সন্তান লালন-পালন, দ্বীনি ইলম ও অধিক সন্তান জন্মদান সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাই?
Family Life · Hanafi
Question No:
6022
Questioner:
umme moon
Question Asked:
27 Sep 2026, 06:47 PM
Reviewed & Published:
27 Sep 2026, 09:48 PM
Views:
36
Tokens:
14,829
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by
.
Question
আসসালামু আলাইকুম উস্তাদ।আমি আইওএম থেকে আলিম করে এখন এরাবিক ডিপ্লোমা করছি।আমার ২বছরের সন্তান রয়েছে।আমার প্রশ্নগুলো হলো-
১.ইদানীং আমি ওয়াসওয়াসায় ভূগি যে সন্তান হওয়ার ফলে যথাযথ পড়ার টাইম পাচ্ছি না,২য় বার সন্তান হলে আবার পিছিয়ে পরব।এই বিষয় গুলো নিয়ে কিভাবে দৃঢ় মনোভাব রাখতে পারি যে আমার ১ম দায়িত্ব সন্তান লালন-পালন করানো এবং মুসলিম উম্মাহ র সংখ্যা বাড়ানোর ফিকির করা,,আর দ্বীনি পড়াশোনা হলো নফল,,
অধিক ও সুসন্তান জন্মদান এর প্রতি আগ্রহী হওয়া যাবে এমন কিছু নসীহত চাচ্ছি।
২.বাসার বাইরে জরুরত ছাড়া বের হই না,হলেও চোখ অব্দি ঢেকে যাই কিন্তু এই চোখ দ্বারা অনলাইনে গুনাহ হচ্ছে।ফেইসবুক চালাই না,ইউটিউবে ক্লাস করতে গেলেও স্ক্রল করে আরো সংবাদ বা অন্যান্য ভিডিও দেখা হয় যেখানে গাইরে মাহরাম থাকে।ট্রাভেল ভিডিও, দেশের বিভিন্ন সংবাদ এগুলো দেখা কি হারাম?হারাম হলে এ থেকে পুরোপুরি পরিত্রানের উপায় চাচ্ছি যেন ২য় বার ক্লাস ছাড়া অন্য কিছু না দেখি।
৩.লজ্জা হলো তাক্বওয়ার পোশাক৷কিন্তু ঘরের লোকদের সাথে কথা বলার সময় কন্ঠস্বর অনেক উচু হয়ে যায় মাঝেমধ্যে,ইভেন নিজের মা,শাশুড়ির সাথেও।কিভাবে আল্লাহওয়ালা বান্দির মতো নিজের ইমান ঠিক রেখে সবর ধরে রাখতে পারব?
৪.মুমিন নারীর ঘরের ভেতরের পোশাক কেমন হবে?সবসময় মাথা ঢেকে রাখতে হবে যদি বাসায় একা থাকি?(প্রশ্নগুলো তাক্বওয়ার স্থর বুঝার জন্য করছি),মাস্তুরাত এ খালাম্মা রা সবসময় মাথা ঢেকে রাখতে বলেন।
৫.একই সাথে অল্প অল্প করে কুরআন হিফজ+দ্বীনি ইলম+সংসার ও সন্তান,,এই বিষয়ে কিভাবে ব্যালেন্স রাখতে পারি তার নসীহত চাচ্ছি।
৬.২বছরের বাচ্চা মাঝেমধ্যে ই প্রচুর জিদ দেখায়,এই বয়সে এটা স্বাভাবিক কিন্তু একা সারাদিন রাখতে গিয়ে মাঝেমধ্যে নিজের কন্ট্রোল হারিয়ে ফেলি এবং অবুঝ সন্তানের উপর হাত উঠে যায়,এমনকি গালেও চড় দিয়ে ফেলি,,অবুঝ সন্তানকে বিনাদোষে মারলে এর জন্য গুনাহ হবে না???যেহেতু সন্তান আল্লহর পক্ষ থেকে আমানত।কিভাবে নিজেকে বিরত রাখতে পারি।
