VST সফটওয়্যার ও কুফরি-শিরকি প্রিসেট নিয়ে ইসলামি বিধান: মিউজিক টিউটোরিয়ালে VST প্রোমোট করা কি শিরক-কুফর হিসেবে গণ্য হবে?

Faith and Belief · Hanafi

Question No: 6047
Questioner: Meraj Melody
Question Asked: 28 Sep 2026, 03:53 AM
Reviewed & Published: 28 Sep 2026, 04:08 AM
Views: 12
Tokens: 10,863
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম।
আমি ইউটিউবে FL Studio ব্যবহার করে মিউজিক কম্পোজিশন টিউটোরিয়াল তৈরি করি এবং সেখান থেকে আয় করি (যেহেতু মিউজিক তৈরি করা সম্পূর্ণ হারাম, তাই আমি এই পেশা ছেড়ে দ্রুত হালাল উপার্জনের পথে যাওয়ার চেষ্টা করছি)। উল্লেখ্য, FL Studio হলো একটি মিউজিক প্রোডাকশন সফটওয়্যার—যা মূলত মিউজিক তৈরি এবং অডিও রেকর্ডিং ও এডিটিংয়ের কাজে ব্যবহৃত হয় (অনেকে এটি দিয়ে ইসলামিক নাশিদও রেকর্ড করে থাকেন, তবে আমি তা করি না, আমি কেবল মিউজিকই তৈরি করি)।
আমার একটি গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে এই টিউটোরিয়ালে ব্যবহৃত VST নিয়ে। VST-এর পূর্ণরূপ হলো Virtual Studio Technology। বাস্তব জীবনে আমরা যেসব বাদ্যযন্ত্র (যেমন: গিটার, হার্প ইত্যাদি) দেখি, VST হলো সেগুলোরই ভার্চুয়াল বা সফটওয়্যার ভার্সন। এছাড়া এতে কম্পিউটার-জেনারেটেড বিভিন্ন ইলেকট্রনিক টোনও থাকে, আবার বিভিন্ন রেকর্ড করা অডিও ওয়েভ (Audio wave)-ও থাকে। এই VST সফটওয়্যারগুলোকে FL Studio-তে লোড করেই মূলত মিউজিক তৈরি করতে হয়।
আমি জানি যে, ইসলামে মিউজিক তৈরি করা হারাম বা নিষিদ্ধ। কিন্তু আমার বর্তমান প্রশ্নটি এটি হারাম হওয়ার বিষয়ে নয়; বরং আমার ভয় হলো, আমার এই টিউটোরিয়াল বানানোর প্রক্রিয়ার কারণে আমি পরোক্ষভাবে 'শিরক' বা 'কুফর'-এ লিপ্ত হয়ে যাচ্ছি কি না!
কারণ, এই VST সফটওয়্যারগুলোর ভেতরে শত শত Preset (আগে থেকে সেভ করা সাউন্ড) থাকে, যার মধ্যে হয়তো কিছু প্রিসেটের নামে শিরক বা কুফরের ইঙ্গিত বা রেফারেন্স থাকতে পারে।
সমস্যা হলো, ভিডিওতে মিউজিক তৈরি দেখানোর সময় আমি মূল VST সফটওয়্যারটিকে বেশ কার্যকর বলে দর্শকদের কাছে রেকমেন্ড বা প্রমোট করি। ভিডিওতে আমি কেবল সেই 'সেফ (Safe)' প্রিসেটগুলোই ব্যবহার করি, যেগুলোর নাম বা টোনের মধ্যে শিরক বা কুফরি জাতীয় কোনো শব্দ বা উপাদান নেই। এমনকি টিউটোরিয়াল রেকর্ড করার সময় VST-এর প্রিসেট ব্যাংক ওপেন করলে যদি কখনো কোনো শিরক বা কুফরি নামের প্রিসেট স্ক্রিনে সামনে চলে আসে, আমি এডিটিংয়ের সময় তা ব্লার (Blur) বা ঝাপসা করে দিই, যেন দর্শকরা সেসব আপত্তিকর নাম দেখতে না পায়। কিন্তু তা সত্ত্বেও, আমার রেকমেন্ডেশন পেয়ে কেউ যখন নিজে সফটওয়্যারটির মূল নির্মাতা কোম্পানির ওয়েবসাইট থেকে এটি ডাউনলোড করবে, তখন সে স্বাভাবিকভাবেই ভেতরের সেই আপত্তিকর প্রিসেটগুলোর অ্যাক্সেস পেয়ে যাবে।
আমার মূল প্রশ্ন হলো: আমি একটি ভিডিওতেই মূল VST সফটওয়্যারটিকে ভালো বলে প্রমোট করছি এবং সেটি দিয়ে মিউজিক কম্পোজ করা শেখাচ্ছি। সফটওয়্যারটির ভেতরে শিরক/কুফর নামের প্রিসেট থাকার কারণে, এভাবে মূল সফটওয়্যারটি রেকমেন্ড করা কি শরীয়তের দৃষ্টিতে পরোক্ষভাবে শিরক বা কুফর প্রমোট করা হিসেবে গণ্য হবে? এই কাজের কারণে কি আমি শিরক বা কুফরে লিপ্ত হয়ে যাব?
(এখানে পুনরায় স্পষ্ট করছি যে, আমি আমার ভিডিওতে কখনোই শিরক বা কুফরি নামের বা অর্থের কোনো প্রিসেট ব্যবহার বা প্রমোট করি না; আমি অত্যন্ত সতর্কতার সাথে সম্পূর্ণ নিরাপদ বা Safe নামের প্রিসেট ব্যবহার করেই টিউটোরিয়ালগুলো তৈরি করি। এমনকি যদি ভুলেও আমার স্ক্রিনে কোনো শিরক বা কুফরি শব্দ চলে আসে, আমি ইউটিউবের নিজস্ব ব্লার (Blur) ফাংশন দিয়ে তা ব্লার করে দিই, যাতে দর্শক ওই ব্লার করা অংশের ভেতরের লেখাটি কোনোভাবেই দেখতে না পায়।)

