জিনের সাহায্যে তাবিজ-কবজ, গণকের কাছে যাওয়া ও টাকা দেওয়ার ইসলামিক বিধান কী?
Faith and Belief · Hanafi
Question
আমি আসলে এসব বিশ্বাস করি না। প্রথমবার সেখানে গিয়ে ২৮,০০০ টাকা দিয়েছেন। এখনো দুই মাসও হয়নি, এর মধ্যেই আবার সেখানে গিয়েছেন। এবার নাকি বলা হয়েছে, আরও ৮,০০০ টাকা লাগবে।আবার নাকি তাবিজ করছে।
আমার কাছে টাকা চাওয়া হয়েছিল, কিন্তু আমি দিইনি। আমি বলেছি, আমি এসব বিশ্বাস করি না। আমার কাছে টাকা থাকা সত্ত্বেও আমি টাকা দিইনি। এ কারণে মনে হচ্ছে, আম্মু আমার ওপর একটু রাগ করেছেন।
এখন আমার করণীয় কী? আমার কি টাকা দেওয়া উচিত ছিল?
আমার আরেকটি প্রশ্ন হলো, এভাবে কি আসলেই কিছু করা সম্ভব? জিন কি সত্যিই এসব করতে পারে, নাকি এসবের মাধ্যমে শুধু মানুষের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়?
আরেকটি বিষয় হলো, আমার বোনের স্বামী সিঙ্গাপুরে থাকেন। তিনি আমার বোনের সঙ্গে সব সময় ভালোভাবে কথা বলেন না; মাঝেমধ্যে খারাপ ব্যবহার করেন। এ ক্ষেত্রে আমার বোনের কী করা উচিত? কীভাবে সে তার স্বামীর সঙ্গে এই সমস্যার সমাধান করতে পারে? আমি কীভাবে তাকে সাহায্য করতে পারি?
আমি কীভাবে আম্মুকে এবং আমার বোনকে বোঝাব যে, এভাবে বারবার টাকা খরচ করা ঠিক হচ্ছে না? আমার বোনের সংসারের এই সমস্যার সমাধান কি তাবিজ বা জিনের মাধ্যমে খোঁজা উচিত, নাকি অন্য কোনো উপায় আছে?
দয়া করে আমাকে ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে একটু বুঝিয়ে বলবেন। আমি চাই, আমার আম্মু যেন অযথা টাকা খরচ না করেন এবং আমার বোনও যেন তার সংসারের সমস্যাগুলো সঠিকভাবে সমাধান করতে পারে।
আসসালামু আলাইকুম।
Answer
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
- উত্তর:** আপনি টাকা না দেওয়ায় ইসলামের দৃষ্টিতে সঠিক কাজ করেছেন। জিনের সাহায্য নিয়ে তাবিজ-কবজ, গণক-প্রতারণাকারীর কাছে যাওয়া, তাদের বিশ্বাস করা ও তাদেরকে টাকা দেওয়া—সবই শরীয়তের দৃষ্টিতে নাজায়েজ ও কবীরা গুনাহ। আপনার আম্মুকে ও বোনকে স্নেহের সাথে বোঝান; বোনের দাম্পত্য সমস্যার সমাধান তাবিজ-জিনে নয়, বরং ধৈর্য, সুন্দর আচরণ, দুআ ও প্রয়োজনে পারিবারিক মধ্যস্থতার মাধ্যমে খুঁজতে হবে।
১. জিনের কাছে যাওয়া ও তাবিজ-কবজের বিধান
ক. জিনের কাছে সাহায্য চাওয়া ও গণকের কাছে যাওয়া
রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন:
«مَنْ أَتَى عَرَّافًا فَسَأَلَهُ عَنْ شَيْءٍ لَمْ تُقْبَلْ لَهُ صَلَاةٌ أَرْبَعِينَ لَيْلَةً»
“যে ব্যক্তি কোনো গণকের কাছে গিয়ে তাকে কিছু জিজ্ঞেস করল, তার চল্লিশ রাতের নামাজ কবুল হবে না।” — সহীহ মুসলিম, হাদিস ২২৩০
আরেক হাদিসে এসেছে:
«مَنْ أَتَى عَرَّافًا أَوْ كَاهِنًا فَصَدَّقَهُ بِمَا يَقُولُ فَقَدْ كَفَرَ بِمَا أُنْزِلَ عَلَى مُحَمَّدٍ ﷺ»
“যে ব্যক্তি কোনো গণক বা জ্যোতিষীর কাছে গিয়ে তার কথাকে সত্য বলে বিশ্বাস করল, সে মুহাম্মদ ﷺ-এর উপর যা নাজিল হয়েছে তা অস্বীকার করল।” — সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ৩৯০৪; সুনানে তিরমিজি, হাদিস ১৩৫
