ইস্তেখারা করার পর স্বপ্ন দেখা—এর শরীয়তসম্মত ব্যাখ্যা কী?
Faith and Belief · Hanafi
Question
স্বপ্নে দেখলাম, আমি ও আমার আম্মু গ্রামের একটি ঘরের মতো জায়গায় শুয়ে আছি। ঘরটির গঠন ছিল কিছুটা অদ্ভুত। দেয়ালগুলো ইট দিয়ে তৈরি, কিন্তু ওপরের অংশটি টিনের ছাউনির মতো মনে হচ্ছিল। আমরা দুজন সেখানে শুয়ে ছিলাম। একপর্যায়ে আমি আম্মুর কাছে গিয়ে তাঁর পাশে শুয়ে পড়ি।
এরপর দেখি, বাইরে বৃষ্টি হচ্ছে। আমি বিছানা থেকে উঠে দাঁড়াই এবং হাঁটুর ওপর ভর দিয়ে জানালার দিকে তাকাই। জানালা দিয়ে বৃষ্টির দৃশ্যটি খুব সুন্দর লাগছিল।
কিন্তু জানালার পাশেই একটি নদী ছিল। নদীটির পাশে ইট দিয়ে তৈরি একটি বেড়া বা বাঁধ ছিল। বেড়ার ওপাশেই নদী। বৃষ্টি খুব বেশি না হলেও মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হচ্ছিল। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, অল্প সময়ের মধ্যেই নদীর পানি দ্রুত বাড়তে শুরু করে। পানি এতটাই বেড়ে যাচ্ছিল যে মনে হচ্ছিল, যেকোনো মুহূর্তে ইটের বেড়া উপচে আমাদের দিকে চলে আসবে।
আমি আম্মুকে বললাম, ‘আম্মু, দেখো, পানিটা আমাদের দিকে চলে আসছে।’
এরপর আমরা দুজন উঠে দাঁড়াই। কিছুক্ষণের মধ্যেই নদীর পানি বেড়া পার হয়ে আমাদের দিকে চলে আসে। হঠাৎ করেই আমরা পানির নিচে তলিয়ে যাই। আম্মু দ্রুত উঠে চলে যান, কিন্তু আমি পানির নিচে ডুবে থাকি।
অদ্ভুত ব্যাপার হলো, তখন আমার একটুও ভয় লাগছিল না। বরং আমার মধ্যে একধরনের অ্যাডভেঞ্চারের অনুভূতি কাজ করছিল। বিষয়টিকে আমি খুব একটা সিরিয়াসভাবেও নিচ্ছিলাম না।
তবে যখন প্রথম নদীর পানি বেড়া পার হয়ে আসছিল, তখন আমি কিছুটা ভয় পেয়েছিলাম। কিন্তু পানি যখন একেবারে মাথার ওপর চলে আসে এবং আমি পানির নিচে ডুবে যাই, তখনও আমার মনে হচ্ছিল, এটি তেমন কোনো বড় ব্যাপার নয়। আমি নিজে নিজেই আবার পানির ওপর উঠে আসছিলাম।
এরপর দেখি, আমি ঘর থেকে বের হয়ে এসেছি। এবার জায়গাটি আগের সেই গ্রামের কুঁড়েঘরের মতো ছিল না; বরং একটি পুরোনো সাধারণ বিল্ডিংয়ের মতো মনে হচ্ছিল। আমি দরজা খুলে বিল্ডিংয়ের বাইরে বের হচ্ছিলাম।
তখন আম্মু আমাকে তাড়াতাড়ি আসতে বলছিলেন। তিনি বলছিলেন, ‘তাড়াতাড়ি আয়, পানি চলে আসবে। দরজাটা ভালো করে বন্ধ করে আয়, যেন পানি বাইরে বের হতে না পারে।’
আমি আম্মুর কথা অনুযায়ী দরজা বন্ধ করে দিই।
এরপর আম্মু কোথাও চলে যান। যাওয়ার সময় তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করেন, তাঁর মোবাইল ফোনটি কোথায়। আমি বলি, আমার নিজের ফোনটি আমার কাছে আছে। কিন্তু বাস্তবে আসার সময় আমি দুটো মোবাইল ফোনই সঙ্গে নিয়েছিলাম। আম্মুর ফোনটি আমার কাছে থাকার কথা থাকলেও আমি সেটি খুঁজে পাচ্ছিলাম না।
আম্মু আমাকে জিজ্ঞেস করেন, ‘তুই আমার ফোনটা কোথায় রেখেছিস?’