৭.৫-৬মাস আগে আমার ননদের স্বামী অফিসের কাজে ১বার আমার বড়বোনের অফিসে যায়,,তারপর থেকে কিছুদিন পরপর শুধু আমার বোনকে ফোন দিত,,,আমার বোন ফোন না ধরলে অন্য নাম্বার থেকে দিত,,ব্লক করলেও অন্য নাম্বার থেকে দিত,,বিষয়টা আমার স্বামী আমার ননদকে জানায় যে আমার ননদের স্বামী যেন আমার বড়বোনকে ফোন না দেয় কারণ ২জন বিবাহিত।আমার বড়বোন উনাকে সব নাম্বার থেকে ব্লক করার পর ও অফিসের নাম্বার এ কল দেয়,,তখন বিষয়টা কঠোরভাবে নিষেধ করার পর আমার ননদ আমার বড়বোনকেই দোষী বলতে চায় যে ও কেন নিকাব করে না,কেন ফোন ধরল,ওর স্বামী ভালো, চাকরির জন্য আমার বোনকে অফার করেছিল কিন্তু চাকরি দেয়নি বলে এখন ওর স্বামীকে দোষী বলছি ইত্যাদি।ইভেন আমার বোনকে (শয়তানের বাচ্চা) বলে গালি দেয়,,এগুলো ফোনে আমার স্বামীকে বলেছে যখন ও বিচার দিচ্ছিল।
আমি আমার অন্তর থেকে শশুড়বাড়ির প্রত্যেক টা মানুষের খিদমাত করি,নিজেদের যথাসাধ্য সবাইকে দেই,,আমার শশুড় নেই তাই আমরাই ননদ,দেবর সবাইকে দেখি।আসলে দিল থেকে আপ্যায়ন করি।কিন্তু এই ঘটনার পর থেকে আমার ওই ননদ আসলে আমি রান্না করলেও দিল থেকে করি না,,করতে পারি না,,ওর সাথে আগে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকলেও এখন আগেরমতো কথা বলতে পারি না,,দেখলেই মন চায় শুধু জিগ্যেস করি কেন আমার বাবা-মা সহ সবাইকে গালি দিল কিন্তু এটা জিগ্যেস করলে সংসারে ঝগড়া বাধবে+ফিতনা ছড়াবে।
উস্তাদ,আমার কি করা উচিত? অন্তর টা কিভাবে পরিশুদ্ধ করব?এই ঘটনা আমার বাবার বাড়ির কাওকে বলিনি,,,
কুরআন ও হাদিসের আলোকে বিস্তারিত উত্তর আশা করছি,যেন নিজের নফসের উপর কন্ট্রোল রাখতে পারি এবং অপরিশুদ্ধ ক্বলব কে পরিশুদ্ধ করতে পারি।
১.ইদানীং আমি ওয়াসওয়াসায় ভূগি যে সন্তান হওয়ার ফলে যথাযথ পড়ার টাইম পাচ্ছি না,২য় বার সন্তান হলে আবার পিছিয়ে পরব।এই বিষয় গুলো নিয়ে কিভাবে দৃঢ় মনোভাব রাখতে পারি যে আমার ১ম দায়িত্ব সন্তান লালন-পালন করানো এবং মুসলিম উম্মাহ র সংখ্যা বাড়ানোর ফিকির করা,,আর দ্বীনি পড়াশোনা হলো নফল,,
অধিক ও সুসন্তান জন্মদান এর প্রতি আগ্রহী হওয়া যাবে এমন কিছু নসীহত চাচ্ছি।
২.বাসার বাইরে জরুরত ছাড়া বের হই না,হলেও চোখ অব্দি ঢেকে যাই কিন্তু এই চোখ দ্বারা অনলাইনে গুনাহ হচ্ছে।ফেইসবুক চালাই না,ইউটিউবে ক্লাস করতে গেলেও স্ক্রল করে আরো সংবাদ বা অন্যান্য ভিডিও দেখা হয় যেখানে গাইরে মাহরাম থাকে।ট্রাভেল ভিডিও, দেশের বিভিন্ন সংবাদ এগুলো দেখা কি হারাম?হারাম হলে এ থেকে পুরোপুরি পরিত্রানের উপায় চাচ্ছি যেন ২য় বার ক্লাস ছাড়া অন্য কিছু না দেখি।
৩.লজ্জা হলো তাক্বওয়ার পোশাক৷কিন্তু ঘরের লোকদের সাথে কথা বলার সময় কন্ঠস্বর অনেক উচু হয়ে যায় মাঝেমধ্যে,ইভেন নিজের মা,শাশুড়ির সাথেও।কিভাবে আল্লাহওয়ালা বান্দির মতো নিজের ইমান ঠিক রেখে সবর ধরে রাখতে পারব?