Answer

উত্তর (সংক্ষেপে):

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

আপনার বর্ণনা অনুযায়ী—আপনি নিজে শিরক/কুফরি নামের কোনো প্রিসেট ব্যবহার বা প্রচার করেন না, বরং সেগুলো স্ক্রিনে এলে ব্লার করে দেন—তাহলে শুধু VST সফটওয়্যারটির কার্যকারিতা ও ব্যবহারবিধি শেখানোর কারণে আপনি শিরক বা কুফরে লিপ্ত হবেন না। কেননা শিরক-কুফর হলো একটি বিশ্বাস ও স্বীকৃতির বিষয় (ইতিকাদ), আর আপনি তা অন্তরে বিশ্বাসও করেন না, মুখেও স্বীকার করেন না, এমনকি প্রকাশ্যভাবেও তার প্রচার করছেন না।

তবে দুটি বিষয় স্পষ্ট রাখা জরুরি:

১. মূল সমস্যা মিউজিকই। আপনি নিজেই স্বীকার করেছেন যে মিউজিক তৈরি করা হারাম এবং আপনি এই পেশা ছাড়ার চেষ্টা করছেন। এটাই আসল ও বড় গুনাহ। কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন:

وَمِنَ النَّاسِ مَن يَشْتَرِي لَهْوَ الْحَدِيثِ لِيُضِلَّ عَن سَبِيلِ اللَّهِ "মানুষের মধ্যে কেউ কেউ আছে যারা আল্লাহর পথ থেকে বিভ্রান্ত করার জন্য 'লাহওয়াল হাদীস' (অর্থহীন কথাবার্তা/গান-বাজনা) ক্রয় করে।" (সূরা লুকমান: ৬)

হাদীসে রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

لَيَكُونَنَّ مِنْ أُمَّتِي أَقْوَامٌ يَسْتَحِلُّونَ الْحِرَ وَالْحَرِيرَ وَالْخَمْرَ وَالْمَعَازِفَ "আমার উম্মতের মধ্যে এমন লোক হবে যারা ব্যভিচার, রেশম, মদ ও বাদ্যযন্ত্রকে হালাল মনে করবে।" (সহীহ বুখারী, মুআল্লাক সূত্রে; সুনানে আবু দাউদ: ৪০৩৯)

সুতরাং মিউজিক কম্পোজিশন শেখানো ও তা থেকে আয় করা—এগুলো থেকে বিরত থাকাই আপনার জন্য অগ্রগণ্য কর্তব্য। আপনি যে হালাল উপার্জনের পথে যাওয়ার চেষ্টা করছেন, এটি প্রশংসনীয়; আল্লাহ তাআলা আপনার জন্য সহজ করুন।

২. সফটওয়্যার প্রোমোটের বিধান: কোনো বৈধ (মুবাহ) জিনিসের ভেতরে যদি হারাম বা কুফরি কোনো উপাদান মিশ্রিত থাকে, আর আপনি শুধু তার বৈধ দিকটি শেখান এবং হারাম দিকটি গোপন/ব্লার করেন—তবে শুধু সেটির বৈধ ব্যবহার শেখানোর কারণে আপনি কুফর-শিরকে লিপ্ত হবেন না। কারণ কুফর-শিরক হলো ইতিকাদের বিষয়, আর আপনি তা বিশ্বাস করেন না। ইমাম ইবনে আবিদীন (রহ.) "রাদ্দুল মুহতার"-এ উল্লেখ করেছেন যে, কুফর-শিরক মূলত অন্তরের বিশ্বাস ও মুখের স্বীকৃতির সাথে সম্পৃক্ত; নিছক কোনো বস্তুর অস্তিত্ব বা তার ভেতরে থাকা কোনো শব্দের উপস্থিতি দ্বারা কেউ কাফির-মুশরিক হয়ে যায় না। (রাদ্দুল মুহতার: ৪/২২১ প্রসঙ্গ)

তবে সতর্কতার বিষয় হলো—যদি আপনি সফটওয়্যারটির এমন কোনো বৈশিষ্ট্য বা প্রিসেটের প্রশংসা করেন যা সরাসরি শিরক-কুফরিকে সমর্থন করে বা তার প্রতি আহ্বান জানায়, তাহলে তা নাজায়েজ হবে। কিন্তু আপনি যেহেতু কেবল কার্যকারিতা ও নিরাপদ প্রিসেট ব্যবহারের কথা বলেন এবং আপত্তিকর অংশ ব্লার করেন—এতে আপনার উপর শিরক-কুফরের দায় বর্তাবে না।

উপদেশ:

  • মিউজিকের কাজ সম্পূর্ণভাবে ছেড়ে দেওয়ার জন্য দৃঢ় সংকল্প করুন এবং আল্লাহর কাছে তাওবা করুন।
  • হালাল উপার্জনের জন্য দোয়া করুন: اللَّهُمَّ اكْفِنِي بِحَلَالِكَ عَنْ حَرَامِكَ وَأَغْنِنِي بِفَضْلِكَ عَمَّنْ سِوَاكَ
  • সফটওয়্যার প্রোমোটের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক থাকুন—যেমন প্রিসেটের নাম উল্লেখ না করা, শুধু কার্যকারিতা নিয়ে কথা বলা।

والله أعلم بالصواب



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.