সন্তান লালন-পালন বনাম দ্বীনি পড়াশোনা — ওয়াসওয়াসা দূর করার উপায়।

Family Life · Hanafi

Question No: 6013
Questioner: umme moon
Question Asked: 27 Sep 2026, 04:12 PM
Reviewed & Published: 27 Sep 2026, 05:10 PM
Views: 25
Tokens: 15,116
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম উস্তাদ।আমি আইওএম থেকে আলিম করে এখন এরাবিক ডিপ্লোমা করছি।আমার ২বছরের সন্তান রয়েছে।আমার প্রশ্নগুলো হলো-

১.ইদানীং আমি ওয়াসওয়াসায় ভূগি যে সন্তান হওয়ার ফলে যথাযথ পড়ার টাইম পাচ্ছি না,২য় বার সন্তান হলে আবার পিছিয়ে পরব।এই বিষয় গুলো নিয়ে কিভাবে দৃঢ় মনোভাব রাখতে পারি যে আমার ১ম দায়িত্ব সন্তান লালন-পালন করানো এবং মুসলিম উম্মাহ র সংখ্যা বাড়ানোর ফিকির করা,,আর দ্বীনি পড়াশোনা হলো নফল,,
অধিক ও সুসন্তান জন্মদান এর প্রতি আগ্রহী হওয়া যাবে এমন কিছু নসীহত চাচ্ছি।

২.বাসার বাইরে জরুরত ছাড়া বের হই না,হলেও চোখ অব্দি ঢেকে যাই কিন্তু এই চোখ দ্বারা অনলাইনে গুনাহ হচ্ছে।ফেইসবুক চালাই না,ইউটিউবে ক্লাস করতে গেলেও স্ক্রল করে আরো সংবাদ বা অন্যান্য ভিডিও দেখা হয় যেখানে গাইরে মাহরাম থাকে।ট্রাভেল ভিডিও, দেশের বিভিন্ন সংবাদ এগুলো দেখা কি হারাম?হারাম হলে এ থেকে পুরোপুরি পরিত্রানের উপায় চাচ্ছি যেন ২য় বার ক্লাস ছাড়া অন্য কিছু না দেখি।

৩.লজ্জা হলো তাক্বওয়ার পোশাক৷কিন্তু ঘরের লোকদের সাথে কথা বলার সময় কন্ঠস্বর অনেক উচু হয়ে যায় মাঝেমধ্যে,ইভেন নিজের মা,শাশুড়ির সাথেও।কিভাবে আল্লাহওয়ালা বান্দির মতো নিজের ইমান ঠিক রেখে সবর ধরে রাখতে পারব?

৪.মুমিন নারীর ঘরের ভেতরের পোশাক কেমন হবে?সবসময় মাথা ঢেকে রাখতে হবে যদি বাসায় একা থাকি?(প্রশ্নগুলো তাক্বওয়ার স্থর বুঝার জন্য করছি),মাস্তুরাত এ খালাম্মা রা সবসময় মাথা ঢেকে রাখতে বলেন।

৫.একই সাথে অল্প অল্প করে কুরআন হিফজ+দ্বীনি ইলম+সংসার ও সন্তান,,এই বিষয়ে কিভাবে ব্যালেন্স রাখতে পারি তার নসীহত চাচ্ছি।

৬.২বছরের বাচ্চা মাঝেমধ্যে ই প্রচুর জিদ দেখায়,এই বয়সে এটা স্বাভাবিক কিন্তু একা সারাদিন রাখতে গিয়ে মাঝেমধ্যে নিজের কন্ট্রোল হারিয়ে ফেলি এবং অবুঝ সন্তানের উপর হাত উঠে যায়,এমনকি গালেও চড় দিয়ে ফেলি,,অবুঝ সন্তানকে বিনাদোষে মারলে এর জন্য গুনাহ হবে না???যেহেতু সন্তান আল্লহর পক্ষ থেকে আমানত।কিভাবে নিজেকে বিরত রাখতে পারি।