৪.মুমিন নারীর ঘরের ভেতরের পোশাক কেমন হবে?সবসময় মাথা ঢেকে রাখতে হবে যদি বাসায় একা থাকি?(প্রশ্নগুলো তাক্বওয়ার স্থর বুঝার জন্য করছি),মাস্তুরাত এ খালাম্মা রা সবসময় মাথা ঢেকে রাখতে বলেন।
৫.একই সাথে অল্প অল্প করে কুরআন হিফজ+দ্বীনি ইলম+সংসার ও সন্তান,,এই বিষয়ে কিভাবে ব্যালেন্স রাখতে পারি তার নসীহত চাচ্ছি।
৬.২বছরের বাচ্চা মাঝেমধ্যে ই প্রচুর জিদ দেখায়,এই বয়সে এটা স্বাভাবিক কিন্তু একা সারাদিন রাখতে গিয়ে মাঝেমধ্যে নিজের কন্ট্রোল হারিয়ে ফেলি এবং অবুঝ সন্তানের উপর হাত উঠে যায়,এমনকি গালেও চড় দিয়ে ফেলি,,অবুঝ সন্তানকে বিনাদোষে মারলে এর জন্য গুনাহ হবে না???যেহেতু সন্তান আল্লহর পক্ষ থেকে আমানত।কিভাবে নিজেকে বিরত রাখতে পারি।
৭.৫-৬মাস আগে আমার ননদের স্বামী অফিসের কাজে ১বার আমার বড়বোনের অফিসে যায়,,তারপর থেকে কিছুদিন পরপর শুধু আমার বোনকে ফোন দিত,,,আমার বোন ফোন না ধরলে অন্য নাম্বার থেকে দিত,,ব্লক করলেও অন্য নাম্বার থেকে দিত,,বিষয়টা আমার স্বামী আমার ননদকে জানায় যে আমার ননদের স্বামী যেন আমার বড়বোনকে ফোন না দেয় কারণ ২জন বিবাহিত।আমার বড়বোন উনাকে সব নাম্বার থেকে ব্লক করার পর ও অফিসের নাম্বার এ কল দেয়,,তখন বিষয়টা কঠোরভাবে নিষেধ করার পর আমার ননদ আমার বড়বোনকেই দোষী বলতে চায় যে ও কেন নিকাব করে না,কেন ফোন ধরল,ওর স্বামী ভালো, চাকরির জন্য আমার বোনকে অফার করেছিল কিন্তু চাকরি দেয়নি বলে এখন ওর স্বামীকে দোষী বলছি ইত্যাদি।ইভেন আমার বোনকে (শয়তানের বাচ্চা) বলে গালি দেয়,,এগুলো ফোনে আমার স্বামীকে বলেছে যখন ও বিচার দিচ্ছিল।
আমি আমার অন্তর থেকে শশুড়বাড়ির প্রত্যেক টা মানুষের খিদমাত করি,নিজেদের যথাসাধ্য সবাইকে দেই,,আমার শশুড় নেই তাই আমরাই ননদ,দেবর সবাইকে দেখি।আসলে দিল থেকে আপ্যায়ন করি।কিন্তু এই ঘটনার পর থেকে আমার ওই ননদ আসলে আমি রান্না করলেও দিল থেকে করি না,,করতে পারি না,,ওর সাথে আগে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকলেও এখন আগেরমতো কথা বলতে পারি না,,দেখলেই মন চায় শুধু জিগ্যেস করি কেন আমার বাবা-মা সহ সবাইকে গালি দিল কিন্তু এটা জিগ্যেস করলে সংসারে ঝগড়া বাধবে+ফিতনা ছড়াবে।
উস্তাদ,আমার কি করা উচিত? অন্তর টা কিভাবে পরিশুদ্ধ করব?এই ঘটনা আমার বাবার বাড়ির কাওকে বলিনি,,,
কুরআন ও হাদিসের আলোকে বিস্তারিত উত্তর আশা করছি,যেন নিজের নফসের উপর কন্ট্রোল রাখতে পারি এবং অপরিশুদ্ধ ক্বলব কে পরিশুদ্ধ করতে পারি।
Answer
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। জবাব,
১. সন্তান লালন-পালন, দ্বীনি ইলম ও অধিক সন্তান জন্মদানের প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ:
- সন্তান লালন-পালন নারীর প্রাথমিক ও শ্রেষ্ঠ দায়িত্ব: ইসলামে একজন মুসলিম নারীর প্রধান ও অন্যতম শ্রেষ্ঠ দ্বীনি দায়িত্ব হলো নিজ গৃহের পরিচালনা, সন্তান লালন-পালন এবং সুসন্তান হিসেবে তাদেরকে গড়ে তোলা [দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ৫০–৫২; ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (১৯শ খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১৬৩]।
