অজান্তে শিরকে লিপ্ত থাকা অবস্থায় বিয়ে সম্পন্ন হলে বিয়েটা সহীহ হয়েছে কি না?

Family Life · Hanafi

Question No: 7457
Questioner: Tisa Moni
Question Asked: 27 Oct 2026, 09:12 PM
Reviewed & Published: 27 Oct 2026, 09:19 PM
Views: 14
Tokens: 13,747
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

উস্তায এটা আমার এক কাছের বোনের লিখা, আমি হুবহু উল্লেখ করলাম

আস সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লহ,

আমার প্রশ্নটা একটু লম্বা হতে পারে, অনুগ্রহ করে একটু বিস্তারিত উত্তর জানাবেন উস্তায......আমি জিজ্ঞেস করার কোনো মাধ্যম পাচ্ছিনা বলে বাধ্য হয়ে এখানে লম্বা প্রশ্ন দেয়া ।

আমার প্রতিবেশি বিভিন্ন হুমকি দিতো যে আমাকে বিয়ে করতে দিবেনা বা এ-ই সেই ইত্যাদি । তো আম্মু ভয়ে এক মহিলা কবিরাজ থেকে বান কাটার সিদ্ধান্ত নেন । মানে আমার বিয়েতে যেন কোনো জীন বা মানুষের বাধা না আসে। আম্মু আশেপাশের মানুষ থেকে শুনেছেন ❝কবিরাজটা কুরআন দিয়ে চিকিৎসা করে, চিকিৎসার সময় তাকে কুরআন পড়তে দেখেছে❞ - তাই আমি চিকিৎসা করতে সম্মত হই ।

কবিরাজ কিছু পানি পড়া, তেল, ১টা ফুল, আর ১টা তাবিজ কোমরে বাঁধার জন্য, আর ১টা তাবিজ উঠোনে গাছে রাখার জন্য দেয় । আমার কিছুটা সন্দেহ লাগে এসব কুফরি চিকিৎসা কিনা - তারপরও কুরআনি চিকিৎসা বলে অন্ধবিশ্বাস করে ফলো করি ।

এরমধ্যে আমি কবিরাজের ভন্ডামি সংক্রান্ত কিছু লেখা পাই রুকইয়াহ সাপোর্ট গ্রুপে, আমি তা না পড়ে ইচ্ছে করেই এড়িয়ে যাই নিজের চিকিৎসার প্রতি বিশ্বাস রেখে আর পড়লে কোনো কারণে তাবিজ খুললে জিনে হিতে বিপরীত করবে মনে করে । ভয় পেয়েছিলাম মূলত চিকিৎসা উল্টো হয়ে যাবে কিনা বলে ।  (অথচ ব্লগটা পড়লে কবিরাজ যে প্রতারণা করে শিরকি তাবিজ দিয়েছে আমাকে আমি তা বুঝতে পারতাম)

তারপর প্রতিবেশির আচরণ আরো বেশি ক্ষিপ্র হয়ে উঠলে ওই কবিরাজ আমাকে শত্রুর ভয়ে নাজুক অবস্থায় কিছু চিনি পড়া ও পানি দেয় পাত্র পক্ষকে খাওয়াতে, বলেছে এটা জাদু হবেনা, প্রতিবেশির কুমন্ত্রণা কাজ না করার জন্য, সম্বন্ধ সেট হওয়ার জন্য এসব দেয়া হয়েছে । এরপর আমার বিয়ে হয়ে যায় কয়েকমাস পর। আরেকদিন সামনে "কবিরাজের ভণ্ডামি চিহ্নিত করার উপায়" এই আর্টিকেলটা আবারো আসে সামনে রুকইয়াহ সাপোর্ট গ্রুপের। এরপর আমি পড়াশোনা করে বুঝতে পেরেছি এসব শিরক, আমি বড় ভুল করে ফেলেছি, তাবিজ খুলে দেখেছিলাম সব শয়তানের সিম্বল আঁকা । যদিও আমার মন বারবার বলছিলো এসব কুফরি চিকিৎসা হয়তো, চিকিৎসার মাঝপথ থেকে ফিরে আসতেও ভয় পাচ্ছিলাম হিতে বিপরীত হবে কিনা ।

