কুলি করার সময় মনে খারাপ চিন্তা আসলে ঈমানের সমস্যা হবে?

Faith and Belief · Hanafi

Question No: 7536
Questioner: Salahuddin Ahmed
Question Asked: 29 Oct 2026, 11:39 AM
Reviewed & Published: 29 Oct 2026, 11:47 AM
Views: 29
Tokens: 2,687
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

কুলি করার সময় কারো মনে যদি সুন্নাত সম্পর্কে কোনো চিন্তা আসে কিন্তু সে মুখে উচ্চারণ করেনি তবে কি তার সমস্যা হবে?

Answer

কুলি করার সময় সুন্নাত সম্পর্কে মনে চিন্তা আসলে কী হবে?

প্রশ্নের সারসংক্ষেপ

প্রশ্নকারী জানতে চেয়েছেন—কুলি করার সময় কারো মনে যদি সুন্নাত সম্পর্কে কোনো চিন্তা আসে, কিন্তু সে মুখে উচ্চারণ না করে, তবে কি তার কোনো সমস্যা হবে?

উত্তর

না, এতে কোনো সমস্যা হবে না। মুখে উচ্চারণ না করলে শুধু মনে চিন্তা আসা বা ওয়াসওয়াসা (কুমন্ত্রণা) আসলে কিছুই হয় না। ইসলামে আমল নির্ভর করে নিয়ত ও মুখে উচ্চারিত কথার উপর; শুধু মনের খেয়াল বা চিন্তার কোনো প্রভাব নেই।

দলিল ও ব্যাখ্যা

১. কুরআনুল কারীম:

আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন—

لَا يُكَلِّفُ اللّٰهُ نَفْسًا اِلَّا وُسْعَهَا

"আল্লাহ কারো উপর তার সামর্থ্যের অতিরিক্ত বোঝা চাপান না।" — (সূরা বাকারা: ২৮৬)

২. হাদীস শরীফ:

রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেন—

إِنَّ اللّٰهَ تَجَاوَزَ لِأُمَّتِي مَا حَدَّثَتْ بِهِ أَنْفُسُهَا مَا لَمْ تَتَكَلَّمْ بِهِ أَوْ تَعْمَلْ بِهِ

"নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা আমার উম্মতের অন্তরের (খেয়াল-চিন্তা) বিষয় ক্ষমা করে দিয়েছেন, যতক্ষণ না সে তা মুখে বলে বা কাজে পরিণত করে।" — (সহীহ বুখারী: ৫২৬৯; সহীহ মুসলিম: ১২৭)

অন্য বর্ণনায় এসেছে—

إِنَّ اللّٰهَ تَجَاوَزَ عَنْ أُمَّتِي الْخَطَأَ وَالنِّسْيَانَ وَمَا اسْتُكْرِهُوا عَلَيْهِ

"আল্লাহ তাআলা আমার উম্মতের ভুল, বিস্মৃতি এবং যার উপর তাকে বাধ্য করা হয় তা ক্ষমা করেছেন।" — (সুনানে ইবনে মাজাহ: ২০৪৫)

৩. ফিকহী মূলনীতি (উসূলে ফিকহ):

الْأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ

"সকল আমল নিয়তের উপর নির্ভরশীল।" — (সহীহ বুখারী: ১)

আরও একটি মূলনীতি হলো—

لَا عِبْرَةَ لِلْخَطِرَاتِ وَالْوَسَاوِسِ

"মনের খেয়াল ও ওয়াসওয়াসার কোনো বিবেচনা নেই।"

৪. হানাফী কিতাবের বক্তব্য:

  • রাদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন শামী রহ.): উল্লেখ করেছেন—শুধু অন্তরের চিন্তা বা ওয়াসওয়াসা দ্বারা কোনো হুকুম সাব্যস্ত হয় না; মুখে উচ্চারণ বা কাজে পরিণত করা আবশ্যক। (রাদ্দুল মুহতার: ১/১৪৭ প্রসঙ্গ)

  • ফাতাওয়া আলমগীরী: "মনের খেয়াল-চিন্তার কোনো প্রভাব নেই, যতক্ষণ না তা মুখে উচ্চারিত হয়।" (ফাতাওয়া হিন্দিয়া: ১/২৭ প্রসঙ্গ)

  • ইমদাদুল ফাতাওয়া (আশরাফ আলী থানভী রহ.): ওয়াসওয়াসা সম্পর্কে বলেন—এগুলো শয়তানের কুমন্ত্রণা; এতে ভয় পাওয়ার কিছু নেই, বরং এগুলো ঈমানের প্রমাণ। (ইমদাদুল ফাতাওয়া: ১/৩৪ প্রসঙ্গ)

  • বেহেশতী জেওর (আশরাফ আলী থানভী রহ.): "শুধু মনের খেয়ালে কোনো কিছু হয় না; মুখে বলা বা কাজ করা ছাড়া।"

বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ

কুলি করার সময় সুন্নাত সম্পর্কে চিন্তা আসা মূলত শয়তানের ওয়াসওয়াসা। শয়তান ইবাদতের সময় মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চায়। এ ধরনের চিন্তা আসলে করণীয়:

১. আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করা — "আউযু বিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজীম" পড়া। ২. চিন্তাটিকে উপেক্ষা করা — এতে মনোযোগ না দেওয়া। ৩. ইবাদত চালিয়ে যাওয়া — কুলি ও নামাজের কাজ স্বাভাবিকভাবে সম্পন্ন করা। ৪. বেশি বেশি যিকর করা — শয়তানের কুমন্ত্রণা দূর হয়।

উপসংহার

কুলি করার সময় মনে সুন্নাত সম্পর্কে চিন্তা আসা—এটি শুধু মনের খেয়াল বা শয়তানের ওয়াসওয়াসা। মুখে উচ্চারণ না করলে এবং কাজে পরিণত না করলে এতে কোনো গুনাহ নেই, নামাজ বা ওজু ভঙ্গ হয় না, কোনো সমস্যা হয় না। বরং এ ধরনের ওয়াসওয়াসা উপেক্ষা করে ইবাদত চালিয়ে যাওয়াই কর্তব্য।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.