পিতা মারা যাওয়ার পর বড় ছেলে মারা গেলে এবং তার স্ত্রী পুনরায় বিবাহ করলে সে সম্পত্তির কোনো অংশ পাবে কি না?

Family Life · Hanafi

Question No: 6023
Questioner: Shohan Sheikh
Question Asked: 27 Sep 2026, 06:54 PM
Reviewed & Published: 27 Sep 2026, 07:11 PM
Views: 17
Tokens: 5,195
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

একজন পিতা তার ২টা ছেলে সন্তান ও একজন স্ত্রী। পিতা তার জমি জায়গা গুলো সব তার নামেই রেখে দিছে। ২০২১ সালে পিতা মারা গিছে। এই দিকে তার বড় ছেলে বিবাহিত ছিল। পিতা মারা যাওয়ার প্রায় দেড় বছর পর অর্থাৎ ২০২২ সালে তার বড় ছেলেও মারা গিছে। পিতার বড় ছেলে স্ত্রী তার স্বামী মারা যাওয়ার পর ২০২৫ সালে আবার পুনরায় বিবাহ করেন। এখন বর্তমানে তার ছোট ছেলে তার পিতার সম্পত্তির ওয়ারিশ তার ও তার মায়ের নামে করতে চাচ্ছে।

এখন প্রশ্ন হলো :
বড় ভাই তো মৃত, এবং তার বউও তো আবার বিয়ে করে নিছে। বড় ভাইয়ের কোনো ছেলে-মেয়েও নাই। এক্ষেত্রে তার বড় ভাইয়ের স্ত্রী কি এই সম্পদের কোনো কিছু পাবে?

Answer

উত্তর: বড় ভাইয়ের স্ত্রী কি সম্পত্তির কোনো অংশ পাবে?

সংক্ষিপ্ত শরয়ী ফায়সালা:

হ্যাঁ, বড় ভাইয়ের স্ত্রী অবশ্যই তার মৃত স্বামীর অংশের সম্পত্তি থেকে তার শরয়ী হিস্যা (১/৪ অংশ) পাবেন [সিরাজী ফিল মিরাস, পৃষ্ঠা: ১৮, ৮০; ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (২০শ খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১৫২–১৫৪]।

পরবর্তীতে তিনি অন্যত্র বিবাহ আবদ্ধ হলেও ১ম স্বামীর মৃত্যুর সময় প্রাপ্ত মিরাস বা সম্পদের ওপর তার যে শরয়ী মালিকানা তৈরি হয়েছিল, তা কোনোভাবেই বাতিল বা খর্ব হয় না [সিরাজী ফিল মিরাস, পৃষ্ঠা: ১৮]। বড় ভাইয়ের স্ত্রীকে বঞ্চিত করে সম্পূর্ণ সম্পত্তি কেবল ছোট ভাই ও মায়ের নামে নামজারি বা রেজিস্ট্রি করা শরীয়তের দৃষ্টিতে কঠিন কবিরা গুনাহ ও অন্যায্যভাবে অন্যের হক আত্মসাৎ (গসব) হিসেবে গণ্য হবে [ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (২০শ খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১৫০]।


বিস্তারিত শরয়ী বিশ্লেষণ ও বন্টননামা:

১. পিতার মৃত্যুর সময় মালিকানা বন্টন (২০২১ সাল):

ইসলামি শরীআতের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি মারা গেলে সাথে সাথেই তার ত্যাজ্য সম্পত্তি জীবিত ওয়ারিশদের মাঝে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মালিকানা হিসেবে ভাগ হয়ে যায় [ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (২০শ খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১৫০]। ২০২১ সালে পিতা মারা যাওয়ার সময় তার জীবিত ওয়ারিশ ছিলেন: ১. স্ত্রী (মা), ২. বড় ছেলে এবং ৩. ছোট ছেলে।

  • তখন পিতার মোট সম্পত্তির ১/৮ অংশ (আট ভাগের এক ভাগ) পেয়েছেন স্ত্রী (মা), আর বাকি ৭/৮ অংশ দুই ভাইয়ের মাঝে সমান ভাগে (প্রতিজন ৭/১৬ অংশ করে) বন্টন হয়ে যায় [সিরাজী ফিল মিরাস, পৃষ্ঠা: ১৮, ২১]।
  • ফলে বড় ভাই তার পিতার মৃত্যুর সাথে সাথেই পিতার মোট সম্পত্তির ৭/১৬ অংশের (প্রায় ৪৩.৭৫%) পূর্ণ শরয়ী মালিক হয়ে গিয়েছিলেন [সিরাজী ফিল মিরাস, পৃষ্ঠা: ১৮]।

২. বড় ভাইয়ের মৃত্যুর পর তার সম্পত্তির বন্টন (২০২২ সাল):

২০২২ সালে বড় ভাই যখন মারা যান, তখন তিনি সন্তানহীন ছিলেন। শরীয়তের দৃষ্টিতে তার ত্যাজ্য সম্পত্তি (যার মধ্যে তার অর্জিত পিতার ৭/১৬ অংশের মালিকানাও শামিল) তার জীবিত ওয়ারিশদের মাঝে বন্টন হবে [সিরাজী ফিল মিরাস, পৃষ্ঠা: ৮০]। তখন তার ওয়ারিশ ছিলেন: ১. স্ত্রী, ২. মা, এবং ৩. ছোট ভাই (সহোদর ভাই)।

  • স্ত্রী পাবেন: ১/৪ অংশ (যেহেতু বড় ভাইয়ের কোনো সন্তান ছিল না) [সিরাজী ফিল মিরাস, পৃষ্ঠা: ১৮]।
  • মা পাবেন: ১/৩ অংশ (তিন ভাগের এক ভাগ) [সিরাজী ফিল মিরাস, পৃষ্ঠা: ২৯]।
  • ছোট ভাই (সহোদর ভাই) পাবেন: বাকি অংশ 'আসাবা' (عصبة) হিসেবে [সিরাজী ফিল মিরাস, পৃষ্ঠা: ৩৫]।

