প্রভিডেন্ট ফান্ড সম্পর্কিত।

Business and Job · Hanafi

Question No: 653
Questioner: Iftekhar Ahmed Talukder
Question Asked: 24 May 2026, 09:57 AM
Reviewed & Published: 24 May 2026, 10:25 AM
Views: 80
Tokens: 3,880
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম।
আমি যে কোম্পানিতে চাকুরী করি সেখানে ঐচ্ছিক প্রভিডেন্ট ফান্ড চালু আছে। শুরুর দিকে কেউ চাইলে প্রভিডেন্ট ফান্ডের সাথে যুক্ত হতে পারে আবার নাও পারে।

কিন্তু প্রভিডেন্ট ফান্ডের সাথে একবার যুক্ত হয়ে গেলে তখন এটা অনেকটা বাধ্যতামূলক প্রভিডেন্ট ফান্ডের মত হয়ে যায়। অর্থাৎ চাকুরী ছাড়া বা অবসরে যাওয়ার আগ পর্যন্ত প্রভিডেন্ট ফান্ড থেকে বের হয়ে আসা যায় না বা প্রভিডেন্ট ফান্ড বাতিল করার সুযোগ নেই।

চাকুরী শুরুর দিকে ঐচ্ছিক এবং বাধ্যতামূলক প্রভিডেন্ট ফান্ড সম্পর্কে আমার কোনো ধারণা ছিল না। ফলে আমি প্রভিডেন্ট ফান্ডের সাথে যুক্ত হয়ে যাই।

ঐ কোম্পানির নিয়ম হল যারা প্রভিডেন্ট ফান্ডের সাথে যুক্ত তাদের বেতন হতে প্রতিমাসে বাধ্যতামূলকভাবে ১০% টাকা কেটে রাখা হয়। এরপর নির্দিষ্ট মেয়াদে চাকুরী করার পর কোম্পানি আরো ১০% ধরে সাথে কিছু সুদের টাকাসহ ফেরত দেয়। অর্থাৎ কোনো ব্যক্তির নিজের আয়ে ধরা যাক প্রভিডেন্ট ফান্ডে জমে ৫০০০০ টাকা এবং ফান্ডে থেকে টাকা তোলার সময় কোম্পানি তাকে দিবে আরো ৫০০০০ টাকা এবং দুইজনের অংশের উপর ১২০০ টাকা (হিসাবের সুবিধার্থে ধরা) করে ২৪০০ টাকা মিলিয়ে মোট ১০২৪০০ টাকা পাবে।

তাহলে ২৪০০ টাকা হারাম (সুদ) এতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু কোম্পানি যে অতিরিক্ত ৫০০০০ টাকা দিচ্ছে তা কি হালাল হবে নাকি হারাম হবে?


এবং প্রতিবছর প্রভিডেন্ট ফান্ডের নিজের ১০% টাকার উপর যাকাত আসবে নাকি কোম্পানির ১০% সহ যাকাত দিতে হবে?

Answer

উত্তর:
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।

প্রশ্নে বর্ণিত প্রভিডেন্ট ফান্ডের ক্ষেত্রে আপনার নিজের অংশ (১০%) ও কোম্পানির অংশ (১০%)—উভয়ই মূলধন। কোম্পানি যে অতিরিক্ত ২৪০০ টাকা দিচ্ছে তা সুদ (রিবা), যা স্পষ্ট হারাম। কিন্তু কোম্পানির দেওয়া অতিরিক্ত ৫০০০০ টাকা (ম্যাচিং অংশ) কি হালাল নাকি হারাম?

১. কোম্পানির অতিরিক্ত ৫০০০০ টাকার বিধান

হানাফি ফিকহের কিতাবসমূহে এসেছে—যদি কোনো প্রতিষ্ঠান কর্মচারীকে তার মজুরি বা চুক্তির আওতায় অতিরিক্ত সুবিধা দেয় (যেমন প্রভিডেন্ট ফান্ডে কোম্পানির অংশ), তা হালাল বলে গণ্য হবে। কারণ এটি চাকরির শর্তানুযায়ী প্রদত্ত বোনাস বা অনুদান (গ্র্যাচুইটি) হিসেবে বিবেচিত। কিন্তু এই অংশ যদি সুদী ফান্ডে মিশ্রিত হয় এবং সুদ থেকে আসে, তবে শুধু সুদ পরিমাণ (২৪০০ টাকা) হারাম; মূল অংশ হালাল।

হানাফি ফতোয়া:

  • ইমদাদুল ফাতাওয়া (৫/২৪১) তে এসেছে—কর্মচারীর নিজের জমাকৃত অর্থ ও প্রতিষ্ঠানের দেওয়া অংশ যেহেতু মূল চাকরির চুক্তির অন্তর্ভুক্ত, তাই তা জায়েজ। তবে ফান্ড সুদী বিনিয়োগ করলে তার সুদ গ্রহণ করা নাজায়েজ।
  • ফাতাওয়া উসমানী (মুফতি তাকি উসমানি, ২/৩৮০) তে উল্লেখ—ঐচ্ছিক প্রভিডেন্ট ফান্ডে অংশগ্রহণের শুরুতে জেনে-শুনে সুদের সঙ্গে জড়িত থাকার অপশন থাকলে তা থেকে দূরে থাকতে হবে। কিন্তু যদি একবার চুক্তি হয়ে যায়, তাহলে নিজের ও কোম্পানির অংশ (মূলধন) নেওয়া হালাল, আর সুদ পরিমাণ সদকা করে দিতে হবে।

সুতরাং আপনার ক্ষেত্রে:

  • কোম্পানির দেওয়া ৫০,০০০ টাকা (ম্যাচিং অংশ) হালাল। এটি আপনার শ্রম ও চুক্তির বিনিময়।
  • অতিরিক্ত ২,৪০০ টাকা (সুদ) স্পষ্ট হারাম। এই টাকা আপনি নিতে পারবেন না; বরং তা নিয়ত ছাড়া সদকা (গরিব-মিসকিনকে দিয়ে দিন) অথবা জনসাধারণের জন্য রেখে দিন। নিজে ভোগ করবেন না।

২. যাকাতের বিধান

যাকাত ওয়াজিব হওয়ার জন্য দুটি শর্ত:

  • নিসাব পরিমাণ মাল (সোনা-রুপার মূল্য) থাকা।
  • মালের পূর্ণ মালিকানা ও বাৎসরিক পূর্ণতা।

আপনার নিজের জমাকৃত ১০% টাকা:
আপনার বেতন থেকে কাটা এই টাকা আপনার সম্পূর্ণ মালিকানাধীন। তাই নিসাব থাকলে প্রতিবছর যাকাত ওয়াজিব

কোম্পানির দেওয়া ১০% অংশ:
যতক্ষণ পর্যন্ত আপনি চাকরি ছাড়ার আগে এই টাকার ওপর পূর্ণ মালিকানা লাভ না করছেন, ততক্ষণ তা আপনার স্থায়ী মালিকানায় আসে না। হানাফি মতে—এটি মাও'উদ (প্রতিশ্রুত সম্পদ) গণ্য; যতক্ষণ হাতে না আসে, ততক্ষণ যাকাত আবশ্যক নয়। কিন্তু যদি প্রতিষ্ঠানের নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট মেয়াদ (যেমন ৫ বছর) পূর্ণ হওয়ার পর আপনি তা ওঠাতে পারেন, তাহলে সেই সময়ের পর থেকে নেসাব থাকলে যাকাত দিতে হবে।

বিস্তারিত ফতোয়া:

  • রদ্দুল মুহতার (৩/১৭৫): "যে মাল পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত অধিকার অর্জিত হয় না, তার যাকাত বাধ্যতামূলক নয়।"
  • ফতোয়ায়ে আলমগীরী (১/১৭৯): "প্রভিডেন্ট ফান্ডের কোম্পানি অংশের মালিকানা কখনো কখনো চাকরি শেষ হওয়ার আগে পূর্ণ হয় না; তাই যাকাত ওঠানোর সময় একবারে দিতে হবে।"
  • সমকালীন ফতোয়া: মুফতি তাকি উসমানি (বই: ‘ফিকরি মাকালাত’) বলেন—নিজের অংশের যাকাত প্রতি বছর দিতে হবে, আর কোম্পানির অংশ যখন আপনার হাতে আসবে, তখন আগের বছরের যাকাত কষে একসঙ্গে আদায় করবেন।

সারসংক্ষেপ:

  • নিজের ১০%: বাৎসরিক যাকাত আবশ্যক।
  • কোম্পানির ১০%: যতক্ষণ হাতে না পাবেন, ততক্ষণ যাকাত নেই। তবে পাওয়ার পর পূর্ববর্তী বছরের নেসাব মতে হিসাব করে যাকাত আদায় করুন।
  • সুদ (যেমন ২,৪০০ টাকা): যাকাতের সীমার মধ্যে পড়ে না; বরং তা সদকা করতে হবে।

পরামর্শ

  • আগামী বছর থেকে প্রভিডেন্ট ফান্ডে যুক্ত না হওয়ার চেষ্টা করুন। আপাতত আপনি ইতিমধ্যে যুক্ত হওয়ায় সুদ পরিমাণ সদকা করে দিন।
  • যাকাত দেওয়ার সময় পুরো মাল (নিজের অংশ + কোম্পানির অংশ) একত্র করবেন না; শুধু নিজের ওপর যাকাত ফরজ।

اللہ أعلم بالصواب



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.