তালাক দেবো বললে তালাক হয় কি?

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 5931
Questioner: Sharmin 2459
Question Asked: 25 Sep 2026, 01:00 PM
Reviewed & Published: 25 Sep 2026, 03:11 PM
Views: 15
Tokens: 14,383
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আস সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু, ওস্তায আমার স্বামী আমাকে আমার বান্ধবীর সাথে কথা বলতে মানা করায় আমি অনেক দিন পর লুকিয়ে ওর সাথে কথা বলে সব কিছু ডিলিট করে দেই কিন্তু কিভাবে যেন ডিলিট করা সত্ত্বেও আবার সামনে চলে আসে, আপনি আমাকে জিজ্ঞেস করে কথা বলেছো, আমি বললাম আমি তো কখনো কথা বলি না তুমি মানা করার জন্য তোমার খুশির জন্য আমি ওর সাথে যোগাযোগ করি নাও কত কল দেই কিন্তু আজকে একটু বলে ফেলেছি, উনি জবাবে বলেন তোকে আমি মানা করা সত্ত্বেও কথা বলেছিস আবার কিছু ডিলিট করে ফেলেছিস। কৌশলে আমার সাথে মিথ্যা কথা বলছিস ওর উপর আমার কোন বিশ্বাস নেই কয়েকদিন পর আমি বিদেশ চলে যাওয়ার পর কোন পুরুষদের সাথে কথা বলবি তার কি ভরসা আছে আমার আর তোর উপর কোন বিশ্বাস নেই তোকে তো আর কখনো বিশ্বাস করতে পারবো না, এগুলো শুনে আমার অভিমান হয় তাই আমি বলি না কর বিশ্বাস।, আমি জায়নামাজে এশার নামাজ পড়ে( আই ও এম আলিম কোর্স এর ত্বলিবা)ক্লাস করছিলাম, বিশ্বাস না করোগে বলার সাথে সাথে উনি আমার গাল আর কপাল জুড়ে বিছানায় বসা ছিলেন উনি এমন জোরে লাথি দেন আমি উড়ে গিয়ে পরি একটু দূরে, ব্যথায় আমি কুকরিয়ে কাঁদছিলাম আস্তে আস্তে, বিছানায় উঠিয়ে আমাকে রাখেন মাটি থেকে আর বলেন চুপ একদম আজ করবি না চুপচাপ শুয়ে থাক সকালে তোর মাকে বলবি এসে নিয়ে যেতে, সংসার করবো না তোকে আমি তালাক দেবো, কবে দেখা যাবে আমি বিদেশ যাওয়ার পর পুরুষ নিয়ে বিছানায় শুয়ে থাকবে কি ভরসা আছে তোর উপর আমার আর কোন বিশ্বাস নেই, তোর সাথে আমি সংসার করবো না তোকে আমি তালাক দিব, পরেরদিন সকালে আমার মাকে ফোন করে বলে আম্মু আমাকে নিয়ে যাওয়া এসে এরকম এরকম বলেছেন, পরে আমার আম্মু আমার খালাকে পাঠাচ্ছিল আমাকে নিয়ে যাওয়ার জন্য, এটা শুনে আমার স্বামী খুব রেগে যায় আর বলে শ্বশুর-শাশুড়িকে যদিও আমাদের সেই থেকে একটাও বাইরে যায় তাহলে ওর সাথে আমার সব সম্পর্ক শেষ হয়ে যাবে, করে রাগারাগি করছিল অনেক খালা আসলে অনেক অসম্মান করবে, তাই আমার আম্মুকে কল করে বলি যে খালামনিকে আসতে মানা করো, পরে আমার আম্মুকে বলি যে আম্মু আমাকে নিয়ে যাও, কাউকে জানাই নেই আমার আম্মু আসতেছে, এর পরের দিন সকালবেলা ফজরের নামাজের পর উনি আমার কাছে এসে বলতেছে দেখো তুমি তো অতটাও খারাপ মেয়ে না তোমাকে শয়তানে ধরেছিল তাই তুমি ওরকম করেছিলা, শয়তানের পা দিও না সংসার নষ্ট কইরো না, জড়িয়ে ধরে মাথায় চুমু দেয়, পরে আমি উঠে শশুর আব্বু ঘরে চলে যাই, ওখানে গিয়ে আমার শশুর শাশুড়ি কে বলছেন দেখো ভুল করেছে ও কিন্তু আমি ওকে সরি বলছি ও আমাকে সরি বলে নাই।, শয়তানের ধরেছে ওরে বড়, ওরে আমাকে বলে দেখো আম্মুকে আসতে মানা করো আম্মু যেন না আসে তুমি যাবা না বাড়ি থেকে তুমি, আমার শাশুড়িকে বলে আম্মু ও যদি যায় ও ডিভোর্স করতে পারে সাইন দিয়ে যাবে, ও যদি যাইতে চায় ওরে তার আটকাইতে পারবো না, বুঝতে পারতো নাই খালি কাগজের সাইন দিয়ে যাবা, আম্মু আমার জীবন শেষ আমি আমার আক্কাস কাকার মত মরে যাবো, আমার বোঝা হয়ে গেছে আমার জীবন শেষ , আরো অনেক কিছু বলছিল যা শুনে আমার খুব মাথা ব্যথা করছিল আমার শরীর কাঁপছিল ভয়েতে, আমি কোন উত্তর না দিয়ে অন্য রুমে চলে গিয়ে শুয়ে পড়ি, আমার সামনে থেকে আমার স্বামী ও শাশুড়ি চলে যাওয়ার পর আমার আম্মুকে ফোন করে ফোন করি জানার জন্য আম্মু কোথায় আছে পরে সাথে সাথে আমার স্বামী এসে আমার পাশে বসে বলে স্পিকার দাও আমি শুনবো তোমার মা কি বলে, আমি উঠে যাই তারপর আমার খুব কান্নাপাচ্ছিলো ছিল, তাই আম্মুর কাছে যাবো বলে খুব হাউমাউ করে কান্না করায় আমার স্বামীর মন গলে, আমার শাশুড়ি বলছিলেন ওর বাড়ি যাওয়ার জন্য মন ছুটছে, ওরে আমার স্বামী বলে আচ্ছা তোমাকে আমি বাড়ি নিয়ে যাব বোরকা পর আমি উঠে বোরখা পরি ততক্ষণে আমার আম্মু চলে আসে আর আমি আম্মুর সাথে চলে আসি, আসার সময় তুমি আমাকে আটকিয়ে বলছিল দেখো আমার কথা শোনো চলে যাইয়ো না এভাবে তাহলে কিন্তু অনেক বড় কিছু হয়ে যাবে, তুমি যাইওনা তুমি শয়তান এটাই চায়, প্রশ্ন হচ্ছে আমাদের কি তালাক হয়ে গেছে?

