মনে মনে বাজে কথা বললে ঈমান যায় কিনা?

Faith and Belief · Hanafi

Question No: 7547
Questioner: Riyana
Question Asked: 29 Oct 2026, 02:52 PM
Reviewed & Published: 29 Oct 2026, 03:03 PM
Views: 10
Tokens: 4,624
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আজকে হঠাৎ একটা চিন্তার কথা মনে হয়ে যায়। চিন্তা টা আমার অনেক দিন আগের। আল্লাহ নিয়ে বাজে কথা৷ চিন্তা আসলে মনে মনে বলি নাকি মুখে উচ্চারণ করেই বলি আমার মনে থাকে না। তাই আমি আবার মুখ হা করে, জিহবা নেড়ে আবার সেসব বাজে কথা গুলা বলি। জোরে জোরে নিশাস নিয়ে। চেক করতে। কোনো সাউন্ড হয় কিনা৷

১)আজকে হঠাট মনে হয়ে যায় যে, আমি সেদিন যে চেক করতেছিলাম এটা কি মুখে উচ্চারণ করে ফেললাম কিনা। এটা মনে হয়ে আমি অনেক ভয় পেয়ে যাই যে উচ্চারণ হয়ে গেলে আমার ঈমানের কি হবে। এই জন্য আজকে আবার ইচ্ছা করেই চেক করি। দেখতে। বাজে কথা টা ইচ্ছা করেই বলি। মানে মুখ হা করে জোরে জোরে নিশাস নেই৷ নিশাসের সাথে সাথে মনে মনে বলি। আমি শুধু নিশ্বাস এর সাউন্ড শুনতে পাই। এখন এভাবে চেক করার জন্য ইচ্ছাকৃত বাজে কথা বলার কারনে এখন আমার ঈমানের কোনো সমস্যা হবে?

Answer

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।

প্রশ্নের সারমর্ম: আপনি আল্লাহ তা'আলা সম্পর্কে কিছু বাজে চিন্তা/কথা মনে মনে বা মুখে উচ্চারণ করে ফেলেছেন কিনা—এই সন্দেহ ও ভয় থেকে বারবার চেক করার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে মুখ খুলে, জিহবা নেড়ে, জোরে নিশ্বাস নিয়ে সেই বাজে কথাগুলো মনে মনে পুনরাবৃত্তি করছেন। আপনি জানতে চান—এভাবে ইচ্ছাকৃতভাবে বাজে কথা মনে মনে বলার কারণে ঈমানের কোনো সমস্যা হবে কি না।

** উত্তর:** প্রশ্নের বিবরন মতে আপনার ঈমানের কোনো সমস্যা হবে না; তবে এ ধরনের চেক করা ও ওয়াসওয়াসায় জড়িয়ে পড়া থেকে বিরত থাকা জরুরি।

বিস্তারিত:

১) মনে মনে বাজে কথা বা কুচিন্তা: মনে মনে কুফরি বা বাজে কথা উদয় হওয়া বা মনে মনে তা বলা—এতে ঈমান নষ্ট হয় না, যতক্ষণ না তা মুখে উচ্চারণ করা হয় বা বিশ্বাস হিসেবে অন্তরে স্থির হয়। হাদিসে এসেছে, আল্লাহ তা'আলা উম্মতের অন্তরে উদয় হওয়া ওয়াসওয়াসা ও কুচিন্তার জন্য ক্ষমা করেছেন, যতক্ষণ না সে তা বলে বা আমল করে। (সহিহ বুখারি, হাদিস ৫২৬৯; সহিহ মুসলিম, হাদিস ১২৭–১৩০)

২) আপনার ক্ষেত্রে: আপনি চেক করার সময় শুধু নিশ্বাসের শব্দ শুনেছেন; বাজে কথাগুলো আপনি মনে মনে বলেছেন, মুখে উচ্চারণ করেননি। সুতরাং এতে ঈমানের কোনো ক্ষতি হয়নি। ইচ্ছাকৃতভাবে মনে মনে বলা—এটাও কুফরি নয়; কারণ কুফরি হয় মুখে উচ্চারণ বা অন্তরে বিশ্বাস স্থাপনের মাধ্যমে।

৩) ওয়াসওয়াসা থেকে সতর্কতা: শয়তান মানুষকে সন্দেহে ফেলে বারবার চেক করাতে চায়। এ ধরনের চেক করা, বারবার পরীক্ষা করা ও ভয় পাওয়া শয়তানের ওয়াসওয়াসার অন্তর্ভুক্ত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, মানুষ ততক্ষণ পর্যন্ত প্রশ্ন করতে থাকবে যে, সে বলবে—আল্লাহ সবকিছু সৃষ্টি করেছেন, কিন্তু আল্লাহকে কে সৃষ্টি করেছেন? যে এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়, সে যেন "আমান্তু বিল্লাহ" বলে এবং তা থেকে বিরত থাকে। (সহিহ বুখারি, হাদিস ৩২৭৬; সহিহ মুসলিম, হাদিস ১৩৪)

৪) হানাফি ফিকহের দৃষ্টিতে: ইমাম ইবন আবিদিন (রহ.) রাদ্দুল মুহতার-এ উল্লেখ করেছেন, অন্তরে কুফরি খেয়াল আসলে তা ঈমান নষ্ট করে না; বরং তা শয়তানের প্ররোচনা। (রাদ্দুল মুহতার, ৪/২২২–২২৩ প্রসঙ্গ) ফাতাওয়া আলমগিরিতেও উল্লেখ আছে, কুফরি কালাম মুখে উচ্চারণ করা ছাড়া শুধু অন্তরে খেয়াল আসলে কুফরি হয় না। (ফাতাওয়া আলমগিরি, ২/২৭৬ প্রসঙ্গ)

৫) আশরাফ আলী থানভী (রহ.)-এর নির্দেশনা: হাকিমুল উম্মত থানভী (রহ.) তাঁর রচনায় ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তিকে বারবার চেক না করে, ওয়াসওয়াসাকে উপেক্ষা করে আল্লাহর যিকির ও ইস্তিগফারে লিপ্ত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। (ইমদাদুল ফাতাওয়া, ২/১৬০ প্রসঙ্গ)

করণীয়:

  • আর কখনো ইচ্ছাকৃতভাবে বাজে কথা মনে মনে পুনরাবৃত্তি করে চেক করবেন না; এটি শয়তানের ওয়াসওয়াসা।
  • যখন এমন কুচিন্তা আসে, সাথে সাথে আউযুবিল্লাহ পড়ুন, আল্লাহর যিকির করুন এবং সেই চিন্তাকে গুরুত্ব দেবেন না।
  • নিজের ঈমান নিয়ে ভয় পাওয়া ঈমানের আলামত; কিন্তু সন্দেহে পড়ে বারবার পরীক্ষা করা ঠিক নয়।
  • নিয়মিত ইস্তিগফার ও দরুদ শরিফ পড়ুন।

والله أعلم بالصواب


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.