ঝগড়ার সময় "ডিভোর্স" বা "তালাক" শব্দ বললে কি তালাক হয়?

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 6074
Questioner: Jerry300 Misty
Question Asked: 28 Sep 2026, 03:31 PM
Reviewed & Published: 28 Sep 2026, 04:04 PM
Views: 14
Tokens: 9,607
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামুয়ালাইকুম,, আমাকে কোরআন সুন্নাহ হাদীস দ্বারা উত্তম সমাধান দিবেন
দল বুঝি না আমি
২ বছর এ বিয়ে প্রথম প্রথম বলতাম আমি তোমার হবার যোগ্য না সে বলতো ধন্যবাদ কষ্ট দিলা
প্রশ্ন ১### ঝগড়ার সময় ও বলতো একদিন ও শান্তি নেই আমি বলতাম আমার ও নেই বলতো ওকে । আমি বলি ডিভোর্স দিয়ে দেও স্বামী উত্তর এ ওকে , মনে রাইখো কথাটা,, মধ্যে মধ্যে বলতাম ডিভোর্স দেও সে বলতো ওকে আমি বলি বাড়িতে জানাও সে বলতো ওকে,, মধ্যে মধ্যে তুমি জানাও গিয়ে, আবার বলতো তুই দেও তুমি দিবা তুমি জানাও আমি দিবো না
বিশেষ দ্রষ্টব্য স্বামী বলছে সে কখনো তালাক এর নিয়ত ছিল না শুধু কথার জবাবে বলতো ,, সে জানতো সে কখনো তালাক দিবে না বাড়িতেও জানাবে না এইটাও জানতো আমি ভয়ে বাড়িতে জানাবো না,, তাই সব সময় ওকে বলতো ।। বলতো তোর ভাইকে জানা সে জানে ভাইকে আমি ভয় পাই জানাবো না
এখন কি তালাক হবে ??
প্রশ্ন ২### অনেক সময় বলতাম তোমার সাথে সংসার করবো না বলতো করিস না,, করতে বলছে কে অনেক সময় ডিভোর্স চাইতাম ঝগড়ার শেষ এ বলতো বড় লোক ছেলে দেখে বিয়ে কর , আমি কিছু দিতে পারি না,, যখন ই ডিভোর্স চাইতাম ঝগড়ার মধ্যে এমন ধরনের কথাই তুমি দিয়ে দেও,, বা বড় লোক দেখৈ বিয়ে কর , বা তোর সাথে থাকবো ,, লাস্ট এক মাস আগে ডিভোর্স

চাওয়াই অনেক বুঝায় আমাকে বলে আজ থেকে তুমি আমার বৌ না,, মুক্তি চাইলে যাই ডিভোর্স চাইলে বলতো ওকে বাড়িতে জানাও তুমি তোর ভাইকে ফোন দিয়ে সব বলবো সে জানে ভাইকে ভয় পাই ।।
এখন এইসব ধারা কয় তালাক হয়েছে
### আমি একদিন সকালে ডিভোর্স চাই বিকাল রাতে সুন্দর কথা ১১ টাই আম্মু কল দেয় আমি অসুস্থ সে না আসায় আমি বলি তোরে তালাক দিলাম মন থেকে তুই আমার জামাই না তখন সে বলে ডাক্তার দেখাও সেলাইন দেও এইসব ই,, পর দিন সকালে স্ক্রিন সর্ট দেয় বলে ওকে যাই হোক তোমার শরীর কেমন,,
বিশেষ দ্রষ্টব্য আমি কখনো জানি না নিজের উপর তালাক নিতে হয় আমি সব সময় ওরে তালাক দিতাম ওরে মুক্তি দিতাম ,,

লাস্ট প্রশ্ন আমাদের সংসার করার উপায় কি ।।
বিশেষ দ্রষ্টব্য।।। আমার স্বামী কসম করে বলে তার কখনো তালাক এর নিয়ত ছিল না তালাক বললে তালাক হবে তাই সব সময় সতর্ক থাকতো তালাক বা ছেড়ে দিছি বলতো না।।
দুই বছর এর সমস্ত মেসেজ দেখি এইসব ছাড়া কোন কথা হয়নি,, তালাক বলে নাই
সংক্ষিপ্ত বলেন যে সিদ্ধান্ত কি ,, হয়ে গেলে কী করতে হবে