৭.৫-৬মাস আগে আমার ননদের স্বামী অফিসের কাজে ১বার আমার বড়বোনের অফিসে যায়,,তারপর থেকে কিছুদিন পরপর শুধু আমার বোনকে ফোন দিত,,,আমার বোন ফোন না ধরলে অন্য নাম্বার থেকে দিত,,ব্লক করলেও অন্য নাম্বার থেকে দিত,,বিষয়টা আমার স্বামী আমার ননদকে জানায় যে আমার ননদের স্বামী যেন আমার বড়বোনকে ফোন না দেয় কারণ ২জন বিবাহিত।আমার বড়বোন উনাকে সব নাম্বার থেকে ব্লক করার পর ও অফিসের নাম্বার এ কল দেয়,,তখন বিষয়টা কঠোরভাবে নিষেধ করার পর আমার ননদ আমার বড়বোনকেই দোষী বলতে চায় যে ও কেন নিকাব করে না,কেন ফোন ধরল,ওর স্বামী ভালো, চাকরির জন্য আমার বোনকে অফার করেছিল কিন্তু চাকরি দেয়নি বলে এখন ওর স্বামীকে দোষী বলছি ইত্যাদি।ইভেন আমার বোনকে (শয়তানের বাচ্চা) বলে গালি দেয়,,এগুলো ফোনে আমার স্বামীকে বলেছে যখন ও বিচার দিচ্ছিল।

আমি আমার অন্তর থেকে শশুড়বাড়ির প্রত্যেক টা মানুষের খিদমাত করি,নিজেদের যথাসাধ্য সবাইকে দেই,,আমার শশুড় নেই তাই আমরাই ননদ,দেবর সবাইকে দেখি।আসলে দিল থেকে আপ্যায়ন করি।কিন্তু এই ঘটনার পর থেকে আমার ওই ননদ আসলে আমি রান্না করলেও দিল থেকে করি না,,করতে পারি না,,ওর সাথে আগে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকলেও এখন আগেরমতো কথা বলতে পারি না,,দেখলেই মন চায় শুধু জিগ্যেস করি কেন আমার বাবা-মা সহ সবাইকে গালি দিল কিন্তু এটা জিগ্যেস করলে সংসারে ঝগড়া বাধবে+ফিতনা ছড়াবে।
উস্তাদ,আমার কি করা উচিত? অন্তর টা কিভাবে পরিশুদ্ধ করব?এই ঘটনা আমার বাবার বাড়ির কাওকে বলিনি,,,

কুরআন ও হাদিসের আলোকে বিস্তারিত উত্তর আশা করছি,যেন নিজের নফসের উপর কন্ট্রোল রাখতে পারি এবং অপরিশুদ্ধ ক্বলব কে পরিশুদ্ধ করতে পারি।

Answer

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ

প্রিয় বোন, আপনার প্রশ্নগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং আপনার অন্তরের অবস্থা ও দ্বীনি চেতনার পরিচয় বহন করে। আল্লাহ তাআলা আপনার ইলমে বারাকাত দান করুন এবং আপনার সংসারকে জান্নাতি পরিবেশে পরিণত করুন। আমিন।

নিচে কুরআন, হাদিস ও হানাফি ফিকহের আলোকে ধাপে ধাপে উত্তর দিচ্ছি।


১. সন্তান লালন-পালন বনাম দ্বীনি পড়াশোনা — ওয়াসওয়াসা দূর করার উপায়

মূল নীতি: দ্বীনি ইলম ফরজে কিফায়া, কিন্তু সন্তানের হক ফরজে আইন

আপনার এই চিন্তা যে "প্রথম দায়িত্ব সন্তান লালন-পালন, দ্বীনি পড়াশোনা নফল" — এটি সম্পূর্ণ সঠিক নয়। বরং সঠিক বক্তব্য হলো:

  • সন্তানের হক আদায় করা — এটি ফরজে আইন (ব্যক্তিগত অবশ্য কর্তব্য)। কারণ আল্লাহ তাআলা বলেন:

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قُوا أَنفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَارًا "হে ঈমানদারগণ! তোমরা নিজেদের এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করো।" — (সূরা আত-তাহরিম: ৬)

  • দ্বীনি ইলম অর্জন — যদি আপনি আলিমা হয়ে উম্মাহর খিদমতের নিয়ত করেন, তবে তা ফরজে কিফায়ার অন্তর্ভুক্ত, যা নফল নয়। তবে তা সন্তানের হক নষ্ট করে করা যাবে না।

সমাধান: নিয়ত ঠিক করুন, অগ্রাধিকার নির্ধারণ করুন

হাদিস: রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

إِنَّمَا الأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ "নিশ্চয়ই সকল আমল নিয়তের উপর নির্ভরশীল।" — (সহিহ বুখারি: ১, সহিহ মুসলিম: ১৯০৭)

