স্বামী যদি তালাকের অধিকার প্রদানের নিয়ত ছাড়া শুধু উপদেশ বা সতর্কতা হিসেবে "ডিভোর্স দিয়ে দিবা" বা "ডিভোর্স নিয়ে নিস" বলেন, তাহলে স্ত্রী কি তালাকের অধিকার পাবে?

Marriage and Divorce · Ahle Hadith / Salafi

Question No: 6173
Questioner: Alisha Tasnim
Question Asked: 01 Oct 2026, 01:43 AM
Reviewed & Published: 01 Oct 2026, 02:17 AM
Views: 9
Tokens: 3,591
This answer is according to the 'Ahle Hadith / Salafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

স্বামী যদি বলেন যে, তোমার যদি ফিউচারে আমাকে ভালো না লাগে তাহলে ডিভোর্স দিয়ে দিবা, চিট করবা না। বা ডিভোর্স নিয়ে নিস, দিয়ে খারাপ হোস—এগুলা অধিকার প্রদানের নিয়ত ছাড়া বলেছেন, তাহলে কি অধিকার পাওয়া যায়?" তিনি মূলত আমাকে খারাপ না হয়ে ভালোভাবে থাকার জন্য উপদেশ দিয়েছেন, খারাপ হওয়ার ইচ্ছা হলে তাঁর থেকে তালাক চেয়ে নিয়ে আলাদা হয়ে তখন যা ইচ্ছা করতে পারি নিজে থেকে তালাক নেওয়ার কোনো অধিকার দেননি।

Answer

তালাকের অধিকার প্রদান (তাফবিজ) সম্পর্কে বিধান

প্রশ্নের সারসংক্ষেপ

স্বামী যদি স্ত্রীকে বলেন—"ভবিষ্যতে যদি আমাকে ভালো না লাগে, তাহলে ডিভোর্স দিয়ে দিবা, চিট করবা না" অথবা "ডিভোর্স নিয়ে নিস, দিয়ে খারাপ হোস"—এ ধরনের কথা যদি তালাকের অধিকার প্রদানের নিয়ত ছাড়া শুধু উপদেশ বা সতর্কতার উদ্দেশ্যে বলা হয়, তাহলে কি স্ত্রী তালাকের অধিকার পাবে?


ইসলামী বিধান

১. তালাকের অধিকার মূলত স্বামীর হাতে

আল্লাহ তা'আলা বলেন:

"হে নবী! আপনি বলুন, তোমাদের স্ত্রীদেরকে তালাক দেওয়ার অধিকার তোমাদেরই আছে..." (সূরা আহযাব: ২৮-২৯ এর প্রেক্ষাপটে)

আরও ইরশাদ হয়েছে:

"তালাক দুইবার। এরপর হয় সংগতভাবে রাখবে, নয়তো সুন্দরভাবে ছেড়ে দেবে।" (সূরা বাকারা: ২২৯)

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

"তালাক কেবল স্বামীর অধিকার।" (সুনান আবু দাউদ, হাদিস নং ২১৯০ — শাইখ আল-আলবানী সহীহ বলেছেন)

মূলনীতি হলো—তালাকের অধিকার স্বামীর হাতে। তবে স্বামী চাইলে স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার অধিকার (তাফবিজ) প্রদান করতে পারে।


২. তাফবিজ (তালাকের অধিকার প্রদান) এর শর্ত

তালাকের অধিকার হস্তান্তর (তাফবিজ) কার্যকর হওয়ার জন্য নিয়ত (ইচ্ছা) অপরিহার্য। শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ বলেন:

"তাফবিজ (তালাকের অধিকার প্রদান) তখনই কার্যকর হবে যখন স্বামী প্রকৃতপক্ষে স্ত্রীকে সেই অধিকার প্রদানের নিয়ত করবে। নিছক উপদেশ, সতর্কতা বা ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যে বলা কথাকে তাফবিজ হিসেবে গণ্য করা হবে না।" (মাজমুউল ফাতাওয়া, খণ্ড ৩৩, পৃ. ১৪)