- অধিক সন্তান জন্মদানের ফযীলত: রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অধিক সন্তান জন্মদানকারী ও পিয়াসী নারীকে বিবাহ করতে উৎসাহিত করেছেন এবং কিয়ামতের দিন উম্মতের সংখ্যাধিক্য নিয়ে গর্ব প্রকাশ করবেন বলে হাদীসে বর্ণিত হয়েছে [দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ২৭৭]। সুসন্তান দুনিয়াতে মা-বাবার জন্য রহমত এবং আখেরাতে সদকায়ে জারিয়াহ ও নাজাতের উপায়।
- ইলম অর্জন ও সংসার জীবনের ব্যালেন্স: দ্বীনি ইলম অর্জন করা অবশ্য ফরয হলেও নারীদের ক্ষেত্রে তা নিজ সাধ্য, সংসার ও সন্তানের দায়িত্ব পালনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে সম্পাদন করা উচিত। সন্তানের লালন-পালন নিজেই একটি মহান ইবাদত। তাই সন্তান হওয়ার কারণে ইলম অর্জনে কিছুটা বিলম্ব হলেও মন ছোট না করে একে ইবাদত মনে করে দৃঢ় থাকা উচিত [দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ৫০]।
২. গ্যাজেট/অনলাইনে অহেতুক ভিডিও দেখা ও গায়রে মাহরাম থেকে দৃষ্টি হিফাজত:
- শরয়ী হুকুম: প্রয়োজন ছাড়া ইউটিউব বা ফেসবুকে কোনো গায়রে মাহরাম পুরুষ বা নারীর ভিডিও (যেমন: ট্রাভেল ভিডিও, সংবাদ বা অনর্থক কন্টেন্ট) দেখা ও উপভোগ করা শরীআতে নিষিদ্ধ এবং চোখের যিনা/পাপের অন্তর্ভুক্ত [দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ৪৩১; ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (১৯শ খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১৭০]। কুরআনে মুমিন নারীদের দৃষ্টি অবনত রাখার স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে (সূরা নূর: ৩১)।
- পরিত্রাণের উপায়: ১. ইউটিউবে কেবল নির্দিষ্ট ক্লাসের লিঙ্ক বা প্লেলিস্টে সরাসরি প্রবেশ করুন এবং হোমপেজ/ফিড স্ক্রল করা বন্ধ রাখুন। ২. পড়ার বা ক্লাসের সময় ছাড়া ডিভাইস থেকে দূরে থাকুন। ৩. "আল্লাহ তা'আলা আমাকে সবসময় দেখছেন" (মুরাকাবাহ)—এই অনুভূতি অন্তরে জাগ্রত রাখুন [দরসুল ফিকহ (২য় খণ্ড), পৃষ্ঠা: ৩৫৫]।
৩. মা ও শাশুড়ির সাথে কন্ঠস্বর উঁচু হওয়া এবং সবর ও ইমান ঠিক রাখার উপায়:
- মা ও বয়স্কদের সাথে উচ্চকণ্ঠে কথা বলার হুকুম: মা-বাবা এবং মুরব্বীদের সামনে কন্ঠস্বর উঁচু করা ইসলামে অত্যন্ত গর্হিত ও গুনাহের কাজ। আল্লাহ তা'আলা মা-বাবার সাথে 'উফ' শব্দ করতেও নিষেধ করেছেন এবং নম্রভাবে কথা বলার নির্দেশ দিয়েছেন (সূরা বনী ইসরাঈল: ২৩) [ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (১৯শ খণ্ড), পৃষ্ঠা: ৩৮, ৫০]। শাশুড়িও মায়ের সমতুল্য মান্যবর ব্যক্তি।
- সবর ও মেজাজ নিয়ন্ত্রণের উপায়: ১. রাগের বা বিরক্তির পরিস্থিতি তৈরি হলে সাথে সাথে নীরবতা অবলম্বন করুন। ২. আঊযু বিল্লাহ পাঠ করুন এবং স্থান পরিবর্তন করুন। ৩. তাঁদের খেদমত ও সহনশীলতাকে জান্নাত লাভের উসীলা মনে করুন [ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (১৯শ খণ্ড), পৃষ্ঠা: ৫০; দরসুল ফিকহ (২য় খণ্ড), পৃষ্ঠা: ৩৫৭]।