Answer

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু

প্রিয় বোন, আপনার প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল। আপনার স্বামীর কথাবার্তা ও আচরণ অত্যন্ত দুঃখজনক এবং শরীয়তবিরোধী। তবে তালাক সংক্রান্ত বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কয়েকটি মূল বিষয় স্পষ্ট করা প্রয়োজন।


সংক্ষিপ্ত উত্তর

আপনার বর্ণনা অনুযায়ী, আপনার তালাক হয়নি। কারণ আপনার স্বামী তালাকের স্পষ্ট শব্দ (صريح) ব্যবহার করেননি; বরং ভবিষ্যতের শর্তসাপেক্ষে ("সংসার করবো না, তোকে তালাক দেবো") বলেছেন, যা তালাক হিসেবে গণ্য হয় না। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে নিচের আলোচনা পড়ুন।


বিস্তারিত আলোচনা

১. তালাকের শর্তাবলি (হানাফি ফিকহ অনুযায়ী)

তালাক সংঘটিত হওয়ার জন্য নিম্নলিখিত শর্ত পূরণ হতে হয়:

  1. স্বামী প্রাপ্তবয়স্ক ও সুস্থ মস্তিষ্কের হওয়া
  2. তালাকের স্পষ্ট ইচ্ছা থাকা
  3. তালাকের শব্দ (সরীহ বা কিনায়া) উচ্চারণ করা
  4. স্ত্রী তালাকের সময় বিবাহবন্ধনে থাকা

সূত্র: রাদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন), খণ্ড ৩, কিতাবুত তালাক; আল-হিদায়া, কিতাবুত তালাক

২. আপনার স্বামীর বক্তব্যের বিশ্লেষণ

আপনার স্বামী বলেছেন:

  • "সংসার করবো না তোকে আমি তালাক দেবো"
  • "তোর সাথে আমি সংসার করবো না তোকে আমি তালাক দিব"
  • "তুমি যাইও না তাহলে কিন্তু অনেক বড় কিছু হয়ে যাবে"

এই বাক্যগুলো ভবিষ্যতের শর্তসাপেক্ষ ভীপি বা হুমকি, সরাসরি তালাক নয়। হানাফি ফিকহ অনুযায়ী, ভবিষ্যতে তালাক দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করা বা হুমকি দেওয়া তালাকে বায়েন বা তালাকে রাজয়ী কোনোটিই সংঘটিত করে না, যতক্ষণ না স্বামী স্পষ্টভাবে তালাকের শব্দ উচ্চারণ করেন।

