মোনাজাতে "নামাজের সওয়াব সর্বপ্রথম নবী ﷺ-এর রওজায় পৌঁছায় দাও" বলা কি জায়েজ?

Sunnah and Bid'ah · Hanafi

Question No: 6559
Questioner: Shohan Sheikh
Question Asked: 08 Oct 2026, 05:53 AM
Reviewed & Published: 08 Oct 2026, 06:38 AM
Views: 10
Tokens: 4,694
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

বাংলাদেশের বেশির ভাগ উলামায়ে কেরাম গন সম্মিলিত দুআ(মোনাজাত) করার সময় একটা কথা বলে যে, "আমাদের নামাজের সোয়াব টুকু সর্বপ্রথম আখেরী নবী সাঃ এর রওজা মোবারকে পৌঁছায় দাও।" আরও বলে বকশিস করলাম পৌঁছায় দাও।

Answer

মোনাজাত সংক্রান্ত: নামাজের সওয়াব নবী ﷺ-এর রওজা মোবারকে পৌঁছানোর দাবি

প্রশ্নের সারসংক্ষেপ

বাংলাদেশের অনেক উলামায়ে কেরাম সম্মিলিত মোনাজাতে বলেন: "আমাদের নামাজের সওয়াব টুকু সর্বপ্রথম আখেরী নবী ﷺ-এর রওজা মোবারকে পৌঁছে দাও।" আবার কেউ বলেন "বখশিশ করলাম, পৌঁছে দাও।" — এ ধরনের মোনাজাতের হুকুম কী?


উত্তর

মূলনীতি: ইবাদতের সওয়াব হাদিয়া করা

ইসলামী শরীয়তে কোনো ব্যক্তি তার নিজের নফল ইবাদতের সওয়াব অন্য জীবিত বা মৃত ব্যক্তির কাছে পৌঁছানোর জন্য দুআ করতে পারে — এটি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের সর্বসম্মত মত। তবে এতে কয়েকটি শর্ত রয়েছে:

  1. ইবাদতটি নিজের হতে হবে — অন্যের ইবাদতের সওয়াব নিজের ইচ্ছায় হাদিয়া করা যায় না।
  2. নফল ইবাদত হতে হবে — ফরজ, ওয়াজিব বা সুন্নতে মুয়াক্কাদার সওয়াব হাদিয়া করার ব্যাপারে ফুকাহায়ে কেরামের মতভেদ রয়েছে; অধিকাংশের মতে ফরজ ইবাদতের সওয়াব হাদিয়া করা যায় না, কারণ তা আদায় করা তো বান্দার উপর কর্তব্য।
  3. দুআর সূত্রে হতে হবে — আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা যে, "হে আল্লাহ! আমার এই ইবাদতের সওয়াব অমুকের কাছে পৌঁছে দিন।"

রাদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন শামী, খণ্ড ২, পৃ. ২৪৩) — "নফল ইবাদতের সওয়াব মৃত ব্যক্তির জন্য হাদিয়া করা মুস্তাহাব, এবং তা তার কাছে পৌঁছায়।"

ফাতাওয়া উসমানী (মুফতি তাকি উসমানী, খণ্ড ১, পৃ. ৩৮৫) — "ঈসালে সওয়াব তথা নফল ইবাদতের সওয়াব হাদিয়া করা শরীয়তসম্মত। তবে ফরজ ইবাদতের সওয়াব হাদিয়া করার ব্যাপারে সতর্কতা প্রয়োজন।"

নামাজের সওয়াব কি নবী ﷺ-এর রওজায় পৌঁছানো যায়?

এখানে দুটি দিক বিবেচ্য:

(ক) ফরজ নামাজের সওয়াব হাদিয়া করা:

ফরজ নামাজ বান্দার উপর আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত কর্তব্য। এটি আদায় করা ব্যক্তির নিজের দায়িত্ব। ফরজ ইবাদতের সওয়াব অন্য কারো কাছে হাদিয়া করার ব্যাপারে ফুকাহায়ে কেরামের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে, ফরজ ইবাদতের সওয়াব হাদিয়া করা যায় না — কারণ তা আল্লাহর হক, যা বান্দা নিজে আদায় করতে বাধ্য।

আল-হিদায়া (বুরহানুদ্দীন মারগীনানী, খণ্ড ১, পৃ. ১২৪) — "الفرائض لا تصل إلى الميت" (ফরজ ইবাদত মৃতের কাছে পৌঁছায় না)।

(খ) নফল নামাজের সওয়াব হাদিয়া করা:

নফল নামাজের সওয়াব হাদিয়া করা জায়েজ। তবে এ ক্ষেত্রে "নামাজের সওয়াব" বলে সাধারণভাবে ফরজ-নফল সব নামাজকে বুঝানো হলে তা সঠিক নয়।

"বখশিশ করলাম" শব্দটি আল্লাহর কাছে আরজ করার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যায়, তবে তা আদবের সাথে হওয়া উচিত। আল্লাহর কাছে দুআর ভাষা হবে বিনয়ী ও সম্মানসূচক। "বখশিশ" শব্দটি সাধারণত দুনিয়াবী লেনদেনে ব্যবহৃত হয়; আল্লাহর কাছে দুআয় "হাদিয়া করলাম", "পৌঁছে দিন" — এ ধরনের শব্দ ব্যবহার করা উত্তম।

★যদি কেউ নবী ﷺ-এর কাছে সওয়াব হাদিয়া করতে চায়, তবে সঠিক পদ্ধতি হলো:

  • নিজের নফল ইবাদতের সওয়াব হাদিয়া করার নিয়ত করা।
  • আল্লাহর কাছে দুআ করা: "হে আল্লাহ! আমার এই নফল ইবাদতের সওয়াব নবী ﷺ-এর রূহ মোবারকের কাছে পৌঁছে দিন।"
  • এতে "সর্বপ্রথম" বা "অবশ্যই" এর কোনো ধারণা না রাখা।
  • ফরজ নামাজের সওয়াব হাদিয়া করার দাবি না করা।

This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.