ইমাম ইবনে আবিদিন (রহ.) «রাদ্দুল মুহতার»-এ গণক-প্রতারণাকারীদের কাছে যাওয়াকে নিষিদ্ধ ও হারাম বলেছেন এবং তাদেরকে দেওয়া পারিশ্রমিককে বাতিল সম্পদ (أكل المال بالباطل)-এর অন্তর্ভুক্ত বলেছেন। (রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ৬, ‘আল-হাযর ওয়াল-ইবাহা’ অধ্যায়)
ফাতাওয়া আলমগিরি-তেও গণক-কাহিনদের কাছে যাওয়া ও তাদের কথা বিশ্বাস করা কুফর-শিরকের অন্তর্ভুক্ত বলা হয়েছে। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া, খণ্ড ২, কিতাবুল কারাহিয়্যাহ)
খ. শরীয়তসম্মত তাবিজ ও নাজায়েজ তাবিজের পার্থক্য
শুধু কুরআনের আয়াত, আল্লাহর নাম ও দোয়া দিয়ে লেখা তাবিজ—যা শিরকমুক্ত এবং অর্থ সুস্পষ্ট—তা অনেক ফকিহের মতে জায়েজ (যদিও ইমাম আবু হানিফা রহ. ও কিছু ফকিহ এতে ইখতিলাফ করেছেন)। কিন্তু জিনের নাম, অজানা মন্ত্র, তামা-লোহা-চামড়ায় অশ্লীল বা দুর্বোধ্য লেখা, জিনের সাহায্য নিয়ে তাবিজ খোলা বা বাঁধা—এসব সম্পূর্ণ হারাম ও শিরকের দিকে নিয়ে যায়।
ইমাম ইবনে আবিদিন (রহ.) বলেছেন, তাবিজে যদি আল্লাহর নাম বা কুরআনের আয়াত থাকে এবং তা হারাম কিছু মেশানো না থাকে, তবে জায়েজ; আর যদি জিনের নাম বা অজানা মন্ত্র থাকে, তবে তা নাজায়েজ ও শিরক। (রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ৬, ‘আল-হাযর ওয়াল-ইবাহা’)
মুফতি মুহাম্মদ শফি (রহ.) «মাআরিফুল কুরআন»-এ সূরা ফালাক-নাসের তাফসিরে বলেন, জিন-শয়তানের সাহায্য নিয়ে তাবিজ-মন্ত্র করা শিরক; মুসলিমকে এ থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকতে হবে।
মুফতি তাকি উসমানি (দা.বা.) «ইসলাম ও আধুনিক চিকিৎসা» ও বিভিন্ন ফতোয়ায় বলেছেন, জিনের সাহায্যে তাবিজ-কবজ করা, গণকের কাছে যাওয়া, তাদের দেওয়া টাকা—সবই নাজায়েজ; এগুলো মানুষের দ্বীন ও দুনিয়া উভয়ের ক্ষতি করে।
হাকিমুল উম্মত আশরাফ আলী থানভি (রহ.) «বেহেশতী জেওর»-এ স্পষ্ট বলেছেন, জিন-শয়তানের সাহায্য নিয়ে তাবিজ-মন্ত্র করা, গণকের কাছে যাওয়া, তাদের কথা বিশ্বাস করা—এসব শিরক ও হারাম। (বেহেশতী জেওর, তাবিজ-মন্ত্র অধ্যায়)
গ. জিন কি সত্যিই এসব করতে পারে?
জিন বাস্তবে বিদ্যমান—এটি কুরআন-হাদিসে সুস্পষ্ট। সূরা জিন ও সূরা বাকারার শেষ আয়াতে জিনের অস্তিত্ব প্রমাণিত। কিন্তু জিনের মাধ্যমে ভাগ্য পরিবর্তন, তাবিজ খোলা, সমস্যা সমাধান—এসব দাবি মূলত প্রতারণা ও শয়তানি প্রভাব। জিনের সাহায্য নেওয়া আল্লাহর উপর ভরসার (তাওয়াক্কুল) পরিপন্থী এবং শিরকের দিকে নিয়ে যায়।
মুফতি মুহাম্মদ শফি (রহ.) «মাআরিফুল কুরআন»-এ সূরা জিনের তাফসিরে বলেন, জিনের কাছে সাহায্য চাওয়া বা তাদের মাধ্যমে গায়েব জানার দাবি সম্পূর্ণ বাতিল; এটি শয়তানের ধোঁকা।
ইমাম তাহাবি (রহ.) «শারহু মাআনিল আসার»-এ এবং ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর বর্ণিত আকিদায় বলা হয়েছে, জিনের অস্তিত্ব সত্য, কিন্তু তাদের কাছে সাহায্য চাওয়া বা তাদের মাধ্যমে ভাগ্য নির্ধারণ করা শিরক।
সারকথা: এসবের মাধ্যমে সাধারণত মানুষের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার প্রতারণাই হয়; জিনের সাহায্যে সত্যিকার সমস্যা সমাধান হয় না। বরং এতে ঈমান ও আমলের ক্ষতি হয়।
২. আপনার টাকা না দেওয়া কি সঠিক ছিল?