৪. মুমিন নারীর ঘরের পোশাক ও মাথা ঢেকে রাখার বিধান:
- একাকী ঘরে থাকার সময়: একাকী নির্জনে বা কেবল স্বামীর সামনে থাকলে মাথা ঢেকে রাখা ফরয বা ওয়াজিব নয় [ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (১৯শ খণ্ড), পৃষ্ঠা: ৩০৮, ৩১০]। তবে তাকওয়া ও শরয়ী আদাব হিসেবে একাকী হলেও লজ্জা ও শালীনতা রক্ষা করে চলা উত্তম [দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ৪১৩]।
- মাহরামদের সামনে পোশাকের সীমানা: নিজের সন্তান, পিতা বা ভাইদের সামনে নারীদের সতর হলো—নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত এবং পেট, পিঠ, বুক ইত্যাদি ঢেকে রাখা ওয়াজিব। পাতলা বা আঁটসাঁট পোশাক মাহরামের সামনেও পরা নাজায়েয [দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ৪০৭–৪০৮; ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (১৯শ খণ্ড), পৃষ্ঠা: ৩১০]।
- মাস্তুরাতের পরামর্শের তাৎপর্য: মাস্তুরাতের খালাম্মাগণ যে মাথা ঢেকে রাখার কথা বলেন, তা ফরয-ওয়াজিবের স্তরের জন্য নয়; বরং তাকওয়া, লজ্জা ও সার্বক্ষণিক শরয়ী আদাব বজায় রাখার চমৎকার নসীহত হিসেবে প্রযোজ্য [ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (১৯শ খণ্ড), পৃষ্ঠা: ৩০৮]।
৫. হিফজ, দ্বীনি ইলম, সংসার ও সন্তান সামলানোর ব্যালেন্স:
- রুটিন ও ক্বালেলুন দায়িম (কম কিন্তু নিয়মিত) নীতি: ১. প্রতিদিন ভোরের সতেজ সময়ে (ফজরের পর) হিফজ ও পড়ালেখার জন্য নির্দিষ্ট ৩০-৪৫ মিনিট বরাদ্দ রাখুন। ২. প্রতিদিন মাত্র ২-৩ লাইন হিফজ এবং পূর্বে হিফজ করা অংশের সামান্য রিভিশন অব্যাহত রাখুন। ৩. রান্নাবান্না বা সন্তানকে ঘুম পাড়ানোর সময়ে কানে হেডফোন ছাড়া বা মুখে মুখে তিলাওয়াত ও জিকির আউড়াতে পারেন।
- তাসবীহে ফাতেমীর আমল: রাতে ঘুমানোর পূর্বে ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ, ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ এবং ৩৪ বার আল্লাহু আকবার পাঠ করুন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হযরত ফাতেমা (রাযি.)-কে সংসারের ক্লান্তি দূর করা ও শক্তি অর্জনের জন্য এই তাসবীহ শিক্ষা দিয়েছিলেন, যা খাদেমের চেয়েও উত্তম [দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ৫০–৫২]।
৬. অবুঝ সন্তানকে রাগ নিয়ন্ত্রণে না রেখে চড়/আঘাত করার ফায়সালা ও প্রতিকার:
- গালে বা মুখে চড় মারার কঠোর নিষেধাজ্ঞা: অবুঝ বা বালেগ যেকোনো মানুষের গালে বা মুখে আঘাত করা ইসলামে সরাসরি নাজায়েয ও হারাম (
النهي عن ضرب الوجه) [ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (১৪শ খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১২৬, ১৫২]। - সন্তানের প্রতি অন্যায্য আঘাতের হুকুম: সন্তান আল্লাহর দেওয়া আমানত। রাগের বশে অবুঝ সন্তানকে অন্যায়ভাবে মারধর করা জুলুম ও গুনাহে কবিরা [ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (১৪শ খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১২৬; দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ৩৭৬]।