Answer

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

ভূমিকা

আপনার প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর। তালাকের মাসআলা অত্যন্ত সূক্ষ্ম; একটি শব্দে বা বাক্যে তালাক পতিত হতে পারে, আবার নিয়ত ও প্রেক্ষাপট অনুযায়ী নাও হতে পারে। তাই কুরআন-সুন্নাহ ও হানাফি ফিকহের আলোকে বিস্তারিত উত্তর দিচ্ছি।


মূল নীতি (হানাফি ফিকহ অনুযায়ী)

তালাক সংঘটিত হওয়ার জন্য দুটি বিষয় বিবেচ্য:

১. স্পষ্ট (সরীহ) শব্দ: যেমন—"তালাক", "তালাক দিলাম", "তুমি তালাকপ্রাপ্তা" ইত্যাদি। এ ধরনের শব্দে নিয়ত ছাড়াই তালাক পতিত হয় (রাদ্দুল মুহতার, ৩/২৩০; আল-হিদায়া, ২/৩৫৮)।

২. ইঙ্গিতবাহী (কিনায়া) শব্দ: যেমন—"তুমি মুক্ত", "বাড়িতে চলে যাও", "তোমার সাথে সংসার করব না", "তুমি আমার বৌ না" ইত্যাদি। এ ধরনের শব্দে নিয়ত বা প্রেক্ষাপট (হাল) ছাড়া তালাক পতিত হয় না (রাদ্দুল মুহতার, ৩/২৪৯; ফাতাওয়া আলমগিরি, ১/৩৭৫)।

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তা'আলা আমার উম্মতের অন্তরের কুমন্ত্রণা, ভুল ও ভুলে যাওয়া ক্ষমা করে দিয়েছেন।" (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ২০৪৩)

অন্য হাদিসে: "কর্মসমূহ নিয়তের উপর নির্ভরশীল।" (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১)


প্রশ্ন ১-এর বিশ্লেষণ

আপনি যা বর্ণনা করেছেন:

  • "ডিভোর্স দিয়ে দেও" — এটি কিনায়া শব্দ (স্পষ্ট তালাকের শব্দ নয়)।
  • স্বামী উত্তর দিত "ওকে" — এটি তালাকের নিয়ত ছিল না, বরং কথার জবাব।
  • "তুই দে, তুমি জানাও, আমি দিব না" — এগুলোও কিনায়া ও কথার লড়াই।
  • স্বামী কসম করে বলছে: কখনো তালাকের নিয়ত ছিল না।

সিদ্ধান্ত (প্রশ্ন ১):

এই কথাবার্তায় কোনো তালাক পতিত হয়নি। কারণ—

  • "ডিভোর্স" শব্দটি ইংরেজি শব্দ; হানাফি ফিকহে এটি কিনায়া হিসেবে বিবেচিত, নিয়ত ছাড়া তালাক হয় না।
  • স্বামী স্পষ্টভাবে "তালাক দিলাম" বলেনি; শুধু "ওকে" বলেছে—এটি সম্মতিসূচক শব্দ, তালাক নয়।
  • নিয়ত ছিল না, বরং ঝগড়ার আবেগে কথার পাল্টাপাল্টি।

(দেখুন: ফাতাওয়া উসমানি, ২/৩৩০; ইমদাদুল ফাতাওয়া, ২/২৬০)


প্রশ্ন ২-এর বিশ্লেষণ

এখানে কয়েকটি বাক্য আছে:

| বাক্য | ধরন | তালাক হবে? | |--------|------|-------------| | "তোমার সাথে সংসার করব না" | কিনায়া | নিয়ত ছাড়া না | | "বড় লোক দেখে বিয়ে কর" | কিনায়া (উপহাস) | না | | "আজ থেকে তুমি আমার বৌ না" | কিনায়া | নিয়ত ছাড়া না | | "মুক্তি চাইলে যাই" | কিনায়া | না | | "তোরে তালাক দিলাম মন থেকে তুই আমার জামাই না" | সরীহ | হ্যাঁ, সম্ভবত ১ তালাক |

⚠️ গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা:

"তোরে তালাক দিলাম" — এটি সরীহ (স্পষ্ট) শব্দ। হানাফি মাজহাবে সরীহ শব্দে নিয়ত ছাড়াই তালাক পতিত হয়।