সূত্র: ফাতাওয়া উসমানি, খণ্ড ২, কিতাবুত তালাক; ইমদাদুল ফাতাওয়া, খণ্ড ২

৩. "তালাক দেবো" বলার হুকুম

"তালাক দেবো" (ভবিষ্যৎ কাল) বলা তালাক সংঘটিত করে না। তালাক সংঘটিত হয় যখন "তালাক দিলাম" বা "তালাক" (مطلق) শব্দ বর্তমান বা অতীত কালে উচ্চারণ করা হয়।

সূত্র: রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ৩, পৃ. ২৩০; ফাতাওয়া আলমগিরি, কিতাবুত তালাক

৪. আপনার স্বামীর শারীরিক নির্যাতন প্রসঙ্গে

আপনার স্বামী আপনাকে লাথি মেরে আঘাত করেছেন — এটি ইসলামে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও গুরুতর গুনাহ। আল্লাহ তাআলা বলেন:

وَعَاشِرُوهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ "তোমরা স্ত্রীদের সাথে সদ্ভাবে জীবনযাপন করো।" — সূরা আন-নিসা: ১৯

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

لَا يَجْلِدُ أَحَدُكُمْ امْرَأَتَهُ جَلْدَ الْعَبْدِ "তোমাদের কেউ যেন তার স্ত্রীকে দাসীকে প্রহার করার মতো প্রহার না করে।" — সহিহ বুখারি: ৫২০৪; সহিহ মুসলিম: ২৮৫১

সূত্র: মা'আরিফুল কুরআন, সূরা নিসা: ১৯-এর তাফসির; বাহিশতী জেওর, বিবাহ অধ্যায়

৫. মিথ্যা অপবাদ ও সন্দেহ

আপনার স্বামী আপনাকে পুরুষদের সাথে সম্পর্কের মিথ্যা অপবাদ দিয়েছেন। এটি কাজফ (কাদফ)-এর অন্তর্ভুক্ত, যা কবিরা গুনাহ। আল্লাহ বলেন:

إِنَّ الَّذِينَ يَرْمُونَ الْمُحْصَنَاتِ الْغَافِلَاتِ الْمُؤْمِنَاتِ لُعِنُوا فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ "নিশ্চয়ই যারা সতী-সাধ্বী মুমিন নারীদের প্রতি অপবাদ আরোপ করে, তারা দুনিয়া ও আখিরাতে অভিশপ্ত।" — সূরা আন-নূর: ২৩


সিদ্ধান্ত

| বিষয় | হুকুম | |------|-------| | "তালাক দেবো" বলা (ভবিষ্যৎ) | তালাক সংঘটিত হয়নি | | "সংসার করবো না" বলা | তালাক নয়, বরং ঝগড়া/হুমকি | | শারীরিক নির্যাতন | হারাম, কবিরা গুনাহ | | মিথ্যা অপবাদ | হারাম, কাজফের অন্তর্ভুক্ত | | বর্তমান অবস্থা | আপনার বিবাহ এখনো বহাল আছে |


পরামর্শ

১. আপনি এখনো বিবাহবন্ধনে আছেন — তালাক হয়নি। তবে আপনার স্বামীর আচরণ যদি এভাবে চলতে থাকে, তাহলে ইসলামি শরীয়ত অনুযায়ী আপনি খুলা (বিচ্ছেদ)-এর জন্য আবেদন করতে পারেন।

২. শারীরিক নির্যাতন ও মানসিক অত্যাচার সহ্য করা আপনার দ্বীনি দায়িত্ব নয়। প্রয়োজনে পরিবারের বড়দের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করুন।

৩. আপনার স্বামী যদি স্পষ্টভাবে "তালাক দিলাম" বলে — তাহলে সাথে সাথে একজন মুফতি সাহেবের কাছে যাবেন এবং বিস্তারিত জানাবেন।

৪. আই ও এম আলিম কোর্সের ত্বালিবা হিসেবে আপনি দ্বীনি ইলম অর্জন করছেন — আল্লাহ আপনার ইলমে বারাকাত দান করুন এবং এই কঠিন সময়ে ধৈর্য ধারণের তাওফিক দিন।


দুআ

رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ

"হে আমাদের রব! আমাদের দুনিয়াতে কল্যাণ দান করুন, আখিরাতেও কল্যাণ দান করুন এবং জাহান্নামের আজাব থেকে রক্ষা করুন।"


ওয়াল্লাহু তাআলা আ'লাম বিস-সাওয়াব


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.