আমি বলি, ‘আমি জানি না। আমার হাতেই ছিল।’
এরপর আম্মু ফোনটি খুঁজতে নিচে চলে যান।
স্বপ্নে আমরা তিনতলায় ছিলাম। আমি বুঝতে পারছিলাম, আম্মু নিচে দুইতলা বা একতলায় ফোন খুঁজতে যাচ্ছেন।
এদিকে আমি লক্ষ করলাম, পানিটা যেন মূলত আমাদের ঘরেই বেশি জমে আছে। নিচের দিকেও পানি ছিল, তবে সিঁড়ি দিয়ে তাকিয়ে দেখলাম, সেখানে পানির পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম। পানিগুলো হাঁটুর নিচ পর্যন্ত ছিল।
পানিগুলো খুব বেশি ময়লা ছিল না; বরং পরিষ্কার ছিল। তবে পানির মধ্যে ছোট ছোট কিছু জিনিস ভাসছিল, যেগুলো দেখতে ছোট ব্যাঙের বাচ্চা কিংবা মশার বাচ্চার মতো মনে হচ্ছিল। ঠিক কী ছিল, তা বুঝতে পারিনি।
এরপর হঠাৎ আমার মনে হলো, আমরা দরজা বন্ধ করে রেখেছি কেন? দরজা খুলে দিলে তো পানি সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়বে। শুধু আমাদের ঘরের মধ্যে আটকে থাকবে না।
ঠিক সেই সময় একজন মহিলা এলেন। তিনি বললেন, ‘এই জিনিসগুলো রাখো। তোমার আম্মু রাখতে বলেছেন। আমার জিনিসগুলো সাবধানে রেখো।’
আমি তাঁকে বললাম, ‘আপনি ঘরের ভেতরে দিয়ে দিন।’
আমি দরজা খুলতে যাচ্ছিলাম। কিন্তু একই সঙ্গে বুঝতে পারছিলাম, দরজা খুললেই জমে থাকা টলমল পানিগুলো বাইরে বেরিয়ে আসবে।
আম্মু তখন আমাকে বাধা দিয়ে বলছিলেন, ‘না, দরজা খুলছিস কেন?’
আমি তাঁকে বোঝানোর চেষ্টা করছিলাম, ‘দরজা খুলে দিই। তাহলে পানিগুলো সব জায়গায় ছড়িয়ে যাবে, শুধু আমাদের ঘরে আটকে থাকবে না।’
এরপর আমি দরজা খুলে দিই। দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গেই পানিগুলো সত্যিই সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে।
এরপর আম্মু আমাকে বললেন, ‘চলো, নিচে যাই।’
নিচে গিয়ে আমরা একটি ভালো জায়গা খুঁজে পাই। এরপর আমরা দুইতলায় নেমে আসি। সেখানে একটি পড়ার টেবিল ও একটি খাট বিছানো ছিল। জায়গাটি আমার পরিচিত বা নিজের ঘরের মতো মনে হচ্ছিল।
আমি সেখানে বসার পর হঠাৎ দেখি, টেবিলের ওপর আম্মুর মোবাইল ফোনটি রাখা আছে।
আমি আম্মুকে জিজ্ঞেস করি, ‘তুমি ফোনটা কোথায় পেলে?’
আম্মু বলেন, ‘এখানেই পেয়েছি।’
এরপর তিনি আমাকে জানান, আমার ভাইও আসছে।
এভাবেই আমার স্বপ্নটি শেষ হয়।
Answer
ইস্তেখারার পর দেখা স্বপ্নের ব্যাপারে শরীয়তের দৃষ্টিভঙ্গি
প্রশ্নের সারসংক্ষেপ: আপনি ইস্তেখারা করার পরপরই (দুই দিনের মধ্যে) একটি দীর্ঘ স্বপ্ন দেখেছেন—যাতে বৃষ্টি, নদীর পানি বৃদ্ধি, বাঁধ উপচে পানি আসা, পানিতে ডুবে যাওয়া, দরজা বন্ধ-খোলা, মোবাইল ফোন হারানো-পাওয়া ইত্যাদি বিষয় ছিল। আপনি জানতে চান—এই স্বপ্নের তাৎপর্য কী এবং ইস্তেখারার সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে এটি কীভাবে বিবেচনা করবেন।
১. ইস্তেখারার মূলনীতি ও স্বপ্নের স্থান
প্রথমেই স্পষ্ট করা প্রয়োজন—ইস্তেখারার প্রকৃত ভিত্তি স্বপ্ন নয়; বরং আল্লাহর কাছে কল্যাণ প্রার্থনা করা, ইস্তিশারা (পরামর্শ) করা এবং অন্তরে যে দিকটি সহজ ও প্রশান্ত মনে হয় সেদিকে অগ্রসর হওয়া। স্বপ্ন কেবল একটি সহায়ক ইঙ্গিত হতে পারে, চূড়ান্ত প্রমাণ নয়।
রাসূলুল্লাহ ﷺ ইস্তেখারার দুআ শিক্ষা দিয়ে বলেছেন:
«إِذَا هَمَّ أَحَدُكُمْ بِالْأَمْرِ فَلْيَرْكَعْ رَكْعَتَيْنِ مِنْ غَيْرِ الْفَرِيضَةِ ثُمَّ لِيَقُلْ... اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْتَخِيرُكَ بِعِلْمِكَ...»