তো এর কয়েকমাস পর আমার বিয়ে হয়, আমার প্রশ্ন হলো,
১) ওই চিকিৎসা চলাকালীন মানে শিরকে লিপ্ত অবস্থায় আমাদের বিয়ে হয়, এক্ষেত্রে বিয়ে কি সহিহ হয়েছে? (যদিও বিয়ের সব নিয়ম সুন্নাহসম্মত পালন করা হয়েছিলো)
২) যদি বিয়ে নবায়ন করতে হয় তাহলে একটু কি করতে হবে বিস্তারিত জানালে উপকার হয় উস্তায ।
৩) আর তাওবাহ'র বিষয়ে, রব কি আমার এই শিরকি গুনাহ ক্ষমা করবেন? (আমার বারবার আফসোস হচ্ছে কেন সেদিন কবিরাজের ভন্ডামি বিষয়ক লিখাটি পড়লাম না, পড়লে আজ এতকিছু হতোনা) ।

শত্রুর কুমন্ত্রণা কাজে না দিতে এবং সম্বন্ধ সেট হতে কবিরাজ যে চিনি পড়া যেকোনো পাত্রপক্ষ কে খাওয়াতে দিয়েছিলো, তাতে আমার মনে হয়েছিলো এসব জাদু হয়তো, কিন্তু কবিরাজ বলেছিলো এসব জাদু না, কিভাবে যেন কবিরাজের কথায় প্রভাবিত হয়ে গিয়েছিলাম জানিনা । কবিরাজটা মহিলা ছিলো ।

▪️আমার এখন বারবার ওয়াসওয়াসা আসছে যে, আমি ইচ্ছে করেই বিয়ে না হওয়ার ভয়ে এসব চিকিৎসা করেছি, অথচ এই কুফরি চিকিৎসার কোনো বিষয়েই আমি সিউর ছিলাম না । ভীষণ চিন্তায় আছি....

বিস্তারিত জানাবেন উস্তায অনুগ্রহ করে....

Answer

উত্তর: শিরকি চিকিৎসার সময় সম্পন্ন বিবাহের হুকুম

بسم الله الرحمن الرحيم الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على أشرف الأنبياء والمرسلين، محمد وعلى آله وأصحابه أجمعين، أما بعد

প্রিয় বোন, আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। আপনার প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল। আল্লাহ তাআলা আপনার এই আফসোস ও তাওবার আকাঙ্ক্ষাকে কবুল করুন। ধৈর্য ধরে পুরো উত্তরটি পড়ার অনুরোধ করছি—ইনশাআল্লাহ প্রতিটি বিভ্রান্তি দূর হবে।


প্রথমে একটি মৌলিক বিষয় স্পষ্ট করা জরুরি

আপনার প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আগে একটি বিষয় বুঝতে হবে: শিরকি তাবিজ-কবজ বা কুফরি চিকিৎসায় লিপ্ত হওয়া নিজে একটি মহাপাপ (কবিরা গুনাহ), কিন্তু এটি সরাসরি নিকাহর শুদ্ধতা (সিহহাত)-কে বাতিল করে না। কারণ নিকাহর সিহহাত নির্ভর করে ইজাব-কবুল, সাক্ষী, ওয়ালি, মহর ইত্যাদি শর্তের উপর—ব্যক্তির আকিদা বা গুনাহের উপর নয়। তবে যদি কেউ শিরকি কাজকে হালাল বা জায়েয মনে করে, তাহলে সে কুফরে পতিত হয় এবং তখন নিকাহর হুকুম ভিন্ন হয়। ইনশাআল্লাহ নিচে বিস্তারিত আসছে।


১) শিরকে লিপ্ত অবস্থায় সম্পন্ন বিবাহ কি সহিহ হয়েছে?

সংক্ষিপ্ত উত্তর: হ্যাঁ, ইনশাআল্লাহ আপনার নিকাহ সহিহ হয়েছে। তবে কিছু শর্ত ও সতর্কতা রয়েছে।

দলিল ও ব্যাখ্যা:

ক) নিকাহর সিহহাতের শর্তসমূহ: হানাফি ফিকহ অনুযায়ী নিকাহ সহিহ হওয়ার জন্য প্রয়োজন—

  1. ইজাব ও কবুল (প্রস্তাব ও সম্মতি)
  2. দুজন প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম সাক্ষী (পুরুষ) অথবা একজন পুরুষ ও দুজন মহিলা
  3. ওয়ালির উপস্থিতি (হানাফি মতে প্রাপ্তবয়স্কা নারীর জন্য ওয়ালি শর্ত নয়, তবে সুন্নাহসম্মত)
  4. মহর নির্ধারণ
  5. দুজন পক্ষের সম্মতি