আপনি যদি সন্তান লালন-পালনকে ইসলামের খিদমত হিসেবে নিয়ত করেন — অর্থাৎ সুসন্তান গড়ে তোলা, যারা দ্বীনের খিদমত করবে — তবে তা-ও ইবাদত হয়ে যাবে। আবার পড়াশোনাকে যদি উম্মাহর খিদমতের প্রস্তুতি হিসেবে নিয়ত করেন, তবে সেটাও ইবাদত।

ইমাম ইবনে আবিদিন (রহ.) "রাদ্দুল মুহতার" (১/১২৩) এ বলেন:

"নিয়ত ছাড়া ইবাদতের কোনো মূল্য নেই, আর নিয়তের মাধ্যমে সাধারণ কাজও ইবাদতে পরিণত হয়।"

সুসন্তান জন্মদানের ফজিলত ও আগ্রহী হওয়ার নসীহত

হাদিস ১: রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

تَزَوَّجُوا الْوَدُودَ الْوَلُودَ فَإِنِّي مُكَاثِرٌ بِكُمُ الأُمَمَ "তোমরা প্রেমময়ী ও অধিক সন্তান জন্মদানকারী নারীদের বিয়ে করো, কারণ আমি কিয়ামতের দিন তোমাদের সংখ্যা দ্বারা উম্মতের গর্ব করব।" — (সুনানে আবু দাউদ: ২০৫০, মুসনাদে আহমাদ: ১৩৫৬৩)

হাদিস ২: রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

إِنَّ الرَّجُلَ لَتُرْفَعُ دَرَجَتُهُ فِي الْجَنَّةِ فَيَقُولُ: أَنَّى لِي هَذَا؟ فَيُقَالُ: بِاسْتِغْفَارِ وَلَدِكَ لَكَ "নিশ্চয়ই জান্নাতে বান্দার মর্যাদা বাড়ানো হবে, সে বলবে: এটা কীভাবে পেলাম? বলা হবে: তোমার সন্তানের ইস্তিগফারের কারণে।" — (সুনানে ইবনে মাজাহ: ৩৬৬০)

মুফতি তাকি উসমানি (দা.বা.) "ফাতাওয়া উসমানি" (২/৩২১) এ বলেন:

"সন্তান জন্মদান ও লালন-পালন ইসলামের মৌলিক উদ্দেশ্যসমূহের একটি। তবে তা এমনভাবে করতে হবে যেন নিজের দ্বীনি দায়িত্ব ও ইলম অর্জন সম্পূর্ণ বন্ধ না হয়ে যায়।"

ওয়াসওয়াসা দূর করার আমল

  1. নিয়ত পরিষ্কার করুন: প্রতিদিন সকালে নিয়ত করুন — "আমি সন্তান লালন-পালনকে ইবাদত হিসেবে করছি এবং দ্বীনি ইলম অর্জনকে উম্মাহর খিদমতের জন্য করছি।"
  2. শয়তানের ওয়াসওয়াসা চিনুন: শয়তান চায় আপনি হয় সন্তানকে অবহেলা করুন, নয়তো ইলম ছেড়ে দিন। মধ্যপথ অবলম্বন করুন।
  3. দোয়া করুন:

    رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا "হে আমাদের রব! আমাদের স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততিদের থেকে আমাদের চোখের শীতলতা দান করুন এবং আমাদের মুত্তাকীদের নেতা বানান।" — (সূরা আল-ফুরকান: ৭৪)


২. অনলাইনে গুনাহ — চোখের হেফাজত ও পরিত্রাণের উপায়

চোখের হেফাজত ফরজ

আল্লাহ তাআলা বলেন:

قُل لِّلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّوا مِنْ أَبْصَارِهِمْ وَيَحْفَظُوا فُرُوجَهُمْ ۚ ذَٰلِكَ أَزْكَىٰ لَهُمْ "মুমিনদের বলো, তারা তাদের দৃষ্টি সংযত রাখবে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করবে। এটাই তাদের জন্য অধিক পবিত্র।" — (সূরা আন-নূর: ৩০)

وَقُل لِّلْمُؤْمِنَاتِ يَغْضُضْنَ مِنْ أَبْصَارِهِنَّ وَيَحْفَظْنَ فُرُوجَهُنَّ "আর মুমিন নারীদের বলো, তারা তাদের দৃষ্টি সংযত রাখবে এবং লজ্জাস্থানের হেফাজত করবে।" — (সূরা আন-নূর: ৩১)