তবে এখানে দুটি বিষয় লক্ষণীয়:

  1. আপনি বলেছেন: "আমি কখনো জানি না নিজের উপর তালাক নিতে হয়" — অর্থাৎ আপনি নিজের উপর তালাক বলেছেন, স্বামীকে নয়। কিন্তু বাক্যে "তোরে তালাক দিলাম" বলেছেন—এটি স্বামীকে উদ্দেশ্য করে বলা।
  2. আপনি স্ত্রী; স্ত্রী স্বামীকে তালাক দিতে পারে না। তবে স্ত্রী যদি স্বামীর অনুমতি ছাড়া "তালাক" শব্দ বলে, তাহলে হানাফি মাজহাবে তা তালাক হিসেবে গণ্য হয় না (রাদ্দুল মুহতার, ৩/২৩২)।

সিদ্ধান্ত (প্রশ্ন ২):

আপনি স্ত্রী হিসেবে "তালাক দিলাম" বলেছেন—এটি তালাক হিসেবে পতিত হয়নি, কারণ তালাক দেওয়ার অধিকার স্বামীর। তবে স্বামী যদি আপনাকে তালাকের ক্ষমতা (তালাক-ই-তাফবিজ) দিয়ে থাকে, তাহলে ভিন্ন কথা।

স্বামী কসম করে বলছে তার নিয়ত ছিল না এবং সে কখনো "তালাক" বলেনি—তাহলে এখন পর্যন্ত কোনো তালাক পতিত হয়নি।


চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত (সংক্ষেপে)

| বিষয় | সিদ্ধান্ত | |--------|-----------| | প্রশ্ন ১-এর কথাবার্তা | ❌ তালাক হয়নি | | প্রশ্ন ২-এর কথাবার্তা | ❌ তালাক হয়নি (স্ত্রীর বলা "তালাক" গণ্য নয়) | | স্বামীর নিয়ত | তালাকের নিয়ত ছিল না | | বর্তমান অবস্থা | বিবাহ বহাল আছে |

সতর্কতা: যদি স্বামী কখনো স্পষ্টভাবে "তোমাকে তালাক দিলাম" বলে এবং নিয়ত থাকে, তাহলে ১ তালাক পতিত হবে। আর যদি তিনবার স্পষ্ট তালাক দেয়, তাহলে তিন তালাক পতিত হবে এবং হালালা ছাড়া ফিরে আসা যাবে না।


সংসার করার উপায় (শেষ প্রশ্নের উত্তর)

১. উভয়ে তাওবা করুন — ঝগড়ায় "তালাক" শব্দ ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। রাসূল ﷺ বলেছেন: "তালাক দেওয়া আল্লাহর নিকট সবচেয়ে অপছন্দনীয় হালাল বিষয়।" (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ২১৭৮)

২. "তালাক" শব্দ মুখ থেকে চিরতরে বাদ দিন — ঝগড়ার সময় এই শব্দ ব্যবহার করবেন না।

৩. ধৈর্য ও সংলাপ — কুরআন বলে: "তোমরা নিজেদের মধ্যে সন্ধি করে নাও।" (সূরা নিসা: ১২৮)

৪. পরিবারের বড়দের মধ্যস্থতা — উভয় পরিবারের সম্মানিত লোকদের মাধ্যমে সমাধান করুন।

৫. প্রয়োজনে ফিকহি পরামর্শ — স্থানীয় নির্ভরযোগ্য মুফতি/দারুল ইফতায় সরাসরি গিয়ে বিস্তারিত জানান।

৬. দাম্পত্য সুখের জন্য দুআ — রাসূল ﷺ শিখিয়েছেন: "আল্লাহুম্মা আল্লিফ বাইনা কুলুবিনা..." (তিরমিজি)

উপসংহার: আপনার বর্ণনা অনুযায়ী এখন পর্যন্ত কোনো তালাক পতিত হয়নি। তবে ভবিষ্যতে "তালাক" শব্দ মুখে আনা থেকে বিরত থাকুন এবং স্থানীয় মুফতির কাছে সরাসরি গিয়ে বিস্তারিত জানিয়ে চূড়ান্ত সমাধান নিন।

والله أعلم بالصواب


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.