তালাকের হুমকি ধামকির ইসলামী হুকুম কী? স্বামী কথায় কথায় তালাকের হুমকি দিলে তালাক পতিত হয় কি?

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 7639
Questioner: Nadiya Hossain
Question Asked: 31 Oct 2026, 06:57 AM
Reviewed & Published: 31 Oct 2026, 07:39 AM
Views: 25
Tokens: 14,687
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম,
উস্তাদ, আমি একজন প্রাক্তন আইওমের ত্বলিবা, আলিম কোর্স ২১৬ ব্যাচ।
দ্বীনি জীবন কায়েম এর জন্য ২০২৩ সালে বিবাহ বদ্ধ হই, আমার মতই জেলারেল লাইনের মানুষকে।কিন্তু তিনি গ্রামে সেটেল ছিলেন,বয়স আমার থেকে ১২/১৩ বছরের বড় ছিলেন, সবকিছুকেই নজরআন্দাজ করেছিলাম, এসব কারনে আমাকে অনেক সেকরিফাইস করতে হয়েছে,এখানে মানিয়ে নিতে,এখোনো চেষ্টা করছি।
সমস্যা হলো, সে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন,চারিত্রিক দোষ নেই,আমার বিয়ের পর অন্তত দেখি নি, মিথ্যা বলেন না,
বাট,, তিনি অত্যাধিক পরিমানে বদমেজাজি, যেমন ভীরময় রাস্তায় আমাকে ফেলে চলে যেতে চায়, তুই তোকারি রাস্তার ওপর,যেখানে আমার কাছে কোন টাকাও নেই,কিংবা আমি জায়গাও চিনি নাহ, কিংবা রাস্তার একজন রিক্সাওয়ালা টাকা বেশি চাওয়াতে রাস্তায় ভিতরই তাদের সাথে সিনক্রিয়েট করেন,ড এর ,কাছে নিয়ে গেলে কথা ভাল না লাগলে,ড এর কথা পছন্দ না হলে প্রসক্রিপশন রিপোর্ট সব চলন্ত সিএনজির বাহিরে ফেলে আসে,এমনকি আমার গায়ে হাত তুলেন, পরে মাফ চায়,সবচেয়ে বড় কথা হো সাধারণ কথায় তিনি আমাকে তালাকের হুমকি ধামকি দেন,এটা সর্বচ্চ মাএায় চলে এসেছে,,,আমাকে হুমকি দিয়ে থাকে আমার কি করবি দেখে নিব এমন ধরনের কথা,তার ভাইদের কথা উচ্চারণ করেন যে আমার ভাই রা আসুক,তর ব্যবস্হা করছি,,
মোট কথা অত্যাধিক পরিমানে অহংকারী আচরন।
৩ বছরে আমাদের কোন বেবি নেই,প্রথম থেকেই তার শারীরিক সমস্যা ছিল,আমি আমার পরিবারের কাওকে জানাই নি,
জানতে দেই নি,তার সম্মানের খাতিরে,এরপর তার বাড়ি থেকে আমাকে নানান রকমের গালিগালাজ, অপমান অপদস্ত করেছে তার আম্মা এবং পরিবারে সদস্য, প্রতিবেশি,
আমি কখনো প্রকাশ করিনি তাদের ছেলের ই সমস্যা, এরমাঝেও আমও ৩ বার ড দেখিয়েছি নিজের,কোন সমস্যা নেই,এটা জানানোর পরেও আমাকে গাল মন্দ করা থামায় নি, আমি অনেক জোড় করে তাকে সহ আবার ড দেখিয়েছি,আমার সব কিছু নরমাল তার অনেক বড় বড় সমস্যা বের হয়েছে এবার,তাও আমি তার সম্মানের খাতিরে কাওকে জানাইনি, এরপরও তার এমন কথায় কথায় তালাকের হুমকি ধামকি আমার আর ধৈর্য্য কুলায় না, আমি কি করবো, আমার বাবার বাসায় জানাতে পারি না,কারন আমার বিয়ের আগে তারা বলেছিলেন এত বয়স, পরে সমস্যা হতে পারে, আমি কোন কিছু কে প্রাধান্য না দিয়ে তার দ্বীনদারিতাকে প্রাধান্য দিয়ে বিয়ে করেছি,এখন কোন মুখে তার এসব রূপ বাসায় জানবো,,আত্মীয় স্বজন হাসাহাসি করবে কেননা তারা প্র্যাকটিসিং না,আমার এমন সিদ্ধান্ত রাজি ছিলেন না। বাট আমি এখন কি করবো,বুঝতে পারছি না,উনি কেবল উনার লেবাজ চেন্জ করেছেন, আদতে তিনি প্র্যাকটিসিং এর আগের অহংকারী মানুষটাই রয়েছেন।
আমি এখন কি করতে পারি উস্তাজ,আমি খুবই নিরুপায়, কোন কুল পাচ্ছিনা,
যারা কথায় কথায় ওয়াইফ কে তালাকের হুমকি দেয় তারা আসলে কেমন দ্বীনদার,রাস্তা ঘাট যেখানে সেখানে ওয়াইফ কে অপমান অপদস্ত করে চলে প্রতিনিয়ত,বাহিরে এক ঘরে আরেক রূপনিয়ে চলে,তার সাথে আর কত দিন সংসার করতে পারবো।
উস্তাদ, আমি জানি আমি বোকামি করে ফেলেছি,ফ্যামিলির কথা না শুনে,এখন এই ভুলের মাসুল দিয়ে যাচ্ছি,আমি কি করতে পারি আমাকে আল্লাহর ওয়াস্তে পরামর্শ দিন,
সমবয়সীরা বাচ্চাকাচ্চার মা বাবা হয়ে গেছে বহু আগে,,আমার নেই তাও আলহামদুলিল্লাহ , কিন্তু যাকে নিয়ে থাকবো সে যদি প্রতিনিয়ত এমন করে আমার সাথে তাহলে আমার পরবর্তী করনীয় কি হতে পারে।
দয়া করে আমাকে একটু পরামর্শ দিবেন।
তার আম্মাও নানা রকমের কবিরাজ বাড়িতে যাওয়া আসা করেন,আমার বিছানার নিচে মাঝে মাঝে তাবিজ কবজ পেয়েছি, আমি আমার বাবার বাড়ি গেলেই এমনটা হয়,,একজন মুকাররিরা আপু কেও দেখিয়েছিলাম,এসব,তিনি বলেন এসব কুফুরি,।
আপনি আমাকে একজন বোন হিসেবে পরামর্শ দিন উস্তাজ।