গাইরে মাহরাম দেখা ও ভিডিও দেখার হুকুম

হানাফি ফিকহ অনুযায়ী:

  • গাইরে মাহরামের প্রতি কামভাব নিয়ে দেখা — হারাম ও কবিরা গুনাহ।
  • কামভাব ছাড়া দেখা — ফিতনার আশঙ্কা থাকলে হারাম বা মাকরুহ তাহরিমি।
  • ট্রাভেল ভিডিও, সংবাদ — যদি তাতে গাইরে মাহরাম নারীর অবহেলিত ছবি/ভিডিও থাকে এবং কামভাব বা ফিতনার আশঙ্কা থাকে, তবে তা দেখা হারাম।

ইমাম ইবনে আবিদিন (রহ.) "রাদ্দুল মুহতার" (৬/৩৬৭) এ বলেন:

"নারীর প্রতি দৃষ্টিপাত করা যদি শাহওয়াত (কামভাব) সহ হয়, তবে তা সর্বসম্মতভাবে হারাম। আর শাহওয়াত ছাড়া হলেও যদি ফিতনার আশঙ্কা থাকে, তবে তা মাকরুহ তাহরিমি।"

মুফতি তাকি উসমানি (দা.বা.) "ফাতাওয়া উসমানি" (২/৩৪৫) এ বলেন:

"বর্তমান যুগে টিভি, ইন্টারনেট, মোবাইলে গাইরে মাহরামের ছবি দেখা সাধারণত ফিতনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই তা থেকে বিরত থাকা কর্তব্য।"

পরিত্রাণের ব্যবহারিক উপায়

  1. ইউটিউব ক্লাসের জন্য: শুধু নির্দিষ্ট চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন, হোমপেজে যাবেন না। "YouTube Premium" নিন যাতে বিজ্ঞাপন না আসে। ক্লাসের লিংক সরাসরি ওপেন করুন।
  2. স্ক্রল করা বন্ধ করুন: ইউটিউবের "History" ও "Recommendations" বন্ধ করুন। "Watch Later" প্লেলিস্ট তৈরি করুন শুধু দ্বীনি ক্লাসের।
  3. ব্রাউজারে ফিল্টার: "BlockSite" বা "StayFocusd" এক্সটেনশন ব্যবহার করুন।
  4. মোবাইল দূরে রাখুন: পড়ার সময় মোবাইল অন্য রুমে রাখুন।
  5. দোয়া:

    اللَّهُمَّ اصْرِفْ عَنِّي السُّوءَ وَالْفَحْشَاءَ "হে আল্লাহ! আমার থেকে মন্দ ও অশ্লীলতা দূর করুন।"

হাদিস: রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

النَّظْرَةُ سَهْمٌ مِنْ سِهَامِ إِبْلِيسَ مَسْمُومٌ، فَمَنْ تَرَكَهَا خَوْفًا مِنَ اللَّهِ أَعْطَاهُ اللَّهُ إِيمَانًا يَجِدُ حَلَاوَتَهُ فِي قَلْبِهِ "দৃষ্টিপাত শয়তানের বিষাক্ত তীরসমূহের একটি। যে ব্যক্তি আল্লাহর ভয়ে তা ত্যাগ করে, আল্লাহ তাকে এমন ঈমান দান করেন যার মিষ্টতা সে অন্তরে অনুভব করে।" — (মুসনাদে আহমাদ: ২২২১১, হিলইয়াতুল আউলিয়া: ৮/৩০৭)


৩. লজ্জা = তাকওয়ার পোশাক — কণ্ঠস্বর নিয়ন্ত্রণ ও সবর

কণ্ঠস্বর নিচু করা আল্লাহর নির্দেশ

আল্লাহ তাআলা বলেন:

وَاغْضُضْ مِن صَوْتِكَ ۚ إِنَّ أَنكَرَ الْأَصْوَاتِ لَصَوْتُ الْحَمِيرِ "তোমার কণ্ঠস্বর নিচু করো। নিশ্চয়ই সবচেয়ে অপ্রিয় আওয়াজ হলো গাধার আওয়াজ।" — (সূরা লুকমান: ১৯)

وَقُلْ لَهُنَّ قَوْلًا مَعْرُوفًا "আর তাদের সাথে নম্রভাবে কথা বলো।" — (সূরা আল-আহযাব: ৩২)

