হায়েয ও ইস্তেহাযার পার্থক্য, ১০ দিনের বেশি রক্ত আসলে করণীয়, ফরজ গোসল ও নামাজ শুরু করার হুকুম জানতে চাই?

Taharah Purity · Hanafi

Question No: 7399
Questioner: Mim Islam
Question Asked: 26 Oct 2026, 01:55 PM
Reviewed & Published: 26 Oct 2026, 03:18 PM
Views: 14
Tokens: 3,791
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

কারো পিরিয়ড শুরু হয়েছে ১৬ তারিখ দুপুর ১২ টায় এরপর ২২ তারিখে ব্লাড আর দেখা যায়নি।কিন্তু ২৫ তারিখ রাতে আবার ব্লাড দেখা যায়।আবার ২৬ তারিখ সকাল দুপুরেও ব্লাড আসে।এটা কি হায়েয নাকি ইস্তেহাযা?এখন কি ফরয গোসল দিয়ে আবার নামাজ শুরু করা লাগবে? ১০ দিনের পরেও যদি ব্লাড বন্ধ না হয় তাহলে কি হুকুম

Answer

হায়েয ও ইস্তেহাযা সম্পর্কিত মাসআলা

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম


হায়েজের সর্বোচ্চ সময়ের হিসাব:

ফিকহে হানাফী অনুযায়ী হায়েজের সর্বোচ্চ মেয়াদ হলো ১০ দিন বা ২৪০ ঘণ্টা। ১৬ তারিখ দুপুর ১২ টা থেকে শুরু করে ২৬ তারিখ দুপুর ১২ টা পর্যন্ত সময়টি হলো আপনার হায়েজের ১০ দিনের সর্বোচ্চ সীমানা।


১. এটি হায়েজ নাকি ইস্তিহাজা?

  • যদি ১০ দিনের ভেতরেই (২৬ তারিখ দুপুর ১২ টার পূর্বে) রক্ত সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়: তাহলে ১৬ তারিখ দুপুর ১২ টা থেকে ২৬ তারিখ দুপুর ১২ টার মধ্যে দেখা যাওয়া সমস্ত রক্ত এবং মাঝখানের বিরতির দিনগুলো (২২ থেকে ২৫ তারিখ) সহ পুরো ১০ দিনই 'হায়েজ' হিসেবে গণ্য হবে।
  • যদি ১০ দিন অতিবাহিত হওয়ার পরও (২৬ তারিখ দুপুর ১২ টার পর) রক্ত বন্ধ না হয়: তাহলে এই রক্ত আর হায়েজ থাকবে না; বরং ১০ দিনের সীমা পার হওয়ার কারণে তা 'ইস্তিহাজা' (অসুস্থতাজনিত রক্ত) বলে গণ্য হবে । সে ক্ষেত্রে আপনার পিরিয়ডের পূর্বের সাধারণ অভ্যাস (আদাত)—যেমন: ৬ দিন বা ৭ দিন—পরিমাণ দিনগুলোই কেবল হায়েজ ধরা হবে, আর অভ্যাসের বাইরের অতিরিক্ত দিনগুলোর রক্ত ইস্তিহাজা গণ্য হবে।

২. এখন কি ফরয গোসল দিয়ে নামায শুরু করা লাগবে?

হ্যাঁ, এখন আপনাকে অবশ্যই ফরয গোসল করে অবিলম্বে নামায পড়া শুরু করতে হবে। যেহেতু ২৬ তারিখ দুপুর ১২ টায় আপনার হায়েজের সর্বোচ্চ মেয়াদ ১০ দিন পূর্ণ হয়ে গেছে, তাই রক্ত বন্ধ হোক বা না হোক, ১০ দিন পার হওয়ার পর আর নামায বন্ধ রাখার কোনো শরঈ সুযোগ নেই। গোসল করে পবিত্র হয়ে নামায শুরু করা ফরয।


৩. ১০ দিনের পরেও যদি ব্লাড বন্ধ না হয়, তবে শরঈ হুকুম ও করণীয়:

১০ দিনের বেশি সময় ধরে রক্ত প্রবাহিত হতে থাকলে শরঈ নিয়ম নিম্নরূপ:

১. অভ্যাস অনুযায়ী হায়েজ নির্ধারণ: আপনার পিরিয়ডের পূর্বের যে নিয়মিত অভ্যাস (আদাত) ছিল (যেমন: ১৬ তারিখ থেকে ২২ তারিখ পর্যন্ত ৬ দিন), কেবল ততটুকুই হায়েজ হিসেবে গণ্য হবে। ২. অতিরিক্ত রক্ত ইস্তিহাজা গণ্য হওয়া: অভ্যাসের অতিরিক্ত যত দিন রক্ত এসেছে (যেমন: ২৩ তারিখ থেকে ২৬ তারিখ বা পরবর্তী দিনগুলো), সেদিনের রক্তগুলোকে ইস্তিহাজা গণ্য করা হবে। ৩. ছুটে যাওয়া নামাযের কাযা আদায়: ইস্তিহাজার দিনগুলোতে নামায পড়া ফরয ছিল । কিন্তু হায়েজ মনে করে ওই দিনগুলোতে (যেমন: ২৩, ২৪, ২৫ ও ২৬ তারিখ) নামায পড়া হয়নি, তাই গোসল করার পর উক্ত দিনগুলোর ছুটে যাওয়া ফরয নামাযগুলোর কাযা আদায় করতে হবে। ৪. রক্ত বহাল থাকা অবস্থায় নামাযের নিয়ম: ১০ দিন পার হওয়ার পরও রক্ত আসতে থাকলে প্রতি ওয়াক্ত নামাযের সময় শুরু হলে অযু করে নেবেন এবং উক্ত এক অযুতে ওই ওয়াক্তের ফরয ও নফল সালাত আদায় করে যাবেন।


সংযুক্ত কিতাবের বিবরণ (ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর সহ):

  • ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী: ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১১৩–১১৪ (অধ্যায়: তাহারাত, ৬ষ্ঠ পরিচ্ছেদ: 'মহিলাদের রক্তসমূহের বিবরণ', ১ম অনুচ্ছেদ: 'হায়েজের বিবরণ'); এবং ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১১৮, মাসআলা: ১২ (১০ দিনের অতিরিক্ত রক্তের হুকুম ও অভ্যাসের বিবরণ)।
  • নূরুল ঈযাহ: বাংলা সংস্করণ, পৃষ্ঠা: ৪৭ ও ১১৩ (পরিচ্ছেদ: 'হায়েজ, নেফাস ও ইস্তিহাজা' — "হায়েজের সর্বোচ্চ সময় দশ দিন।")।
  • ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া: ৫ম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১৯৯–২০০, 'বাবুল হায়েজ ওয়াল নিফাস ওয়া আহকামুল মা'যুর'।
  • দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড): পৃষ্ঠা: ২৭৭–২৭৮ (অনুচ্ছেদ: 'হায়েজের মেয়াদ ও ইস্তিহাজার ফিকহী বিধান')।

আল্লাহ সর্বজ্ঞ।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.