- প্রতিকার ও আত্মনিয়ন্ত্রণ: ১. অতীতের ভুল আচরণের জন্য আল্লাহর কাছে ইস্তিগফার করুন এবং সন্তানের জন্য দোয়া করুন। ২. রাগের মুহূর্তে আঘাত করার বদলে সন্তানকে অন্য ঘরে সরিয়ে দিন বা নিজে সেখান থেকে সরে যান। ৩. মনে রাখবেন—অবুঝ সন্তানের জিদ স্বাভাবিক; তাকে ভালোবেসে ও ধৈর্য ধরে শেখানোই নববী পদ্ধতি [দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ৩৭৬]।
৭. ননদের অন্যায্য আচরণ, গালিগালাজ ও কলব পরিশুদ্ধ করার উপায়:
- গালিগালাজ ও অপবাদের শরয়ী হুকুম: আপনার বড় বোনকে অন্যায়ভাবে দোষারোপ করা, গালিমন্দ করা ("শয়তানের বাচ্চা" ইত্যাদি বলা) এবং খামোখা অপবাদ দেওয়া ফিসক ও মারাত্মক কবিরা গুনাহ [ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (১৪শ খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১১০, ১১১]। হাদীস শরীফে এসেছে: “মুসলিমকে গালি দেওয়া ফিসক এবং তাকে হত্যা করা কুফর।”
- আপনার করণীয় ও মেহমানদারী: ১. আপনি যে ঝগড়া ও ফিতনা এড়াতে নীরবতা অবলম্বন করেছেন এবং বাবার বাড়ির কাউকে বলেননি—এটি অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তা, তাকওয়া ও ধৈর্যশীলতার পরিচয় হয়েছে [দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ৪১৯]। ২. ননদ আসলে তার প্রতি অন্তরে ক্ষোভ থাকা সত্ত্বেও বাহ্যিক মেহমানদারী ও আপ্যায়ন চালিয়ে যাওয়া সওয়াবের কাজ।
- অন্তর পরিশুদ্ধ (তযকিয়া) করার উপায়: ১. মনে চিন্তা করুন—প্রত্যেক ব্যক্তি তার নিজ মুখের কথা ও আচরণের জন্য আল্লাহর কাছে দায়ী হবে। ২. কুরআনের বাণী স্মরণ করুন: “যারা রাগ সংবরণ করে এবং মানুষকে ক্ষমা করে, আল্লাহ তাদের ভালোবাসেন” (সূরা আল-ইমরান: ১৩৪) [দরসুল ফিকহ (২য় খণ্ড), পৃষ্ঠা: ৩৫৫]। ৩. ননদের হেদায়েতের জন্য গোপনে দোয়া করুন এবং নিজের অন্তরের অশান্তি দূর করার জন্য আল্লাহর কাছে “আল্লাহুম্মা তাহহির ক্বালবী” (হে আল্লাহ! আমার অন্তরকে পবিত্র করে দাও) বলে দোয়া করতে থাকুন [দরসুল ফিকহ (২য় খণ্ড), পৃষ্ঠা: ৪১১, ৪২৯]।
সংযুক্ত কিতাব, ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর:
১. দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড):
- পৃষ্ঠা: ৫০–৫২: (অধ্যায়: হযরত ফাতেমা রাযি.-এর দাম্পত্য জীবন, গৃহস্থালি কাজ ও তাসবীহে ফাতেমীর বিবরণ) [দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ৫০, ৫১, ৫২]।
- পৃষ্ঠা: ২৭৭: (অধ্যায়: বিবাহ ও জন্মনিয়ন্ত্রণ — অধিক সন্তান জন্মদানের ফযীলত) [দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ২৭৭]।
- পৃষ্ঠা: ৩৭৬: (অধ্যায়: হত্যা ও আঘাতের মূলনীতি — জবেহ ও শাস্তিতে ইহসান ও মুখে আঘাত না করার বিবরণ) [দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ৩৭৬]।
