বউমা শ্বশুরের নাপাকি পোশাক ধুতে পারবে কি?
Taharah Purity · Hanafi
Question
Answer
বউমা শ্বশুরের নাপাকি পোশাক ধুতে পারবে কি?
প্রশ্নের সারসংক্ষেপ
জনৈক মুসলিম নারী (বউমা) তাঁর শ্বশুরের নাপাক (অপবিত্র) পোশাক ধুতে পারবেন কি না — এ বিষয়ে শরীয়তের বিধান জানতে চেয়েছেন।
উত্তর
হ্যাঁ, বউমা শ্বশুরের নাপাকি পোশাক ধুতে পারবেন। এতে শরীয়তগত কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় লক্ষ্য রাখতে হবে:
১. পবিত্রতা অর্জনের বিধান
নাপাক কাপড় ধোয়ার মাধ্যমে তা পবিত্র হয়ে যায়। আল্লাহ তা'আলা বলেন:
وَيُنَزِّلُ عَلَيْكُم مِّنَ السَّمَاءِ مَاءً لِّيُطَهِّرَكُم بِهِ "আর তিনি আকাশ থেকে তোমাদের উপর পানি বর্ষণ করেন, যাতে তোমাদেরকে পবিত্র করেন।" (সূরা আনফাল: ১১)
রাসূলুল্লাহ ﷺ নাপাকি ধোয়ার পদ্ধতি শিখিয়েছেন। এক হাদিসে তিনি বলেন:
إِذَا أَصَابَ ثَوْبَ أَحَدِكُمْ نَجَاسَةٌ فَلْيَغْسِلْهُ "তোমাদের কারো কাপড়ে নাপাকি লাগলে সে যেন তা ধুয়ে ফেলে।" (সহীহ বুখারী, হাদিস: ২৩০; সহীহ মুসলিম)
২. শ্বশুর-বউমার সম্পর্ক ও পর্দার বিধান
শ্বশুর হলেন বউমার মাহরাম (যাদের সাথে পর্দা ফরজ নয়)। আল্লাহ তা'আলা সূরা নূরের ৩১ নম্বর আয়াতে মাহরামদের তালিকা দিয়েছেন, যেখানে শ্বশুরও অন্তর্ভুক্ত। তাই শ্বশুরের কাপড় ধোয়া-মোছা বা স্পর্শ করা বউমার জন্য নিষিদ্ধ নয়।
তবে ইসলামী শিষ্টাচার (আদব) রক্ষা করে চলা উত্তম। যেমন:
- কাপড় ধরিয়ে দেওয়ার সময় বা নেওয়ার সময় শিষ্টাচার বজায় রাখা
- একান্ত নির্জনে (খালওয়াত) না থাকা
- সম্ভব হলে স্বামী বা অন্য মাহরামের উপস্থিতিতে লেনদেন করা
৩. নাপাকি ধোয়ার পদ্ধতি (হানাফি মাযহাব অনুযায়ী)
হানাফি ফিকহ অনুযায়ী নাপাকি দুই প্রকার:
ক) দৃশ্যমান নাপাকি (নজাসাতে হাকিকিয়া):
- প্রথমে নাপাকির বস্তু (যেমন: রক্ত, মল-মূত্রের চিহ্ন) দূর করতে হবে
- এরপর তিনবার পানি দিয়ে ধুতে হবে, প্রতিবার ভালোভাবে নিংড়াতে হবে
- শেষবার ধোয়ার পর কাপড়ে পানি থাকা অবস্থায় নিংড়ানো জরুরি নয়, তবে চাপ দিয়ে পানি বের করা সুন্নত
খ) অদৃশ্যমান নাপাকি (যেমন: মদ, প্রস্রাব শুকিয়ে যাওয়া):
- তিনবার ধোয়া এবং প্রতিবার নিংড়ানো ওয়াজিব
الْمَاءُ يُطَهِّرُ النَّجَاسَةَ "পানি নাপাকিকে পবিত্র করে।" (বাদায়েউস সানায়ে, খণ্ড ১, পৃ. ৭৮)
৪. বিশেষ সতর্কতা
- নাপাকি ধোয়ার সময় হাত-মুখ ঢেকে রাখা বা গ্লাভস ব্যবহার করা — এটি ফরজ নয়, তবে স্বাস্থ্যগত দিক থেকে উত্তম
- নাপাক কাপড় ধোয়ার পর হাত ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়া — সুন্নত
- নাপাকি ধোয়ার পানি যদি পবিত্র স্থানে পড়ে — তবে তা পবিত্র হয়ে যায়, তবে সতর্কতা উত্তম
৫. ফিকহি সিদ্ধান্ত
ইমাম আবু হানিফা (রহ.) ও তাঁর শিষ্যদ্বয় ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদ (রহ.)-এর মত অনুযায়ী, নাপাক কাপড় ধোয়ার জন্য কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির প্রয়োজন নেই। যে কেউ তা ধুতে পারে, সে পুরুষ হোক বা নারী, মাহরাম হোক বা গায়রে মাহরাম — তবে গায়রে মাহরামের ক্ষেত্রে পর্দার বিধান প্রযোজ্য।
وَلَا يَجِبُ عَلَى الْمُنَجِّسِ غَسْلُهُ، بَلْ يَجُوزُ لِغَيْرِهِ "নাপাককারীর উপর তা ধোয়া ওয়াজিব নয়, বরং অন্যের জন্যও তা ধোয়া জায়েজ।" (রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ১, পৃ. ৩১৬)
সারসংক্ষেপ
| বিষয় | বিধান | |------|------| | বউমা শ্বশুরের নাপাক কাপড় ধুতে পারবে? | জায়েজ | | শ্বশুর কি বউমার মাহরাম? | হ্যাঁ | | পর্দা ফরজ? | না | | শিষ্টাচার রক্ষা করা? | উত্তম ও কর্তব্য | | নাপাকি ধোয়ার পদ্ধতি | তিনবার ধোয়া ও নিংড়ানো |
উপসংহার: বউমা শ্বশুরের নাপাকি পোশাক ধুতে পারবেন, এতে কোনো শরীয়তগত বাধা নেই। তবে ইসলামী শিষ্টাচার ও পর্দার বিধান যথাযথভাবে পালন করা কর্তব্য। সন্দেহ হলে স্বামী বা পরিবারের অন্য মাহরাম সদস্যের মাধ্যমে ব্যবস্থা করা উত্তম।
আল্লাহ সর্বজ্ঞ।