আবশ্যক।

জাযাকুমুল্লাহু খাইরান।

Answer

ফতোয়া: নারীদের পোশাক উৎপাদন, অর্ডার গ্রহণ ও সরবরাহভিত্তিক ব্যবসার শরয়ি বিধান

بسم الله الرحمن الرحيم

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।

সম্মানিত প্রশ্নকর্তা, আপনার প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং বিস্তারিত। ইসলামী শরিয়াহর মূলনীতি অনুযায়ী এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা নিচে উপস্থাপন করা হলো।


মূল শরয়ি মূলনীতি (Fundamental Principles)

১. হারাম কাজে সহযোগিতা নিষিদ্ধ

আল্লাহ তা'আলা বলেন:

وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَىٰ ۖ وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ

"তোমরা নেক কাজ ও তাকওয়ায় পরস্পর সহযোগিতা করো, আর পাপ ও সীমালঙ্ঘনে সহযোগিতা করো না।" — [সূরা আল-মায়িদাহ: ২]

২. রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর হাদিস

مَنْ دَلَّ عَلَى خَيْرٍ فَلَهُ مِثْلُ أَجْرِ فَاعِلِهِ

"যে ব্যক্তি কোনো ভালো কাজের দিকে আহ্বান করে, তার জন্য সেই কাজ সম্পাদনকারীর সমান প্রতিদান রয়েছে।" — [সহিহ মুসলিম: ১৮৯৩]

এবং বিপরীতভাবে, যে ব্যক্তি খারাপ কাজে সহযোগিতা করে, সে গুনাহে শরিক হয়।


প্রশ্নোত্তর পর্ব

প্রশ্ন ১: এ ধরনের পোশাক উৎপাদন ও সরবরাহের ব্যবসা কি শরিয়াহসম্মত হবে?

উত্তর: ব্যবসাটি নিজে হারাম নয়; বরং মূল বিষয় হলো কী ধরনের পোশাক এবং কী উদ্দেশ্যে তা তৈরি ও সরবরাহ করা হচ্ছে। ইসলামে ব্যবসা হালাল, তবে শর্ত হলো পণ্য ও লেনদেন শরিয়াহসম্মত হতে হবে।

শায়খুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ রহ. বলেন: "মূলনীতি হলো, সব লেনদেন বৈধ, যতক্ষণ না শরিয়াহ কর্তৃক নিষিদ্ধ প্রমাণিত হয়।" [মাজমুউল ফাতাওয়া: ২৯/২৫০]

তবে, যদি আপনি এমন পোশাক তৈরি ও সরবরাহ করেন যা স্পষ্টভাবে হারাম কাজে (যেমন: নারীদের শরীর প্রদর্শন, বেপর্দা, ফিতনা সৃষ্টি) ব্যবহৃত হবে বলে জানা যায় বা প্রবল ধারণা হয়, তাহলে তা হারাম কাজে সহযোগিতা হিসেবে গণ্য হবে।


প্রশ্ন ২: যেসব পোশাক ঘরে পরা যায় কিন্তু বাইরে নন-মাহরামের সামনে পরলে পর্দার পরিপন্থী — সেসব তৈরি ও বিক্রির বিধান?

উত্তর: এখানে দুইটি দিক বিবেচনা করতে হবে:

ক) যদি পোশাকটি নিজে হারাম না হয় (যেমন: সাধারণ শার্ট, ব্লাউজ, ঢিলেঢালা পোশাক) এবং তা ঘরে বা মাহরামের সামনে পরিধান করা বৈধ হয়, তবে তা তৈরি ও বিক্রি করা মূলত জায়েজ। কারণ পণ্যটি নিজে হারাম নয়; বরং ক্রেতা কীভাবে ব্যবহার করবে তা তার দায়িত্ব।

খ) তবে যদি পোশাকটি এমন হয় যা সাধারণত শুধু বেপর্দা বা ফিতনার উদ্দেশ্যেই ব্যবহৃত হয় (যেমন: অত্যন্ত আঁটসাঁট, শরীরের আকৃতি স্পষ্ট করে এমন পোশাক), তবে তা তৈরি ও সরবরাহ করা থেকে বিরত থাকা উচিত।

শায়খ ইবনু উসাইমীন রহ. বলেন: "যদি কোনো পণ্য হারাম কাজে ব্যবহৃত হয় এবং তা ছাড়া অন্য কোনো বৈধ ব্যবহার না থাকে, তবে তা বিক্রি করা হারাম। আর যদি বৈধ ও অবৈধ উভয় ব্যবহারের সম্ভাবনা থাকে, তবে মূলত তা জায়েজ, তবে অবৈধ ব্যবহারে সহযোগিতা করা যাবে না।" [ফাতাওয়া নূরুন আলাদ দারব, লিকাউল বাবিল মাফতুহ]


প্রশ্ন ৩: Leggings, tights, tank tops এবং শরীরের আকৃতি প্রকাশ করে এমন পোশাক উৎপাদন ও সরবরাহ করা কি জায়েজ?

