হস্তমৈথুনের পর সাথে সাথে ফরয গোসল করতে হয় নাকি কিছু সময় পরে?
Taharah Purity · Hanafi
Question
Answer
উত্তর:
হস্তমৈথুনের পর ফরয গোসল অবিলম্বে করতে হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। তবে যত দ্রুত সম্ভব গোসল করা ভালো, বিশেষ করে নামাজের সময় হওয়ার আগে বা কুরআন স্পর্শ করার প্রয়োজন হলে। বীর্য (মনি) নির্গত হলে গোসল ফরজ হয়, আর মযি (প্রাক-বীর্য) নির্গত হলে শুধু ওযু ও নাপাক জায়গা ধৌত করাই যথেষ্ট।
হানাফি ফিকহের দলিল:
- রদ্দুল মুহতার (১/১৬১): "মনি নির্গত হলে গোসল ওয়াজিব হয়, কিন্তু তা অবিলম্বে আবশ্যক নয়; বরং বিলম্ব করলে গুনাহ নেই, যতক্ষণ না নামাজের সময় চলে যায় বা কুরআন স্পর্শের প্রয়োজন হয়।"
- ফাতাওয়া হিন্দিয়া (১/১৪): "মনি নির্গমনের পর গোসল করতে বিলম্ব করা জায়েয, তবে নাপাক অবস্থায় ইবাদত করা যাবে না।"
- ইমদাদুল ফাতাওয়া (১/২২৫): "মযি নির্গত হলে গোসলের প্রয়োজন নেই; শুধু ওযু ও নাপাক স্থান ধৌত করাই যথেষ্ট।"
মযি দীর্ঘক্ষণ পড়ার সমস্যা ও করণীয়:
অনেকের ক্ষেত্রে মনি নির্গমনের পরও মযি বা ক্ষীণ ধারায় তরল নির্গত হতে থাকে, যা কখনো কয়েক ঘণ্টা স্থায়ী হয়। এটি যদি নিয়মিত ঘটে (যেমন: কোনো রোগের কারণে), তাহলে শরিয়তে তাকে মা'যূর (অবস্থাপন্ন) গণ্য করা হয়।
- মা'যূরের হুকুম: প্রত্যেক ওয়াক্তের সময় শুরু হলে নতুন করে ওযু করবেন, আর ওযুর পর নির্গত মযি ওযু ভঙ্গ করলেও নামাজ আদায় করা যাবে।
- গোসলের ক্ষেত্রে: গোসল করবেন যখন নাপাকি (মনি) নির্গত হয়েছে; গোসলের পর আবার মযি বের হলে তা গোসলকে নষ্ট করে না, বরং শুধু ওযু ভঙ্গ হয়। তাই গোসল করার পর ওযু করে নামাজ পড়তে পারেন।
সময় কমানোর উপায়:
১. মনি নির্গমনের পর প্রস্রাব করা: মনি ও মযির অবশিষ্টাংশ বের করতে প্রস্রাব করে নিন। এরপর কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে নিশ্চিত হন যে আর কিছু বের হচ্ছে না।
২. মযি পরিষ্কার করে নিন: যেখানে মযি লেগেছে, তা ধুয়ে ফেলুন। তারপর গোসল করতে পারেন।
৩. কাশি দেওয়া বা হালকা চাপ: মূত্রনালী পরিষ্কার করতে কাশি দেওয়া বা হালকা চাপ দেওয়া উপকারী হতে পারে (তবে আঘাত না করে)।
৪. গোসলের আগে অপেক্ষা: যদি মযি ক্রমাগত আসে, তাহলে গোসল করার আগে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন, যাতে মযি বের হওয়া বন্ধ হয়। কিন্তু যদি থামেই না, তাহলে গোসল করে নিন এবং পরে মযি বের হলেও তার জন্য আলাদা কোনো গোসল দরকার হবে না।
গুরুত্বপূর্ণ নোট:
- হস্তমৈথুন করা হারাম (কবিরা গুনাহ), তাই এ কাজ থেকে বিরত থাকা উচিত। তওবা করলে আল্লাহ ক্ষমা করবেন।
- প্রশ্নটি যদি হারাম কাজ করার পরের শরয়ি পদ্ধতি নিয়ে হয়, তবে গোসল ফরজ হওয়া সত্ত্বেও তা অবিলম্বে আবশ্যক নয়, কিন্তু গুনাহ থেকে বাঁচতে ও ইবাদতের সুবিধার্থে যত দ্রুত সম্ভব গোসল করে নেওয়া উত্তম।
রেফারেন্স:
- রদ্দুল মুহতার (১/১৬১, ১/১৭৫)
- ফাতাওয়া হিন্দিয়া (১/১৪, ১/২২)
- ইমদাদুল ফাতাওয়া (১/২২৫)
- ফাতাওয়া উসমানী (২/১২৮)
- বেহেশতি জেওর (পৃষ্ঠা ৪৮-৪৯)