Endometriosis ও Dienogest 2 mg ব্যবহারের কারণে অত্যন্ত কম বাদামি স্রাব হায়েজ নাকি ইস্তিহাযা?
Faith and Belief · Hanafi
Question
আমার Endometriosis আছে। ডাক্তার আমাকে Dienogest 2 mg দিয়েছেন। ওষুধটি নিয়মিত খাওয়ার কারণে আমার মাসিক বন্ধ রয়েছে। শেষ মাসিক শুরু হয়েছিল ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, স্থায়ী হয়েছিল ৩–৪ দিন।
গত ৩–৪ দিন ধরে খুব নগণ্য পরিমাণে, সুতার মতো বাদামি স্রাব দেখা যাচ্ছে। সাধারণত সকালে একবার দেখা যায়, কখনো প্রস্রাবের সময়ও দেখা যায়, আবার অনেক সময় থাকে না।
আমার প্রশ্ন, এই স্রাব কি হায়েজ হিসেবে গণ্য হবে, নাকি ইস্তিহাযা? এই অবস্থায় কি আমি নামাজ পড়তে পারব?
আমি হানাফি মাজহাব অনুসরণ করি। দয়া করে জানাবেন। জাযাকাল্লাহু খাইরান।
Answer
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
বোন, আপনার শারীরিক অবস্থা (Endometriosis) এবং ডাক্তার কর্তৃক Dienogest 2 mg ওষুধ গ্রহণের দরুন হরমোনাল কারণে যে অনিয়মিত বাদামি স্রাব দেখা যাচ্ছে, ফিকহে হানাফীর আলোকে এর শরঈ ফয়সালা এবং সালাত (নামাজ) আদায়ের নিয়ম নিচে ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর সহ বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:
১. এই স্রাব হায়েজ (মাসিক) নাকি ইস্তিহাযা (অসুস্থতাজনিত স্রাব)?
ইসলামী ফিকহে নারীর রক্ত বা স্রাবের রঙের পাশাপাশি মেয়াদ ও স্থায়িত্ব (Duration) হলো হায়েজ ও ইস্তিহাযা নির্ধারণের প্রধান মানদণ্ড।
১. স্রাবের রঙ (বাদামি স্রাব): ফিকহে হানাফী অনুযায়ী হায়েজের রক্ত কেবল লালই নয়; বরং লালের পাশাপাশি বাদামি (كدرة - কুদরাহ/কাদার মতো রঙ), হলুদ বা কালো স্রাবও হায়েজ হিসেবে গণ্য হতে পারে। ২. হায়েজের মেয়াদের শর্ত: কোনো রক্ত বা স্রাবকে হায়েজ গণ্য হওয়ার জন্য আবশ্যকীয় শর্ত হলো— তা কমপক্ষে পূর্ণ ৩ দিন ও ৩ রাত (৭২ ঘণ্টা) স্থায়ী হতে হবে এবং সর্বোচ্চ ১০ দিন ১০ রাতের (২৪০ ঘণ্টা) মধ্যে থাকতে হবে। ৩. ইস্তিহাযার আইনি নীতি: যদি কোনো রক্ত বা স্রাব প্রকাশ পাওয়ার পর প্রথম দেখা দেওয়ার সময় থেকে শেষ বন্ধ হওয়ার সময় পর্যন্ত মোট মেয়াদ ৭২ ঘণ্টা (৩ দিন ৩ রাত)-এর কম হয়, তবে তা শরী'আতের বিচারে হায়েজ নয়; বরং তা 'ইস্তিহাযা' (অসুস্থতা বা ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াজনিত স্রাব)।
২. বর্তমান অবস্থায় আপনার করণীয় ও নামাজের বিধান:
যেহেতু আপনি Dienogest ওষুধ খাচ্ছেন এবং গত ৩–৪ দিন ধরে নগণ্য পরিমাণে সুতার মতো বাদামি স্রাব দিনে দু-একদিন বা প্রস্রাবের সময় দেখা যাচ্ছে:
ক. সময় হিসাবের নিয়ম:
আপনি প্রথম যেদিন ও যে সময়ে এই বাদামি স্রাবটি প্রত্যক্ষ করেছিলেন, সেখান থেকে হিসাব করুন:
-
যদি মোট মেয়াদ ৭২ ঘণ্টা (৩ দিন ৩ রাত) পূর্ণ হয়: ধরে নিন, প্রথম দেখা দিয়েছিল ২৬শে অক্টোবর সকাল ৮টায় এবং ২৯শে অক্টোবর সকাল ৮টা বা তার পর পর্যন্ত এই স্রাব বন্ধ ও চালু মিলিয়ে দেখা গেছে—অর্থাৎ প্রথম ও শেষ দেখা যাওয়ার মধ্যবর্তী সময় ৭২ ঘণ্টা পার হয়ে গেছে; তবে এটি শরী'আতের দৃষ্টিতে 'হায়েজ' (মাসিক) হিসেবে গণ্য হবে। সে ক্ষেত্রে এই দিনগুলোতে নামাজ মাফ ছিল এবং আপনাকে ওই সময়ের কোনো নামাজ কাযা করতে হবে না। স্রাব সম্পূর্ণ বন্ধ হলে গোসল করে নামাজ শুরু করবেন।
-
যদি মোট মেয়াদ ৭২ ঘণ্টা (৩ দিন ৩ রাত) পূর্ণ না হয়: যদি প্রথম দেখা দেওয়া থেকে শেষ দেখা দেওয়ার সময় হিসেব করে দেখা যায় মোট মেয়াদ ৭২ ঘণ্টার কম ছিল (যেমন: ২ দিন বা আড়াই দিন পরেই আর কোনো স্রাব দেখা যায়নি বা বন্ধ হয়ে গেছে); তবে প্রমাণিত হলো যে এটি হায়েজ ছিল না; এটি 'ইস্তিহাযা' ছিল। সে ক্ষেত্রে ওই সময়ে যে কয় ওয়াক্তের নামাজ পড়া হয়নি, সেগুলো আপনাকে ক্বাযা হিসেবে আদায় করে নিতে হবে।
খ. ইস্তিহাযা সাব্যস্ত হলে নামাজ পড়ার নিয়ম:
যদি নিশ্চিত হওয়া যায় যে এটি ইস্তিহাযা (মেয়াদ ৩ দিনের কম হওয়ার কারণে), তবে ইস্তিহাযা অবস্থায় নামাজ বা রোজা কোনোটিই মাফ হয় না।
- এ অবস্থায় আপনি শরীর ও কাপড় পবিত্র রাখবেন, প্রয়োজনে ছোট প্যাড/টিস্যু ব্যবহার করবেন এবং প্রতি ওয়াক্ত নামাজের সময় হলে অযু করে নিয়মিত নামাজ আদায় করে যাবেন।
সংযুক্ত কিতাবের বিবরণ (ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর সহ):
- ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড): পৃষ্ঠা: ১১২–১১৪ (অধ্যায়: তাহারাত, ৬ষ্ঠ পরিচ্ছেদ: 'হায়েজ ও ইস্তিহাযার বিবরণ' — ১ম ও ২য় অনুচ্ছেদ: হায়েজের সর্বনিম্ন মেয়াদ ৩ দিন ৭২ ঘণ্টা হওয়া, কুদরাহ বা বাদামি স্রাবের হুকুম এবং ইস্তিহাযার সালাতের ফতোয়া)।
- নূরুল ঈযাহ: বাংলা সংস্করণ, পৃষ্ঠা: ৪৬–৪৭ (পরিচ্ছেদ: 'হায়েজ, নেফাস ও ইস্তিহাজা' — হায়েজের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ সীমা এবং বাদামি/ঘোলাটে স্রাবের ফিকহী মূলনীতি)।
- ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া (৫ম খণ্ড): পৃষ্ঠা: ১৯৭–২০০ ও ২০৩–২০৫ (অধ্যায়: 'বাবুল হায়েজ ওয়াল ইস্তিহাজা' — ৭২ ঘণ্টার কম স্থায়ী রক্ত/স্রাব ইস্তিহাযা হওয়া এবং তাতে নামাজ ক্বাযা করা সংক্রান্ত ফতোয়া)।
- দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড): পৃষ্ঠা: ২৭৬–২৭৮ (অধ্যায়: 'হায়েজ, তুহুর ও ইস্তিহাজার সাধারণ ফিকহী মানদণ্ড')।
الله يشفيك ويعافيك (আল্লাহ তাআলা আপনাকে পূর্ণ সুস্থতা ও আফিয়াত দান করুন)।
والله أعلم بالصواب