হজ্জের দিনে কাপড় ধৌত করার কি অনুমোদন রয়েছে?
Halal and Haram · Shafei
Question No:
667
Questioner:
Mony1001
Question Asked:
24 May 2026, 02:43 PM
Reviewed & Published:
24 May 2026, 03:45 PM
Views:
60
Tokens:
2,562
This answer is according to the 'Shafei' school of thought.
This answer was reviewed and published by
.
Question
আসসালামু আলাইকুম, ছোট্ট থেকে একটা কথা শুনে আসতিছি যে হজ্জের দিনে নাকি কোনো কাপড় ধোয়া হয়না, এতে আমরা কাপড়ে যে বাড়ি দিয়ে ধুই সেই বারির আঘাত নাকি হাজিদের গায়ে লাগে, এইটা কতোটা সত্য?
আর এই দশ দিনে কি নক কাটা যায়না? নাভির নিচের এবং বগলের লোম পরিষ্কার করা হয়না? এইটা কি সবার জন্যই?
আর এই দশ দিনে কি নক কাটা যায়না? নাভির নিচের এবং বগলের লোম পরিষ্কার করা হয়না? এইটা কি সবার জন্যই?
Answer
ওয়াইলাইকুম আসসালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ। নিচে শাফিঈ মাযহাবের নির্ভরযোগ্য গ্রন্থ ও উৎস থেকে উত্তর প্রদান করা হলো।
১. হজ্জের দিনে কাপড় না ধোয়ার কুসংস্কার
এ কথা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, কুসংস্কার ও বিদ‘আত। কুরআন ও সহীহ হাদীসে এর কোনো প্রমাণ নেই। বরং ইসলাম পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে।
- শাফিঈ ফিকহের দৃষ্টিভঙ্গি: হজ্জ ও যিলহজ্জের দিনগুলোতে কাপড় ধোয়া জায়েয এবং এতে কোনো বাধা নেই। হজ্জরত অবস্থায় ইহরামের কাপড় ধৌত করা যাবে (মুগনি আল-মুহতাজ, ১/৫০২)।
- মূলনীতি: যে কথার পক্ষে কুরআন-হাদীসে কোনো দলিল নেই, তা পরিত্যাজ্য। এই ধরনের কথা কেবল অজ্ঞতা ও কুসংস্কারের ফল।
২. যিলহজ্জের প্রথম দশদিনে নখ কাটা ও লোম অপসারণ
এটি শুধুমাত্র তাদের জন্য প্রযোজ্য যারা কুরবানি (উদ্বাহ) করার নিয়ত করেছেন। শাফিঈ মাযহাবের বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী, যিলহজ্জের চাঁদ দেখার পর থেকে কুরবানির পশু জবাই করার পূর্ব পর্যন্ত কুরবানিদাতার জন্য নখ কাটা, চুল কাটা বা শরীরের কোনো লোম (বগল, নাভির নিচে) অপসারণ করা মাকরূহ (অপছন্দনীয়)।
- দলিল: উম্মে সালামা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "যখন তোমরা যিলহজ্জের চাঁদ দেখবে এবং তোমাদের কেউ কুরবানি করার ইচ্ছা করে, সে যেন কুরবানি না করা পর্যন্ত তার চুল ও নখ না কাটে।" (সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৯৭৭; শাফিঈ রেফারেন্স: আল-মাজমু', ৮/৩৮৩)
- শাফিঈ মাযহাবের বিস্তারিত: ইমাম নববী (রহ.) আল-মাজমু'তে বলেন, এই হাদীসের ভিত্তিতে আমাদের মাযহাবের বিশুদ্ধ মত হলো, কুরবানিদাতা (যার পশু জবাই হবে) যিলহজ্জের চাঁদ দেখার পর থেকে জবাই পর্যন্ত চুল ও নখ না কাটা মুস্তাহাব (অতি উত্তম)। তবে কেউ কাটলে গুনাহ হবে না, তবে তা মাকরূহ (তানজীহি) হবে। (আল-মাজমু', ৮/৩৮৩; মুগনি আল-মুহতাজ, ৪/৩৮০)
মূল কথা:
- যে কুরবানি দেবে না (যেমন: সন্তান, স্ত্রী বা যাদের জন্য কুরবানি ওয়াজিব নয়) তাদের জন্য এই বিধান প্রযোজ্য নয়। তারা চাইলে নখ কাটতে ও লোম পরিষ্কার করতে পারে।
- হাজীদের জন্য: ইহরাম অবস্থায় চুল ও নখ কাটা হারাম। কিন্তু যিলহজ্জের দশদিন সাধারণ অবস্থায় থাকা হাজীর জন্যও কুরবানির নিয়ত থাকলে উপরোক্ত বিধান প্রযোজ্য। ইহরাম অবস্থায় তো কাটা যাবেই না।
উপসংহার
- কাপড় ধোয়ার কুসংস্কার বর্জন করুন। এটি হাদীস বা কুরআন সমর্থিত নয়, বরং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অংশ।
- নখ কাটা ও লোম অপসারণ: শুধুমাত্র যারা কুরবানি করবেন, তাদের জন্য যিলহজ্জের চাঁদ দেখার পর থেকে কুরবানি দেওয়া পর্যন্ত (সাধারণত ১০ যিলহজ্জ) তা না করাই উত্তম। তবে অন্যদের জন্য কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই।
আল্লাহই সর্বাধিক জ্ঞানী।