৩. স্ত্রীর পুনঃবিবাহের শরয়ী হুকুম (২০২৫ সাল):

স্বামী মারা যাওয়ার পর স্ত্রী যদি ইদ্দত শেষে অন্যত্র পুনরায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন, তবে শরীআতের ফায়সালা অনুযায়ী প্রথম স্বামীর ত্যাজ্য সম্পত্তি থেকে তিনি যে ১/৪ অংশ পেয়েছিলেন, তার মালিকানা চিরস্থায়ী থাকে। পুনঃবিবাহ করার কারণে পূর্বের অর্জিত মিরাস বা সম্পত্তির মালিকানা কখনোই বাতিল হয় না [সিরাজী ফিল মিরাস, পৃষ্ঠা: ১৮]।


পিতার মূল সম্পত্তির চূড়ান্ত হিসাব (১৯২ ভাগের হিসাব):

পিতার রেখে যাওয়া সর্বমোট সম্পত্তিকে যদি ১৯২ ভাগ করা হয়, তবে শরয়ী হিসাব (মুনাসাখা) অনুযায়ী বন্টন হবে নিম্নরূপ:

১. ছোট ভাই পাবেন: ১১৯ ভাগ (পিতার মূল সম্পদ থেকে সরাসরি প্রাপ্ত ৮৪ ভাগ + বড় ভাইয়ের কাছ থেকে প্রাপ্ত ৩৫ ভাগ) = প্রায় ৬১.৯৮%। ২. পিতার স্ত্রী (মা) পাবেন: ৫২ ভাগ (পিতার মূল সম্পদ থেকে সরাসরি প্রাপ্ত ২৪ ভাগ + বড় ভাইয়ের কাছ থেকে প্রাপ্ত ২৮ ভাগ) = প্রায় ২৭.০৮%। ৩. বড় ভাইয়ের স্ত্রী পাবেন: ২১ ভাগ (বড় ভাইয়ের প্রাপ্য অংশের ১/৪ ভাগ) = প্রায় ১০.৯৪%।

(অর্থাৎ পিতার মোট সম্পত্তি থেকে বড় ভাইয়ের স্ত্রী স্পষ্টতঃ ২১/১৯২ অংশ বা প্রায় ১০.৯৪% এর পূর্ণ শরয়ী মালিক) [সিরাজী ফিল মিরাস, পৃষ্ঠা: ১৮, ৮০]।


সংযুক্ত কিতাব, ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর:

১. সিরাজী ফিল মিরাস (সিরাজী ফিল মীরাছ):

  • পৃষ্ঠা: ১৮: (অধ্যায়: أحوال الزوجات — সন্তানহীন অবস্থায় স্বামীর মৃত্যুর পর স্ত্রীর ১/৪ (এক-চতুর্থাংশ) মিরাস প্রাপ্তির বিবরণ) [সিরাজী ফিল মিরাস, পৃষ্ঠা: ১৮]।
  • পৃষ্ঠা: ৩৫: (অধ্যায়: باب العصبات — ভাই আসাবা হিসেবে অবশিষ্ট সম্পত্তি পাওয়ার বিধান) [সিরাজী ফিল মিরাস, পৃষ্ঠা: ৩৫]।
  • পৃষ্ঠা: ৮০–৮৩: (অধ্যায়: باب المناسخة — ওয়ারিশদের বন্টনের পূর্বে মৃত্যু হলে 'মুনাসাখা'র ফিকহী গাণিতিক নিয়মাবলী) [সিরাজী ফিল মিরাস, পৃষ্ঠা: ৮০, ৮১, ৮২, ৮৩]।

২. ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (২০শ খণ্ড):

  • পৃষ্ঠা: ১৫০: (অধ্যায়: কিতাবুল ফারায়িজ — পিতা বা মূল মালিকের মৃত্যুর সাথে সাথে ওয়ারিশদের মালিকানা সুনির্দিষ্ট হওয়া) [ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (২০শ খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১৫০]।
  • পৃষ্ঠা: ১৫২–১৫৪: (অধ্যায়: কিতাবুল ফারায়িজ — মৃত ভাইয়ের ত্যাজ্য সম্পদে তার স্ত্রীর শরয়ী অংশ ও পুনঃবিবাহের হুকুম) [ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (২০শ খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১৫২, ১৫৩, ১৫৪]।

৩. ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (৬ষ্ঠ খণ্ড):

  • পৃষ্ঠা: ৪৪৮–৪৫০: (অধ্যায়: কিতাবুল ফারায়িজ — ওয়ারিশদের মিরাছ বন্টন এবং গসব ও অন্যের হক না দেওয়ার ওপর কঠোর হুশিয়ারি) [ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (৬ষ্ঠ খণ্ড), পৃষ্ঠা: ৪৪৮, ৪৪৯, ৪৫০]।

রেফারেন্স:

  1. সূরা আন-নিসা (৪:১১-১২)
  2. আল-হিদায়া, কিতাবুল ফারাইদ
  3. রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ৬, পৃ. ৭৬৮-৭৭২
  4. ফাতাওয়া হিন্দিয়া, খণ্ড ৬, পৃ. ৪৫০
  5. ফাতাওয়া উসমানী, খণ্ড ২, পৃ. ৩৩০-৩৩২
  6. আহকামুল কুরআন, খণ্ড ২, পৃ. ২৩০
  7. বাহিশতী জেওর, ওয়ারিশ অধ্যায়

This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.