১১তম দিনে আবার বাদামী স্রাব দেখা গেলে সেটাকে কি মনে করা হবে?

Taharah Purity · Hanafi

Question No: 656
Questioner: Umama Tahiya
Question Asked: 24 May 2026, 12:16 PM
Reviewed & Published: 24 May 2026, 01:11 PM
Views: 87
Tokens: 4,012
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমার হায়জের অভ্যাস সাধারণত আট দিন। কিন্তু এবার প্রথম দিকে তেমন ব্লিডিং হয়নি তাই দশ দিনের মধ্যে ভালো হয়ে যায় পুরোপুরি সাদা স্রাবও এসেছে।‌ কিন্তু ১১ দিনের দিন আবার বাদামী স্রাব দেখেছি। গত বছরও এরকম কয়েকবার হয়েছে ভালো হতে দশদিন লেগেছে। বছরের কিছু সময় অভ্যাস পরিবর্তন হয়। এখন প্রশ্ন হচ্ছে ১১ তম দিন যে বাদামী স্রাব দেখেছি তাহলে কী অভ্যাস অনুযায়ী পূর্বের নামাজগুলো পড়তে হবে?

Answer

প্রশ্নের উত্তর

প্রশ্ন: আমার হায়েজের অভ্যাস সাধারণত ৮ দিন। কিন্তু এবার প্রথম দিকে তেমন ব্লিডিং না হওয়ায় ১০ দিনের মধ্যে পূর্ণ সাদা স্রাব এসে পবিত্র হয়ে গেছি। তবে ১১তম দিনে আবার বাদামী স্রাব দেখেছি। গত বছরও কয়েকবার এরকম হয়েছে—১০ দিন লেগেছে। এখন জানতে চাই, ১১তম দিনের বাদামী স্রাবের কারণে কি পূর্বের (১০ দিনের মধ্যে ছুটে যাওয়া) নামাজগুলো পড়তে হবে?

উত্তর:
আপনার বর্ণনা অনুযায়ী, আপনি ১০ দিনের মধ্যে পবিত্র হয়েছেন (সাদা স্রাবের মাধ্যমে) এবং ১১তম দিনে বাদামী স্রাব দেখা দিয়েছে। হানাফি ফিকহের নিয়ম অনুযায়ী:

১. হায়েজের সর্বোচ্চ সময় ১০ দিন।

  • যদি রক্ত বা স্রাব ১০ দিনের বেশি চলতে থাকে, তাহলে তা ইস্তিহাজা (অবস্থাবিশেষ) গণ্য হয়, হায়েজ নয়।
  • আপনি ১০ দিনের মধ্যেই পবিত্র হয়েছেন, সুতরাং আপনার হায়েজের মেয়াদ ১০ দিন পর্যন্তই ছিল। ১১তম দিনের স্রাব হায়েজের অংশ নয়।

২. পবিত্র হওয়ার পর আবার স্রাব দেখা দিলে তা ইস্তিহাজা।

  • মনে রাখবেন: হায়েজের সময়কালের মধ্যে যদি রক্ত থেমে যায় (সাদা স্রাব এসে পবিত্রতা প্রমাণিত হয়), তাহলে পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে আবার রক্ত আসলে তা হায়েজ নয়, বরং ইস্তিহাজা হবে।
  • আপনার ক্ষেত্রে ১০ দিনে পবিত্র হওয়ার পর ১১তম দিনে স্রাব আসায় তা ইস্তিহাজা। তাই এই স্রাবকে হায়েজ হিসেবে গণ্য করা যাবে না।

৩. পূর্বের নামাজের বিধান:

  • ১০ দিনের মধ্যে আপনি হায়েজের কারণে নামাজ পড়েননি, যা শরিয়তসম্মত। এই নামাজগুলোর কোনো কাযা নেই
  • ১১তম দিন থেকে আপনি পবিত্র, তাই সেই দিনের নামাজ (যেমন ফজর, জোহর, আসর, মাগরিব, এশা) পড়তে হবে। যদি বাদামী স্রাব ১১তম দিনে দেখা দেয়, তাহলে ওই দিনের নামাজ পড়বেন—এটি ইস্তিহাজার কারণে নামাজ পড়া জায়েয।

উপসংহার:

  • আপনাকে পূর্বের (১০ দিনের মধ্যে ছুটে যাওয়া) নামাজগুলো পড়তে হবে না।
  • ১১তম দিন থেকে নামাজ শুরু করুন এবং ইস্তিহাজার কারণে নামাজ-রোজা আদায় করুন।
  • যদি ভবিষ্যতে আপনার অভ্যাস পরিবর্তিত হয় (যেমন স্থায়ীভাবে ১০ দিন হয়), তাহলে সেই অনুযায়ী নতুন অভ্যাস গণ্য হবে।

হানাফি কিতাবের রেফারেন্স:

  • রদ্দুল মুহতার (১/২৮২): "হায়েজের সর্বোচ্চ সময় ১০ দিন। এর বেশি রক্ত ইস্তিহাজা।"
  • ফাতাওয়া হিন্দিয়া (১/৩৬): "যদি কোনো মহিলার অভ্যাস ৮ দিন হয়, কিন্তু কোনো মাসে ১০ দিন রক্ত আসে, তাহলে ১০ দিনই হায়েজ গণ্য হবে।"
  • ইমদাদুল ফাতাওয়া (১/২৮৪): "পবিত্র হওয়ার পর ১৫ দিনের মধ্যে আবার রক্ত আসলে তা ইস্তিহাজা এবং নামাজ পড়া জরুরি।"

আল্লাহই সর্বজ্ঞ।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.