“যখন তোমাদের কেউ কোনো কাজের ইচ্ছা করে, সে যেন দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ে অতঃপর এই দুআ পড়ে: ‘হে আল্লাহ! আমি আপনার জ্ঞানের মাধ্যমে আপনার কাছে কল্যাণ চাই...’”
— সহীহ বুখারী, হাদিস ১১৬৬; জামে তিরমিজি, হাদিস ৪৮০
ইমাম ইবন আবিদিন (রহ.) রাদ্দুল মুহতার-এ ইস্তেখারার আলোচনায় উল্লেখ করেছেন যে, ইস্তেখারার পর অন্তর যে দিকে ঝুঁকে যায় বা যে কাজটি সহজসাধ্য হয়, সেটিই আল্লাহর পক্ষ থেকে কল্যাণের ইঙ্গিত হিসেবে ধরা হয়—স্বপ্ন নয়। (দেখুন: রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ২, ইস্তেখারার আলোচনা)
২. স্বপ্নের ব্যাখ্যা সম্পর্কে শরীয়তের সতর্কতা
ক. স্বপ্নের ব্যাখ্যা নিশ্চিত জ্ঞান নয়। স্বপ্ন হলো “মুবাশশিরাত” (সুসংবাদ) বা শয়তানের ওয়াসওয়াসা বা নفسের কল্পনা—তিন প্রকার। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
«الرُّؤْيَا الصَّالِحَةُ مِنَ اللَّهِ، وَالْحُلْمُ مِنَ الشَّيْطَانِ»
“সৎ স্বপ্ন আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর (ভয়ংকর) স্বপ্ন শয়তানের পক্ষ থেকে।”
— সহীহ বুখারী, হাদিস ৬৯৯০; সহীহ মুসলিম, হাদিস ২২৬৩
খ. স্বপ্নের ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। ইমাম ইবন সিরিন (রহ.) থেকে বর্ণিত আছে যে, স্বপ্নের ব্যাখ্যা কেবল সম্ভাবনা; এটি কখনো শরীয়তের বিধান বা সিদ্ধান্তের দলিল নয়। (দেখুন: তাফসিরুল আহলাম, ইবন সিরিন)
গ. হানাফি ফিকহে স্বপ্নের ভিত্তিতে বিধান নির্ধারণের নীতি নেই। ফতোয়ায়ে আলমগিরি ও ফতোয়ায়ে উসমানিতে ইস্তেখারার আলোচনায় স্বপ্নকে সিদ্ধান্তের মানদণ্ড হিসেবে গ্রহণ করা হয়নি; বরং দুআ, পরামর্শ ও অন্তরের প্রবণতাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।
৩. আপনার স্বপ্নের প্রতীকী বিশ্লেষণ (সতর্কতার সাথে)
স্বপ্নের ব্যাখ্যা কেবল আল্লাহর জ্ঞানেই পূর্ণ। তবে ইবন সিরিন ও পরবর্তী মুফাসসিরিনে কেরামের সাধারণ নীতির আলোকে কিছু ইঙ্গিত করা যায়—এটি চূড়ান্ত ব্যাখ্যা নয়, কেবল সম্ভাব্য ইশারা:
| স্বপ্নের উপাদান | সম্ভাব্য ইশারা (সতর্কতাসহ) | |---|---| | বৃষ্টি ও পানি বৃদ্ধি | রিযিক, রহমত, বা কোনো চাপা বিষয়ের প্রকাশ; পানি প্রায়ই রিযিক ও জ্ঞানের প্রতীক | | বাঁধ উপচে পানি আসা | কোনো সমস্যা বা দায়িত্ব হঠাৎ বেড়ে যাওয়া; নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা | | পানিতে ডুবে যাওয়া কিন্তু ভয় না পাওয়া | কোনো কঠিন পরিস্থিতিতে পড়েও আল্লাহর ভরসায় শান্ত থাকা; মানসিক দৃঢ়তা | | দরজা বন্ধ করা | সমস্যা এড়িয়ে চলার বা চেপে রাখার প্রবণতা | | দরজা খুলে দেওয়া, পানি ছড়িয়ে পড়া | সমস্যাকে মুখোমুখি হওয়া, স্বাভাবিক প্রবাহকে বাধা না দেওয়া | | মোবাইল ফোন হারানো ও পাওয়া | যোগাযোগ, সম্পর্ক বা কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিভ্রান্তি ও পরে সমাধান | | আম্মুর উপস্থিতি ও নির্দেশনা | পারিবারিক সহযোগিতা ও অভিভাবকের পরামর্শের গুরুত্ব | | নিচতলায় নিরাপদ জায়গা পাওয়া | কষ্টের পর স্বস্তি ও সমাধান লাভ |