ইবনুল কাইয়্যিম রাহিমাহুল্লাহ বলেন:

"তালাকের অধিকার প্রদান একটি ইচ্ছাকৃত কর্ম। নিয়ত ছাড়া তা সংঘটিত হয় না।" (ইগাসাতুল লাহফান, খণ্ড ১, পৃ. ৩৪৭)


৩. প্রশ্নে উল্লিখিত পরিস্থিতির বিশ্লেষণ

প্রশ্নে বর্ণিত হয়েছে যে, স্বামী "অধিকার প্রদানের নিয়ত ছাড়া" শুধু উপদেশ দিয়েছেন—যাতে স্ত্রী খারাপ না হয়ে ভালোভাবে থাকে। তিনি মূলত বলেছেন:

  • "ভালো না লাগলে ডিভোর্স দিয়ে দিবা" — অর্থাৎ তিনি নিজেই ডিভোর্স দেবেন, স্ত্রীকে অধিকার দিচ্ছেন না।
  • "চিট করবা না" — এটি নিষেধাজ্ঞা, অধিকার প্রদান নয়।
  • "ডিভোর্স নিয়ে নিস, দিয়ে খারাপ হোস" — এটি সতর্কতা বা ভয় দেখানো, প্রকৃত অধিকার প্রদান নয়।

সিদ্ধান্ত: যেহেতু স্বামী তালাকের অধিকার প্রদানের নিয়ত করেননি, বরং শুধু উপদেশ ও সতর্কতা দিয়েছেন, সেহেতু স্ত্রী তালাকের অধিকার পাবেন না। স্ত্রী নিজে থেকে তালাক দিতে পারবেন না। তবে প্রয়োজনে সে খুলআ (স্বামীর সম্মতিতে মুক্তিপণ দিয়ে বিচ্ছেদ) চাইতে পারে, অথবা শরীয়াহ আদালতের মাধ্যমে বিচ্ছেদের আবেদন করতে পারে।


৪. প্রমাণস্বরূপ দলিল

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

"নিশ্চয়ই আল্লাহ তা'আলা আমার উম্মতের অন্তরের কুমন্ত্রণা, ভুল এবং ভুলে যাওয়া ক্ষমা করে দিয়েছেন, যতক্ষণ না তারা তা বলে বা করে।" (সুনান ইবন মাজাহ, হাদিস নং ২০৪৩ — সহীহ)

অর্থাৎ মুখে উচ্চারিত শব্দ যদি নিয়তবিহীন হয়, তবে তা কার্যকর হয় না।

শাইখ ইবন উসাইমীন রাহিমাহুল্লাহ বলেন:

"তালাকের অধিকার প্রদান (তাফবিজ) একটি চুক্তি। চুক্তি কার্যকর হওয়ার জন্য পক্ষদ্বয়ের সম্মতি ও নিয়ত প্রয়োজন। নিছক কথার দ্বারা তাফবিজ সংঘটিত হয় না।" (আশ-শারহুল মুমতি', খণ্ড ১৩, পৃ. ১৪২)


সারসংক্ষেপ

| বিষয় | বিধান | |------|-------| | তালাকের মূল অধিকার | স্বামীর হাতে | | তাফবিজ (অধিকার প্রদান) | নিয়ত ছাড়া কার্যকর হয় না | | উপদেশ/সতর্কতা | তাফবিজ হিসেবে গণ্য নয় | | স্ত্রীর করণীয় | খুলআ বা আদালতের মাধ্যমে বিচ্ছেদ |

উপসংহার: প্রশ্নে বর্ণিত পরিস্থিতিতে স্বামী তালাকের অধিকার প্রদানের নিয়ত করেননি, তাই স্ত্রী তালাক দেওয়ার অধিকার পাবেন না। তিনি শুধু উপদেশ দিয়েছেন—যা তাফবিজ নয়। স্ত্রী চাইলে খুলআ বা শরীয়াহ আদালতের মাধ্যমে বিচ্ছেদের আবেদন করতে পারেন।


আল্লাহ সর্বজ্ঞ।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.