উত্তর: এখানে সতর্কতা অবলম্বন করা আবশ্যক। কারণ:

  • Leggings ও tights সাধারণত শরীরের আকৃতি স্পষ্টভাবে প্রকাশ করে, যা ইসলামে নিষিদ্ধ। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন:

صِنْفَانِ مِنْ أَهْلِ النَّارِ لَمْ أَرَهُمَا: قَوْمٌ مَعَهُمْ سِيَاطٌ كَأَذْنَابِ الْبَقَرِ يَضْرِبُونَ بِهَا النَّاسَ، وَنِسَاءٌ كَاسِيَاتٌ عَارِيَاتٌ مُمِيلَاتٌ مَائِلَاتٌ، رُءُوسُهُنَّ كَأَسْنِمَةِ الْبُخْتِ الْمَائِلَةِ، لَا يَدْخُلْنَ الْجَنَّةَ وَلَا يَجِدْنَ رِيحَهَا

"দুই শ্রেণির মানুষ জাহান্নামি... (দ্বিতীয়ত) এমন নারী যারা কাপড় পরিধান করেও উলঙ্গ, (অন্যকে) আকৃষ্টকারী ও (নিজে) আকৃষ্ট, তাদের মাথা উটের কুঁজের মতো... তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে না।" — [সহিহ মুসলিম: ২১২৮]

  • Tank tops সাধারণত বেপর্দা ও শরীর প্রদর্শনের পোশাক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

সিদ্ধান্ত: এসব পোশাক উৎপাদন ও সরবরাহ করা থেকে বিরত থাকাই উত্তম ও নিরাপদ। বিশেষত যদি আপনি জানেন যে এগুলো বাইরে পরিধান করা হবে বা ফিতনা সৃষ্টি করবে। তবে যদি নিশ্চিতভাবে জানা যায় যে শুধু ঘরে মাহরামের সামনে ব্যবহার হবে, তবে সীমিত ক্ষেত্রে অনুমতি হতে পারে — কিন্তু বাস্তবে তা যাচাই করা কঠিন।

শায়খ সালিহ আল-ফাওযান হাফিযাহুল্লাহ বলেন: "যে পোশাক শরীরের আকৃতি প্রকাশ করে বা ফিতনা সৃষ্টি করে, তা তৈরি, বিক্রি বা সরবরাহ করা জায়েজ নয়।" [আল-মুনতাক্বা মিন ফাতাওয়া আল-ফাওযান]


প্রশ্ন ৪: শুধু পাইকারি ক্রেতার অর্ডার অনুযায়ী সরবরাহ করলে আমার দায়িত্ব কতটুকু?

উত্তর: ইসলামে মূলনীতি হলো:

إِنَّمَا الْأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ

"নিশ্চয়ই সব কাজ নিয়তের উপর নির্ভরশীল।" — [সহিহ বুখারি: ১]

আপনি সরাসরি শেষ ক্রেতাকে না জানলেও, যদি আপনার প্রবল ধারণা (গালিব যন্ন) হয় যে পণ্যগুলো হারাম কাজে ব্যবহৃত হবে, তবে তা সরবরাহ করা জায়েজ নয়। আর যদি সাধারণভাবে বৈধ-অবৈধ উভয় সম্ভাবনা থাকে এবং আপনি জানেন না, তবে মূলত দায়িত্ব আপনার নয়; বরং ক্রেতার।

তবে, সতর্কতা ও যাচাই করা উত্তম। শায়খ ইবনু বায রহ. বলেন: "যদি কোনো ব্যক্তি এমন পণ্য বিক্রি করে যা সাধারণত হারাম কাজে ব্যবহৃত হয়, তবে তা জায়েজ নয়। আর যদি সাধারণভাবে বৈধ কাজে ব্যবহৃত হয়, তবে জায়েজ।" [মাজমুউ ফাতাওয়া ইবনু বায: ১৯/৩৪৭]


প্রশ্ন ৫: ক্রেতা পরবর্তীতে শরিয়াহবিরোধীভাবে ব্যবহার করলে আমার উপার্জনের বিধান?

