ভুতের গল্প পড়া জায়েজ কিনা

Halal and Haram · Hanafi

Question No: 7199
Questioner: Shahana Akter Nitu
Question Asked: 21 Oct 2026, 01:47 PM
Reviewed & Published: 21 Oct 2026, 01:55 PM
Views: 34
Tokens: 4,011
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

বিশ্বাস না করে শুধুমাত্র সময় পার করার জন্য ভুতের কাল্পনিক গল্প পড়া যাবে কি??
আমি ভুত প্রেতের কুসংস্কারে বিশ্বাসী নই। তবে জ্বীন জাতির অস্তিত্ব বিশ্বাস করি।

আমি যে গল্পটি পড়তে চাচ্ছি সেটা রহস্যময় এবং গল্পের ভুতের নির্দিষ্ট কিছু ক্ষমতা আছে

Answer

ভুতের কাল্পনিক গল্প পড়া যাবে কি?

** উত্তর:** বিশ্বাস না করে শুধু সময় পার করার জন্য ভুতের কাল্পনিক গল্প পড়া সাধারণত জায়েয, তবে এতে কয়েকটি শর্ত ও সতর্কতা রয়েছে। আর যদি গল্পে ভুতকে এমন ক্ষমতার অধিকারী দেখানো হয় যা কেবল আল্লাহরই ক্ষমতা, তাহলে তা পড়া বা বিশ্বাস করা নাজায়েয/শিরক পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

পাশাপাশি তাতে যৌন উত্তেজক কোনো কিছুও থাকা যাবেনা।


মূল নীতি: কাল্পনিক গল্প (قصص خيالية) পড়ার হুকুম

ইসলামি ফিকহে কাল্পনিক গল্প পড়া নিজে থেকে হারাম নয়, যদি তাতে শরীয়তবিরোধী কিছু না থাকে। তবে এগুলোতে সময় নষ্ট হওয়া, অশ্লীলতা, ভয়-ভীতি সৃষ্টি বা আকীদা নষ্টের আশঙ্কা থাকলে নিষেধ আছে।

আপনি জ্বীন জাতির অস্তিত্বে বিশ্বাস করেন—এটি কুরআন-সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত সঠিক আকীদা। আল্লাহ তাআলা বলেন—

«وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ»
“আমি জ্বীন ও মানুষকে কেবল আমার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছি।”
— সূরা যারিয়াত: ৫৬

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন—

«خُلِقَتِ الْمَلَائِكَةُ مِنْ نُورٍ، وَخُلِقَ الْجَانُّ مِنْ مَارِجٍ مِنْ نَارٍ»
“ফেরেশতাদেরকে নূর থেকে, জ্বীনকে আগুনের শিখা থেকে এবং আদমকে মাটি থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে।”
— সহিহ মুসলিম: ২৯৯৬

কিন্তু জ্বীনদের অলৌকিক ক্ষমতা, ভবিষ্যৎ জানা, মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন ইত্যাদি বিশ্বাস করা শিরক। কুরআনে জ্বীনদের সম্পর্কে বলা হয়েছে—

«وَأَنَّهُ كَانَ رِجَالٌ مِّنَ الْإِنسِ يَعُوذُونَ بِرِجَالٍ مِّنَ الْجِنِّ فَزَادُوهُمْ رَهَقًا»
“মানুষের মধ্যে কিছু লোক জ্বীনদের কিছু লোকের আশ্রয় নিত, ফলে তারা তাদের অহংকার ও পাপ বাড়িয়ে দিত।”
— সূরা জিন: ৬


গল্পে ভুতের “নির্দিষ্ট ক্ষমতা” থাকলে কী হবে?

এখানে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। গল্পে যদি ভুতকে এমনভাবে দেখানো হয় যে—

  • সে ভবিষ্যৎ জানে,
  • মানুষের ভাগ্য নির্ধারণ করে,
  • আল্লাহর মতো সর্বব্যাপী জ্ঞান বা ক্ষমতা রাখে,
  • অথবা তাকে আল্লাহর সমকক্ষ বা আল্লাহর পাশাপাশি ভয়-ভক্তি করা হয়—

তাহলে এমন গল্প পড়া, বিশ্বাস করা বা উপভোগ করা নাজায়েয ও আকীদা নষ্টের কারণ। কারণ আল্লাহ তাআলা বলেন—

«قُل لَّا يَعْلَمُ مَن فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ الْغَيْبَ إِلَّا اللَّهُ»
“বলুন, আসমান ও জমিনে আল্লাহ ছাড়া কেউ গায়েব জানে না।”
— সূরা নামল: ৬৫

তবে যদি গল্পটি স্পষ্টভাবে কাল্পনিক (fiction) হয়, লেখক নিজেই কল্পনা হিসেবে উপস্থাপন করেন, এবং পাঠক তা বিশ্বাস না করেন—শুধু গল্প হিসেবে পড়েন—তাহলে সেটা ভিন্ন বিষয়। তবে সতর্কতা হলো, বারবার এমন গল্প পড়তে পড়তে মনে গেঁথে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

তাই এ ধরনের গল্প না পড়ে হায়াতুস সাহাবা তথা সাহাবায়ে কেরামদের জিন্দেগি সম্বলিত অনেক খন্ডের গ্রন্থ রয়েছে বুযুর্গানে দ্বীনদের জীবনি সংক্রান্ত অনেক খন্ড রয়েছে এগুলো পড়তে পারেন


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.