ফেসবুকে নবীজ ﷺ-কে অপমানকারী মুরতাদ-কাফিরের পোস্টে মুসলিম হিসেবে কী প্রতিবাদ করা উচিত?

Faith and Belief · Hanafi

Question No: 7673
Questioner: Al Amin Ahmed Mobin
Question Asked: 01 Nov 2026, 12:08 AM
Reviewed & Published: 01 Nov 2026, 08:07 AM
Views: 11
Tokens: 3,519
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

ফেসবুকে ভারতীয় ও নাগালের বাইরে মুরতাদ কাফির মুশরিক আল্লাহর রাসুলকে নিয়ে এমন সব পোস্ট করে যা একজন মুসলিম হিসেবে কষ্ট দেয়। আমার কি করা উচিত প্রতিবাদ ঘৃনা জানানোর জন্য। নবীজিকে অপমান করে লিখা কথা মানতে পারি না। মাথা ঠিক থাকে না।

Answer

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।

প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল। নবীজ ﷺ-এর শানে অপমান সহ্য করা ঈমানের দাবিতে কঠিন। তবে প্রতিবাদের পদ্ধতি শরীয়তসম্মত হতে হবে; রাগের বশে এমন কিছু করা যাবে না যা নিজের ঈমান-আমল ও সামাজিক শান্তি নষ্ট করে।

১. প্রথম কথা: হৃদয়ে ঘৃণা ও অসন্তুষ্টি ঈমানের অংশ

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

«مَنْ رَأَى مِنْكُمْ مُنْكَرًا فَلْيُغَيِّرْهُ بِيَدِهِ، فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِلِسَانِهِ، فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِقَلْبِهِ، وَذَلِكَ أَضْعَفُ الْإِيمَانِ» — সহীহ মুসলিম, হাদীস ৪৯

অর্থ: যে ব্যক্তি কোনো মুনকার (গর্হিত কাজ) দেখলে হাত দিয়ে পরিবর্তন করবে; না পারলে জবান দিয়ে; না পারলে অন্তর দিয়ে ঘৃণা করবে; আর এটাই দুর্বলতম ঈমান।

তাই আপনার অন্তরের ঘৃণা ও কষ্ট স্বাভাবিক ও ঈমানি অনুভূতি। কিন্তু হাত দিয়ে "পরিবর্তন" মানে শরীয়তের অনুমোদিত সীমার ভেতরে প্রতিবাদ—গালি, হুমকি, ব্যক্তিগত আক্রমণ বা বিশৃঙ্খলা নয়।

২. নবীজ ﷺ-এর শানে অপমানকারীর বিধান

আল্লাহ তা'আলা বলেন:

«إِنَّ الَّذِينَ يُؤْذُونَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ لَعَنَهُمُ اللَّهُ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ وَأَعَدَّ لَهُمْ عَذَابًا مُّهِينًا» — সূরা আল-আহযাব, ৩৩:৫৭

ফকীহগণের consensus অনুযায়ী রাসূল ﷺ-কে গালি দেওয়া কুফর। (রাদ্দুল মুহতার, ৪/২৩০-২৩১; ফাতাওয়া আলমগিরি, ২/২৬২)

তবে এখানে দুটি দিক আলাদা করতে হবে:

  • আপনার নিজের করণীয়: আপনি তার কুফরির ফতোয়া দিতে বাধ্য নন; বরং আলেমদের উপর ছাড়ুন। আপনি তার পোস্ট থেকে দূরে থাকুন, তাকে unfollow/block করুন, রিপোর্ট করুন।
  • আইনি ব্যবস্থা: ভারত/নাগাল্যান্ডে আইনগতভাবে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ করা যায়। স্থানীয় আলেম ও সংগঠনের মাধ্যমে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে—এটি শরীয়তসম্মত ও কার্যকর।

৩. আপনার করণীয় (ধাপে ধাপে)

ক. নিজের ঈমান ও রাগ নিয়ন্ত্রণ করুন। রাসূল ﷺ বলেছেন: «لَيْسَ الشَّدِيدُ بِالصُّرَعَةِ، إِنَّمَا الشَّدِيدُ الَّذِي يَمْلِكُ نَفْسَهُ عِنْدَ الْغَضَبِ» — সহীহ বুখারী, ৬১১৪। অর্থ: প্রকৃত শক্তিশালী সে নয় যে কুস্তিতে জেতে; বরং সে-ই শক্তিশালী যে রাগের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করে।

খ. সরাসরি গালি-গালাজ বা ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়। এতে আপনি অপরাধী হয়ে যাবেন, তার কুফরির সমান বা বেশি ক্ষতি হবে। আল্লাহ বলেন: «وَلَا تَسُبُّوا الَّذِينَ يَدْعُونَ مِن دُونِ اللَّهِ فَيَسُبُّوا اللَّهَ عَدْوًا بِغَيْرِ عِلْمٍ» — সূরা আল-আনআম, ৬:১০৮। অর্থ: যারা আল্লাহ ছাড়া অন্যদের ডাকে, তাদের গালি দিও না; ফলে তারা অজ্ঞতাবশত আল্লাহকে গালি দেবে।

গ. ফেসবুকে করণীয়:

  • পোস্টটি report করুন (Hate Speech / Religious Insult)।
  • তাকে unfollow/block করুন যাতে বারবার দেখে কষ্ট না পান।
  • স্ক্রিনশট সংরক্ষণ করুন—প্রয়োজনে আইনি অভিযোগে কাজে লাগবে।
  • পাল্টা পোস্ট বা কমেন্টে ঝগড়া নয়; বরং শান্তভাবে দলিলসহ নবীজ ﷺ-এর শান-মান বর্ণনা করুন। এতে অন্যরা উপকৃত হবে।
  • আপনার বন্ধু-পরিবারকে বিষয়টি জানিয়ে সচেতন করুন।

ঘ. আলেমদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। স্থানীয় মুফতি/দারুল ইফতাকে জানান। তারা উপযুক্ত ফোরামে (ধর্মীয় সংগঠন, পুলিশ, প্রশাসন) ব্যবস্থা নিতে পারবেন। ব্যক্তিগত প্রতিশোধ নয়—প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিবাদই শরীয়তসম্মত ও ফলপ্রসূ।

ঙ. দুআ করুন। নবীজ ﷺ তায়েফে কষ্ট পাওয়ার পরও বদদুআ করেননি; বরং হেদায়েতের দুআ করেছেন। আপনি দুআ করুন: «اللَّهُمَّ اهْدِ قَوْمِي فَإِنَّهُمْ لَا يَعْلَمُونَ»-এর روحে—হে আল্লাহ, তাদের হেদায়েত দান করুন। আর মুসলিম উম্মাহকে নবীজ ﷺ-এর শান রক্ষার তাওফিক দিন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.