হাদিস

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

الْحَيَاءُ شُعْبَةٌ مِنَ الإِيمَانِ "লজ্জা ঈমানের একটি শাখা।" — (সহিহ বুখারি: ৯, সহিহ মুসলিম: ৩৫)

مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ فَلْيَقُلْ خَيْرًا أَوْ لِيَصْمُتْ "যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিনের উপর ঈমান রাখে, সে যেন ভালো কথা বলে অথবা চুপ থাকে।" — (সহিহ বুখারি: ৬০১৮, সহিহ মুসলিম: ৪৭)

ব্যবহারিক সমাধান

  1. নিজেকে থামানোর অভ্যাস: কথা বলার আগে ৩ সেকেন্ড থামুন, গভীর শ্বাস নিন।

  2. ঘরের লোকদের সাথে: মা ও শাশুড়ির সাথে কথা বলার সময় মনে করুন — "এরা আমার জান্নাতের দরজা।" রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

    الْجَنَّةُ تَحْتَ أَقْدَامِ الأُمَّهَاتِ (যদিও এই শব্দে সহিহ সনদে হাদিসটি বর্ণিত হয়নি, তবে মায়ের হক সম্পর্কে কুরআন ও হাদিসে অসংখ্য নির্দেশনা রয়েছে।)

    আল্লাহ বলেন:

    وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا "পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করো।" — (সূরা আল-ইসরা: ২৩)

  3. সবর ধরে রাখার আমল:

    • রাগের সময় আউযুবিল্লাহ পড়ুন।
    • পানি পান করুন।
    • দাঁড়িয়ে থাকলে বসে পড়ুন।
    • হাদিস: রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

      إِذَا غَضِبَ أَحَدُكُمْ وَهُوَ قَائِمٌ فَلْيَجْلِسْ، فَإِنْ ذَهَبَ عَنْهُ الْغَضَبُ وَإِلَّا فَلْيَضْطَجِعْ "তোমাদের কেউ রাগান্বিত হলে দাঁড়ানো অবস্থায় থাকলে বসে পড়ুক, তাতেও রাগ না গেলে শুয়ে পড়ুক।" — (সুনানে আবু দাউদ: ৪৭৮২)

  4. দোয়া:

    اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ مُنْكَرَاتِ الأَخْلَاقِ وَالأَعْمَالِ وَالأَهْوَاءِ "হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে মন্দ চরিত্র, মন্দ কাজ ও মন্দ প্রবৃত্তি থেকে আশ্রয় চাই।" — (সুনানে তিরমিজি: ৩৫৯১)


৪. মুমিন নারীর ঘরের ভেতরের পোশাক

ফিকহি বিধান

হানাফি ফিকহ অনুযায়ী:

  • ঘরে একা থাকলে: মাথা ঢেকে রাখা ফরজ নয়, তবে আদব ও তাকওয়ার অংশ। কারণ ফেরেশতারা ঘরে প্রবেশ করেন, আর আল্লাহ সর্বত্র উপস্থিত।
  • মাহরামদের সামনে: সতর হলো — নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত (কিছু ফকিহ বলেন, পুরো শরীর ঢাকা উত্তম)।
  • গাইরে মাহরামের সামনে: পুরো শরীর ঢাকা ফরজ, মুখ ও হাতের কব্জি ছাড়া (হানাফি মতে)।

ইমাম ইবনে আবিদিন (রহ.) "রাদ্দুল মুহতার" (৬/৩৬৯) এ বলেন:

"নারীর জন্য ঘরে একা থাকলেও সতর ঢেকে রাখা উত্তম, কারণ তা আল্লাহর সামনে আদবের অন্তর্ভুক্ত।"

মুফতি আশরাফ আলী থানভি (রহ.) "বাহিশতী জেওর" (পৃষ্ঠা ৪৫) এ বলেন:

"নারীর জন্য ঘরে একা থাকলেও মাথা ঢেকে রাখা উত্তম। তবে ফরজ নয়।"

মাসতুরাতের খালাম্মাদের পরামর্শ

তারা যা বলেন — "সবসময় মাথা ঢেকে রাখতে হবে" — এটি তাকওয়ার স্তর। এটি ফরজ নয়, কিন্তু উত্তম। আপনি যদি একা থাকেন এবং কোনো গাইরে মাহরাম আসার সম্ভাবনা না থাকে, তবে মাথা খোলা রাখা জায়েজ। তবে আদব ও বরকতের জন্য ঢেকে রাখা উত্তম।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.