উত্তর: যদি আপনি জেনে-বুঝে এমন পণ্য সরবরাহ না করেন যা হারাম কাজে ব্যবহৃত হবে, তবে আপনার কাজটি হারাম নয়। কারণ আপনি নিজে হারাম কাজ করেননি; বরং ক্রেতা নিজ দায়িত্বে তা ব্যবহার করেছে।

আল্লাহ তা'আলা বলেন:

وَلَا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَىٰ

"কোনো বোঝা বহনকারী অন্যের বোঝা বহন করবে না।" — [সূরা আল-আনআম: ১৬৪]

তবে, যদি আপনি জেনে-বুঝে হারাম কাজে সহযোগিতা করেন, তবে তা গুনাহ হবে এবং উপার্জনে সন্দেহ থাকবে।


প্রশ্ন ৬: নারীদের মডেল ব্যবহার না করে শুধু পোশাকের ছবি, ম্যানিকুইন বা ফ্ল্যাট-লে পদ্ধতিতে প্রদর্শন করা কি গ্রহণযোগ্য?

উত্তর: হ্যাঁ, এটি উত্তম ও শরিয়াহসম্মত পদ্ধতি। নারীদের মডেল ব্যবহার করে পোশাক প্রদর্শন করা ইসলামে নিষিদ্ধ, কারণ এতে:

  • নারীর শরীর প্রদর্শন হয়
  • ফিতনা সৃষ্টি হয়
  • বেপর্দার প্রচার হয়

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন:

كُلُّ الْعَيْنِ زَانِيَةٌ

"প্রতিটি চোখ ব্যভিচারী।" — [সহিহ বুখারি: ৬২৪৩]

তাই শুধু পোশাকের ছবি, ম্যানিকুইন (যা পূর্ণাঙ্গ নারী শরীর নয়) বা ফ্ল্যাট-লে পদ্ধতিতে প্রদর্শন করা শরিয়াহর দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য ও উত্তম।


প্রশ্ন ৭: কোন ধরনের পোশাক উৎপাদন ও সরবরাহ থেকে বিরত থাকা উচিত?

উত্তর: নিম্নলিখিত পোশাক উৎপাদন ও সরবরাহ থেকে বিরত থাকা উচিত:

| পোশাকের ধরন | কারণ | |---|---| | Leggings ও tights | শরীরের আকৃতি স্পষ্ট করে, ফিতনা সৃষ্টি করে | | Tank tops | বেপর্দা ও শরীর প্রদর্শনের পোশাক | | অত্যন্ত আঁটসাঁট পোশাক | শরীরের আকৃতি প্রকাশ করে | | স্বল্প পোশাক (short dresses, mini skirts) | বেপর্দার পরিপন্থী | | যৌন আবেদনমূলক পোশাক | ফিতনা সৃষ্টি করে | | যেসব পোশাকে শরীরের নির্দিষ্ট অঙ্গ প্রকাশ পায় | ইসলামে নিষিদ্ধ |

যা জায়েজ: ঢিলেঢালা, শালীন, পূর্ণাঙ্গ পোশাক — যেমন: সাধারণ T-shirt (ঢিলেঢালা), sweater, hoodie, শালীন shirt/blouse, jacket, শালীন dress, শালীন pants, শালীন skirt (যদি ঢিলেঢালা হয়) ইত্যাদি।


প্রশ্ন ৮: অর্ডার গ্রহণের ক্ষেত্রে ক্রেতার ব্যবসার ধরন ও পণ্যের সম্ভাব্য ব্যবহার যাচাই করা কি আবশ্যক?