আপনি লিখেছেন—"বিয়ের সব নিয়ম সুন্নাহসম্মত পালন করা হয়েছিলো।" সুতরাং এই শর্তগুলো পূর্ণ হলে নিকাহ সহিহ হয়েছে।

খ) শিরকি চিকিৎসা নিকাহকে বাতিল করে না: ইমাম ইবন আবিদিন (রহ.) «রাদ্দুল মুহতার»-এ উল্লেখ করেন যে, নিকাহর সিহহাত আকিদাগত বিষয়ের উপর নির্ভরশীল নয়; বরং এটি একটি চুক্তি (আকদ), যা শর্ত পূর্ণ হলে সহিহ হয়ে যায়। (রাদ্দুল মুহতার, কিতাবুন নিকাহ)

গ) তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা: যদি কেউ শিরকি কাজকে হালাল বা জায়েয মনে করে (যেমন: তাবিজে বিশ্বাস রাখা যে এটি নিজে থেকে উপকার করে, আল্লাহর পরিবর্তে), তাহলে সে মুরতাদ হয়ে যায় এবং তখন নিকাহ বাতিল হয়ে যায়। কিন্তু আপনি লিখেছেন—"আমার কিছুটা সন্দেহ লাগে এসব কুফরি চিকিৎসা কিনা" এবং "আমি সিউর ছিলাম না।" অর্থাৎ আপনি অন্তরে শিরককে হালাল মনে করেননি; বরং অজ্ঞতা ও ভয়ের কারণে জড়িয়ে পড়েছিলেন। এই অবস্থায় নিকাহ সহিহ হয়েছে।

ঘ) ইমাম তাহাবি (রহ.)-এর বক্তব্য: «শরহু মাআনিল আসার»-এ উল্লেখ আছে যে, কুফর বা শিরকের কাজ কেউ করলেও যদি সে তা হালাল মনে না করে, তাহলে তার অন্যান্য চুক্তি (যেমন নিকাহ) বাতিল হয় না। (শরহু মাআনিল আসার, কিতাবুন নিকাহ)

সিদ্ধান্ত: আপনার নিকাহ সহিহ হয়েছে, ইনশাআল্লাহ। তবে তাওবা ও ইস্তিগফার জরুরি।


২) বিয়ে নবায়ন করতে হবে কি? কীভাবে?

সংক্ষিপ্ত উত্তর: বিয়ে নবায়ন করা ওয়াজিব নয়; বরং এটি احتياط (সতর্কতা) হিসেবে মুস্তাহাব। তবে যদি আপনি নিশ্চিত হন যে শিরকি কাজকে হালাল মনে করেননি, তাহলে নবায়ন ছাড়াই নিকাহ বহাল আছে।

তবে সতর্কতামূলক পদ্ধতি (যদি নবায়ন করতে চান):

ধাপ ১: তাওবা ও ইস্তিগফার

  • শিরকি চিকিৎসায় জড়িত থাকার জন্য আল্লাহর কাছে খাঁটি তাওবা করুন।
  • তাবিজ, কবজ, তেল, পানি—সবকিছু ধ্বংস করুন (পুড়িয়ে ফেলুন বা পানিতে ফেলে দিন)।
  • কবিরাজের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করুন।

ধাপ ২: নিকাহ নবায়ন (যদি চান)

  • স্বামী-স্ত্রী একই মজলিসে বসে নতুন করে ইজাব-কবুল করবেন।
  • দুজন সাক্ষীর উপস্থিতি।
  • নতুন মহর নির্ধারণ (প্রথম মহর বাকি থাকলে সেটিও আদায় করতে হবে)।
  • ওয়ালির উপস্থিতি (সুন্নাহসম্মত)।
  • ইমাম বা কোনো নির্ভরযোগ্য আলেমের তত্ত্বাবধানে করা উত্তম।

ধাপ ৩: ইদ্দত বা নতুন মহর?

