জন্মদিন উপলক্ষে কি হাদিয়া দেওয়া যায়?

Halal and Haram · Hanafi

Question No: 6127
Questioner: Mst Jannatul Ferdous
Question Asked: 29 Sep 2026, 10:35 PM
Reviewed & Published: 29 Sep 2026, 10:40 PM
Views: 33
Tokens: 3,981
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আচ্ছালামুআলাইকুম ওয়া রহমতুল্লাহ
আমি জন্মদিন পালন করি না, পছন্দও করি না, কারো জন্মদিনের দাওয়াত বা কেকও খায় না। তবে বাসা মালিকের বাচ্চার জন্মদিনে দাওয়াত দিলে, যদিও আমি ওনাদের সরাসরি বলেছি, এইগুলো নিষেধ ও গুনাহ, আর আমি এগুলো পছন্দও করি না। কিন্তু আমরা একই ফ্লাটে থাকি। যদিও এইগুলোতে উপস্থিত থাকবো না আর খাবারও খাবো না। কিন্তু আমার প্রশ্ন হলো বাচ্চাকে কি পরে বা আগে বা ঐদিন কোনো হাদিয়া দেওয়া যাবে কি? আর এটা কি জন্মদিনের উদ্দেশ্য হবে কিনা বুঝতে পারছি না। যদিও আমার নিয়ত জন্মদিন না, আর একই বাসায় থাকি। এই পরিস্থিতিতে আমার কি করা উচিত?

Answer

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

সংক্ষিপ্ত উত্তর:
জন্মদিন উপলক্ষে হাদিয়া (উপহার) দেওয়া যাবে না; কারণ এতে জন্মদিনের অনুষ্ঠানকে স্বীকৃতি ও সহযোগিতা করা হয়। তবে জন্মদিনের অনুষ্ঠান থেকে আলাদা করে, শুধু প্রতিবেশী বা বাসা মালিকের সন্তানের সাথে স্বাভাবিক সৌজন্য ও ভালোবাসার সম্পর্ক রক্ষার নিয়তে—জন্মদিনের দিন ছাড়া অন্য কোনো দিন সাধারণ উপহার দেওয়া যেতে পারে। আর জন্মদিনের দিন বা জন্মদিন উপলক্ষে কিছু দেওয়া থেকে বিরত থাকাই safest ও দ্বীনি দৃষ্টিতে সঠিক।

বিস্তারিত:

১. ইসলামে জন্মদিন পালন করা বিদআত ও কাফিরদের অনুকরণের অন্তর্ভুক্ত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

«مَنْ تَشَبَّهَ بِقَوْمٍ فَهُوَ مِنْهُمْ»
“যে ব্যক্তি কোনো সম্প্রদায়ের সাদৃশ্য অবলম্বন করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত হবে।”
— সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৪০৩১; মুসনাদে আহমাদ: ৫১১৪

আর জন্মদিন উদযাপন মুশরিক ও বিজাতীয়দের রীতি। তাই তা পালন করা, তাতে অংশ নেওয়া, দাওয়াত দেওয়া-নেওয়া, কেক কাটা ইত্যাদি সবই নাজায়েজ।

২. কেউ যদি জন্মদিনের অনুষ্ঠানে দাওয়াত দেয়, আর আপনি তাতে শরিক না হন—এটি ভালো। তবে জন্মদিন উপলক্ষে উপহার দেওয়া মানে সেই অনুষ্ঠানকে বৈধতা দেওয়া বা তাতে উৎসাহ দেওয়া। তাই জন্মদিনের দিন বা জন্মদিনের কারণে হাদিয়া দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

৩. ফিকহের মূলনীতি হলো:

«الوسائل لها أحكام المقاصد»
“উপায়-উপকরণের বিধান উদ্দেশ্যের বিধানের মতোই।”

যেহেতু জন্মদিন পালন করা হারাম ও বিদআত, তাই জন্মদিন উপলক্ষে উপহার দেওয়াও সেই হারাম কাজকে সহযোগিতা করার শামিল। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:

«وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَىٰ ۖ وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ»
“তোমরা নেকী ও তাকওয়ার কাজে একে অপরকে সহযোগিতা করো, আর পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে সহযোগিতা করো না।”
— সূরা মায়িদা: ২

৪. তবে আপনি একই ফ্ল্যাটে থাকেন, প্রতিবেশীর হক আছে। ইসলামে প্রতিবেশীর হক আদায় করা গুরুত্বপূর্ণ। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

«مَا زَالَ جِبْرِيلُ يُوصِينِي بِالْجَارِ حَتَّى ظَنَنْتُ أَنَّهُ سَيُوَرِّثُهُ»
“জিবরীল (আ.) আমাকে প্রতিবেশীর হক সম্পর্কে এত বেশি উপদেশ দিতে থাকলেন যে, আমি ধারণা করলাম, তিনি তাকে উত্তরাধিকারী বানিয়ে দেবেন।”
— সহিহ বুখারি: ৬০১৪; সহিহ মুসলিম: ২৬২৪

তাই প্রতিবেশীর সাথে ভালো ব্যবহার, সালাম, কুশল বিনিময়, প্রয়োজনে সাহায্য করা—এসব করতে পারেন। কিন্তু জন্মদিনের অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে কিছু দেওয়া যাবে না।

৫. যদি আপনি তাদের সন্তানকে ভালোবাসার নিয়তে বা প্রতিবেশীর হক হিসেবে কিছু দিতে চান, তাহলে জন্মদিনের দিন নয়; বরং অন্য কোনো দিন সাধারণভাবে উপহার দিতে পারেন। তখন নিয়ত হবে: প্রতিবেশীর সন্তানকে খুশি করা বা প্রতিবেশীর হক আদায় করা—জন্মদিন পালন করা নয়। এতে জন্মদিনের অনুষ্ঠানকে স্বীকৃতি দেওয়া হবে না।

৬. তবে সবচেয়ে নিরাপদ ও দ্বীনি দৃষ্টিতে উত্তম হলো: জন্মদিনের দিন বা জন্মদিন উপলক্ষে কোনো উপহার না দেওয়া। কারণ মানুষ সাধারণত জন্মদিনের দিন দেওয়া উপহারকে জন্মদিনের অংশ হিসেবেই দেখে। আর আপনি নিজেই বলেছেন, আপনি জন্মদিন পছন্দ করেন না এবং গুনাহ মনে করেন। তাই নিজের নীতি ও দ্বীনি অবস্থানে অটল থাকাই ভালো।

উপদেশ:
আপনি তাদের সরাসরি বলেছেন যে এটি নিষেধ ও গুনাহ—এটি ভালো কাজ। তবে হিকমতের সাথে বলবেন, যাতে প্রতিবেশীর সম্পর্ক নষ্ট না হয়। তাদের সন্তানকে ভালোবাসার নিয়তে জন্মদিন ছাড়া অন্য দিন ছোট কোনো উপহার দিতে পারেন।

আল্লাহ তা‘আলা আমাদের সবাইকে বিদআত ও হারাম থেকে বেঁচে থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.