আইয়াম এ বীজের রোজা রাখার দিন সংক্রান্ত।
Siyam-Fasting · Hanafi
Question
Answer
আইয়ামে বীজের রোজা: তিনদিন না রেখে দুদিন রাখা যাবে কি?
প্রশ্নের সারসংক্ষেপ
প্রশ্নকারী জানতে চেয়েছেন—আইয়ামে বীজের রোজা (প্রতি চন্দ্রমাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখের রোজা) তিনদিন না রেখে শুধু দুদিন রাখা যাবে কি না।
উত্তর
আইয়ামে বীজের রোজা মূলত নফল (মুস্তাহাব) ইবাদত। এটি ফরজ বা ওয়াজিব নয়। তাই কেউ যদি তিনদিনের পরিবর্তে দুদিন রাখে, তবে সে গুনাহগার হবে না এবং তার রোজা বাতিলও হবে না। তবে তিনদিনের পূর্ণ ফজিলত ও সওয়াব থেকে সে বঞ্চিত হবে।
দলিল ও বিশ্লেষণ
১. হাদিসের দলিল:
হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) আমাকে তিনটি বিষয়ে অসিয়ত করেছেন:
«ثَلَاثٌ لَنْ أَدَعَهُنَّ فِي حَضَرٍ وَلَا سَفَرٍ: صِيَامُ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ، وَرَكْعَتَا الضُّحَى، وَلَا أَنَامُ حَتَّى أُوتِرَ»
"তিনটি কাজ আমি কখনো ছাড়ব না—সফরে ও মুকিমে: প্রতি মাসে তিন দিনের রোজা, চাশতের দুই রাকাত নামাজ, এবং বিতর না পড়ে ঘুমানো।"
— (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১৪৩২; সুনানে নাসাঈ, হাদিস: ২৩৯০)
অন্য হাদিসে এসেছে:
«صِيَامُ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ صِيَامُ الدَّهْرِ»
"প্রতি মাসে তিন দিনের রোজা সারা বছর রোজা রাখার সমতুল্য।"
— (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৯৭৯; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১১৫৯)
২. আইয়ামে বীজ নির্ধারণ:
হযরত আবু যর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন:
«يَا أَبَا ذَرٍّ، إِذَا صُمْتَ مِنَ الشَّهْرِ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ فَصُمْ ثَلَاثَ عَشْرَةَ، وَأَرْبَعَ عَشْرَةَ، وَخَمْسَ عَشْرَةَ»
"হে আবু যর! যখন তুমি মাসে তিন দিন রোজা রাখবে, তখন ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে রাখো।"
— (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ৭৬১; সুনানে নাসাঈ, হাদিস: ২৪২৪)
৩. হানাফি ফিকহের দৃষ্টিভঙ্গি:
-
আইয়ামে বীজের রোজা সুন্নত বা মুস্তাহাব পর্যায়ের নফল ইবাদত। এটি ওয়াজিব বা ফরজ নয়। (রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৩৭৯; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২০২)
-
ইমাম আবু হানিফা (রহঃ)-এর মত: প্রতি মাসে তিন দিন রোজা রাখা মুস্তাহাব। তবে কোনো নির্দিষ্ট দিনে আবদ্ধ করা জরুরি নয়—তিন দিন যেকোনো তারিখে রাখলেও সুন্নত আদায় হবে। (বাদায়েউস সানায়ে, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৭৯)
-
ইবনে আবিদিন শামি (রহঃ) বলেন: "আইয়ামে বীজের রোজা মুস্তাহাব। কেউ যদি তা ছেড়ে দেয়, তবে সে নিন্দিত হবে না, তবে ফজিলত থেকে বঞ্চিত হবে।" (রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৩৭৯)
-
মুফতি মুহাম্মদ শফি (রহঃ) বলেন: "আইয়ামে বীজের রোজা নফল। তিনদিনের কম রাখলে গুনাহ নেই, তবে পূর্ণ তিনদিনই রাখা উত্তম।" (মাআরিফুল কুরআন, সূরা বাকারা, আয়াত ১৮৪-এর তাফসির প্রসঙ্গে)
-
মুফতি তাকি উসমানি (দাঃবাঃ) বলেন: "নফল রোজার ক্ষেত্রে সংখ্যার বাধ্যবাধকতা নেই। তবে আইয়ামে বীজের সুন্নত পদ্ধতি হলো তিনদিন রাখা। দুদিন রাখলে রোজা সহিহ হবে, কিন্তু সুন্নতের পূর্ণ অনুসরণ হবে না।" (ফাতাওয়া উসমানি, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ১৪৫)