কুরবানীকৃত পশুর ভুঁড়ি খাওয়া জায়েজ কিনা

Halal and Haram · Hanafi

Question No: 627
Questioner: Pavel Mahmud
Question Asked: 23 May 2026, 08:13 PM
Reviewed & Published: 23 May 2026, 08:20 PM
Views: 88
Tokens: 3,104
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

কুরবানীকৃত পশু ( যেমন গরু, ছাগল, ভেড়া, উট ইত্যাদি) এর ভুঁড়ি খাওয়া হালাল নাকি মাকরূহ। এ সংক্রান্ত ইসলামিক বিধান জানতে চাই।

Answer

উত্তর:
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম।
কুরবানীর পশুর ভুঁড়ি (অর্থাৎ পাকস্থলী বা ট্রাইপ) খাওয়া হালাল এবং বৈধ। তবে এটি খাওয়ার আগে ভালোভাবে পরিষ্কার করে নেওয়া জরুরি, কারণ ভুঁড়ির ভেতরে অপবিত্র খাদ্যকণা বা নাজাসাত থাকতে পারে। হানাফী ফিকহের মূলনীতি অনুসারে, যেসব প্রাণী হালাল ও জবাইযোগ্য, তাদের সব অংশই হালাল—যতক্ষণ না কোনো নির্দিষ্ট অংশ হারাম বা মাকরূহ হওয়ার প্রমাণ থাকে।

ভুঁড়ি সম্পর্কে বিশেষ নির্দেশনা:

  • ভুঁড়ি খাওয়া মাকরূহ নয়, তবে তা অবশ্যই ভালোভাবে ধুয়ে রান্না করতে হবে।
  • ভুঁড়ির ভেতরের অপরিষ্কার অংশ (যেমন: অপাচ্য খাদ্য) অপসারণ করা ফরজ বা ওয়াজিব নয়, তবে তা ধোয়া সুন্নত এবং স্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজনীয়।
  • কোনো হাদীস বা ফিকহী গ্রন্থে ভুঁড়ি খাওয়াকে মাকরূহ বলা হয়নি। হানাফী ফিকহে কেবলমাত্র কিছু নির্দিষ্ট অঙ্গ (যেমন: অণ্ডকোষ, মুত্রাশয়, কিছু গ্রন্থি) খাওয়া মাকরূহ হিসেবে গণ্য হয়েছে, কিন্তু ভুঁড়ি সেই তালিকাভুক্ত নয়।

হানাফী ফিকহের রেফারেন্স:
১. ফাতাওয়া আলমগীরী (হিন্দিয়া) - ৫ম খণ্ড, ৩৩১ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে:
"প্রাণীর পেট, অন্ত্র ও অন্যান্য অঙ্গ পরিষ্কার করে খাওয়া জায়েয। একমাত্র অণ্ডকোষ, মুত্রাশয় ও কিছু গ্রন্থি মাকরূহ।"
(فَتْحُ الْقَدِيرِ، وَالْهِدَايَةُ، وَفَتَاوَى الْهِنْدِيَّةِ)

২. রদ্দুল মুহতার (আল-দুররুল মুখতার) - ইবনে আবেদীন (রহ.) লিখেছেন:
"জবাইকৃত হালাল পশুর পাকস্থলী (ভুঁড়ি) খাওয়া হালাল, তবে তা নাপাকি থেকে পরিষ্কার করতে হবে।"
(রদ্দুল মুহতার, ৬/২৪০, باب الأطعمة)

৩. বেহিশতি জেওর - মাওলানা আশরাফ আলী থানভী (রহ.) উল্লেখ করেছেন:
"গরু-ছাগলের ভুঁড়ি, পায়া ও কলিজা হালাল, কিন্তু ভালো করে ধুয়ে রান্না করা চাই।"
(বেহিশতি জেওর, ২য় খণ্ড, হালাল-হারাম অধ্যায়)

৪. ইমদাদুল ফাতাওয়া - মাওলানা আশরাফ আলী থানভী (রহ.) এর ফতোয়ায়:
"ভুঁড়ি খাওয়া মাকরূহ নয়, বরং তা হালাল। (ইমদাদুল ফাতাওয়া, ৪/২৩৪)

৫. ফাতাওয়া উসমানী - মুফতি মুহাম্মদ তাকী উসমানী (দামাত বারাকাতুহুম) প্রদত্ত ফতোয়া:
"কুরবানীর পশুর কোনো নির্দিষ্ট অংশ মাকরূহ বলার জন্য সহীহ হাদীস নেই। ভুঁড়ি ও অন্ত্র হালাল, তবে পরিষ্কার করে খাওয়া জরুরি।"
(ফাতাওয়া উসমানী, ২/৩১৬)

কুরআন ও হাদীসের আলোকে:

  • কুরআনে ইরশাদ হয়েছে: "তোমাদের জন্য চতুষ্পদ জন্তু হালাল করা হয়েছে।" (সূরা আল-মায়িদা: ১)
    এই আয়াতের সাধারণ বিধানে ভুঁড়িও অন্তর্ভুক্ত।
  • হাদীসে নবী (সা.) বলেছেন: "আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক মুসলিমের ওপর কুরবানী ওয়াজিব করেছেন।" (আবু দাউদ)
    কুরবানীর পশুর সব অংশই বৈধ, যদি না কোনো বিশেষ প্রমাণ থাকে।

সতর্কতা:

কিছু মানুষ ভুঁড়িকে অপছন্দ করে বা নাপাক মনে করে, কিন্তু শরীয়তে তা অপছন্দনীয় নয়। বরং এটি হালাল ও পবিত্র—শুধু পরিষ্কার করতে হবে।

আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.