হ্যাঁ, সম্পূর্ণ সঠিক। শরীয়তের দৃষ্টিতে জিন-গণকের কাছে যাওয়া ও তাদের দেওয়া টাকা হারাম। আপনি টাকা না দিয়ে দ্বীনি দায়িত্ব পালন করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَلَا تَأْكُلُوا أَمْوَالَكُمْ بَيْنَكُمْ بِالْبَاطِلِ
“তোমরা একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে খেয়ো না।” — সূরা বাকারা: ১৮৮
ইমাম ইবনে আবিদিন (রহ.) বলেছেন, গণক-প্রতারণাকারীদের দেওয়া টাকা বাতিল পথে সম্পদ ব্যয়ের অন্তর্ভুক্ত; এতে বরকত নষ্ট হয়। (রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ৬)
তবে আম্মুর সাথে সদাচরণ ও সেবা-যত্নে কোনো ত্রুটি করবেন না। টাকা না দেওয়া দ্বীনি কারণে সঠিক হলেও মায়ের সাথে নرم আচরণ, খেদমত ও ভালোবাসা বজায় রাখুন। আল্লাহ বলেন:
وَقَضَىٰ رَبُّكَ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا
“তোমার প্রতিপালক নির্দেশ দিয়েছেন যে, তোমরা তিনি ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করো না এবং পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করো।” — সূরা ইসরা: ২৩
৩. বোনের দাম্পত্য সমস্যার শরীয়তসম্মত সমাধান
ক. স্বামীর খারাপ ব্যবহারে বোনের করণীয়
১. ধৈর্য ও দুআ: আল্লাহর কাছে স্বামীর হেদায়েত ও সংসারের اصلاح-এর জন্য দুআ করুন। রাসূল ﷺ বলেছেন:
«وَاعْلَمْ أَنَّ النَّصْرَ مَعَ الصَّبْرِ»
“জেনে রাখ, ধৈর্যের সাথেই রয়েছে বিজয়।” — সুনানে তিরমিজি, হাদিস ২৫১৬
২. সুন্দর আচরণ ও নرم ভাষা: স্ত্রী হিসেবে সদাচরণ, নرم ভাষা ও সেবা দিয়ে স্বামীর মন জয় করার চেষ্টা করুন। আল্লাহ বলেন:
وَعَاشِرُوهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ
“তোমরা তাদের (স্ত্রীদের) সাথে সদ্ভাবে জীবনযাপন করো।” — সূরা নিসা: ১৯
৩. রাগের সময় চুপ থাকা: স্বামী রাগান্বিত হলে বিতর্কে না গিয়ে ধৈর্য ধরা; পরে শান্ত সময়ে কথা বলা।
৪. পারিবারিক মধ্যস্থতা: উভয় পরিবারের সম্মানিত ও দ্বীনদার ব্যক্তিদের মাধ্যমে মীমাংসার চেষ্টা করা। আল্লাহ বলেন:
وَإِنْ خِفْتُمْ شِقَاقَ بَيْنِهِمَا فَابْعَثُوا حَكَمًا مِّنْ أَهْلِهِ وَحَكَمًا مِّنْ أَهْلِهَا
“যদি তোমরা তাদের (স্বামী-স্ত্রীর) মধ্যে বিরোধের আশঙ্কা করো, তবে তার পরিবার থেকে একজন ও তার পরিবার থেকে একজন মীমাংসাকারী নিয়োগ করো।” — সূরা নিসা: ৩৫
৫. স্বামীর অনুপস্থিতি ও দূরত্ব: সিঙ্গাপুরে থাকার কারণে দূরত্ব ও ভুল বোঝাবুঝি হতে পারে। নিয়মিত যোগাযোগ, ভিডিও কল, পরস্পরের প্রতি আস্থা ও ভালোবাসা বজায় রাখার চেষ্টা করা। স্বামী দেশে এলে শান্ত পরিবেশে কথা বলা।
৬. কোনো অবস্থাতেই তাবিজ-জিন-গণকের কাছে যাওয়া নয়: এতে সমস্যা বাড়ে, বরং শিরকের গুনাহ হয়।