Answer

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।

প্রিয় বোন, আল্লাহ তাআলা আপনার সবরের উপর বরকত দান করুন এবং আপনার সমস্যার সহজ সমাধান দান করুন। আপনার প্রশ্নটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল। আমি কুরআন, হাদিস ও হানাফি ফিকহের আলোকে ধাপে ধাপে উত্তর দিচ্ছি।


১. তালাকের হুমকি বা ধামকির হুকুম

প্রথমেই সবচেয়ে জরুরি বিষয়: আপনার স্বামী যদি শুধু "তালাক দিয়ে দেবো", "তুই দেখে নিবি" ইত্যাদি হুমকি দেন, কিন্তু তালাকের শব্দ (صريح) বা তালাকের নিয়তে স্পষ্ট শব্দ উচ্চারণ না করেন, তাহলে কোনো তালাক পতিত হয় না। এটি শুধু গুনাহ ও জুলুম।

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: "لا طلاق في إغلاق" — "জোরপূর্বক বা হুমকির মাধ্যমে তালাক হয় না।" (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ২১৯০; সুনানে ইবনে মাজাহ ২০৪৬ — হাসান)

ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মাযহাব অনুযায়ী: তালাকের হুমকি বা ভয়ভীতি প্রদর্শন নিজে তালাক নয়। তবে যদি তিনি রাগের মুহূর্তে স্পষ্টভাবে "তালাক" শব্দ বলেন বা তালাকের নিয়তে "যাও, তুমি আজাদ" বলেন — তাহলে তালাক পতিত হবে। তাই আপনার কর্তব্য: তিনি কোন শব্দে হুমকি দেন তা লিখে রাখুন এবং কোনো আলিমকে দেখান।

রাদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদিন), খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ২৩২: "التهديد بالطلاق لا يقع به الطلاق ما لم يتلفظ به" — "তালাকের হুমকিতে তালাক পতিত হয় না, যতক্ষণ না তা উচ্চারণ করা হয়।"


২. শারীরিক নির্যাতন ও অপমান — ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি

আপনার স্বামী আপনার গায়ে হাত তোলেন, রাস্তায় ফেলে চলে যান, অপমান করেন — এগুলো সুন্নাহ ও ইসলামী আদবের সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

আল্লাহ তাআলা বলেন: "وَعَاشِرُوهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ" — "তোমরা নারীদের সাথে সদ্ভাবে জীবনযাপন করো।" (সূরা নিসা: ১৯)

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: "خَيْرُكُمْ خَيْرُكُمْ لِأَهْلِهِ" — "তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সেই ব্যক্তি, যে তার পরিবারের কাছে সর্বোত্তম।" (তিরমিজি ৩৮৯৫)

রাসূলুল্লাহ ﷺ আরও বলেছেন: "لا يَجْلِدُ أَحَدُكُمْ امْرَأَتَهُ كَمَا يُجْلَدُ الْعَبْدُ" — "তোমাদের কেউ যেন তার স্ত্রীকে দাসীর মতো প্রহার না করে।" (সহিহ বুখারি ৫২০৪)

ইমাম আত-তাহাবি (রহ.) তাঁর শারহু মাআনিল আসার-এ উল্লেখ করেছেন যে, স্ত্রীর উপর জুলুম করা কবিরা গুনাহ। ইমাম আবু ইউসুফ (রহ.) ও ইমাম মুহাম্মদ (রহ.)-এর মতে, স্ত্রীকে অকারণে প্রহার করা নিষিদ্ধ।

ফতোয়ায়ে উসমানি (মুফতি তাকি উসমানি, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৩৪০): "স্ত্রীকে মারধর করা, অপমান করা, অভিভাবকের সামনে অপদস্থ করা — এসব ইসলামে নিষিদ্ধ ও গুনাহের কাজ।"


৩. আপনার করণীয় — ধাপে ধাপে পরামর্শ

ধাপ ১: ধৈর্য ও দুআ (কিন্তু নিরবতা নয়)

আল্লাহ তাআলা বলেন: "وَاصْبِرُوا إِنَّ اللَّهَ مَعَ الصَّابِرِينَ" — "ধৈর্য ধরো, নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন।" (সূরা আনফাল: ৪৬)

কিন্তু ধৈর্য মানে জুলুম সহ্য করে চুপ থাকা নয়। ইসলাম নারীর সম্মান ও নিরাপত্তার অধিকার দিয়েছে।

ধাপ ২: পরিবারের সাথে পরামর্শ করুন

আপনি বলেছেন বাবার বাড়িতে জানাতে পারছেন না — কিন্তু এটি আপনার সবচেয়ে বড় ভুল হবে যদি আপনি একা সব সহ্য করেন। ইসলামে নারীর অভিভাবক (ওয়ালি) তার নিরাপত্তার দায়িত্বশীল।

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: "الْمُؤْمِنُ لِلْمُؤْمِنِ كَالْبُنْيَانِ يَشُدُّ بَعْضُهُ بَعْضًا" — "মুমিন মুমিনের জন্য দেয়ালের মতো, একে অপরকে শক্ত করে।" (সহিহ বুখারি ৪৮১)

পরামর্শ: আপনার বাবা বা ভাইকে জানান। লজ্জা নয় — আপনার স্বামীর আচরণই লজ্জার। আপনি ভুল করেননি; আপনি দ্বীনদারিতা দেখে বিয়ে করেছেন — এটি প্রশংসনীয় নিয়ত ছিল।

ধাপ ৩: স্থানীয় আলিম/মুফতির মাধ্যমে সমাধান

আল-হিদায়া ও ফতোয়ায়ে আলমগিরি-তে উল্লেখ আছে যে, দাম্পত্য কলহে দুই পক্ষের অভিভাবক ও আলিমদের মধ্যস্থতা ইসলামী সমাধানের প্রথম ধাপ।

