ঝগড়ার সময় স্ত্রী "তুমি আমাকে তালাক দাও" বললে এবং স্বামী "যাও তোমাকে তালাক দিলাম" বললে কি ১ তালাক হবে নাকি ৩ তালাক?

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 5965
Questioner: Md Hanifa Hossein Sheikh
Question Asked: 26 Sep 2026, 11:15 AM
Reviewed & Published: 26 Sep 2026, 11:46 AM
Views: 10
Tokens: 4,044
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম।
ঝগড়ার সময় স্ত্রী বলল
"তুমি আমাকে তালাক দাও
এবং উত্তরে স্বামী বলে" যাও তোমাকে তালাক দিলাম"

আমার প্রশ্ন হলো এতে কি ১ তালাক হবে নাকি পরিপূর্ণ তালাক বা ৩ তালাক হয়ে যাবে।
স্বামী স্ত্রী পরবর্তীতে ভুল বুঝে একসাথে থাকতে চাইলে করণীয় কি?

Answer

তালাকের বিধান: ঝগড়ার সময় "তুমি আমাকে তালাক দাও" বলার পর স্বামীর "যাও তোমাকে তালাক দিলাম" বলা

সংক্ষিপ্ত উত্তর

এতে মাত্র ১টি তালাক (তালাকে রাজঈ) পতিত হবে, ৩ তালাক নয়। তবে এ তালাকটি তালাকে রাজঈ (প্রত্যাহারযোগ্য তালাক), যা ইদ্দতের ভেতরে স্বামী মুখে বা কাজে ফিরিয়ে নিতে পারবে। ইদ্দত শেষ হয়ে গেলে নতুন করে বিবাহ (নতুন মোহর ও নতুন আকদে) ছাড়া ফিরে আসা যাবে না।


বিস্তারিত বিশ্লেষণ

১. তালাকের শব্দ ও নিয়তের বিধান

হানাফি মাযহাবে তালাক সংঘটিত হওয়ার জন্য স্পষ্ট শব্দ (সরীহ) এবং ইঙ্গিতপূর্ণ শব্দ (কিনায়া) এর বিধান ভিন্ন।

  • সরীহ শব্দ: যেমন "তালাক", "তালাক দিলাম", "তোমাকে তালাক দিলাম" — এতে নিয়ত ছাড়াই তালাক পতিত হয়।
  • কিনায়া শব্দ: যেমন "যাও", "চলে যাও", "তোমার সাথে সম্পর্ক শেষ" — এতে নিয়ত বা পরিস্থিতির প্রমাণ ছাড়া তালাক পতিত হয় না।

এখানে স্বামী বলেছে: "যাও তোমাকে তালাক দিলাম" — এতে "তালাক দিলাম" শব্দটি সরীহ (স্পষ্ট)। তাই নিয়ত ছাড়াই ১ তালাকে রাজঈ পতিত হয়েছে।

রেফারেন্স:

  • রাদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন), খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ২৩০–২৩৫
  • আল-হিদায়া, কিতাবুত তালাক, অধ্যায়: সরীহ ও কিনায়া শব্দ
  • ফাতাওয়া আলমগিরি, কিতাবুত তালাক

২. একসাথে ৩ তালাক হবে কি?

না। কারণ:

  1. স্বামী একবারই "তালাক দিলাম" বলেছে — একই মজলিসে (এক বৈঠকে) একবার বললে এক তালাক পতিত হয়।
  2. ৩ তালাক পতিত হওয়ার জন্য স্বামীকে তিনবার পৃথকভাবে "তালাক" বলা লাগবে, অথবা একবারে "তিন তালাক" বা "তালাকে মুগাল্লাজা" এর শব্দ বলা লাগবে।
  3. এখানে "যাও" শব্দটি কিনায়া, কিন্তু "তোমাকে তালাক দিলাম" সরীহ — তাই সরীহ শব্দের কারণেই ১ তালাকে রাজঈ হয়েছে।

রেফারেন্স:

  • রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ২৩২: "إذا قال: أنت طالق، طلقت واحدة رجعية"
  • আল-হিদায়া: "الطلاق مرة واحدة يقع واحدة رجعية"
  • ফাতাওয়া উসমানি, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৩০০–৩১০

