স্বামী ডিভোর্সের অধিকার দিলে কি হয়?

Marriage and Divorce · Ahle Hadith / Salafi

Question No: 6138
Questioner: Alisha Tasnim
Question Asked: 30 Sep 2026, 08:22 AM
Reviewed & Published: 30 Sep 2026, 11:45 AM
Views: 45
Tokens: 3,606
This answer is according to the 'Ahle Hadith / Salafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমার স্বামী আমাকে আগে বলতেন যে, "তোমার যদি ভবিষ্যতে আমাকে ভালো না লাগে, তাহলে ডিভোর্স দিয়ে যা ইচ্ছা করবা, কিন্তু চিটিং করবা না / চাইলে ডিভোর্স দিতে পারবা ভবিষ্যতে।" উনি ডিভোর্সের অধিকারের ব্যাপারে কিছুই জানতেন না। উনি এটাও জানতেন না যে অধিকার শুধু স্বামীর থাকে, ডিভোর্স দেওয়ার ক্ষমতা স্ত্রীকে না দিলে স্ত্রী পায় না। উনি এইসব অধিকার প্রদানের নিয়ত (উদ্দেশ্য) ছাড়া বলেছেন। এতে কি আমি আজীবনের জন্য বা সাময়িকের জন্য কোনো অধিকার পেয়েছি?

Answer

প্রশ্ন: স্বামী শর্তসহ ডিভোর্সের অধিকার দেওয়ার বিধান

সংক্ষিপ্ত উত্তর

না, আপনি কোনো ডিভোর্সের অধিকার পাননি। কারণ আপনার স্বামী যখন কথাটি বলেছেন, তখন তিনি ডিভোর্সের অধিকার হস্তান্তরের নিয়ত (উদ্দেশ্য) করেননি, বরং তিনি বিষয়টি সম্পর্কে জানতেনই না। ইসলামী শরীয়তে ডিভোর্সের অধিকার হস্তান্তর (তালাকের তাফবীয) একটি স্বতন্ত্র চুক্তি, যা সচেতন নিয়ত ও জ্ঞান ছাড়া সংঘটিত হয় না।


বিস্তারিত আলোচনা

১. ডিভোর্সের মূল অধিকার স্বামীর হাতে

আল্লাহ তা'আলা বলেন:

"হে নবী! আপনি স্ত্রীদের বলুন, যদি তোমরা পার্থিব জীবন ও তার সৌন্দর্য কামনা কর, তবে এসো, আমি তোমাদের ভরণপোষণ দেব এবং সুন্দরভাবে বিদায় করব।" (সূরা আল-আহযাব: ২৮)

আরও ইরশাদ হয়েছে:

"পুরুষরা নারীদের উপর কর্তৃত্বশীল।" (সূরা আন-নিসা: ৩৪)

শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "তালাকের অধিকার মূলত স্বামীর হাতে; তবে সে চাইলে স্ত্রীকে তাফবীয (অধিকার হস্তান্তর) করতে পারে।" (মাজমুউল ফাতাওয়া, ৩৩/৯৩)

২. তাফবীয (ডিভোর্সের অধিকার হস্তান্তর) একটি চুক্তি — নিয়ত শর্ত

শাইখ ইবন উসাইমীন (রহিমাহুল্লাহ) বলেন:

"তাফবীয হলো স্বামীর পক্ষ থেকে স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার ক্ষমতা প্রদান। এটি একটি ইজাব (প্রস্তাব) ও কবুল (গ্রহণ)-এর মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। আর শরীয়তের সকল চুক্তির মতো এতেও নিয়ত (উদ্দেশ্য) শর্ত।" (আশ-শারহুল মুমতি', ১৩/৪৩)

আপনার স্বামী যখন বলেছেন — "চাইলে ডিভোর্স দিতে পারবা" — তখন তিনি যদি এটা বুঝতেন যে এটি একটি শরীয়তসম্মত অধিকার হস্তান্তর, এবং সেই নিয়তে বলতেন, তাহলে তাফবীয সংঘটিত হতো। কিন্তু তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন যে তিনি জানতেন না এবং নিয়তও করেননি।

৩. নিয়ত ছাড়া তাফবীয সংঘটিত হয় না

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

"নিশ্চয়ই সকল আমল নিয়তের উপর নির্ভরশীল, আর প্রত্যেক ব্যক্তি তাই পাবে যা সে নিয়ত করেছে।" (সহীহ বুখারী: ১; সহীহ মুসলিম: ১৯০৭)

শাইখ ইবন বায (রহিমাহুল্লাহ) বলেন:

"তালাক ও তাফবীযের ক্ষেত্রে নিয়ত অপরিহার্য। কেউ যদি না জেনে, না বুঝে, বা নিয়ত ছাড়া তালাকের কথা বলে, তবে তা সংঘটিত হয় না।" (মাজমুউল ফাতাওয়া ইবন বায, ২১/২৩৪)

৪. আপনার স্বামীর কথার প্রকৃত বিশ্লেষণ

আপনার স্বামী যা বলেছেন, তা ছিল মূলত একটি উপদেশ ও সতর্কবাণী — "চিটিং করো না, চাইলে ডিভোর্স নিতে পারবে।" এটি তাফবীযের স্পষ্ট ঘোষণা ছিল না, কারণ:

  1. তিনি ডিভোর্সের অধিকারের শরীয়তসম্মত ধারণা সম্পর্কে অবগত ছিলেন না।
  2. তিনি তাফবীযের নিয়ত করেননি।
  3. তিনি জানতেন না যে এটি একটি স্বতন্ত্র চুক্তি যা নিয়ত ও জ্ঞান ছাড়া সম্পন্ন হয় না।

শাইখ সালিহ আল-ফাওযান (হাফিযাহুল্লাহ) বলেন:

"তাফবীযের জন্য স্পষ্ট ইবারত (শব্দ) ও নিয়ত উভয়ই প্রয়োজন। শুধু আলোচনার ছলে বা না জেনে বলা কথাকে তাফবীয হিসেবে গণ্য করা যায় না।" (আল-মুলাখখাসুল ফিকহী, পৃ. ৩৮৭)


উপসংহার

| বিষয় | বিধান | |------|-------| | স্বামী নিয়ত ছাড়া বলেছেন | তাফবীয সংঘটিত হয়নি | | স্বামী বিষয়টি জানতেন না | তাফবীয সংঘটিত হয়নি | | আপনি ডিভোর্সের অধিকার পেয়েছেন কি? | না, পাননি | | আজীবন বা সাময়িক কোনো অধিকার? | কোনোটিই নয় |

পরামর্শ: আপনি যদি ভবিষ্যতে ডিভোর্সের অধিকার চান, তাহলে স্বামীর সাথে বসে স্পষ্টভাবে তাফবীযের চুক্তি করুন — সাক্ষীসহ, স্পষ্ট শব্দে, এবং উভয়ের সম্মতিতে। এটি ইসলামী শরীয়তসম্মত পদ্ধতি।


আল্লাহ সর্বজ্ঞ।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.