শাশুড়ীর লজ্জাস্থানের দিকে শাহওয়াতের সাথে দৃষ্টিপাত করলে কি হুরমত মুসাহারাত সাব্যস্ত হবে?

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 6713
Questioner: Rifat
Question Asked: 10 Oct 2026, 10:03 PM
Reviewed & Published: 10 Oct 2026, 11:05 PM
Views: 41
Tokens: 5,166
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমার শাশুড়ী বসেছিল একদিন আমার চোখ উনার লজ্জাস্থানের দিকে পড়ে এবং উত্তেজিত হয়ে যায় আমি।যদি ও বা উনি ওইসময় সাদা পেন্ট পরিহিত অবস্থায় ছিলেন এবং উনার লজ্জাস্থানের আকার এবং ভাজ বা ছাপ বুঝা যাচ্ছিল।আমার কি হুরমত হবে?আমার সাথে কি আমার স্ত্রীর বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে গেছে?

Answer

হুরমত মুসাহারাত সম্পর্কিত প্রশ্নের উত্তর

বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম

জবাব,

১. মূল শরয়ী সিদ্ধান্ত:

১. আপনার উক্ত দৃষ্টিপাতের কারণে হুরমতে মুসাহারা সাব্যস্ত হয়নি।
২. আপনার স্ত্রীর সাথে আপনাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়নি; আপনাদের বৈবাহিক সম্পর্ক শতভাগ হালাল, নিরাপদ ও বহাল রয়েছে।


২. ফিকহী কারণ ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা:

  • ক) কাপড়ের ওপর থেকে আকৃতি বা ভাঁজ দেখার হুকুম:
    ফিকহে হানাফীর সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কেবল দৃষ্টিপাতের (দেখা) মাধ্যমে হুরমতে মুসাহারা সাব্যস্ত হওয়ার জন্য সরাসরি অনাবৃত মূল যৌনাঙ্গ/লজ্জাস্থান (ফারজে দাখেল) দেখা শর্ত। শাশুড়ী কাপড়ে বা প্যান্টে আবৃত থাকা অবস্থায় কাপড়ের ওপর থেকে কেবল লজ্জাস্থানের শেপ, আকৃতি বা ভাঁজ দেখার দ্বারা কখনোই হুরমতে মুসাহারা সাব্যস্ত হয় না।

  • খ) কাপড়ের ভেতরের অবয়ব সরাসরি অঙ্গ নয়:
    ফুকাহায়ে কেরাম স্পষ্ট উল্লেখ করেছেন যে, কাপড়ের আড়াল থেকে শরীরের কোনো অঙ্গের সীমানা বা অবয়ব ফুটে উঠলেও তা সরাসরি অনাবৃত অঙ্গ দেখা গণ্য হয় না। যেমনটি আয়নায় বা পানিতে প্রতিচ্ছবি দেখলে সরাসরি দেখা গণ্য হয় না, ঠিক তেমনই কাপড়ের ওপর থেকে আকার বা ভাঁজ দেখাকে ফিকহের পরিভাষায় 'সরাসরি লজ্জাস্থান দর্শন' বলা হয় না।

  • গ) দৃষ্টিপাতের ক্ষেত্রে অতি-সতর্কতামূলক সীমা:
    ইমাম আবু বকর জাস্সাস (রহ.) ও হানাফী ফকীহগণ উল্লেখ করেছেন, দৃষ্টির মাধ্যমে হুরমতে মুসাহারা প্রমাণিত হওয়া একটি বিশেষ ব্যতিক্রমি বিধান। তা কেবল ও কেবল তখনই কার্যকর হয়, যখন সরাসরি অনাবৃত মূল লজ্জাস্থান কামভাব সহকারে দেখা হয়। মূল লজ্জাস্থান ব্যতিত কাপড়ের ওপর থেকে দেখলে বা শরীরের অন্য অঙ্গ দেখলে হুরমত সাব্যস্ত না হওয়াই শরীআতের মূলনীতি।


৩. নৈতিক দায়িত্ব ও তওবার নির্দেশ:

যদিও এই অনাকাঙ্ক্ষিত দৃষ্টিপাতের ফলে আপনার বিবাহ বা বৈবাহিক সম্পর্কের ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি এবং আপনার স্ত্রী আপনার জন্য সম্পূর্ণ হালাল রয়েছেন; তথাপি শাশুড়ীর প্রতি বা কোনো গায়রে মাহরাম নারীর সতরের আকৃতির দিকে কামভাব সহকারে দৃষ্টি পড়া একটি অনৈতিক কাজ ও গোনাহ।

তাই মনে কোনো প্রকার অহেতুক ভয় বা শঙ্কা না রেখে আল্লাহর দরবারে আন্তরিকভাবে তওবা ও ইস্তেগফার করুন এবং ভবিষ্যতে ঘরে বা বাইরে দৃষ্টি সংযত রাখার প্রতি যত্নবান হন।


সংযুক্ত কিতাব, ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর:

১. দরসুল ফিকহ (২য় খণ্ড):

  • পৃষ্ঠা: ১৪৭–১৪৮: (অধ্যায়: হুরমাতে মুসাহারাত, খ. যোনি অভ্যন্তরে/যৌনাঙ্গে দৃষ্টিপাত সংক্রান্ত ফিকহী মাসআলা — অনাবৃত মূল লজ্জাস্থান ব্যতিত কাপড়ের ওপর থেকে দেখা বা আকৃতি দেখার দ্বারা হুরমত সাব্যস্ত না হওয়া)।

২. ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (২য় খণ্ড):

  • পৃষ্ঠা: ৩৮–৩৯: (অধ্যায়: কিতাবুন নিকাহ, ২য় অনুচ্ছেদ: বৈবাহিক সম্পর্কের দরুন যে যে মহিলাকে বিবাহ করা হারাম — কামোদ্দীপনাসহ সরাসরি যৌনাঙ্গে দৃষ্টিপাতের সুনির্দিষ্ট ফিকহী শর্তাবলী)।

৩. ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (১৯শ খণ্ড):

  • পৃষ্ঠা: ১৭৪ & ১৭৬: (অধ্যায়: কিতাবুল হাযরি ওয়াল ইবাহাহ, বাবুল হিজাব — সতরের বিধান ও অনৈতিক দৃষ্টিপাতের শরয়ী হুকুম)।

আল্লাহ সর্বজ্ঞ।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.