৩. তালাকে রাজঈ-এর বিধান

তালাকে রাজঈ-তে:

  • ইদ্দতের ভেতরে (স্ত্রীর হায়েজ না থাকলে ৩ মাস, হায়েজ থাকলে ৩ হায়েজ) স্বামী মুখে বা কাজে ফিরিয়ে নিতে পারবে।
  • ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য নতুন আকদ বা মোহর লাগবে না।
  • ইদ্দত শেষ হয়ে গেলে নতুন আকদ ও নতুন মোহর ছাড়া ফিরে আসা যাবে না।
  • ইদ্দতের ভেতরে ফিরিয়ে না নিলে এক তালাকে বায়েন হয়ে যাবে, তখন নতুন আকদ লাগবে।

রেফারেন্স:

  • রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৩৯০–৩৯৫
  • বাহিশতী জেওর, তালাক অধ্যায়
  • মা'আরিফুল কুরআন, সূরা বাকারা: ২২৮–২৩০ এর তাফসীর

করণীয় (স্বামী-স্ত্রী একসাথে থাকতে চাইলে)

যদি ইদ্দত চলমান থাকে:

  1. স্বামী মুখে ফিরিয়ে নেবে:
    "আমি তোমাকে আমার বিবাহে ফিরিয়ে নিলাম" — এভাবে বললে বা স্ত্রীর সাথে সহবাস করলে রাজঈ তালাক রদ হয়ে যাবে।
  2. সাক্ষী রাখা উত্তম: দুইজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে ফিরিয়ে নেওয়া সুন্নত।
  3. নতুন আকদ লাগবে না, তবে নতুন মোহর দেওয়া উত্তম (ওয়াজিব নয়)।

যদি ইদ্দত শেষ হয়ে যায়:

  1. নতুন আকদ করতে হবে — নতুন মোহর নির্ধারণ করে, দুইজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে।
  2. তালাকে বায়েন হওয়ার কারণে নতুন করে বিবাহ ছাড়া একসাথে থাকা হারাম।
  3. হিল্লা (তাহলীল) এর প্রয়োজন নেই, কারণ এটি ১ তালাক, ৩ তালাক নয়।

সাধারণ পরামর্শ:

  • ঝগড়ার সময় তালাকের শব্দ উচ্চারণ করা থেকে কঠোরভাবে বিরত থাকুন — এটি শয়তানের প্ররোচনা।
  • রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

    "আল্লাহর কাছে সবচেয়ে অপছন্দনীয় হালাল বিষয় হলো তালাক।"
    (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ২১৭৮; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ২০১৮)

  • ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে ধৈর্য ও সংলাপ অবলম্বন করুন।
  • প্রয়োজনে স্থানীয় মুফতি বা দারুল ইফতার সাথে সরাসরি পরামর্শ করুন।

সারসংক্ষেপ

| বিষয় | বিধান | |------|------| | তালাকের সংখ্যা | ১ তালাকে রাজঈ | | ৩ তালাক হবে কি? | না | | ইদ্দতের ভেতরে ফিরানো | জায়েজ, নতুন আকদ লাগবে না | | ইদ্দতের পরে ফিরানো | নতুন আকদ ও নতুন মোহর লাগবে | | হিল্লা প্রয়োজন? | না (কারণ ১ তালাক) |


মূল রেফারেন্স:

  • রাদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন), খণ্ড ৩, কিতাবুত তালাক
  • আল-হিদায়া (বুরহানুদ্দীন আল-মারগীনানী), কিতাবুত তালাক
  • ফাতাওয়া আলমগিরি, কিতাবুত তালাক
  • ফাতাওয়া উসমানি (মুফতি তাকি উসমানি), খণ্ড ২
  • বাহিশতী জেওর (আশরাফ আলী থানভী), তালাক অধ্যায়
  • মা'আরিফুল কুরআন (মুফতি মুহাম্মদ শফি), সূরা বাকারা: ২২৮–২৩০
  • সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ২১৭৮
  • সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ২০১৮

والله أعلم بالصواب


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.