আল্লাহ তাআলা বলেন: "وَإِنْ خِفْتُمْ شِقَاقَ بَيْنِهِمَا فَابْعَثُوا حَكَمًا مِنْ أَهْلِهِ وَحَكَمًا مِنْ أَهْلِهَا" — "যদি তাদের মধ্যে বিরোধের আশঙ্কা করো, তবে তার পরিবার থেকে একজন ও তার পরিবার থেকে একজন মধ্যস্থতাকারী পাঠাও।" (সূরা নিসা: ৩৫)

আপনার করণীয়: আপনার বাবার পক্ষ থেকে একজন সম্মানিত আলিম/মুফতি ও তার পক্ষ থেকে একজনকে নিয়ে বসুন। শর্ত দিন — শারীরিক নির্যাতন বন্ধ, তালাকের হুমকি বন্ধ, অপমান বন্ধ। এগুলো না হলে বিচ্ছেদের কথা ভাবা বৈধ।

ধাপ ৪: তাবিজ-কবজ ও কবিরাজ — কুফরি

আপনি বলেছেন বিছানার নিচে তাবিজ পেয়েছেন এবং তার আম্মা কবিরাজের কাছে যান। এটি সম্পূর্ণ হারাম ও কুফরির কাজ যদি তাতে আল্লাহর নাম ছাড়া অন্য কিছু বা শিরকি বাক্য থাকে।

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: "مَنْ عَلَّقَ تَمِيمَةً فَقَدْ أَشْرَكَ" — "যে তাবিজ ঝুলালো, সে শিরক করলো।" (মুসনাদে আহমাদ ১৭৪২২)

ইমাম ইবনে আবিদিন (রহ.) রাদ্দুল মুহতার-এ (খণ্ড ৬, পৃষ্ঠা ৩৬৩) বলেছেন: "التمائم إذا كانت بغير القرآن أو بأسماء لا يعرف معناها فهي شرك" — "তাবিজ যদি কুরআন ছাড়া বা অজানা নামে হয়, তবে তা শিরক।"

আপনার করণীয়: সেই তাবিজগুলো সরিয়ে ফেলুন, তার আম্মাকে বোঝানোর চেষ্টা করুন — এটি কুফরি। আপনি যে মুকাররিরা আপুকে দেখিয়েছেন এবং তিনি "কুফরি" বলেছেন — তিনি সঠিক বলেছেন।


৪. "আমি কি বিচ্ছেদ (তালাক) চাইতে পারি?"

হানাফি ফিকহ অনুযায়ী নারীর অধিকার:

  1. খুলা (خلع): স্ত্রী স্বামীকে কিছু মাল দিয়ে বা ছাড়াই বিচ্ছেদ চাইতে পারেন — যদি স্বামী সম্মত হন। (আল-হিদায়া, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ২২৮)

  2. তালাকের জন্য আদালতে আবেদন: যদি স্বামী জুলুম করে, ভরণপোষণ না দেয়, শারীরিক নির্যাতন করে — তাহলে কাজী/আদালত তালাকের আদেশ দিতে পারেন।

ফতোয়ায়ে আলমগিরি (খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৪৮৩): "إذا كان الزوج ظالماً لا ينفق عليها أو يضربها، فللقاضي أن يفرق بينهما" — "যদি স্বামী জালিম হয়, ভরণপোষণ না দেয় বা প্রহার করে, তবে কাজী তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটাতে পারেন।"

ইমদাদুল ফতোয়া (আশরাফ আলী থানভী, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ২৩০): "স্ত্রীর উপর জুলুম ও নির্যাতন প্রমাণিত হলে শরীয়তের দৃষ্টিতে বিচ্ছেদের অনুমতি আছে।"

তবে শর্ত: প্রথমে মধ্যস্থতার চেষ্টা, তারপর বিচ্ছেদ। হঠাৎ রাগের বশে নয়।


৫. আপনার স্বামীর দ্বীনদারিতা সম্পর্কে

আপনি বলেছেন তিনি নামাজ পড়েন, মিথ্যা বলেন না — এগুলো ভালো। কিন্তু দ্বীনদারিতা শুধু নামাজে নয়, আখলাকেও।

