স্বামী সুদি ব্যাংকে চাকরি করলে তার টাকা স্ত্রীর জন্য হালাল?

Business and Job · Ahle Hadith / Salafi

Question No: 737
Questioner: Aiman 2.0
Question Asked: 25 May 2026, 01:41 PM
Reviewed & Published: 25 May 2026, 01:47 PM
Views: 95
Tokens: 3,411
This answer is according to the 'Ahle Hadith / Salafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

স্বামি ব্যাংকে জব করলে সেই টাকা স্ত্রীর জন্য হালাল হবে কি?যদি স্ত্রীও ইসলামি ব্যংকে জব করে?স্ত্রীর বাবার বাড়ির লোকেদের স্বামীর বাড়িতে খাওয় এবং উপহার গ্রহণ জায়েয হবে কি?

Answer

উত্তর:

প্রশ্নটি তিনটি অংশে বিভক্ত। নিচে কুরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে এবং নির্দেশিত আলেমদের মতামত অনুযায়ী উত্তর দেওয়া হলো।


১. স্বামী সুদি ব্যাংকে চাকরি করলে তার টাকা স্ত্রীর জন্য হালাল হবে কি?

উত্তর:
সুদি ব্যাংকে চাকরি করা হারাম। কারণ এটি সুদভিত্তিক লেনদেনকে সহায়তা করে। আল্লাহ বলেন:
وَأَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ وَحَرَّمَ الرِّبَا
"আল্লাহ বেচাকেনা হালাল করেছেন এবং সুদ হারাম করেছেন।" (সূরা আল-বাকারা: ২৭৫)

রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন:
لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ آكِلَ الرِّبَا وَمُوكِلَهُ وَكَاتِبَهُ وَشَاهِدَيْهِ
"রাসুলুল্লাহ (ﷺ) সুদখোর, সুদদাতা, সুদের লেখক ও তার সাক্ষীদের অভিশাপ দিয়েছেন।" (সহিহ মুসলিম: ১৫৯৮)

শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (রহ.), ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.), ইবনু বায (রহ.) এবং ইবনু উসাইমীন (রহ.) সহ সকল আলেমের মতানুসারে, সুদি ব্যাংকের যেকোনো পদ (ক্যাশিয়ার, অফিসার, ম্যানেজার ইত্যাদি) হারাম। কারণ এটি সরাসরি সুদের লেনদেনে সহায়তা করে।

সুতরাং স্বামী সুদি ব্যাংকে চাকরি করলে তার উপার্জিত টাকা হারাম, যা স্ত্রীর জন্যও হারাম। স্ত্রী তার অবৈধ উপার্জন খেতে বা ব্যবহার করতে পারবে না।


২. স্ত্রী যদি ইসলামি ব্যাংকে চাকরি করে, তাহলে তার টাকা হালাল হবে কি?

উত্তর:
যদি সেই ব্যাংক সত্যিই ইসলামি শরিয়াহ মোতাবেক পরিচালিত হয় এবং সুদমুক্ত হয়, তাহলে স্ত্রীর উপার্জন হালাল। তবে বাস্তবে অনেক "ইসলামি ব্যাংক" পুরোপুরি সুদমুক্ত নয়—তাদের কারবারে সুদের উপাদান থাকলে তা জায়েয নয়।

শাইখ সালেহ আল-ফাওযান (হাফিজাহুল্লাহ) বলেন:
"ইসলামি ব্যাংকিং যদি সম্পূর্ণ শরিয়াহ মোতাবেক হয় (যেমন মুদারাবা, মুশারাকা, ইজারা ইত্যাদি), তবে তাতে চাকরি করা জায়েয। কিন্তু যদি কোনো সুদের মিশ্রণ থাকে, তবে তা হারাম।"

তাই স্ত্রীকে নিশ্চিত হতে হবে যে ব্যাংকটির সকল লেনদেন সুদমুক্ত। নিশ্চিত না হলে সতর্কতা অবলম্বন করা ওয়াজিব।


৩. স্ত্রীর বাবার বাড়ির লোকেদের (শ্বশুর-শাশুড়ি, দেবর-ননদ ইত্যাদি) স্বামীর বাড়িতে খাওয়া এবং উপহার গ্রহণ করা জায়েয হবে কি?

উত্তর:
হ্যাঁ, এটি জায়েয এবং উত্তম। তবে শর্ত হলো:

১. স্বামীর উপার্জন হালাল হতে হবে—যদি তার টাকা হারাম হয়, তবে সেই টাকায় কেনা খাবার খাওয়ানো ও উপহার দেওয়া জায়েয নয়।
২. স্বামীর অনুমতি থাকতে হবে—স্ত্রী স্বামীর সম্পত্তি তার ইচ্ছামতো দিতে পারবে না, বরং স্বামী সন্তুষ্ট থাকতে হবে।

রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন:
لاَ تُؤْذِي امْرَأَةٌ زَوْجَهَا إِلاَّ قَالَ اللَّهُ: لَعَنَهَا اللَّهُ مَا أَبْقَتْهَا
"যে নারী তার স্বামীকে কষ্ট দেয়, সে লানতের শিকার হয়।" (তিরমিযী: ১১৫৯)

অতএব, যদি স্বামী হালাল উপায়ে উপার্জন করে এবং অনুমতি দেয়, তাহলে শ্বশুর-শাশুড়িকে খাওয়ানো ও উপহার দেওয়া সওয়াবের কাজ। হারাম টাকা হলে তা থেকে বিরত থাকা জরুরি।


সারসংক্ষেপ:

১. সুদি ব্যাংকের চাকরি হারাম, সেই টাকা স্ত্রীর জন্যও হারাম।
২. সত্যিকারের ইসলামি ব্যাংক (সুদমুক্ত) হালাল।
৩. শ্বশুর-শাশুড়িকে হালাল টাকায় খাওয়ানো ও উপহার দেওয়া জায়েয, স্বামীর অনুমতি সাপেক্ষে।

রেফারেন্স:

  • কুরআন: সূরা আল-বাকারা ২৭৫-২৭৬
  • সহিহ মুসলিম: ১৫৯৮
  • ইবনু তাইমিয়্যাহ: মাজমু‘ ফাতাওয়া (২৯/৩১৫)
  • ইবনু বায: মাজমু‘ ফাতাওয়া (১৯/৩২০)
  • ইবনু উসাইমীন: লিক্বা’আত (৫৪/২৩)

আল্লাহ তাওফিক দিন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.