দয়া করে এআই উত্তর না দিয়ে আপনারা এক লাইনে বলে দিন। আমাকে বাচান। আমি অনেক কস্ট করে টোকেন কিনে প্রশ্ন করতেছি। আমার বিবাহিত জীবন ঠিক আছে কিনা?
Faith and Belief · Hanafi
Question
২) ভালো বলছি নাকি মানুষ ও বলছি মানে তারা দুইজন এ ভালো / নাকি ভালো মানুষ ও বলছি,
এটা যদি মুখে উচ্চারণ করে বলে ফেলি তাহলে কোনো সমস্যা হবে?
৩) মানুষ তো সবাইকে বলা যায় না। এই জন্যই আমার টেনশন হচ্ছে। যদি আমি মুখে উচ্চারণ করে মানুষ ও বলে থাকি তাহলে কি আমার ঈমানে কোনো সমস্যা হবে?
৪) আল্লাহর ক্ষেত্রে" মানুষ বলা "এটা তো আমি বিশ্বাস করি না। তাই যদি ভুলে মুখে উচ্চারণ করে বলে ফেলি। বলে থাকি। তাহলে আমার ঈমানে কোনো সমস্যা হবে?
৫) এখানে দুইজন কেই মহান বললাম এই জন্য ঈমানে কোনো সমস্যা হবে? আল্লাহর সাথে তো কারোর তুলনা হয় না।
৬) আমি ভাত খাচ্ছিলাম। ভাত খাওয়ার সময় মনে মনে আল্লাহ কে নিয়ে একটা কথা বলে ফেলি যেটা বলা উচিত না। পরে আমি সাথে সাথে মনে মনেই আস্তাগফিরুল্লাহ পড়ি, নাউজুবিল্লাহ পড়ি। এখন আমি কথাটা মনে মনে বলেছিলাম নাকি মুখে উচ্চারণ করে আমার ঠিক মনে পড়ছে না। কারন আমার মুখ খোলা ছিল। খাওয়ার সাউন্ড হচ্ছিলো। এখন আমার ঈমানে কি কোনো সমস্যা হবে?
৭) আপনারা একবার বলেন, মুখে উচ্চারণ করলে ঈমানে সমস্যা হয়। আবার বলেন উচ্চারণ করলেও সমস্যা হয় না। এখন আমার ক্ষেত্রে কি হবে? ঈমানের কোনো সমস্যা হবে?
৮) আমার ঈমান বিবাহিত জীবন কি ঠিক আছে? নাকি নবায়ন করতে হবে?
৯) বিয়ে নবায়ন না করলে কি কোনো সমস্যা হবে?
১০) ঈমান নবায়ন না করলে কি কোনো সমস্যা হবে?
Answer
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।
প্রথমে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পষ্ট করে নিন: আপনার বর্ণনা অনুযায়ী আপনি কোনো কুফরী বা শিরকী আকীদা পোষণ করেননি, বরং শয়তানের ওয়াসওয়াসা (কুমন্ত্রণা) দূর করার জন্য "আল্লাহ মহান", "নবী মহান" ইত্যাদি বলেছেন এবং পরে "তারা দুইজনই ভালো" বলেছেন। এতে আপনার ঈমান নষ্ট হয়নি, বরং আপনি গুনাহ থেকে তাওবা করেছেন। নিচে প্রশ্নগুলোর ধারাবাহিক উত্তর দেওয়া হলো।
১) মনে বাজে কথা আসা ও "তারা দুইজনই ভালো" বলা
মনে কুফরী বা বাজে কথা আসা শয়তানের ওয়াসওয়াসা। হাদীসে এসেছে, সাহাবায়ে কেরাম রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে বললেন, "আমরা মনে এমন কথা অনুভব করি যা বলতে আমরা ভয় পাই।" তিনি বললেন, "তোমরা কি তা অনুভব করো?" তারা বললেন, "হ্যাঁ।" তিনি বললেন, "এটা সুস্পষ্ট ঈমান।" (সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৩২)। অর্থাৎ শয়তানের কুমন্ত্রণা আসা এবং তা অপছন্দ করা ঈমানের প্রমাণ।
আপনি "তারা দুইজনই ভালো" বলেছেন—এর দ্বারা যদি আপনার উদ্দেশ্য হয় উভয়কে ভালো মানুষ হিসেবে সম্মান করা (যেমন নবী ﷺ-কে ভালো মানুষ বলা এবং আল্লাহর ক্ষেত্রে "ভালো" শব্দটি তাঁর কুদরত ও রহমতের দিকে ইঙ্গিত করা), তাহলে এতে ঈমানের কোনো ক্ষতি নেই। তবে আল্লাহ তাআলার ক্ষেত্রে "মানুষ" বা সৃষ্টির সাথে তুলনামূলক কোনো শব্দ ব্যবহার করা কুফরী। আপনি বলেছেন আপনার বিশ্বাসে আল্লাহকে মানুষ বলা নেই—আলহামদুলিল্লাহ, এতে ঈমান ঠিক আছে। আস্তাগফিরুল্লাহ পড়ে তাওবা করেছেন, ইনশাআল্লাহ মাফ হয়ে গেছে। (রাদ্দুল মুহতার, ৬/৩৭০-৩৭২; ফাতাওয়া উসমানী, ১/২৫০)
২) মুখে "তারা দুইজনই ভালো" বা "ভালো মানুষ" বলা
