ঈমান নিয়ে
Faith and Belief · Hanafi
Question
Answer
১. মজা করে "আমি মুসলিম না" বা কুফরী বাক্য বলার কারণে ঈমান যাওয়ার হুকুম:
- শরয়ী সিদ্ধান্ত: কোনো ব্যক্তি যদি হাসি-ঠাট্টা, কৌতুক বা মজা করেও বলে "আমি মুসলিম না" বা নিজেকে শয়তান/অর্ধেক শয়তান বলে ইসলাম থেকে নিজেকে খারিজ ঘোষণা করে, তবে শরীয়তের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তার ঈমান চলে যাবে এবং সে কাফের/মুরতাদ হিসেবে গণ্য হবে।
- শরয়ী ব্যাখ্যা: ইসলামি শরীআতে ঈমান ও কুফরের বিষয়গুলো অত্যন্ত স্পর্শকাতর। কৌতুকবশত বা ঠাট্টা করে হলেও কুফরী বাক্য (কালমা-এ-কুফর) মুখে উচ্চারণ করলে শরীয়তের দৃষ্টিকোণ থেকে তা কার্যকর হয়ে যায় এবং ঈমান নষ্ট হয়ে যায়। হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, কিছু স্পর্শকাতর বিষয় এমন রয়েছে যা পরিহাস বা ঠাট্টা করে বললেও তা কার্যকর গণ্য হয়। তাই অন্তরে যাই থাকুক, মুখে ইসলাম অস্বীকারমূলক বাক্য বললে জাহেরী (বাহ্যিক) ফতোয়া অনুযায়ী ঈমান চলে যায়।
২. স্ত্রীর সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক (নিকাহ) নষ্ট হওয়ার হুকুম:
- শরয়ী সিদ্ধান্ত: স্বামী বা স্ত্রীর মধ্য থেকে কেউ কুফরী বাক্য উচ্চারণ করে ইসলাম থেকে বের হয়ে গেলে (মুরতাদ হলে) তাদের বৈবাহিক সম্পর্ক (নিকাহ) সাথে সাথেই ফাসখ বা বাতিল হয়ে যায়।
- স্ত্রী সম্পর্কের ফায়সালা: নিকাহ ফাসখ হয়ে যাওয়ার পর উক্ত স্ত্রীর সাথে স্বামী হিসেবে বসবাস বা মেলামেশা করা সম্পূর্ণ হারাম ও ব্যভিচার (যিনা) সমতুল্য কবিরা গুনাহ।
৩. অনতিবিলম্বে করণীয় ও প্রতিকার (তাজদীদে ঈমান ও তাজদীদে নিকাহ):
উক্ত ব্যক্তির জন্য অবিলম্বে দুটি কাজ করা আবশ্যক:
১. তাজদীদে ঈমান (ঈমান নবায়ন): কৃত ভুলের জন্য আল্লাহর দরবারে অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে অনুতপ্ত হয়ে ইস্তিগফার করতে হবে এবং পুনরায় কালিমাহ (যেমন: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ এবং আশহাদু আল-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রসূলুহু) মুখ ও অন্তরে স্বীকার করে ঈমান নবায়ন করতে হবে। ২. তাজদীদে নিকাহ (পুনর্বিবাহ): ঈমান নবায়নের পর স্ত্রীর সাথে পুনরায় সংসার জীবন শুরু করতে চাইলে দুইজন বালেগ মুসলিম পুরুষ সাক্ষীর উপস্থিতিতে নতুন করে দেনমোহর ধার্য করে পুনরায় আকদে নিকাহ (বিবাহ) পড়াতে হবে। নতুন করে নিকাহ না করা পর্যন্ত স্ত্রীর সাথে মেলামেশা বা স্বামী-স্ত্রী সুলভ সম্পর্ক রাখা সম্পূর্ণ নাজায়েয।
সংযুক্ত কিতাব, ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর:
১. ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (৪র্থ খণ্ড):
- পৃষ্ঠা: ৫৫: (অধ্যায়: কিতাবুল জিহাদ, ৯ম পরিচ্ছেদ: মুরমাদের বিবরণ — কৌতুক বা ঠাট্টাচ্ছলে কুফরী কথা বলার হুকুম)।
- পৃষ্ঠা: ৫৮: (অধ্যায়: কিতাবুল জিহাদ, ৯ম পরিচ্ছেদ — 'আমি মুসলমান নই' বললে কাফের হওয়া সংক্রান্ত মাসআলা)।
২. ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (২য় খণ্ড):
- পৃষ্ঠা: ২০৬: (অধ্যায়: কিতাবুন নিকাহ — স্বামী বা স্ত্রী মুরতাদ/কাফের হয়ে গেলে তৎক্ষণাৎ নিকাহ ফাসখ হওয়ার বিবরণ)।
৩. ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (২য় খণ্ড):
- পৃষ্ঠা: ৫৩৫: (অধ্যায়: কিতাবুল আকাইদ, বাবুল আলফাজিল কুফর — কুফরী বাক্যের কারণে নিকাহ বাতিল হওয়া ও পুনর্নিবন্ধনের বাধ্যবাধকতা)।
৪. ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (২১শ খণ্ড):
- পৃষ্ঠা: ১২০ & ১৩০: (অধ্যায়: কিতাবুল আকাইদ, মা ইয়াতায়াল্লাকু বি-আলফাজিল কুফর — ভুল বা রাগে কুফরী বাক্য বললে তাজদীদে ঈমান ও তাজদীদে নিকাহর ফতোয়া)।
৫. ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (১৪শ খণ্ড):
- পৃষ্ঠা: ৩৭: (অধ্যায়: বাবুল আইমান — কাফের বা কুফরী বাক্য থেকে তওবা ও কালিমাহ পড়ার নিয়ম)।
৬. ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (১১শ খণ্ড):
- পৃষ্ঠা: ৫২ & ৮৫: (অধ্যায়: বাবুন নিকাহিল ফাসিদ — অবৈধভাবে নিকাহ ছাড়া স্ত্রীর সাথে থাকা নাজায়েয হওয়ার বিবরণ)।
৭. দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড):
- পৃষ্ঠা: ২৬৭–২৬৮: (অধ্যায়: শর'য়ী বিধান — পরিহাস বা ঠাট্টাচ্ছলে মুখে উচ্চারিত বাক্যের শরয়ী প্রভাব)।
আল্লাহ ই ভালো জানেন।