উত্তর: হ্যাঁ, যাচাই করা উত্তম ও নিরাপদ। বিশেষত যদি:

  • ক্রেতা অমুসলিম হয় এবং তার ব্যবসা সাধারণত বেপর্দা বা ফিতনামূলক পোশাক বিক্রির হয়
  • ক্রেতার ব্যবসার ধরন স্পষ্টভাবে হারাম কাজে সহায়ক হয়

শায়খ ইবনু উসাইমীন রহ. বলেন: "যদি বিক্রেতা জানেন যে ক্রেতা তা হারাম কাজে ব্যবহার করবে, তবে বিক্রি করা জায়েজ নয়। আর যদি না জানেন, তবে জায়েজ।" [ফাতাওয়া নূরুন আলাদ দারব]

তবে, সব ক্ষেত্রে বিস্তারিত যাচাই করা কঠিন — সেক্ষেত্রে সাধারণভাবে বৈধ ধরে নেওয়া যাবে, যদি স্পষ্ট প্রমাণ না থাকে।


প্রশ্ন ৯: মধ্যস্থতাকারী (কমিশন) হিসেবে কাজ করা এবং নিজে কিনে পুনরায় বিক্রি করার বিধান

উত্তর: এখানে দুইটি ভিন্ন চুক্তি রয়েছে:

ক) মধ্যস্থতাকারী (সামসারাহ/ব্রোকারেজ):

  • আপনি ক্রেতা ও ফ্যাক্টরির মধ্যে মধ্যস্থতা করছেন এবং কমিশন নিচ্ছেন।
  • এটি ইসলামে জায়েজ (সামসারাহ), যদি পণ্য হারাম না হয় এবং প্রতারণা না থাকে।
  • রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন: "মধ্যস্থতাকারী (দালাল) রিযিকপ্রাপ্ত।" [সুনানে আবু দাউদ: ৩৪৬২ — হাসান]

খ) নিজে কিনে পুনরায় বিক্রি (বাই ও সেল):

  • এটি বৈধ ব্যবসা, যদি পণ্য হালাল হয় এবং লেনদেন শরিয়াহসম্মত হয় (সুদ, প্রতারণা, গারার মুক্ত)।
  • এতে আপনি মুনাফা অর্জন করতে পারবেন।

পার্থক্য: মধ্যস্থতায় আপনি কমিশন পান; ক্রয়-বিক্রয়ে আপনি মুনাফা পান। উভয়ই জায়েজ, তবে শর্ত হলো পণ্য হালাল হতে হবে।


প্রশ্ন ১০: কোন শর্ত ও নীতিমালা অনুসরণ করলে ব্যবসাটি হালালভাবে পরিচালনা করা যাবে?

উত্তর: নিম্নলিখিত নীতিমালা অনুসরণ করুন:

ক) পণ্যের ক্ষেত্রে:

  1. শুধু শালীন, ঢিলেঢালা ও পূর্ণাঙ্গ পোশাক উৎপাদন ও সরবরাহ করুন।
  2. Leggings, tights, tank tops, আঁটসাঁট পোশাক সম্পূর্ণ বাদ দিন।
  3. শরীরের আকৃতি প্রকাশ করে এমন কোনো পোশাক তৈরি করবেন না।
  4. স্বল্প পোশাক, বেপর্দার পোশাক বাদ দিন।

খ) প্রদর্শনের ক্ষেত্রে:

  1. নারী মডেল ব্যবহার করবেন না — শুধু পোশাকের ছবি, ম্যানিকুইন বা ফ্ল্যাট-লে ব্যবহার করুন।
  2. অশ্লীল বা ফিতনামূলক ছবি প্রকাশ করবেন না।

গ) ক্রেতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে:

  1. ক্রেতার ব্যবসার ধরন যাচাই করুন — যদি স্পষ্টভাবে হারাম কাজে সহায়ক হয়, তবে সরবরাহ করবেন না।
  2. সন্দেহজনক ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করুন।

ঘ) লেনদেনের ক্ষেত্রে:

  1. সুদ, প্রতারণা, গারার থেকে মুক্ত থাকুন।
  2. চুক্তি স্পষ্টভাবে লিখিত রাখুন।
  3. মিথ্যা ওয়াদা করবেন না।

ঙ) নিয়ত ও তাকওয়ার ক্ষেত্রে:

  1. নিয়ত পরিশুদ্ধ রাখুন — হালাল উপার্জনের উদ্দেশ্যে ব্যবসা করুন।
  2. সন্দেহজনক বিষয় থেকে বিরত থাকুন — রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন:

دَعْ مَا يَرِيبُكَ إِلَى مَا لَا يَرِيبُكَ

"যা তোমাকে সন্দেহে ফেলে, তা ছেড়ে যা সন্দেহমুক্ত তা গ্রহণ করো।" — [সুনানে তিরমিজি: ২৫১৮ — সহিহ]


আল্লাহ ভালো জানেন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.