ফেসবুকে নবীজ ﷺ-কে অপমানকারী মুরতাদ-কাফিরের পোস্টে মুসলিম হিসেবে কী প্রতিবাদ করা উচিত?
Faith and Belief · Hanafi
Question
Answer
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল। নবীজ ﷺ-এর শানে অপমান সহ্য করা ঈমানের দাবিতে কঠিন। তবে প্রতিবাদের পদ্ধতি শরীয়তসম্মত হতে হবে; রাগের বশে এমন কিছু করা যাবে না যা নিজের ঈমান-আমল ও সামাজিক শান্তি নষ্ট করে।
১. প্রথম কথা: হৃদয়ে ঘৃণা ও অসন্তুষ্টি ঈমানের অংশ
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
«مَنْ رَأَى مِنْكُمْ مُنْكَرًا فَلْيُغَيِّرْهُ بِيَدِهِ، فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِلِسَانِهِ، فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِقَلْبِهِ، وَذَلِكَ أَضْعَفُ الْإِيمَانِ» — সহীহ মুসলিম, হাদীস ৪৯
অর্থ: যে ব্যক্তি কোনো মুনকার (গর্হিত কাজ) দেখলে হাত দিয়ে পরিবর্তন করবে; না পারলে জবান দিয়ে; না পারলে অন্তর দিয়ে ঘৃণা করবে; আর এটাই দুর্বলতম ঈমান।
তাই আপনার অন্তরের ঘৃণা ও কষ্ট স্বাভাবিক ও ঈমানি অনুভূতি। কিন্তু হাত দিয়ে "পরিবর্তন" মানে শরীয়তের অনুমোদিত সীমার ভেতরে প্রতিবাদ—গালি, হুমকি, ব্যক্তিগত আক্রমণ বা বিশৃঙ্খলা নয়।
২. নবীজ ﷺ-এর শানে অপমানকারীর বিধান
আল্লাহ তা'আলা বলেন:
«إِنَّ الَّذِينَ يُؤْذُونَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ لَعَنَهُمُ اللَّهُ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ وَأَعَدَّ لَهُمْ عَذَابًا مُّهِينًا» — সূরা আল-আহযাব, ৩৩:৫৭
ফকীহগণের consensus অনুযায়ী রাসূল ﷺ-কে গালি দেওয়া কুফর। (রাদ্দুল মুহতার, ৪/২৩০-২৩১; ফাতাওয়া আলমগিরি, ২/২৬২)
তবে এখানে দুটি দিক আলাদা করতে হবে:
- আপনার নিজের করণীয়: আপনি তার কুফরির ফতোয়া দিতে বাধ্য নন; বরং আলেমদের উপর ছাড়ুন। আপনি তার পোস্ট থেকে দূরে থাকুন, তাকে unfollow/block করুন, রিপোর্ট করুন।
- আইনি ব্যবস্থা: ভারত/নাগাল্যান্ডে আইনগতভাবে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ করা যায়। স্থানীয় আলেম ও সংগঠনের মাধ্যমে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে—এটি শরীয়তসম্মত ও কার্যকর।
৩. আপনার করণীয় (ধাপে ধাপে)
ক. নিজের ঈমান ও রাগ নিয়ন্ত্রণ করুন। রাসূল ﷺ বলেছেন: «لَيْسَ الشَّدِيدُ بِالصُّرَعَةِ، إِنَّمَا الشَّدِيدُ الَّذِي يَمْلِكُ نَفْسَهُ عِنْدَ الْغَضَبِ» — সহীহ বুখারী, ৬১১৪। অর্থ: প্রকৃত শক্তিশালী সে নয় যে কুস্তিতে জেতে; বরং সে-ই শক্তিশালী যে রাগের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করে।
খ. সরাসরি গালি-গালাজ বা ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়। এতে আপনি অপরাধী হয়ে যাবেন, তার কুফরির সমান বা বেশি ক্ষতি হবে। আল্লাহ বলেন: «وَلَا تَسُبُّوا الَّذِينَ يَدْعُونَ مِن دُونِ اللَّهِ فَيَسُبُّوا اللَّهَ عَدْوًا بِغَيْرِ عِلْمٍ» — সূরা আল-আনআম, ৬:১০৮। অর্থ: যারা আল্লাহ ছাড়া অন্যদের ডাকে, তাদের গালি দিও না; ফলে তারা অজ্ঞতাবশত আল্লাহকে গালি দেবে।
গ. ফেসবুকে করণীয়:
- পোস্টটি report করুন (Hate Speech / Religious Insult)।
- তাকে unfollow/block করুন যাতে বারবার দেখে কষ্ট না পান।
- স্ক্রিনশট সংরক্ষণ করুন—প্রয়োজনে আইনি অভিযোগে কাজে লাগবে।
- পাল্টা পোস্ট বা কমেন্টে ঝগড়া নয়; বরং শান্তভাবে দলিলসহ নবীজ ﷺ-এর শান-মান বর্ণনা করুন। এতে অন্যরা উপকৃত হবে।
- আপনার বন্ধু-পরিবারকে বিষয়টি জানিয়ে সচেতন করুন।
ঘ. আলেমদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। স্থানীয় মুফতি/দারুল ইফতাকে জানান। তারা উপযুক্ত ফোরামে (ধর্মীয় সংগঠন, পুলিশ, প্রশাসন) ব্যবস্থা নিতে পারবেন। ব্যক্তিগত প্রতিশোধ নয়—প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিবাদই শরীয়তসম্মত ও ফলপ্রসূ।
ঙ. দুআ করুন। নবীজ ﷺ তায়েফে কষ্ট পাওয়ার পরও বদদুআ করেননি; বরং হেদায়েতের দুআ করেছেন। আপনি দুআ করুন: «اللَّهُمَّ اهْدِ قَوْمِي فَإِنَّهُمْ لَا يَعْلَمُونَ»-এর روحে—হে আল্লাহ, তাদের হেদায়েত দান করুন। আর মুসলিম উম্মাহকে নবীজ ﷺ-এর শান রক্ষার তাওফিক দিন।