নামাজের মধ্যে ওযু ভেঙে গেলে নামাজ চালিয়ে গেলে রিয়া হবে?

Faith and Belief · Hanafi

Question No: 6985
Questioner: Kazi Md Tahmid Hasan
Question Asked: 16 Oct 2026, 04:00 PM
Reviewed & Published: 16 Oct 2026, 05:08 PM
Views: 42
Tokens: 5,326
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমি যতটুকু জানি যে রিয়া হলো দুনিয়াবি সম্মান অর্জন করতে ইবাদত করা। নামাজের মাঝখানে ওযু ভেঙে গেলে কে কি মনে করবে ভেবে নামাজ চালিয়ে যাওয়া সম্ভবত রিয়া। কিন্তু কারো যদি জামাতে নামাজে ওজু ভেঙে যায়, নামাজ ছেড়ে গিয়ে ওজু করতে চায় কিন্তু সাহস হয় না আর সে নামাজ চালিয়ে যায়, (সে এটা করে মানুষ এর সম্মান, শ্রদ্ধা পাওয়ার জন্য নয়, লোকে তাকে নামাজি বলবে এই জন্যও নয় , বরং সে এটা করে লোকের কুদৃষ্টি থেকে বাঁচতে) সে জানে এই কাজটা জায়েজ নয়, তবে আমার প্রশ্ন হলো যেহেতু সে এটা মানুষের সম্মান, শ্রদ্ধা পাওয়ার জন্য করে না, আর রিয়া হলো দুনিয়াবি সম্মান অর্জন করতে ইবাদত করা, তাহলে কি তার এই কাজটা রিয়া হবে??

Answer

রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জবাব

প্রশ্নের সারসংক্ষেপ

প্রশ্নকারী জানতে চেয়েছেন—এক ব্যক্তি জামাতে নামাজ পড়ার সময় তার ওযু ভেঙে গেল, কিন্তু লোকের কুদৃষ্টি থেকে বাঁচার উদ্দেশ্যে (সম্মান বা প্রশংসা পাওয়ার জন্য নয়) সে নামাজ না ভেঙে চালিয়ে যায়। যেহেতু রিয়ার সংজ্ঞা হলো দুনিয়াবি সম্মান অর্জনের জন্য ইবাদত করা, আর সে সম্মান-প্রশংসার জন্য করছে না—তাহলে তার এই কাজটি কি রিয়া হবে?


জবাবঃ- প্রশ্নে উল্লেখিত বিষয়টিও রিয়া তথা লোক দেখানোর অন্তর্ভুক্ত হবে।

রিয়া (الرِّيَاء) শব্দটি আরবি "رَأَى" (দেখা) থেকে উদ্ভূত। পারিভাষিক অর্থ হলো—আল্লাহর সন্তুষ্টি ছাড়া অন্য কারো সন্তুষ্টি বা মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করার উদ্দেশ্যে ইবাদত করা।

আল্লাহ তাআলা বলেন:

وَمَا أُمِرُوا إِلَّا لِيَعْبُدُوا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ

"তাদেরকে এছাড়া কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি যে, তারা আল্লাহর জন্য দ্বীনকে একনিষ্ঠ করে ইবাদত করবে।"

(সূরা আল-বাইয়িনাহ: ৫)

হাদিসে রিয়ার ভয়াবহতা

মাহমুদ ইবনে লাবিদ (রহ.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

إِنَّ أَخْوَفَ مَا أَخَافُ عَلَيْكُمْ الشِّرْكُ الْأَصْغَرُ، قَالُوا: وَمَا الشِّرْكُ الْأَصْغَرُ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: الرِّيَاءُ

"আমি তোমাদের উপর যে বিষয়টির সবচেয়ে বেশি ভয় করি তা হলো শিরকে আসগার (ছোট শিরক)। সাহাবারা জিজ্ঞেস করলেন—হে আল্লাহর রাসূল! শিরকে আসগার কী? তিনি বললেন: রিয়া।"

(মুসনাদে আহমাদ: ২৩৬৩০; সহীহুল জামে: ১৫৫৫)


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.