কোনও মুসলিম কানাডিয়ান আর্মি তে যোগ দেয়া যাবে কি না?

Business and Job · Hanafi

Question No: 6818
Questioner: Syeda Jebatasnia
Question Asked: 12 Oct 2026, 10:35 PM
Reviewed & Published: 13 Oct 2026, 01:07 AM
Views: 39
Tokens: 3,364
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

ٱلسَّلَامُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ ٱللَّٰهِ وَبَرَكَاتُهُ.
কোনও মুসলিম কানাডিয়ান আর্মি তে যোগ দেয়া যাবে কি???

Answer

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

সংক্ষিপ্ত উত্তর: সাধারণ অবস্থায় কোনো মুসলিমের জন্য কানাডিয়ান আর্মিতে (বা অন্য কোনো কুফরি রাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীতে) যোগ দেওয়া জায়েজ নয়। তবে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির জন্য কেবল তখনই অনুমতি হতে পারে, যখন সে এমন পরিবেশে থাকে যেখানে নিজের দ্বীন পালন করতে পারে, হারাম কাজে বাধ্য হয় না, এবং শুধু প্রশাসনিক/কারিগরি/চিকিৎসা সেবার মতো নিরপেক্ষ কাজ করে—যেমনটি কিছু ফকিহ কেবল "দারুরাত" বা "প্রয়োজন" এর ক্ষেত্রে অনুমতি দিয়েছেন। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় কানাডিয়ান আর্মির নিয়মিত সৈনিক হিসেবে যোগ দিলে সাধারণত নিম্নলিখিত হারাম বিষয়গুলোতে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে, তাই এ থেকে বিরত থাকাই ইহতিয়াত ও তাকওয়ার দাবি।


১. মূল নীতি: কুফরি রাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীতে যোগ দেওয়ার হুকুম

ফকিহগণ উল্লেখ করেছেন, কোনো মুসলিম যদি কাফির রাষ্ট্রের সেনাবাহিনীতে যোগ দেয়, তাহলে সে মূলত সেই রাষ্ট্রের আনুগত্য ও স্বার্থ রক্ষার শপথ করে। অথচ কুফরি রাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর মূল লক্ষ্য ও নীতি ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে হতে পারে, অথবা তাদের যুদ্ধে মুসলিমদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের নির্দেশ দেওয়া হতে পারে। এমতাবস্থায় যোগ দেওয়া নাজায়েজ।

আল-হিদায়া ও রাদ্দুল মুহতার-এ উল্লেখ আছে:

"ولا يجوز للمسلم أن يتخدم في جيش الكفار إذا كان يقاتل المسلمين، أو يعينهم على المسلمين." (মুসলিমের জন্য কাফিরদের সেনাবাহিনীতে চাকরি করা জায়েজ নয়, যদি তারা মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে বা মুসলিমদের বিরুদ্ধে সহায়তা করে।)

ফাতাওয়া আলমগিরি-তে এসেছে:

"إذا دخل المسلم في جند الكفار وكانوا محاربين للمسلمين، فإنه يكون عاصياً وآثماً." (যদি কোনো মুসলিম কাফিরদের সেনাবাহিনীতে প্রবেশ করে, আর তারা মুসলিমদের সাথে যুদ্ধরত হয়, তাহলে সে গুনাহগার হবে।)


২. কানাডিয়ান আর্মির বাস্তবতা

কানাডিয়ান আর্মি একটি কুফরি রাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। এতে যোগ দিলে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো সাধারণত অনিবার্য:

  1. কুফরি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্যের শপথ (Oath of Allegiance): এতে রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রপ্রধানের প্রতি নিঃশর্ত আনুগত্যের শপথ নিতে হয়, যা ইসলামি আকিদার সাথে সাংঘর্ষিক হতে পারে।
  2. মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশগ্রহণের সম্ভাবনা: কানাডা ন্যাটো (NATO) সদস্য। ন্যাটোর বিভিন্ন অভিযানে মুসলিম দেশগুলোতে হামলা হয়েছে (যেমন আফগানিস্তান, ইরাক, লিবিয়া)। ভবিষ্যতেও মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নিতে বাধ্য করা হতে পারে।
  3. হারাম কাজে বাধ্যবাধকতা: মদ, সুদ, জুয়া, নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা, কুফরি ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ ইত্যাদি।
  4. নামাজ-রোজার বিধানে বাধা: সামরিক প্রশিক্ষণ ও মিশনে নামাজের সময়, রোজার বিধান, হালাল খাবার ইত্যাদি নিয়ে কঠিন বাধা সৃষ্টি হতে পারে।