যদি "ভালো মানুষ" বলে থাকেন এবং উদ্দেশ্য হয় নবী ﷺ-কে ভালো মানুষ বলা এবং আল্লাহর ক্ষেত্রে "ভালো" শব্দটি তাঁর সিফাত হিসেবে বলা—তাহলে এতে কুফরী নেই। কিন্তু যদি আল্লাহ তাআলাকে "মানুষ" বলে থাকেন (নাউজুবিল্লাহ), তাহলে সেটা কুফরী। আপনি বলেছেন আপনার বিশ্বাসে তা নেই এবং ভুলে মুখে উচ্চারণ হলে আপনি তাওবা করবেন। তাওবা করলে ঈমান ঠিক থাকবে। (বাদায়েউস সানায়ে, ৫/১৩০; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ২/২৭৬)
৩) "মানুষ" শব্দটি আল্লাহর ক্ষেত্রে মুখে উচ্চারণ হলে
আল্লাহ তাআলাকে "মানুষ" বলা কুফরী, কারণ এটি আল্লাহর সাথে সৃষ্টির তুলনা। কিন্তু আপনি বলেছেন আপনি তা বিশ্বাস করেন না, শুধু ভুলে মুখে উচ্চারণ হয়ে গেলে সাথে সাথে তাওবা করবেন। ভুলে মুখে উচ্চারণ হলে এবং সাথে সাথে তাওবা করলে ঈমান নষ্ট হয় না। (রাদ্দুল মুহতার, ৬/৩৭১; ইমদাদুল ফাতাওয়া, ৪/২৮৫)
৪) আল্লাহর ক্ষেত্রে "মানুষ" বলা বিশ্বাস না করা
আপনার আকীদা ঠিক আছে—আল্লাহ মানুষ নন, তিনি সৃষ্টির অসম। ভুলে মুখে উচ্চারণ হলে সাথে সাথে আস্তাগফিরুল্লাহ পড়ে তাওবা করুন। ইনশাআল্লাহ ঈমান ঠিক থাকবে। (মা'আরিফুল কুরআন, ১/৩৪৫; ফাতাওয়া উসমানী, ১/২৫২)
৫) দুইজনকে "মহান" বলা
আপনি "আল্লাহ মহান" এবং "নবী মহান" বলেছেন। নবী ﷺ-কে "মহান" বলা জায়েয, কারণ তিনি সৃষ্টির সর্বশ্রেষ্ঠ। আল্লাহ তাআলার সাথে কারোর তুলনা হয় না—এটি আপনার আকীদা। তুলনা না করে পৃথকভাবে মহান বলা হলে ঈমানে সমস্যা নেই। (শরহে আকাইদে নসফী; ফাতাওয়া মাহমুদিয়া, ১/১৪৫)
৬) ভাত খাওয়ার সময় মনে মনে বা মুখে বলা
আপনি সাথে সাথে আস্তাগফিরুল্লাহ ও নাউজুবিল্লাহ পড়েছেন। যদি কথাটি কুফরী হয় এবং আপনি তা বিশ্বাস না করেন, শুধু ভুলে মুখে বা মনে বলেছেন—তাওবা করলে ঈমান ঠিক থাকবে। মুখ খোলা ছিল বা খাওয়ার সাউন্ড ছিল—এতে সন্দেহ হলে আসল (প্রকৃত কথা) হলো সন্দেহের কারণে ঈমান নষ্ট হয় না; বরং তাওবা করলে ঈমান বহাল থাকে। (রাদ্দুল মুহতার, ৬/৩৭২; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ২/২৭৮)
৭) "মুখে উচ্চারণ করলে সমস্যা হয়/হয় না" — এ সন্দেহের সমাধান
ফিকহের মূলনীতি হলো: কুফরী কথা মুখে উচ্চারণ করলে ঈমান নষ্ট হয়, তবে শর্ত হলো তা বিশ্বাস বা স্বীকার করা। আর যদি ভুলে, ওয়াসওয়াসা দূর করতে, বা শয়তানের কুমন্ত্রণা প্রতিহত করতে বলে থাকেন এবং অন্তরে তা বিশ্বাস না করেন—তাহলে ঈমান নষ্ট হয় না। আপনি যেহেতু তাওবা করেছেন এবং বিশ্বাস ঠিক রেখেছেন, আপনার ক্ষেত্রে ঈমানের কোনো সমস্যা নেই। (বাদায়েউস সানায়ে, ৫/১৩০; ফাতাওয়া উসমানী, ১/২৫৩)
৮) ঈমান ও বিবাহিত জীবন ঠিক আছে কি?
আপনার ঈমান ঠিক আছে, ইনশাআল্লাহ। যেহেতু ঈমান নষ্ট হয়নি, বিবাহিত জীবনও ঠিক আছে; বিয়ে নবায়ন করার প্রয়োজন নেই। (রাদ্দুল মুহতার, ৩/২২; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/২৮৩)
৯) বিয়ে নবায়ন না করলে সমস্যা হবে কি?
না, সমস্যা হবে না। কারণ আপনার ঈমান নষ্ট হয়নি। (ফাতাওয়া উসমানী, ২/৩৫০)
১০) ঈমান নবায়ন না করলে সমস্যা হবে কি?
না, সমস্যা হবে না। তবে প্রতিদিন "আমantu বিল্লাহি ওয়া রাসূলিহি" বা কালিমা পড়া এবং বেশি বেশি আস্তাগফিরুল্লাহ পড়া উত্তম। (মুসলিম, হাদীস ১৩২; ফাতাওয়া মাহমুদিয়া, ১/১৪৬)
সারসংক্ষেপ: আপনার ঈমান ঠিক আছে, বিবাহ ঠিক আছে, নবায়ন করার প্রয়োজন নেই। শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে বাঁচতে বেশি বেশি আউযুবিল্লাহ ও আস্তাগফিরুল্লাহ পড়ুন এবং চিন্তা দূর করার জন্য "আল্লাহু আকবার" বলুন। আল্লাহ তাআলা আপনার ঈমান হেফাজত করুন। আমীন।
আল্লাহ ভালো জানেন।