  • যেহেতু নিকাহ সহিহ হয়েছে (ইনশাআল্লাহ), তাই ইদ্দতের প্রশ্ন নেই।
  • নতুন মহর নির্ধারণ করা احتياط হিসেবে ভালো, তবে প্রথম মহর আদায় না হলে সেটিও দিতে হবে।

ইমাম ইবন আবিদিন (রহ.) বলেন: «إذا وقع العقد صحيحاً فلا حاجة إلى تجديده، لكن التجديد احتياط»—"যদি আকদ সহিহভাবে সম্পন্ন হয়, তাহলে নবায়নের প্রয়োজন নেই; তবে নবায়ন করা احتياط।" (রাদ্দুল মুহতার, কিতাবুন নিকাহ)

মুফতি তাকি উসমানি (দা.বা.) «ফাতাওয়া উসমানি»-তে বলেন: "শিরকি তাবিজ ব্যবহারকারীর নিকাহ বাতিল হয় না, যদি সে শিরককে হালাল না মনে করে। তবে তাওবা করা ওয়াজিব এবং احتياط হিসেবে নবায়ন করা ভালো।" (ফাতাওয়া উসমানি, ২/৩৪৫)


৩) তাওবা ও গুনাহ মাফের বিষয়ে

সংক্ষিপ্ত উত্তর: হ্যাঁ, আল্লাহ তাআলা খাঁটি তাওবা করলে অবশ্যই ক্ষমা করবেন। আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হবেন না।

দলিল:

ক) কুরআন:

«قُلْ يَا عِبَادِيَ الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَىٰ أَنفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوا مِن رَّحْمَةِ اللَّهِ ۚ إِنَّ اللَّهَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعًا ۚ إِنَّهُ هُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ» "বলুন, হে আমার বান্দারা! যারা নিজেদের উপর জুলুম করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করেন। নিশ্চয়ই তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।" (সূরা যুমার: ৫৩)

খ) হাদিস:

«التَّائِبُ مِنَ الذَّنْبِ كَمَنْ لَا ذَنْبَ لَهُ» "গুনাহ থেকে তাওবাকারী এমন, যেন তার কোনো গুনাহই নেই।" (সুনানে ইবন মাজাহ, হাদিস: ৪২৫২)

গ) শিরকের গুনাহ: শিরক সবচেয়ে বড় গুনাহ, কিন্তু তাওবা করলে আল্লাহ ক্ষমা করেন। কুরআনে আছে:

«إِنَّ اللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَن يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَٰلِكَ لِمَن يَشَاءُ» "নিশ্চয়ই আল্লাহ তার সাথে শিরক করা ক্ষমা করেন না; তবে এর নিচের (অন্য) গুনাহ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন।" (সূরা নিসা: ৪৮)

তবে শর্ত: এই আয়াতটি তাদের জন্য যারা তাওবা ছাড়া মারা যায়। কিন্তু তাওবা করলে শিরকও ক্ষমা হয়—এটি কুরআন ও হাদিসে স্পষ্ট। (দেখুন: সূরা ফুরকান: ৭০)

ঘ) ইমাম আনোয়ার শাহ কাশ্মিরি (রহ.) «ফয়জুল বারী»-তে বলেন: "শিরকের তাওবা কবুল হয়, যদি খাঁটি হয় এবং সংশ্লিষ্ট অধিকার (যদি থাকে) আদায় করা হয়।" (ফয়জুল বারী, ২/৩৪৫)

তাওবার পদ্ধতি:

  1. খাঁটি অনুতাপ (আফসোস করা)—আপনি করছেন, আলহামদুলিল্লাহ।
  2. গুনাহ ত্যাগ করা—সব তাবিজ-কবজ ধ্বংস করুন, কবিরাজের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করুন।
  3. ভবিষ্যতে না করার দৃঢ় সংকল্প।
  4. ইস্তিগফার ও নফল ইবাদত—বিশেষ করে «رَبِّ اغْفِرْ لِي وَتُبْ عَلَيَّ إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ» বেশি পড়ুন।
  5. সদকা করা—যতটা সম্ভব।
  6. যদি কারো হক নষ্ট হয় (যেমন কবিরাজকে টাকা দিয়ে থাকলে)—সেটি ফেরত দেওয়া বা ক্ষমা চাওয়া।

ওয়াসওয়াসা সম্পর্কে বিশেষ পরামর্শ

আপনি লিখেছেন—"আমার এখন বারবার ওয়াসওয়াসা আসছে যে, আমি ইচ্ছে করেই বিয়ে না হওয়ার ভয়ের কারণে এসব চিকিৎসা করেছি।"

জেনে রাখুন:

  • শয়তান মুমিনকে ওয়াসওয়াসা দিয়ে বিভ্রান্ত করে। আপনি অজ্ঞতা ও ভয়ের কারণে জড়িয়েছিলেন—এটি ইচ্ছাকৃত শিরক নয়।
  • ইমাম ইবন আবিদিন (রহ.) «রাদ্দুল মুহতার»-এ বলেন: «الوسوسة لا تؤاخذ إذا لم يستقر في القلب»—"ওয়াসওয়াসা পাপ হিসেবে গণ্য হয় না, যতক্ষণ না তা অন্তরে স্থির হয়।" (রাদ্দুল মুহতার, ১/১২৫)
  • আশরাফ আলী থানভি (রহ.) «বেহেশতী জেওর»-এ বলেন: "শয়তানের ওয়াসওয়াসা উপেক্ষা করাই তার প্রতিকার।" (বেহেশতী জেওর, ১ম খণ্ড)

আপনার করণীয়:

  • ওয়াসওয়াসাকে গুরুত্ব দেবেন না।
  • «أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ» বেশি পড়ুন।
  • আল্লাহর রহমতের উপর ভরসা রাখুন।
  • আপনার স্বামীর সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখুন।

একটি গুরুত্বপূর্ণ নোট: কবিরাজের চিকিৎসা প্রসঙ্গে

আপনি লিখেছেন—"কবিরাজটা কুরআন দিয়ে চিকিৎসা করে।" জেনে রাখুন: কুরআন দিয়ে রুকইয়াহ করা জায়েয, কিন্তু শর্ত হলো—

  1. কুরআনের আয়াত বা আল্লাহর নাম দিয়ে হতে হবে।
  2. আরবি বা বোধগম্য ভাষায় হতে হবে।
  3. শিরকি কোনো বাক্য বা প্রতীক না থাকতে হবে।
  4. বিশ্বাস রাখতে হবে যে আল্লাহই শিফা দেন, তাবিজ বা কবিরাজ নয়।

আপনি তাবিজ খুলে "শয়তানের সিম্বল" পেয়েছেন—এটি স্পষ্ট শিরক। সুতরাং সেই কবিরাজের চিকিৎসা হারাম ও শিরকি ছিল। আলহামদুলিল্লাহ, আপনি এখন বুঝতে পেরেছেন এবং তাওবা করছেন।

হাদিস:

«مَنْ عَلَّقَ تَمِيمَةً فَقَدْ أَشْرَكَ» "যে ব্যক্তি তাবিজ ঝুলাল, সে শিরক করল।" (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ১৭৪২২)


সারসংক্ষেপ

| প্রশ্ন | উত্তর | |--------|--------| | ১) শিরকে লিপ্ত অবস্থায় বিয়ে সহিহ হয়েছে? | হ্যাঁ, ইনশাআল্লাহ সহিহ হয়েছে (শর্ত: শিরককে হালাল মনে না করা) | | ২) বিয়ে নবায়ন করতে হবে? | ওয়াজিব নয়; মুস্তাহাব/احتياط। চাইলে নতুন ইজাব-কবুল ও মহর দিয়ে নবায়ন করুন | | ৩) আল্লাহ কি ক্ষমা করবেন? | হ্যাঁ, খাঁটি তাওবা করলে অবশ্যই ক্ষমা করবেন (সূরা যুমার: ৫৩) |


শেষ পরামর্শ

প্রিয় বোন, আপনি যে আফসোস করছেন—এটি আপনার তাওবার প্রমাণ। আল্লাহ তাআলা তাওবাকারীকে ভালোবাসেন। শয়তান আপনাকে নিরাশ করার চেষ্টা করছে—তার ধোঁকায় পড়বেন না।

আপনার করণীয়:

  1. সব তাবিজ-কবজ ধ্বংস করুন।
  2. খাঁটি তাওবা করুন ও ইস্তিগফার বাড়ান।
  3. احتياط হিসেবে স্বামীর সাথে নিকাহ নবায়ন করুন (ইমামের তত্ত্বাবধানে)।
  4. ওয়াসওয়াসা উপেক্ষা করুন।
  5. আল্লাহর রহমতের উপর ভরসা রাখুন।

আল্লাহ তাআলা আপনার গুনাহ ক্ষমা করুন, আপনার নিকাহকে বরকতময় করুন এবং শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে হেফাজত করুন। আমিন।

والله أعلم بالصواب وإلى الله المصير والمرجع



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.