নারীর স্বপ্নদোষ ও গোসল ফরজ হওয়ার হুকুম।

Taharah Purity · Hanafi

Question No: 7020
Questioner: Afsana Sultana Ankon
Question Asked: 17 Oct 2026, 11:22 AM
Reviewed & Published: 17 Oct 2026, 12:08 PM
Views: 13
Tokens: 5,504
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমি একজন মেয়ে।
স্বপ্নে অন্য দুজন সমলিঙ্গের মানুষকে ঘনিষ্ঠ হওয়া এবং স্পর্শকাতর অঙ্গে স্পর্শ করতে দেখে নিজের ভালো লাগে, শাহওয়াতের সাথে লজ্জাস্থানে সুড়সুড়ির মত তীব্র আনন্দ লাভ হয়। বেশ কয়েকবার এমন হয়৷ সাধারণত জেগে থাকা অবস্থায় এত বেশিবার এমন আনন্দের অনুভূতি হলে প্রচুর সাদাস্রাব যায়।
তবে এই স্বপ্নের পরে জেগে ২ ঘন্টা পরে ইস্তিঞ্জা করার সময় লজ্জাস্থানে বাড়তি কোনো স্রাব পাইনি, নরমালি যেমন শুকনা থাকে তেমনই, শুধু হালকা একটু ভেজা। কাপড়েও দাগ পাইনি।
আমার মনে হচ্ছে এ স্বপ্নের কারণে সম্ভবত সাদাস্রাব হয়নি, তবে নিশ্চিত না। আমার কি গোসল ফরজ হয়েছে?
আপনারা বারবার বীর্য, মনি, মযি এসব বলছেন কেন? আমি তো মেয়ে, মেয়েদেরটাও বীর্য?

Answer

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।

উত্তর

প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে গোসল ফরজ হবেনা।

আল্লাহ তাআলা বলেন:

وَإِن كُنتُمْ جُنُبًا فَاطَّهَّرُوا "আর যদি তোমরা জুনুবি (অপবিত্র) হও, তবে ভালোভাবে পবিত্র হও।" (সূরা মায়িদা: ৬)

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

إِنَّمَا الْمَاءُ مِنَ الْمَاءِ "নিশ্চয়ই (গোসলের) পানি (ফরজ হয়) পানির (অর্থাৎ বীর্যপাতের) কারণে।" (সহিহ মুসলিম, হাদিস ৩৪৩)

অর্থাৎ সাধারণভাবে বীর্যপাত হলো গোসল ফরজ হওয়ার কারণ। তবে নারীদের ক্ষেত্রে "বীর্যপাত" বলতে বোঝানো হয় শাহওয়াতের সাথে নির্গত স্রাব (যাকে ফিকহের পরিভাষায় "মনি" বা "মযি"-এর মধ্যে পার্থক্য করা হয়)।

নারীদের ক্ষেত্রে "বীর্য" শব্দের ব্যাখ্যা — আপনার প্রশ্নের সরাসরি জবাব

আপনি ঠিকই বলেছেন — নারীরা পুরুষের মতো বীর্য (sperm) উৎপাদন করে না। কিন্তু ফিকহের পরিভাষায় "মনি" (المني) শব্দটি পুরুষ-নারী উভয়ের ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয় এবং এর অর্থ হলো শাহওয়াতের চরম মুহূর্তে আনন্দের সাথে নির্গত পিচ্ছিল স্রাব। এটাই গোসল ফরজ করে। পুরুষের ক্ষেত্রে এটি ঘন ও সাদা, নারীর ক্ষেত্রে এটি পাতলা ও পিচ্ছিল হতে পারে।

ইমাম নববী (রহ.) বলেন, নারীর মনির বৈশিষ্ট্য হলো—তা পাতলা, পিচ্ছিল এবং নির্গমনের সময় আনন্দ থাকে। (আল-মাজমু', ২/১৪১)

"মযি" (المذي) হলো শাহওয়াতের প্রাথমিক অবস্থায় নির্গত পাতলা স্রাব — এটি গোসল ফরজ করে না, শুধু ওযু ভঙ্গ করে এবং লজ্জাস্থান ধোয়া ও কাপড়ে লাগলে ধুয়ে ফেলা আবশ্যক। (রাদ্দুল মুহতার, ১/১৬৮; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/১০)

"ওয়াদি" (الودي) হলো প্রস্রাবের পর নির্গত সাদা ঘোলা তরল — এটিও গোসল ফরজ করে না।

তাই আমরা "বীর্য/মনি/মযি" শব্দ ব্যবহার করি কারণ ফিকহের কিতাবগুলোতে এই পরিভাষাগুলোই ব্যবহৃত হয়, এবং এগুলোর হুকুম আলাদা। নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যই এই পরিভাষা প্রযোজ্য, যদিও জৈবিক গঠন ভিন্ন।

স্বপ্নে আনন্দ অনুভব করলেই কি গোসল ফরজ?

না। ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম আবু ইউসুফ (রহ.)-এর মতে, স্বপ্নে শাহওয়াতের অনুভূতি হওয়া মাত্রই গোসল ফরজ হয় না; বরং জাগার পর স্রাবের চিহ্ন (আলামত) পাওয়া আবশ্যক। ইমাম মুহাম্মদ (রহ.)-এর মতে, যদি স্বপ্নে বীর্যপাতের অনুভূতি হয় এবং জাগার পর স্রাব দেখা যায়, তাহলে গোসল ফরজ। আর যদি স্রাব না দেখা যায়, তাহলে কোনো ইমামের মতে-ই গোসল ফরজ হয় না।

আল-হিদায়া ও ফাতাওয়া হিন্দিয়ায় এসেছে:

وَمَنْ رَأَى فِي الْمَنَامِ أَنَّهُ احْتَلَمَ وَلَمْ يَرَ بِلَّةً لَا غُسْلَ عَلَيْهِ "যে ব্যক্তি স্বপ্নে স্বপ্নদোষ হয়েছে দেখল কিন্তু (জাগার পর) কোনো ভেজা (স্রাব) দেখল না, তার ওপর গোসল নেই।" (আল-হিদায়া, ১/৩২; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/১৪)

ইমাম ইবনে আবিদিন শামি (রহ.) বলেন:

وَلَوْ رَأَى فِي الْمَنَامِ أَنَّهُ أَنْزَلَ وَلَمْ يَجِدْ بِلَّةً لَا غُسْلَ عَلَيْهِ اتِّفَاقًا "যদি স্বপ্নে বীর্যপাত দেখে কিন্তু জাগার পর ভেজা না পায়, তবে সর্বসম্মতভাবে তার ওপর গোসল নেই।" (রাদ্দুল মুহতার, ১/১৫১)

والله أعلم بالصواب


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.