সামনের মাসের ৩ তারিখ হায়েজের ডেইট। কিন্তু এখণ এই মাসের ২৪ তারিখ ব্লাড দেখা দেয়, এটা কি হায়েজ?

Taharah Purity · Hanafi

Question No: 7466
Questioner: Anisha 0629
Question Asked: 28 Oct 2026, 12:40 AM
Reviewed & Published: 28 Oct 2026, 02:32 AM
Views: 57
Tokens: 3,251
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

السلام عليكم و رحمة الله و بركاته


আমার পরিচিত একজন জানতে চেয়েছেন একটা বিষয়।আপনারা একটু সাহায্য করোন।

উনার সামনের মাসের ৩ তারিখ হায়েজ এর ডেইট।কিন্তু ২৪ তারিখ উনার ব্লাড দেখা দেই, এখনও এমন।তাও আবার শুধু প্রশ্রাবের সাথে নাকি।এখন এটাকে কি উনি হায়েজ ধরবেন নাকি অসুস্থতা বুঝতে পারতেছেন না।

Answer

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।

আপনার পরিচিত বোনটির বর্ণিত পরিস্থিতি (নির্ধারিত তারিখের আগেই রক্ত দেখা দেওয়া এবং তা প্রস্রাবের সাথে নির্গত হওয়া) ফিকহে হানাফীর দৃষ্টিতে হায়েজ নাকি ইস্তিহাজা (অসুস্থতাজনিত রক্ত), তা নির্ধারণের জন্য ৩টি মৌলিক শরঈ নীতি বা শর্ত মিলিয়ে দেখতে হবে।

হানাফী ফিকহের প্রামাণ্য কিতাব থেকে ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বরসহ বিস্তারিত শরঈ সমাধান নিচে প্রদান করা হলো:


১. মূল সিদ্ধান্ত ও শরঈ শর্তাবলী:

ক) প্রথম শর্ত: দুই হায়েজের মধ্যবর্তী তুহুর (পবিত্রতা):

বিগত মাসের পিরিয়ড সম্পূর্ণ বন্ধ হওয়ার পর থেকে এই মাসের ২৪ তারিখে রক্ত দেখা দেওয়ার মধ্যবর্তী সময়ে তিনি কি কমপক্ষে ১৫ দিন বা তার বেশি দিন সম্পূর্ণ পবিত্র ছিলেন?

  • যদি ১৫ দিন বা তার বেশি দিন পবিত্র থাকা হয়ে থাকে: তবে নির্ধারিত ৩ তারিখের আগেই রক্ত দেখা দিলেও এটি হায়েজ হওয়ার প্রাথমিক যোগ্যতা রাখে। কারণ নারীদের পিরিয়ডের তারিখ বা অভ্যাস (আদত) আগে-পিছে পরিবর্তন হতে পারে।
  • যদি ১৫ দিন পূর্ণ না হয়ে থাকে: তবে এই রক্ত নিশ্চিতভাবেই ইস্তিহাজা (অসুস্থতাজনিত রক্ত), হায়েজ নয়।

খ) দ্বিতীয় শর্ত: রক্ত প্রবাহের স্থায়িত্বকাল (৩ দিন থেকে ১০ দিন):

হানাফী ফিকহ অনুযায়ী হায়েজের সর্বনিম্ন সময়সীমা ৩ দিন ৩ রাত (৭২ ঘণ্টা) এবং সর্বোচ্চ সময়সীমা ১০ দিন ১০ রাত।

  • ৩ থেকে ১০ দিনের মধ্যে বন্ধ হলে: ১৫ দিনের তুহুর (পবিত্রতা) পূর্ণ হওয়ার পর শুরু হওয়া এই রক্ত যদি কমপক্ষে ৩ দিন ৩ রাত (৭২ ঘণ্টা) থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ১০ দিন ১০ রাতের মধ্যে বন্ধ হয়ে যায়, তবে এটি হায়েজ হিসেবেই গণ্য হবে।
  • ৩ দিনের কম হলে: যদি রক্ত ৩ দিন (৭২ ঘণ্টা) পূর্ণ হওয়ার আগেই রক্ত বন্ধ হয়ে যায়, তবে তা হায়েজ হবে না; বরং পুরোটাই ইস্তিহাজা বা অসুস্থতাজনিত রক্ত গণ্য হবে।
  • ১০ দিনের বেশি হলে: আর যদি রক্ত ১০ দিন অতিক্রম করে যায়, তবে তাঁর পূর্বের স্বাভাবিক অভ্যাসের (আদতের) দিনগুলো হায়েজ গণ্য হবে এবং বাকি অতিরিক্ত দিনগুলো ইস্তিহাজা গণ্য হবে।

২. প্রস্রাবের সাথে রক্ত নির্গত হওয়ার ফিকহী হুকুম:

লজ্জাস্থানের ভেতর থেকে রক্ত বাইরে নির্গত হয়ে প্রস্রাবের সাথে বের হলে ফিকহের বিচারে অযু ভেঙে যায়।

  • যদি এটি ইস্তিহাজা (অসুস্থতা) হয়: তবে এই রক্তের কারণে নামায বা রোযা মাফ হবে না। রক্ত দেখা দিলে অযু ভেঙে যাবে। তিনি শরীর ও কাপড় পরিষ্কার করে অযু করে নিয়মিত নামায আদায় করবেন এবং রোযা রাখবেন। (রক্ত যদি এত অনবরত আসে যে এক ওয়াক্ত নামায পড়ার মতো সময়ও পাওয়া না যায়, তবে তিনি শরঈ মাযুর হিসেবে প্রতি ওয়াক্তের জন্য একটি করে অযু করবেন)।
  • যদি এটি হায়েজ প্রমাণিত হয়: তবে রক্ত চলাকালীন সময়ে নামায পড়া ও রোযা রাখা নিষিদ্ধ থাকবে এবং রক্ত সম্পূর্ণ বন্ধ হওয়ার পর গোসল করে পবিত্র হতে হবে।

সংযুক্ত কিতাবের বিবরণ (ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর সহ):

  • নূরুল ঈযাহ: বাংলা সংস্করণ, পৃষ্ঠা: ৪৬–৪৭ (পরিচ্ছেদ: 'হায়েজ, নেফাস ও ইস্তেহাজা' — হায়েজের সর্বনিম্ন ৩ দিন ও সর্বোচ্চ ১০ দিন এবং দুই হায়েজের মধ্যবর্তী তুহুর ১৫ দিনের বিবরণ)।
  • ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী: ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১১৩ (অধ্যায়: তাহারাত, ৬ষ্ঠ পরিচ্ছেদ: 'মহিলাদের খাস রক্তসমূহের বিবরণ — হায়েজের শর্তাবলী ও সময়সীমা')।
  • ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী: ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১১৪–১১৫ (৩য় অনুচ্ছেদ: 'ইস্তিহাজার বিবরণ ও আহকাম')।
  • ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী: ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৫৪–৫৫ (৪র্থ অনুচ্ছেদ: 'অযু ভঙ্গের কারণসমূহ — রাস্তা দিয়ে রক্ত বের হওয়া')।
  • ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া: ৫ম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১৯৮–১৯৯ (অধ্যায়: 'বাবুল হায়েজ ওয়াল নিফাস ওয়াল ইস্তিহাজা — হায়েজের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ মেয়াদ এবং সময় পরিবর্তনের ফতোয়া')।
  • দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড): পৃষ্ঠা: ২৭৭–২৭৮ (অনুচ্ছেদ: 'হায়েজ ও ইস্তিহাজার ফিকহী মূলনীতি')।

والله أعلم بالصواب



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.