মুফতি তাকি উসমানি (দা.বা.) তার ফাতাওয়া উসমানি-তে উল্লেখ করেছেন:

"কাফির রাষ্ট্রের সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়া জায়েজ নয়, কারণ এতে কুফরি রাষ্ট্রের আনুগত্য ও তাদের যুদ্ধে সহায়তা করা হয়, যা ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক।"

মুফতি মুহাম্মদ শফি (রহ.) ইমদাদুল ফাতাওয়া-তে বলেন:

"কুফরি রাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীতে যোগ দেওয়া তখনই জায়েজ হতে পারে, যখন সে শুধু প্রশাসনিক বা কারিগরি কাজ করে এবং কোনোভাবেই মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নেয় না, আর নিজের দ্বীন পালনে বাধাগ্রস্ত হয় না। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় এমন পরিবেশ পাওয়া দুর্লভ।"


৩. ব্যতিক্রমী অবস্থা

কিছু ফকিহ কেবল নিম্নলিখিত শর্তে ব্যতিক্রমী অনুমতি দিয়েছেন:

  • যদি সে শুধু চিকিৎসা, প্রকৌশল, প্রশাসনিক বা কারিগরি কাজ করে, যুদ্ধে সরাসরি অংশ নেয় না।
  • যদি মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নিতে বাধ্য না করা হয়।
  • যদি নিজের দ্বীন (নামাজ, রোজা, হালাল-হারাম) পালনে পূর্ণ স্বাধীনতা থাকে।
  • যদি কুফরি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্যের শপথ না নিতে হয়, বা শপথটি ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক না হয়।
  • যদি দারুরাত (চরম প্রয়োজন) থাকে, যেমন—জীবিকা অর্জনের একমাত্র বৈধ পথ, অথবা দেশে থাকার আইনি বাধ্যবাধকতা।

কিন্তু কানাডিয়ান আর্মির ক্ষেত্রে সাধারণত এসব শর্ত পূরণ হয় না। তাই ইহতিয়াত (সতর্কতা) হলো—যোগ না দেওয়া।


৪. বিকল্প পথ

যদি জীবিকার জন্য সামরিক বাহিনীতে যোগ দেওয়ার প্রয়োজন হয়, তাহলে নিম্নলিখিত বিকল্পগুলো বিবেচনা করা উচিত:

  • কানাডিয়ান আর্মির সিভিলিয়ান (বেসামরিক) পদে যোগ দেওয়া: যেমন—ডিফেন্স ডিপার্টমেন্টের সিভিলিয়ান চাকরি, যেখানে সামরিক শপথ বা যুদ্ধে অংশ নিতে হয় না।
  • চিকিৎসা, প্রকৌশল, আইটি ইত্যাদি ক্ষেত্রে বেসরকারি বা সরকারি চাকরি।
  • হালাল ব্যবসা বা ফ্রিল্যান্সিং।
  • মুসলিম দেশে চলে যাওয়া এবং সেখানে বৈধ পেশায় নিয়োজিত হওয়া।

৫. উপসংহার

কানাডিয়ান আর্মিতে যোগ দেওয়া সাধারণত জায়েজ নয়, কারণ এতে কুফরি রাষ্ট্রের আনুগত্য, মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশগ্রহণের সম্ভাবনা, এবং হারাম কাজে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। যদি কেউ চরম প্রয়োজনে যোগ দিতে চায়, তাহলে তাকে অবশ্যই শর্তগুলো পূরণ করতে হবে এবং নির্দিষ্টভাবে তার অবস্থা সম্পর্কে কোনো বিশ্বস্ত মুফতির কাছে সরাসরি ফতোয়া নিতে হবে।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে হালাল রুজি ও দ্বীনের উপর অটল থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।


والله أعلم بالصواب


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.