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: "أَكْمَلُ الْمُؤْمِنِينَ إِيمَانًا أَحْسَنُهُمْ خُلُقًا" — "মুমিনদের মধ্যে সেই ব্যক্তি ঈমানে সর্বাধিক পূর্ণ, যার আখলাক সর্বোত্তম।" (তিরমিজি ১১৬২)

আরও বলেছেন: "إِنَّ الرَّجُلَ لَيُدْرِكُ بِحُسْنِ خُلُقِهِ دَرَجَةَ الصَّائِمِ الْقَائِمِ" — "নিশ্চয়ই মানুষ তার উত্তম আখলাকের কারণে রোজাদার ও রাত জাগরণকারীর মর্যাদা পায়।" (আবু দাউদ ৪৭৯৮)

অতএব: নামাজ পড়া সত্ত্বেও স্ত্রীর উপর জুলুম করা, অপমান করা, তালাকের হুমকি দেওয়া — এগুলো তার দ্বীনদারিতার ঘাটতি। আপনি তাকে নসিহত করুন, ভালো আলিমের সাথে দেখা করান।


৬. ব্যবহারিক পরামর্শ (একজন বোন হিসেবে)

  1. প্রতিটি ঘটনা লিখে রাখুন — তারিখ, সময়, কী বলেছেন, কী করেছেন। এটি পরে আলিম/আদালতে কাজে লাগবে।

  2. আপনার বাবা-মাকে জানান — লজ্জা পাবেন না। আপনি ভুল করেননি; আপনি দ্বীন দেখে বিয়ে করেছেন। এখন তাদের দায়িত্ব আপনাকে রক্ষা করা।

  3. একজন নির্ভরযোগ্য আলিম/মুফতির সাথে সরাসরি দেখা করুন — আপনার এলাকার বা অনলাইনে (যেমন দারুল ইফতা দেবন্দ,ifatwa.info)। তাদের সব ঘটনা খুলে বলুন।

  4. তার আম্মাকে তাবিজ সম্পর্কে বোঝান — কুফরি, এটি বন্ধ করা জরুরি। না মানলে আপনার ঘর থেকে সরিয়ে ফেলুন।

  5. নিরাপত্তা প্রথম — যদি শারীরিক নির্যাতন বাড়ে, তবে বাবার বাড়িতে চলে যান। ইসলাম নারীর জীবন ও সম্মান রক্ষার অনুমতি দিয়েছে।

  6. দুআ করুন — "اللَّهُمَّ أَصْلِحْ بَيْنَنَا" (হে আল্লাহ, আমাদের মধ্যে সংশোধন দান করুন) এবং ইস্তিখারার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিন।

  7. সন্তান না হওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তা করবেন না — এটি আল্লাহর ইচ্ছা। চিকিৎসা চালিয়ে যান, তবে এটিকে দোষ হিসেবে দেখবেন না।


৭. শেষ কথা

প্রিয় বোন, আপনি বোকামি করেননি — আপনি দ্বীনদারিতা দেখে বিয়ে করেছেন, এটি একটি মহৎ নিয়ত ছিল। কিন্তু দ্বীনদারিতা যাচাই করতে হয়েছিল পরিবারের সাথে পরামর্শ করে। এখন যা হয়েছে, তা নিয়ে আফসোস না করে সমাধানের দিকে এগিয়ে যান।

আল্লাহ তাআলা বলেন: "وَمَن يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَل لَّهُ مَخْرَجًا" — "যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য উত্তরণের পথ করে দেন।" (সূরা তালাক: ২)

আপনি ধৈর্য ধরুন, দুআ করুন, পরিবারকে জানান, আলিমের সাথে পরামর্শ করুন। আল্লাহ আপনার জন্য সর্বোত্তম ব্যবস্থা করবেন, ইনশাআল্লাহ।

আল্লাহ তাআলা আপনার সবরের উপর বরকত দান করুন এবং আপনার সমস্যার সহজ সমাধান দান করুন। আমিন।


আল্লাহ সর্বজ্ঞ।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.