গুরুত্বপূর্ণ: এই টেবিলটি কেবল সাধারণ প্রতীকী ইশারা; আপনার নির্দিষ্ট বিষয়ে এটি নিশ্চিত সিদ্ধান্ত নয়।
৪. ইস্তেখারার সিদ্ধান্তে করণীয়
যেহেতু আপনি ইস্তেখারা করেছেন, নিম্নোক্ত পদ্ধতিতে অগ্রসর হোন:
-
স্বপ্নকে চূড়ান্ত মানদণ্ড বানাবেন না। স্বপ্ন ভালো হলে আল্লাহর শোকর করুন; খারাপ মনে হলে নফল নামাজ পড়ে আল্লাহর আশ্রয় চান এবং স্বপ্নকে গুরুত্ব দেবেন না (সহীহ মুসলিম, হাদিস ২২৬২-এর নির্দেশনা অনুযায়ী)।
-
বিশ্বস্ত ও দ্বীনদার ব্যক্তির সাথে ইস্তিশারা (পরামর্শ) করুন। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: «الْمُسْتَشَارُ مُؤْتَمَنٌ» — “যার সাথে পরামর্শ করা হয়, সে আমানতদার।” (জামে তিরমিজি, হাদিস ২৮২২)
-
অন্তরের প্রবণতা লক্ষ্য করুন। ইস্তেখারার পর যে দিকটি অন্তরে সহজ, প্রশান্ত ও কল্যাণকর মনে হয়—সেদিকে অগ্রসর হোন। ইমাম ইবন আবিদিন (রহ.) এটিকে ইস্তেখারার মূল ফল হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
-
স্বপ্নে যা দেখেছেন তা যদি ভয়ের হয়, তাহলে বাম দিকে তিনবার থুতু ফেলা (কোনো বস্তু না থাকলে শুধু ফুঁ দেওয়া), শয়তান থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাওয়া এবং ডান দিকে কাত হয়ে শোয়া—এসব সুন্নত। (সহীহ মুসলিম, হাদিস ২২৬২)
-
স্বপ্নের ব্যাখ্যার জন্য কোনো জ্যোতিষী বা স্বপ্ন-ব্যাখ্যাকারীর কাছে যাবেন না; এটি শরীয়তবিরোধী। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ৩৮৯৫)
৫. সারসংক্ষেপ
- আপনার স্বপ্নটি ইস্তেখারার চূড়ান্ত প্রমাণ নয়; এটি কেবল একটি সম্ভাব্য ইশারা।
- স্বপ্নে পানি, বাঁধ, দরজা, ফোন—এসবের প্রতীকী অর্থ সম্ভাব্য, কিন্তু নিশ্চিত নয়।
- সিদ্ধান্ত নিন: ইস্তেখারার দুআ + পরামর্শ + অন্তরের প্রবণতা + শরীয়তসম্মত বিবেচনা—এই চারটি মিলিয়ে।
- স্বপ্নটি ভয়ংকর বা বিভ্রান্তিকর মনে হলে শয়তানের ওয়াসওয়াসা হিসেবে ধরে নফল নামাজ ও আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করুন।
- আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল রেখে সিদ্ধান্ত নিন; তিনিই সর্বজ্ঞ।
«وَمَا تَوْفِيقِي إِلَّا بِاللَّهِ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَإِلَيْهِ أُنِيبُ»
“আমার তাওফিক কেবল আল্লাহরই কাছে; তাঁরই উপর ভরসা করি এবং তাঁরই দিকে ফিরে যাই।” — সূরা হুদ, আয়াত ৮৮