হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট বিক্রি হালাল না হারাম?

Business and Job · Hanafi

Question No: 7354
Questioner: Saidi Hassan
Question Asked: 24 Oct 2026, 08:33 PM
Reviewed & Published: 24 Oct 2026, 08:39 PM
Views: 39
Tokens: 6,205
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম হুজুর আমি এক ধরনের নাম্বার যেমন ভার্চুয়াল নাম্বার দিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট ক্রিয়েট করে সেটা আবার বিক্রি করে দেই আসলে আমি এই ভার্চুয়াল একাউন্টের নাম্বার গুলো ১০ টাকা দিয়ে এবং এটা একাউন্ট করে বিক্রি করে ২০ টাকা দিয়ে পাসওয়ার্ড গুলো আসলে কারো ব্যক্তি মালিকানাধীন নয় এগুলো হচ্ছে এক ধরনের ভার্চুয়াল নাম্বার যেগুলো আমার এক পার্টনার তৈরি করে তার কোটিং এর মাধ্যমে যেগুলোর কোন বাস্তবে অস্তিত্ব নেই তো এই বিক্রি বার টার মধ্যে কি হালাল-হারামের কোন সম্পর্ক আছে আর আমি জানতে চাচ্ছি যে তারা কোন কাজেই whatsapp গুলো বিক্রি করে আমি যে বিক্রি করে তারা কোন গাছ একটা ব্যবহার করে সেটা আমি জানিনা আমি জাস্ট অ্যাকাউন্ট ক্রিয়েট করে সেটা সেল দেই এখন আমি একজন এডমিন আমি শুধু এই নাম্বার গুলো ছেড়ে দেই মনে করেন আমার পার্টনারের কাছ থেকে ১০ টাকা দিয়ে কিনে একজন মেয়ের কাছে ১৫ টাকা দিয়ে তিনি এই হোয়াটসঅ্যাপ গুলো কিনে আবার অন্য একজনকে সেল দেয় তো আসলে বাস্তবে কোন এই নাম্বারগুলো আসলে বাস্তবে কোন অস্তিত্ব নেই

Answer

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ

প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এতে কয়েকটি আলাদা ফিকহি দিক রয়েছে। নিচে ধাপে ধাপে হানাফি ফিকহের আলোকে বিশ্লেষণ করা হলো।


১. প্রথমেই বোঝা দরকার: "ভার্চুয়াল নাম্বার" আসলে কী?

আপনি বলেছেন, এই নাম্বারগুলোর "বাস্তবে কোনো অস্তিত্ব নেই"—এগুলো আপনার পার্টনার কোনো "কোটিং" (কোডিং/সফটওয়্যার) এর মাধ্যমে তৈরি করে। ফিকহের দৃষ্টিতে এখানে দুটি সম্ভাবনা:

(ক) যদি এগুলো প্রকৃতপক্ষে কোনো টেলিকম অপারেটরের বৈধ সিম/নাম্বার হয় (যেমন অনলাইনে কেনা ভার্চুয়াল নাম্বার, যা দিয়ে OTP রিসিভ করা যায়), তাহলে এগুলো একটি সেবা/সুবিধা (মানফাআত)—যা ইসলামি ফিকহে "মাল" (সম্পদ) হিসেবে গণ্য হতে পারে, কারণ ইজারা ও বিক্রয়যোগ্য সুবিধা শরীয়তে মূল্যবান।

(খ) যদি এগুলো সম্পূর্ণ কৃত্রিমভাবে তৈরি করা ভুয়া নাম্বার হয়—যার কোনো বৈধ অপারেটরের সাথে সম্পর্ক নেই, শুধু সফটওয়্যার দিয়ে বানানো—তাহলে এগুলো নিছক কল্পনা/অস্তিত্বহীন বস্তু। ফিকহে এমন বস্তু বিক্রি করা বাতিল (না-জায়েয), কারণ:

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: «لَا تَبِعْ مَا لَيْسَ عِنْدَكَ» — "যা তোমার কাছে নেই, তা বিক্রি করো না।"
— সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ৩৫০৩; সুনানে তিরমিজি, হাদিস ১২৩২

ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর উসূল অনুযায়ী বিক্রয়ের বস্তু (মাবী') হতে হবে মাল-ই-মুতাকাওয়িম (শরীয়তসম্মত মূল্যবান সম্পদ) এবং মাওজুদ/নির্দিষ্ট। অস্তিত্বহীন বস্তুর বিক্রি বাতিল।

রাদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদিন), খণ্ড ৪, পৃ. ৫০৫ — "معدوم لا يقبل البيع" (অস্তিত্বহীন বস্তু বিক্রয়যোগ্য নয়)।


২. হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট বিক্রি: মূল সমস্যা

এখানে আসল ফিকহি সমস্যা নাম্বারে নয়, বরং অ্যাকাউন্ট বিক্রির চুক্তিতে। কারণ:

(ক) হোয়াটসঅ্যাপের শর্তাবলি (Terms of Service) লঙ্ঘন

হোয়াটসঅ্যাপ স্পষ্টভাবে নিষেধ করে অ্যাকাউন্ট বিক্রি, হস্তান্তর বা ভাড়া দেওয়া। ইসলামি ফিকহে চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করা ও প্রতারণা (গিশ/তাদলিস) নিষিদ্ধ।

রাসূলুল্লাহ ﷺ: «الْمُسْلِمُونَ عَلَى شُرُوطِهِمْ» — "মুসলিমরা তাদের শর্তের উপর প্রতিষ্ঠিত।"
— সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ৩৫৯৪; সুনানে তিরমিজি, হাদিস ১৩৫২

(খ) ক্রেতা কী কাজে ব্যবহার করবে—অজানা

আপনি নিজেই স্বীকার করেছেন: "তারা কোন কাজে ব্যবহার করে সেটা আমি জানি না।" অথচ হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট দিয়ে যা করা যায় তার মধ্যে রয়েছে—প্রতারণা, ব্ল্যাকমেইল, জালিয়াতি, অশ্লীল কাজ, সন্ত্রাসী যোগাযোগ, ভুয়া পরিচয় দিয়ে প্রতারণা ইত্যাদি। ফিকহের মূলনীতি:

«الْوَسَائِلُ لَهَا حُكْمُ الْمَقَاصِدِ» — "উপায়গুলোর হুকুম উদ্দেশ্যের মতো।"
এবং ইমাম ইবনে আবিদিন (রহ.) বলেন: "الإعانة على المعصية حرام" — পাপে সহায়তা করা হারাম।
— রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ৬, পৃ. ৩৯১; সূরা মায়িদা: ২

যদি ক্রেতার ব্যবহারের উদ্দেশ্য জানা না থাকে এবং সাধারণত এমন অ্যাকাউন্ট অবৈধ কাজেই ব্যবহৃত হয়, তাহলে তা বিক্রি করা গুনাহে সহায়তা হিসেবে গণ্য হবে।

(গ) "বায়উল গারার" (অনিশ্চয়তার বিক্রয়)

অ্যাকাউন্টের ভবিষ্যৎ ব্যবহার, স্থায়িত্ব, এবং নাম্বারের বৈধতা—সবই অনিশ্চিত। এটি গারার-এর অন্তর্ভুক্ত।

রাসূলুল্লাহ ﷺ গারার বিক্রয় নিষিদ্ধ করেছেন। — সহিহ মুসলিম, হাদিস ১৫১৩


৩. আপনার নির্দিষ্ট পরিস্থিতির বিশ্লেষণ

আপনি বলেছেন:

  • পার্টনার ১০ টাকায় নাম্বার দেয় → আপনি ২০ টাকায় অ্যাকাউন্ট বিক্রি করেন
  • একজন মেয়ে ১৫ টাকায় কিনে আবার সেল দেয়
  • আপনি শুধু "অ্যাডমিন", নাম্বার ছেড়ে দেন

ফিকহি রায়:

| দিক | হুকুম | |---|---| | নাম্বার যদি বৈধ টেলিকম সেবা হয় | সেবা বিক্রি নীতিগতভাবে জায়েয, তবে... | | অ্যাকাউন্ট বিক্রি (TOS লঙ্ঘন) | না-জায়েয / মাকরুহ তাহরিমি | | ক্রেতার ব্যবহার অজানা + সম্ভাব্য গুনাহ | হারামে সহায়তা — না-জায়েয | | নাম্বার সম্পূর্ণ ভুয়া/অস্তিত্বহীন হলে | বিক্রয়ই বাতিল — টাকা হারাম |

সারকথা: আপনার এই ব্যবসা সাধারণভাবে জায়েয নয়। কারণ—

  1. অ্যাকাউন্ট বিক্রি হোয়াটসঅ্যাপের শর্ত ভঙ্গ (প্রতারণা);
  2. ক্রেতার উদ্দেশ্য অজানা ও সাধারণত অবৈধ কাজে ব্যবহৃত;
  3. নাম্বার যদি অস্তিত্বহীন/ভুয়া হয়, তবে বিক্রয়ই বাতিল।

৪. কী করবেন?

  1. এই ব্যবসা থেকে বিরত থাকুন — বিশেষত অ্যাকাউন্ট বিক্রি।
  2. যদি বৈধ টেলিকম ভার্চুয়াল নাম্বার (যেমন OTP সেবা) বৈধভাবে কিনে, ক্রেতার পরিচয় ও উদ্দেশ্য যাচাই করে, এবং শর্ত মেনে বিক্রি করেন—তবে সীমিতভাবে জায়েয হতে পারে। তবে অ্যাকাউন্ট বিক্রি নয়।
  3. তাওবা করুন এবং পূর্বের আয় থেকে সদকা করুন (যদি হারামে সহায়তা হয়ে থাকে)।
  4. সন্দেহ হলে নির্ভরযোগ্য মুফতির সাথে সরাসরি পরামর্শ করুন।

আল্লাহ তাআলা বলেন: «وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ» — "পাপ ও সীমালঙ্ঘনে একে অপরকে সহায়তা করো না।" — সূরা মায়িদা: ২


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.