খ. আপনি কীভাবে বোনকে সাহায্য করবেন
- বোনকে দ্বীনি জ্ঞান ও ধৈর্যের পরামর্শ দিন।
- তার দুঃখে সহানুভূতি দেখান, কিন্তু তাবিজ-জিনের পক্ষে কোনো কথা বলবেন না।
- প্রয়োজনে দ্বীনদার আলেম বা পারিবারিক মুরুব্বিদের সাথে কথা বলার ব্যবস্থা করুন।
- স্বামীর সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য দুআ ও সদাচরণের পরামর্শ দিন।
- বোনের সংসারের গোপনীয়তা রক্ষা করুন; কারো কাছে স্বামীর দোষ প্রচার করবেন না।
৪. আম্মু ও বোনকে কীভাবে বোঝাবেন
১. স্নেহ ও সম্মানের সাথে কথা বলুন: “আম্মু, আমি আপনার মঙ্গলই চাই। কিন্তু জিন-গণকের কাছে যাওয়া ও টাকা দেওয়া ইসলামে নাজায়েজ; এতে দুনিয়া ও আখিরাতে ক্ষতি হবে।”
২. হাদিস ও ফতোয়ার রেফারেন্স দিন: সহীহ মুসলিমের হাদিস (গণকের কাছে গেলে ৪০ দিন নামাজ কবুল হয় না) এবং ইবনে আবিদিন, থানভি, মুফতি শফি, মুফতি তাকি উসমানির ফতোয়া উল্লেখ করুন।
৩. বাস্তব ক্ষতির কথা বলুন: বারবার টাকা খরচ হচ্ছে, কিন্তু সমস্যা সমাধান হচ্ছে না—এটাই প্রমাণ যে এটি প্রতারণা।
৪. বিকল্প পথ দেখান: বোনের সমস্যার জন্য দুআ, ধৈর্য, পারিবারিক মীমাংসা ও দ্বীনদার আলেমের পরামর্শের কথা বলুন।
৫. আম্মুর প্রতি সদাচরণ বজায় রাখুন: টাকা না দিলেও মায়ের সেবা, ভালোবাসা ও সম্মানে কোনো ঘাটতি করবেন না। মা রাগ করলেও আপনি ধৈর্য ও নرم আচরণ বজায় রাখুন। আল্লাহ বলেন:
وَقُل لَّهُمَا قَوْلًا كَرِيمًا
“তাদের (পিতা-মাতার) সাথে সম্মানজনক কথা বলো।” — সূরা ইসরা: ২৩
৬. আল্লাহর উপর ভরসা: সব সমস্যার সমাধান আল্লাহর হাতে। তিনি বলেন:
وَمَن يَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ فَهُوَ حَسْبُهُ
“যে আল্লাহর উপর ভরসা করে, তার জন্য তিনিই যথেষ্ট।” — সূরা তালাক: ৩
৫. সারসংক্ষেপ ও করণীয় তালিকা
| বিষয় | বিধান/পরামর্শ | |---|---| | জিনের কাছে যাওয়া | হারাম, কবীরা গুনাহ | | গণক-প্রতারণাকারীর কাছে যাওয়া | হারাম; হাদিসে ৪০ দিন নামাজ কবুল না হওয়ার হুমকি | | তাদের টাকা দেওয়া | নাজায়েজ; বাতিল পথে সম্পদ ব্যয় | | আপনি টাকা না দেওয়া | সঠিক ও দ্বীনি দায়িত্ব পালন | | আম্মুর সাথে আচরণ | সদাচরণ, সেবা, সম্মান বজায় রাখুন | | বোনের দাম্পত্য সমস্যা | ধৈর্য, দুআ, সদাচরণ, পারিবারিক মীমাংসা | | তাবিজ-জিনে সমাধান | কখনোই নয়; শিরকের আশঙ্কা | | বোনকে সাহায্য | দ্বীনি পরামর্শ, সহানুভূতি, আলেমের শরণাপন্ন হওয়া |
পরিশেষে: আপনি সঠিক পথে আছেন। আম্মু ও বোনকে ভালোবাসা ও প্রজ্ঞার সাথে বোঝান। আল্লাহ তাআলা আপনার পরিবারকে হেদায়েত দান করুন এবং বোনের সংসারে শান্তি ও বরকত দান করুন। আমিন।
والله أعلم بالصواب