নন-মাহরাম ছেলের দেওয়া উপহার গ্রহণ করা যাবে কি
Halal and Haram · Hanafi
Question
Answer
ফিকহি বিশ্লেষণ
১. প্রেমের সম্পর্ক (حرام) — মূল সমস্যা
প্রথমেই স্পষ্ট করা আবশ্যক: নন-মাহরাম ছেলের সাথে প্রেম/প্রণয়ের সম্পর্ক ইসলামে সম্পূর্ণ হারাম। আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَلَا تَقْرَبُوا الزِّنَىٰ إِنَّهُ كَانَ فَاحِشَةً وَسَاءَ سَبِيلًا "আর তোমরা ব্যভিচারের নিকটেও যেয়ো না; নিশ্চয়ই তা অশ্লীল কাজ ও মন্দ পথ।" (সূরা আল-ইসরা: ৩২)
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন:
"নিশ্চয়ই চোখের জিনা হলো (হারামের) দৃষ্টি..." (সহীহ মুসলিম: ২৬৫৭)
সুতরাং এই সম্পর্কের ভিত্তিই হারাম। এ সম্পর্ক রাখা, মেলামেশা, একাকী সাক্ষাৎ—সবই নিষিদ্ধ। (রাদ্দুল মুহতার: ৬/৩৬৭; বাহিশতী যেওর)
২. "আল্লাহর ওয়াস্তে এতিমকে দেওয়া" — এখানে দুটি দিক
(ক) নিয়ত/উদ্দেশ্য: যদি ছেলেটি সত্যিই আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য দেয়, তবে সদকা হিসেবে তা বৈধ। কিন্তু প্রেমের সম্পর্কের কারণে দেওয়া হলে তা আল্লাহর ওয়াস্তে হবে না; বরং তা প্রেমের উপহার (হাদিয়া) হিসেবে গণ্য হবে।
(খ) হাদিয়া/সদকা গ্রহণের হুকুম: এতিম মেয়ে প্রাপ্তবয়স্কা হলে এবং নিজের সম্পদের মালিকানা/ব্যবহারের অধিকার থাকলে, তাকে কেউ হাদিয়া বা সদকা দিলে তা গ্রহণ করা ও ব্যবহার করা তার জন্য জায়েয। এতিম হওয়া সদকা গ্রহণের বৈধতার কারণ নয়; বরং অভাব ও প্রয়োজনের কারণে সদকা বৈধ। আল্লাহ বলেন:
إِنَّمَا الصَّدَقَاتُ لِلْفُقَرَاءِ وَالْمَسَاكِينِ... "সদকা তো কেবল ফকির, মিসকিন..." (সূরা আত-তাওবা: ৬০)
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন: "সদকা ধনীর জন্য হালাল নয়, আর না শক্তিশালী সুস্থ ব্যক্তির জন্য।" (সুনানে আবু দাউদ: ১৬৩৪; তিরমিজি: ৬৫২)
৩. কিন্তু এখানে মূল বাধা — হারাম সম্পর্ক
যদিও হাদিয়া/সদকা গ্রহণ করা মূলত জায়েয, তবে এই নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে তা গ্রহণ করা জায়েয নয়, কারণ:
- এটি একটি হারাম প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যম ও উপলক্ষ্য।
- এতে হারাম সম্পর্ক জারি থাকে ও উৎসাহিত হয়।
- ইসলামি নীতি হলো: হারামের দিকে নিয়ে যাওয়া মাধ্যমও হারাম (الوسيلة إلى الحرام حرام)। ইবনে আবিদিন রহ. বলেন: "যা হারামের দিকে নিয়ে যায়, তা-ও হারাম।" (রাদ্দুল মুহতার: ৬/৩৬৭)
- আল্লাহ বলেন: "তোমরা পাপ ও সীমালঙ্ঘনে একে অপরকে সহযোগিতা করো না।" (সূরা আল-মায়িদা: ২)
৪. শরীয়তসম্মত বিকল্প
- মেয়েটির প্রয়োজন হলে ভাইদের উপর বা রাষ্ট্রীয়/সমাজকল্যাণমূলক সহায়তার উপর নির্ভর করা উচিত।
- ছেলেটির সাথে সম্পর্ক সম্পূর্ণ ছিন্ন করা আবশ্যক।
- যদি ছেলেটি সত্যিই বিয়ে করতে চায়, তবে শরীয়তসম্মত পন্থায় (অভিভাবকের মাধ্যমে) বিয়ের প্রস্তাব দিতে পারে; বিয়ের পর স্বামী-স্ত্রী হিসেবে দান-সহায়তা সম্পূর্ণ বৈধ হবে।
চূড়ান্ত ফতোয়া
এই অবস্থায় মেয়েটি ও তার পরিবারের জন্য ছেলেটির দেওয়া জিনিসপত্র ও খাবার গ্রহণ করা জায়েয নয় — কারণ তা একটি হারাম প্রেমের সম্পর্কের অংশ ও মাধ্যম। প্রথমে সম্পর্ক সম্পূর্ণ ত্যাগ করতে হবে; এরপর প্রয়োজন হলে শরীয়তসম্মত উপায়ে সহায়তা নিতে হবে। যদি ছেলেটি বিয়ে করতে চায়, তবে শরীয়তসম্মত বিয়ের মাধ্যমে সম্পর্ক স্থাপন করে তখন স্বামী হিসেবে দান-সহায়তা করতে পারবে।
সতর্কতা: এতিমত্ব বা অভাব নিজে থেকে সদকা গ্রহণের বৈধতার কারণ নয়; বরং অভাব ও প্রয়োজনের কারণে সদকা বৈধ। কিন্তু হারাম সম্পর্কের মাধ্যমে প্রাপ্ত দান গ্রহণ করা যাবে না।
রেফারেন্স: রাদ্দুল মুহতার (৬/৩৬৭), ফাতাওয়া আলমগিরি (১/১৭০), ইমদাদুল ফাতাওয়া (৪/২৭৬), ফাতাওয়া উসমানি (২/৩৩৫), বাহিশতী যেওর, মাআরিফুল কুরআন (সূরা ইসরা: ৩২-এর তাফসীর)।
والله أعلم بالصواب