- পৃষ্ঠা: ৪০৭–৪০৮ & ৪১৩: (অধ্যায়: পোশাক ও সতর — নারীদের সতর, কাপড়ের ঘনত্ব ও একাকী থাকার আদাব) [দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ৪০৭, ৪০৮, ৪১৩]।
- পৃষ্ঠা: ৪১৯: (অধ্যায়: আমর বিল মা'রূফ — ফিতনা এড়াতে নীরবতা ও ধৈর্যের ফতোয়া) [দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ৪১৯]।
- পৃষ্ঠা: ৪৩১–৪৩২: (অধ্যায়: ডিজিটাল মিডিয়া ও প্রযুক্তি — পরপুরুষ দেখা ও দৃষ্টি সংযত রাখার শরয়ী আদেশ) [দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ৪৩১, ৪৩২]।
২. দরসুল ফিকহ (২য় খণ্ড):
- পৃষ্ঠা: ৩৫৫–৩৫৭: (অধ্যায়: আত্মশুদ্ধি ও আখলাক — রাগ সংবরণ, অন্তরের হিংসা-বিদ্বেষ দূর করা ও ভালো ব্যবহারের ফযীলত) [দরসুল ফিকহ (২য় খণ্ড), পৃষ্ঠা: ৩৫৫, ৩৫৬, ৩৫৭]।
- পৃষ্ঠা: ৪১১ & ৪২৯: (অধ্যায়: গীবত, গালিগালাজ ও অন্তরের অসৎ চিন্তা থেকে বাঁচার উপায়) [দরসুল ফিকহ (২য় খণ্ড), পৃষ্ঠা: ৪১১, ৪২৯]।
৩. ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (১৪শ খণ্ড):
- পৃষ্ঠা: ১১০–১১১: (অধ্যায়: বাবুত তা'যীর — গালি দেওয়ার শাস্তি ও ফিসক হওয়া) [ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (১৪শ খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১১০, ১১১]।
- পৃষ্ঠা: ১২৬ & ১৫২: (অধ্যায়: বাবুল ক্বিসাস ওয়াল জেনায়াত — শিশুদের গালে চড় মারা ও অন্যায় আঘাত করার নাজায়েয হওয়ার বিবরণ) [ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (১৪শ খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১২৬, ১৫২]।
৪. ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (১৯শ খণ্ড):
- পৃষ্ঠা: ৩৮ & ৫০: (অধ্যায়: বাব حقوق الوالدين — মা-বাবার সামনে উঁচু আওয়াজে কথা বলার নিষিদ্ধতা) [ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (১৯শ খণ্ড), পৃষ্ঠা: ৩৮, ৫০]।
- পৃষ্ঠা: ১৬৩: (অধ্যায়: বাবুল হিজাব — নারীদের ঘরের ভেতরের দায়িত্ব ও ভূমিকা) [ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (১৯শ খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১৬৩]।
- পৃষ্ঠা: ১৭০: (অধ্যায়: বাবুল হিজাব — গায়রে মাহরাম পুরুষ দেখা ও পর্দা করার বিধান) [ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (১৯শ খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১৭০]।
- পৃষ্ঠা: ৩০৮, ৩১০ & ৩৩২: (অধ্যায়: বাবুল লিবাস — মহিলাদের ঘরের পোশাক, মাহরামের সামনে সতর ও মাথা আবৃত রাখার আদাব) [ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (১৯শ খণ্ড), পৃষ্ঠা: ৩০৮, ৩১০, ৩৩২]।
৫. ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (২৪শ খণ্ড):
- পৃষ্ঠা: ২২৭ & ২৩৫: (অধ্যায়: বাবুল মুআশারাত — গীবত, চুগলখুরী ও আত্মীয়দের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখার মাসআলা) [ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (২৪শ খণ্ড), পৃষ্ঠা: ২২৭, ২৩৫]।
আল্লাহই ভালো জানেন।