নন-মাহরাম ছেলের দেওয়া উপহার গ্রহণ করা যাবে কি

Halal and Haram · Hanafi

Question No: 7410
Questioner: 0102
Question Asked: 26 Oct 2026, 05:51 PM
Reviewed & Published: 26 Oct 2026, 06:04 PM
Views: 26
Tokens: 3,436
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

একটা এতিম মেয়ে,বাবা মারা গেছে,নিজের কোন সম্পদ নেই।ভাইদের উপর নির্ভরশীল। এমতাবস্থায় তার সাথে একটি ছেলের প্রেমের সম্পর্ক আছে এবং ছেলেটি তাকে বিভিন্ন জিনিস পত্র,খাবার দাবার দেয়।সে নাকি এগুলো আল্লাহর ওয়াস্তে তাকে এতিম হিসেবে দেয়।এখন মেয়েটি এবং তার পরিবার এগুলো খেতে বা ব্যবহার করতে পারবে?

Answer

ফিকহি বিশ্লেষণ

১. প্রেমের সম্পর্ক (حرام) — মূল সমস্যা

প্রথমেই স্পষ্ট করা আবশ্যক: নন-মাহরাম ছেলের সাথে প্রেম/প্রণয়ের সম্পর্ক ইসলামে সম্পূর্ণ হারাম। আল্লাহ তাআলা বলেন:

وَلَا تَقْرَبُوا الزِّنَىٰ إِنَّهُ كَانَ فَاحِشَةً وَسَاءَ سَبِيلًا "আর তোমরা ব্যভিচারের নিকটেও যেয়ো না; নিশ্চয়ই তা অশ্লীল কাজ ও মন্দ পথ।" (সূরা আল-ইসরা: ৩২)

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন:

"নিশ্চয়ই চোখের জিনা হলো (হারামের) দৃষ্টি..." (সহীহ মুসলিম: ২৬৫৭)

সুতরাং এই সম্পর্কের ভিত্তিই হারাম। এ সম্পর্ক রাখা, মেলামেশা, একাকী সাক্ষাৎ—সবই নিষিদ্ধ। (রাদ্দুল মুহতার: ৬/৩৬৭; বাহিশতী যেওর)

২. "আল্লাহর ওয়াস্তে এতিমকে দেওয়া" — এখানে দুটি দিক

(ক) নিয়ত/উদ্দেশ্য: যদি ছেলেটি সত্যিই আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য দেয়, তবে সদকা হিসেবে তা বৈধ। কিন্তু প্রেমের সম্পর্কের কারণে দেওয়া হলে তা আল্লাহর ওয়াস্তে হবে না; বরং তা প্রেমের উপহার (হাদিয়া) হিসেবে গণ্য হবে।

(খ) হাদিয়া/সদকা গ্রহণের হুকুম: এতিম মেয়ে প্রাপ্তবয়স্কা হলে এবং নিজের সম্পদের মালিকানা/ব্যবহারের অধিকার থাকলে, তাকে কেউ হাদিয়া বা সদকা দিলে তা গ্রহণ করা ও ব্যবহার করা তার জন্য জায়েয। এতিম হওয়া সদকা গ্রহণের বৈধতার কারণ নয়; বরং অভাব ও প্রয়োজনের কারণে সদকা বৈধ। আল্লাহ বলেন:

إِنَّمَا الصَّدَقَاتُ لِلْفُقَرَاءِ وَالْمَسَاكِينِ... "সদকা তো কেবল ফকির, মিসকিন..." (সূরা আত-তাওবা: ৬০)

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন: "সদকা ধনীর জন্য হালাল নয়, আর না শক্তিশালী সুস্থ ব্যক্তির জন্য।" (সুনানে আবু দাউদ: ১৬৩৪; তিরমিজি: ৬৫২)

৩. কিন্তু এখানে মূল বাধা — হারাম সম্পর্ক

যদিও হাদিয়া/সদকা গ্রহণ করা মূলত জায়েয, তবে এই নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে তা গ্রহণ করা জায়েয নয়, কারণ:

  • এটি একটি হারাম প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যম ও উপলক্ষ্য।
  • এতে হারাম সম্পর্ক জারি থাকে ও উৎসাহিত হয়।
  • ইসলামি নীতি হলো: হারামের দিকে নিয়ে যাওয়া মাধ্যমও হারাম (الوسيلة إلى الحرام حرام)। ইবনে আবিদিন রহ. বলেন: "যা হারামের দিকে নিয়ে যায়, তা-ও হারাম।" (রাদ্দুল মুহতার: ৬/৩৬৭)
  • আল্লাহ বলেন: "তোমরা পাপ ও সীমালঙ্ঘনে একে অপরকে সহযোগিতা করো না।" (সূরা আল-মায়িদা: ২)

৪. শরীয়তসম্মত বিকল্প

  • মেয়েটির প্রয়োজন হলে ভাইদের উপর বা রাষ্ট্রীয়/সমাজকল্যাণমূলক সহায়তার উপর নির্ভর করা উচিত।
  • ছেলেটির সাথে সম্পর্ক সম্পূর্ণ ছিন্ন করা আবশ্যক।
  • যদি ছেলেটি সত্যিই বিয়ে করতে চায়, তবে শরীয়তসম্মত পন্থায় (অভিভাবকের মাধ্যমে) বিয়ের প্রস্তাব দিতে পারে; বিয়ের পর স্বামী-স্ত্রী হিসেবে দান-সহায়তা সম্পূর্ণ বৈধ হবে।

চূড়ান্ত ফতোয়া

এই অবস্থায় মেয়েটি ও তার পরিবারের জন্য ছেলেটির দেওয়া জিনিসপত্র ও খাবার গ্রহণ করা জায়েয নয় — কারণ তা একটি হারাম প্রেমের সম্পর্কের অংশ ও মাধ্যম। প্রথমে সম্পর্ক সম্পূর্ণ ত্যাগ করতে হবে; এরপর প্রয়োজন হলে শরীয়তসম্মত উপায়ে সহায়তা নিতে হবে। যদি ছেলেটি বিয়ে করতে চায়, তবে শরীয়তসম্মত বিয়ের মাধ্যমে সম্পর্ক স্থাপন করে তখন স্বামী হিসেবে দান-সহায়তা করতে পারবে।

সতর্কতা: এতিমত্ব বা অভাব নিজে থেকে সদকা গ্রহণের বৈধতার কারণ নয়; বরং অভাব ও প্রয়োজনের কারণে সদকা বৈধ। কিন্তু হারাম সম্পর্কের মাধ্যমে প্রাপ্ত দান গ্রহণ করা যাবে না।

রেফারেন্স: রাদ্দুল মুহতার (৬/৩৬৭), ফাতাওয়া আলমগিরি (১/১৭০), ইমদাদুল ফাতাওয়া (৪/২৭৬), ফাতাওয়া উসমানি (২/৩৩৫), বাহিশতী যেওর, মাআরিফুল কুরআন (সূরা ইসরা: ৩২-এর তাফসীর)।

والله أعلم بالصواب


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.