সোশ্যাল মিডিয়ায় আমার পোষ্টে বেপর্দা নারীর কমেন্ট করলে কি আমার গুনাহ হবে?
Miscellaneous Fiqh · Ahle Hadith / Salafi
Question
আমার প্রশ্ন হলো— আমার পোস্টে কোনো বেপর্দা নারীর কমেন্ট করার কারণে এবং অন্য মানুষেরা তা দেখার কারণে কি আমার কোনো গুনাহ বা পাপ হবে?
Answer
উত্তর
আলহামদুলিল্লাহ, ওয়াস-সালাতু ওয়াস-সালামু আলা রাসূলিল্লাহ, আম্মা বাদ:
প্রশ্নটির সরল উত্তর হলো— আপনার সরাসরি গুনাহ হবে না, ইনশাআল্লাহ; কারণ অন্যের কাজের দায়িত্ব আপনাকে বহন করতে হবে না। তবে বিষয়টির কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক আছে যা আপনার জানা দরকার।
১. মূলনীতি: কেউ কারো গুনাহের বোঝা বহন করে না
আল্লাহ তা'আলা বলেন:
وَلَا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَىٰ "কোনো বোঝা বহনকারী অন্যের বোঝা বহন করবে না।" — (সূরা আল-আনআম: ১৬৪; সূরা আল-ইসরা: ১৫)
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
كُلُّ ابْنِ آدَمَ خَطَّاءٌ، وَخَيْرُ الْخَطَّائِينَ التَّوَّابُونَ "প্রত্যেক আদম-সন্তানই ভুল করে; আর ভুলকারীদের মধ্যে সর্বোত্তম হলো তারা যারা তাওবা করে।" — (তিরমিযী: ২৪৯৯, ইবন মাজাহ: ৪২৫১; শাইখ আল-আলবানী সহীহ বলেছেন)
সুতরাং কোনো বেপর্দা নারী আপনার পোস্টে কমেন্ট করলে বা তার ছবি অন্যরা দেখলে— তার পর্দা না করার গুনাহ তার নিজেরই, আপনার নয়।
২. তবে আপনার কিছু দায়িত্ব ও সতর্কতা রয়েছে
ক) আপনি তাকে বাধা দিতে পারবেন না, কিন্তু আপনার পোস্টের মাধ্যম হয়ে ওঠা থেকে সতর্ক থাকা কর্তব্য। শাইখ ইবন উসাইমীন (রহ.)-এর নীতি হলো— যে ব্যক্তি নিজের পোস্ট/প্ল্যাটফর্মে হারাম বিষয় ছড়িয়ে পড়ার মাধ্যম হয়ে যায়, তার উচিত তা বন্ধ করা বা নিয়ন্ত্রণ করা। কারণ আল্লাহ বলেন:
وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَىٰ ۖ وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ "তোমরা নেকী ও তাকওয়ায় পরস্পরকে সাহায্য করো, আর গুনাহ ও সীমালঙ্ঘনে পরস্পরকে সাহায্য করো না।" — (সূরা আল-মায়িদা: ২)
খ) বাস্তব সমাধান: আপনার প্ল্যাটফর্মে কমেন্ট নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা রাখুন—
- কমেন্ট মডারেশন চালু করুন (অনুমোদনের পর প্রকাশ)।
- অশ্লীল/বেপর্দা প্রোফাইল থেকে আসা কমেন্ট ব্লক বা ডিলিট করুন।
- প্রয়োজনে কমেন্ট বন্ধ রাখুন বা নির্দিষ্ট শর্তে সীমাবদ্ধ করুন।
এতে আপনি দায়মুক্ত থাকবেন এবং প্ল্যাটফর্মকে হারাম প্রচারের মাধ্যম বানানো থেকে রক্ষা পাবেন।
গ) শাইখ ইবন বায (রহ.) ও শাইখ আল-ফাওযান (হাফি.)-এর ফতোয়া: অন্যের গুনাহে সম্মতি না থাকলে এবং নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী তা প্রতিরোধের চেষ্টা করলে দায় থাকে না। রাসূল ﷺ বলেছেন:
مَنْ رَأَى مِنْكُمْ مُنْكَرًا فَلْيُغَيِّرْهُ بِيَدِهِ، فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِلِسَانِهِ، فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِقَلْبِهِ، وَذَلِكَ أَضْعَفُ الْإِيمَانِ "তোমাদের কেউ মুনকার (গর্হিত কাজ) দেখলে হাত দিয়ে তা পরিবর্তন করবে; না পারলে জিহ্বা দিয়ে; না পারলে অন্তর দিয়ে— আর এটাই ঈমানের সর্বনিম্ন স্তর।" — (মুসলিম: ৪৯)
৩. উপসংহার
- সরাসরি গুনাহ হবে না, যতক্ষণ আপনি অন্যের গুনাহে সম্মতি না দেন বা তাতে সাহায্য না করেন।
- তবে নিজের পোস্টকে হারাম ছড়ানোর মাধ্যম বানানো থেকে বিরত থাকা আপনার দায়িত্ব; কমেন্ট মডারেশন/ব্লক করে সতর্কতা অবলম্বন করুন।
- নেক নিয়তে ইসলামী কনটেন্ট বানালে ইনশাআল্লাহ সাওয়াব পাবেন; শয়তানের ওয়াসওয়াসায় পড়ে কনটেন্ট বন্ধ করবেন না।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে হেফাজত করুন এবং নেক আমলে তাওফিক দিন। আমীন।